Categories
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প–মোদি সরাসরি যোগাযোগ না হওয়ায় থেমে গেল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করায় চুক্তিটি বাস্তবায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়।

 

একটি সাক্ষাৎকারে লাটনিক বলেন, চুক্তির কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল এবং কারিগরি ও নীতিগত প্রস্তুতি তার দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের রাজনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন ছিল, যা শেষ পর্যন্ত হয়নি।

লাটনিকের দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং এখন মোদির ট্রাম্পকে ফোন করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু ভারতীয় পক্ষ এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি এবং সেই ফোন কল আর করা হয়নি। এর ফলেই আলোচনার প্রক্রিয়া থেমে যায়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ভারত আবার আলোচনায় ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও ততদিনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করে ফেলেছিল। এর ফলে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্রে শর্তগুলো আগের তুলনায় কঠোর হয়ে যায়।

লাটনিক বলেন, ভারতীয় প্রতিনিধিরা তখন দাবি করেন যে তারা আগের শর্তগুলোতে রাজি ছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল, সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতাও বদলে গেছে এবং আগের শর্ত আর প্রযোজ্য নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য আলোচনার কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লাটনিক বলেন, এটি ধাপে ধাপে এগোনোর মতো একটি প্রক্রিয়া। যে দেশ আগে চুক্তিতে আসে, সে তুলনামূলকভাবে ভালো শর্ত পায়, আর পরবর্তী দেশগুলোর জন্য শর্ত ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তির পর ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়। এসব চুক্তির পর ভারতের জন্য আগের সুবিধাজনক অবস্থান আর বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

লাটনিক দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে টানা তিনটি শুক্রবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না আসায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়। তার কথায়, “ট্রেন তখন স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে—পরে প্রস্তুত হলেও পরিস্থিতি আর আগের মতো ছিল না।”

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অনলাইনে কিশোরীদের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে যুক্তরাজ্যের কোভেন্ট্রিতে ভারতীয় ছাত্র গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যের কোভেন্ট্রি শহরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের অনলাইনে গ্রুমিংয়ের অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম গুরীত জিতেশ, যিনি গত রাতে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হন।

 

পুলিশ জানায়, গুরীত জিতেশ অনলাইনে একাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে অনুপযুক্ত যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার চেষ্টা করেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার আগে একটি ভিজিলান্টে বা স্বেচ্ছাসেবী নজরদারি গোষ্ঠী অভিযুক্তের কার্যকলাপ শনাক্ত করে এবং তাকে মুখোমুখি করে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, গুরীত জিতেশ প্রায় ১২ সপ্তাহ আগে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। তিনি কোভেন্ট্রিতে একটি শিক্ষার্থী আবাসনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে থেকেই অনলাইন কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।

গ্রেপ্তারের পর তাকে ওই শিক্ষার্থী আবাসন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ডিজিটাল ডিভাইস ও যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনাটি কোভেন্ট্রি শহরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনলাইনে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে যুক্তরাজ্যে কাদের বাধ্যতামূলক সেনাসেবায় যেতে হতে পারে

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ, গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের টানাপোড়েন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

 

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বিগ্ন করেছে। ন্যাটোর অংশ হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সামরিক হুমকির ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে একাধিক ইউরোপীয় দেশ। এ প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক চেয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চললেও শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ইউরোপজুড়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে একের পর এক দেশ।

এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স নতুন জাতীয় সামরিক সেবা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউরোপ ‘চরম ঝুঁকির’ মুখে পড়েছে। যদিও ফ্রান্সে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা পুনর্বহাল করা হচ্ছে না, তবে তরুণদের জন্য স্বেচ্ছামূলক সামরিক সেবার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যেও যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। গত বছর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্ব এখন ‘যুদ্ধ-পরবর্তী নয়, যুদ্ধ-পূর্ব’ বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার প্যাট্রিক স্যান্ডার্সও বাহিনীর আকার বাড়ানো ও জনসাধারণের প্রস্তুতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

যদি যুক্তরাজ্য কোনো বৃহৎ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং সেনাসংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। ইতিহাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে ১৯৩৯ সালে প্রথম দফায় ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী অবিবাহিত পুরুষদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনা হয়েছিল।

যুদ্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সেই বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৮ থেকে ৪১ বছর করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও সম্প্রসারিত হয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫১ বছর পর্যন্ত পৌঁছায়। এমনকি ৫২ থেকে ৬০ বছর বয়সীরাও কোনো না কোনোভাবে সামরিক দায়িত্বে যুক্ত হতে বাধ্য হন।

সেই সময় কেবল চিকিৎসাগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তি এবং কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসা ও প্রকৌশলের মতো জরুরি খাতে নিয়োজিত কর্মীরাই অব্যাহতি পেয়েছিলেন। যুদ্ধের শেষভাগে নারীদেরও সেনাসেবা ও সহায়ক ভূমিকায় যুক্ত করা হয়।

বর্তমান জনমত অবশ্য সেনাসেবার বিষয়ে বিভক্ত। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের নিচে উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক। তবে একই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক সেনাসেবার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে সেনাসেবা প্রত্যাখ্যান করলে কী পরিণতি হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিবেকগত কারণে অস্ত্র ধরতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং অনেককে বিকল্পভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয়।

বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এখনো কেবল সম্ভাবনার মধ্যেই থাকলেও—ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলছে, যুদ্ধ বাস্তবে রূপ নিলে যুক্তরাজ্যকে কঠিন সিদ্ধান্তের দিকেই যেতে হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ফারাজের ‘মুসলিম কার্ড’: লন্ডনের ‘ইসলামায়ন’ ঠেকাতে সাদিক খানের বিপরীতে আরেক মুসলিম

লন্ডনের মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। টানা তিনবারের মেয়র সাদিক খানের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন আরেক মুসলিম প্রার্থী লাইলা কানিংহাম।

 

ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থীকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ লন্ডনের তথাকথিত ‘ইসলামায়ন’ ঠেকানোর প্রধান অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর ফলে রাজধানীর রাজনীতিতে ধর্ম, পরিচয় ও নিরাপত্তা প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

১৯৭৭ সালে লন্ডনের প্যাডিংটনে জন্ম নেওয়া লাইলা কানিংহামের পারিবারিক শিকড় মিসরে। তার বাবা-মা ১৯৬০–এর দশকে সে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন। ছোটবেলা থেকেই মার্গারেট থ্যাচারের আদর্শে প্রভাবিত লাইলা সাত সন্তানের জননী।

রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত এক নাটকীয় অভিজ্ঞতা, যা তাকে পরিচিত করে তোলে।

লন্ডনের রাস্তায় তার সন্তানরা বারবার অপরাধী চক্রের মুখে পড়লে তিনি পুলিশের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই অপরাধীদের পিছু নেন। ছবি তুলে তাদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার এই ঘটনায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম তাকে ‘জাগ্রত জননী’ হিসেবে আখ্যা দেয়। এই অভিজ্ঞতাই তার মনে লন্ডনের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সংকল্প জাগিয়ে তোলে।

রাজনীতিতে আসার আগে লাইলা ছিলেন রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি দপ্তরের একজন পরিচিত প্রসিকিউটর। বাকিংহাম প্রাসাদের ফটকে হামলার মতো সংবেদনশীল মামলাও তিনি পরিচালনা করেছেন। তবে তার পেশাগত জীবনের সমাপ্তি ঘটে বিতর্কের মধ্য দিয়ে। ২০২৫ সালের জুনে রক্ষণশীল দল ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দেওয়ার সময় প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ায় নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।

এর জেরে চাপের মুখে তাকে প্রসিকিউটরের পদ ছাড়তে হয়। বর্তমানে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের ল্যাঙ্কাস্টার গেট এলাকার নির্বাচিত কাউন্সিলর।

লাইলা কানিংহামের সবচেয়ে বিতর্কিত অবস্থান তার নিজের ধর্ম নিয়ে কঠোর বক্তব্য। তিনি প্রকাশ্যে লন্ডনের ‘ইসলামায়ন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের ফলে লন্ডনের বহু এলাকা ব্রিটিশ পরিচয় হারাচ্ছে। তিনি বলেন, যারা ব্রিটিশ মূল্যবোধ গ্রহণ করবে না, তাদের এ দেশে থাকার অধিকার থাকা উচিত নয়।

সমালোচকদের মতে, নাইজেল ফারাজ পরিকল্পিতভাবে একজন মুসলিম নারীকে সামনে এনে ‘মুসলিম কার্ড’ খেলছেন, যাতে বর্ণবাদের অভিযোগ এড়িয়ে কট্টর রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যায়।

বিশেষ করে কিশোরদের নিয়ে গড়ে ওঠা যৌন হয়রানিতে জড়িত অপরাধী চক্র, যাদের ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলা হয়, সে বিষয়ে লাইলা কানিংহামের কঠোর বক্তব্য তাকে ডানপন্থী ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তিনি মহানগর পুলিশের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব লন্ডনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।

২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, লন্ডনের বাইরের অঞ্চলগুলোতে সাদিক খানের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিতর্কিত ‘ইউলেজ’ প্রকল্পকে। অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজির বাজারে সাদিক খান এখনও এগিয়ে থাকলেও লাইলা কানিংহাম দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনছেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে লাইলা কানিংহাম ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে প্রথম দিনেই ইউলেজ বাতিল করবেন। তিনি লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড রেলব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করে শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘট সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবচেয়ে জোরালো অঙ্গীকার হিসেবে তিনি লন্ডনের রাস্তায় ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করার কথা বলেছেন।

নিজেকে লন্ডনের ‘নতুন শেরিফ’ হিসেবে উপস্থাপন করে লাইলা দাবি করছেন, বর্তমান মেয়র রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। লন্ডনের ইতিহাসে এই প্রথম একজন মুসলিম মেয়রের বিরুদ্ধে আরেক মুসলিম নারীর সরাসরি রাজনৈতিক লড়াই ধর্ম, নিরাপত্তা ও পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে, যার প্রভাব কেবল লন্ডনেই নয়, পুরো ব্রিটিশ রাজনীতিতেই পড়তে পারে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার তেল ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল বিপণন ও বিক্রলব্ধ অর্থের ব্যবহার এককভাবে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার তেল বিপণন শুরু করেছে এবং এই তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই অর্থ মার্কিন সরকারের বিবেচনা অনুযায়ী শুধুমাত্র আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থে ব্যয় করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালের’ এক পোস্টে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে দেশটি শুধুমাত্র আমেরিকার উৎপাদিত পণ্য যেমন—কৃষিপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে পারবে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনার জন্য তিন ধাপের একটি বিশেষ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। প্রথম ধাপে তেল বিক্রির অর্থের ওপর কঠোর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে মার্কিন ও অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করা হবে। সর্বশেষ তৃতীয় ধাপে দেশটিতে একটি রাজনৈতিক ‘উত্তরণ’ বা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন একে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা চালানোর গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে আমেরিকান জনগণের চেয়ে বড় তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা বেশি জানেন।

অন্যদিকে ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থাটি ১৯৭০-এর দশকের আগের সেই ‘ইজারা প্রথার’ কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে সম্পদের মালিক দেশগুলো থাকলেও বিপণন ও লাভের সিংহভাগ পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর হাতে থাকত। একই সঙ্গে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজ জব্দ করেছে, যার মধ্যে উত্তর আটলান্টিকে থাকা একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, একটি স্বাধীন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর এভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পরিপন্থী।

তারা মনে করছেন, বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ সমৃদ্ধ দেশটির সম্পদ শোষণের জন্য সামরিক আগ্রাসন বা শাসন পরিবর্তনের কৌশলকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া যায় না। মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আংশিক নৌ-অবরোধ ও জাহাজ জব্দের মতো ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনাকে এক চরম আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ দিয়েছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলা থেকে গ্রিনল্যান্ডঃ সাম্রাজ্যবাদে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গভীর রূপান্তরের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য আধিপত্যবাদী ঘোষণা এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর নীরবতা—সব মিলিয়ে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার দিকেই এগোচ্ছে বিশ্ব। বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রাসন কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়; বরং একটি ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্যের রোগলক্ষণ।

 

ভেনেজুয়েলার আকাশে বোমাবর্ষণ ও দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্বল ও অনিশ্চিত। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা ‘চালাবেন’। এই বক্তব্যকে অনেকেই একটি আত্মবিশ্বাসী পরাশক্তির নয়, বরং অবক্ষয়ের পথে থাকা সাম্রাজ্যের নগ্ন আত্মপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

ট্রাম্পের রাজনীতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার অকপটতা। আগের মার্কিন শাসকেরা সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থকে ‘গণতন্ত্র’ ও ‘মানবাধিকারের’ ভাষায় আড়াল করলেও ট্রাম্প সে ভণিতা করেন না। তিনি প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখল করাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। এই দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রেও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

এই কৌশলপত্রে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র কার্যত স্বীকার করেছে যে তাদের বৈশ্বিক আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে এসেছে। শীতল যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ের একক নেতৃত্বের ধারণা আর টেকসই নয় বলে সেখানে বলা হয়েছে। গোটা বিশ্বকে নিজের কাঁধে বহন করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই—এই বাস্তবতাও সেখানে মেনে নেওয়া হয়েছে।

নতুন কৌশল অনুযায়ী, বৈশ্বিক আধিপত্যের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এখন অঞ্চলভিত্তিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে। এই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে পুরো আমেরিকা মহাদেশ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বহুদিন পর আবার সক্রিয় করা হচ্ছে মনরো নীতি, যার মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ঠেকানোর কথা বলা হয়েছিল।

বাস্তবে মনরো নীতির ফল হয়েছিল ভিন্ন। ইউরোপীয় উপনিবেশ ঠেকানোর অজুহাতে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন অঞ্চলে পরিণত হয়। চিলিতে সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট সালভাদর আয়েন্দেকে উৎখাতে সহায়তা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাসহ একাধিক দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পৃষ্ঠপোষকতা—সবই এই নীতির বাস্তব রূপ।

তবে গত তিন দশকে এই আধিপত্যে বড় ধাক্কা আসে। ব্রাজিলসহ একাধিক দেশে প্রগতিশীল সরকার ক্ষমতায় এসে আঞ্চলিক স্বাধীনতা জোরদার করে। একই সময়ে চীন লাতিন আমেরিকায় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে। এই পরিস্থিতি উল্টে দিতেই ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলাকে ট্রাম্পের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর সঙ্গে একধরনের অঘোষিত সমঝোতায় ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে সেই ভারসাম্য আর নেই। এবার তিনি শুধু কথায় নয়, কার্যকরভাবে চরম ডানপন্থী ও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছেন। মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার নির্বাচিত সরকারগুলোর বিরুদ্ধে তার হুমকি সেই বাস্তবতারই ইঙ্গিত।

গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রকাশ্য আগ্রহ ইউরোপের জন্য বড় সংকেত হয়ে উঠেছে। ডেনমার্কের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপ হলে যৌথ প্রতিরক্ষার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ন্যাটো জোট কার্যত ভেঙে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার ভূমি দখলের মতোই যুক্তরাষ্ট্রও শক্তির জোরে ইউরোপীয় ভূখণ্ড দখল করতে পারে, আর তখন ইউরোপ কেবল দুর্বল প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন নিয়ে ট্রাম্পের নরম অবস্থান নতুন ব্যাখ্যা পাচ্ছে। ২০১৯ সালে আলোচনায় আসে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন থেকে সরে এলে রাশিয়া ভেনেজুয়েলায় মার্কিন প্রভাব মেনে নেবে—এমন একটি প্রস্তাব। সেই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না জানা না গেলেও, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রভাবক্ষেত্র ভাগাভাগির প্রবণতা যে বাস্তব, তা স্পষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে—যেখানে ক্ষমতাধর কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং তাদের সম্পদ দখল করবে। একসময় যা কল্পনার দুঃস্বপ্ন মনে হতো, আজ তা বাস্তব হয়ে উঠছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো বৈশ্বিক ইচ্ছা, ঐক্য ও শক্তি কি আদৌ অবশিষ্ট আছে?

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে ঘিরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানে দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে অনলাইন নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, দেশজুড়ে এই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ দমনে গৃহীত একাধিক ডিজিটাল সেন্সরশিপের ধারাবাহিকতার অংশ। সংস্থাটির মতে, সংকটময় মুহূর্তে জনগণের যোগাযোগের অধিকার এতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, এসব বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।

অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ মোকাবিলায় “সর্বোচ্চ সংযম” প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘কঠোর হাতে দমন করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিচারপতিও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘স্বার্থ বা লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করছে।’

প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই বলেন, যারা ‘অস্থিরতা সৃষ্টি করবে’ তাদের প্রতি কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তার ভাষায়, “যদি কেউ দাঙ্গা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে রাস্তায় নামে, কিংবা তাদের সমর্থন করে, তবে তাদের জন্য কোনও অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। বিষয়টি এখন স্পষ্ট— তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুদের সঙ্গে মিলেই কাজ করছে।”

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভ ঘিরে হতাহতের সংখ্যা আরও না বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, “কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, “সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার এবং নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।”

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের মোদি-সংক্রান্ত মন্তব্যে অস্বস্তিতে দিল্লি, কৌশলগত নীরবতায় ভারত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, মোদি তার সঙ্গে দেখা করতে এসে অনুরোধ করেছিলেন—এ বক্তব্য দিল্লিতে আলোচনার জন্ম দিলেও ভারত সরকার আপাতত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন নয় বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। এর আগেও তিনি ভারত ও মোদিকে লক্ষ্য করে একাধিক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, ফলে মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তে মোদি তার ওপর “খুব একটা খুশি নন”।

একই বক্তব্যে ট্রাম্প অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহ নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারত নাকি পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছে।

তবে দিল্লির সরকারি সূত্রগুলো ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ২৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কিনেছে—এর মধ্যে ২২টি ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এবং ৬টি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য। সব কটি হেলিকপ্টার ইতোমধ্যেই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

২২টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার প্রথম চুক্তি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওবামা প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত হয় এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই সেগুলোর সরবরাহ সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় চুক্তিটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় সই হয়েছিল। ওই ছয়টি হেলিকপ্টারের সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব কটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের জোরালো জবাব দেওয়ার জন্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়লেও কূটনৈতিক মহল সংযম বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া অনেক সময় “উল্টো ফল” ডেকে আনে, বিশেষ করে যখন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ভারতের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমকে এক সরকারি সূত্র জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিটি মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং ভারতের মনোযোগ থাকা উচিত বাণিজ্য আলোচনা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে।

এর আগেও ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। তখন তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না অথবা এমন উচ্চ শুল্ক আরোপ করবে যে ভারতের “মাথা ঘুরে যাবে।” সে সময় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন এবং নিজেকে উত্তেজনা প্রশমনের ভূমিকার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

গত কয়েক মাসে নয়াদিল্লি একাধিক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভুল তথ্য সংশোধন করলেও, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব নেওয়ার বিষয়টি ঠেকাতে পারেনি।

এ প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লুক্সেমবার্গে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক বাস্তবতা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দূরে থাকা দেশগুলো অনেক সময় নিজেদের ঝুঁকি না দেখে অন্যদের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে থাকে।

জয়শঙ্করের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ভারতের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করে, তাদের সঙ্গে সেই অনুযায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। আর যারা পাকিস্তানের মতো আচরণ করে, তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকের বিশ্বে দেশগুলো মূলত নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়। দূরে বসে অনেকেই পরামর্শ দেয়—কখনো চিন্তাভাবনা করে, কখনো না বুঝে, আবার কখনো স্বার্থপরভাবে। ভারত এসব বাস্তবতা মেনেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং এগিয়ে যায়।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

মোস্তাফিজকে ফেরত নিতে চায় ভারত, অনড় বিসিবি

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর বিসিবির অনড় দশা দেখে নড়েচড়ে বসেছে ভারত।

 

নিজেদের মাথা উঁচু রাখলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের লোভনীয় সব প্রস্তাব টলাতে পারেনি তাদের। এখনো ভারতে বিশ্বকাপ না খেলতে অনড় টাইগাররা। এমনকি দেয়া হয়েছিল মোস্তাফিজকে আইপিএলে ফেরানোর প্রস্তাবও!

বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কঠোর অবস্থানে হকচকিয়ে গেছে বিসিসিআই। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর বিসিবির অনড় দশা দেখে নড়েচড়ে বসেছে ভারত।

দেয়া হয়েছে মোস্তাফিজকে আইপিএলে ফেরত নেয়ার প্রস্তাবও। জানা গেছে, রোববার ভারতীয় বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফোন করেছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে।

মোস্তাফিজকে আইপিএলে ফিরিয়ে নেয়া হলে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না বাংলাদেশ— ফোনে আমিনুলের কাছে তা সরাসরিই জানতে চাওয়া হয়। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিসিবি।

ভারতের প্রস্তাব তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আবারো সাফ জানিয়ে দেয়— কোনোমতেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। জানিয়ে দিয়েছে— বল এখন সরকারের কোর্টে।

গত রোববার সন্ধ্যা নাগাদ ‘সরকারি নির্দেশ’ অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ দল। বিকল্প ভেন্যু চায় তারা।

উল্লেখ্য, ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে নিলাম থেকে কিনে নেয় আইপিএলের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে অযাচিতভাবে বিসিসিআই কলকাতাকে নির্দেশ দেয়, তাকে দল থেকে বাদ দিতে হবে।

এমনকি, কলকাতার পেজ থেকে মোস্তাফিজের সব ছবি ও ভিডিও-ও ডিলিট করা হয়। এ ঘটনায় সাথে সাথে কঠোর পদক্ষেপ নেয় বিসিবি। সাফ জানিয়ে দেয় বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।

প্রশ্ন উঠে যেখানে এক মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভারত, সেখানে গোটা দলকে কিভাবে নিরাপত্তা দেবে তারা? ফলে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন চেয়ে আইসিসির কাছে আবেদন জানায় বিসিবি।

এমতাবস্থায় চাপে পড়ে যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড- বিসিসিআই। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব রাখে। এবার দিলো মোস্তাফিজকে ফেরত নেয়ার প্রস্তাব।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, উপদেষ্টা পরিষদে উঠছে অধ্যাদেশ

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, উপদেষ্টা পরিষদে উঠছে অধ্যাদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে জীবনবাজি রাখা জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দেওয়া ন্যায্য ও প্রয়োজনীয়।

ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনের সঙ্গে যুক্ত খুনীদের বিরুদ্ধে জুলাই যোদ্ধারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়েছিলেন, তার জন্য দায়মুক্তি দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ এবং আন্তর্জাতিকভাবেও এর নজির রয়েছে। আরব বসন্তসহ বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের মাধ্যমে জনধিকৃত সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারীদের জন্য দায়মুক্তির আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে বলে জানান তিনি। সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তি আইন প্রণয়নের সুযোগ রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল—যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

এই সব আইনগত নজির ও সাংবিধানিক বৈধতার আলোকে আইন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দায়মুক্তি অধ্যাদেশের একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইনশাল্লাহ্ আগামী উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, “জুলাই-কে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব,”—ইঙ্গিত দেন যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং এর সঙ্গে যুক্ত যোদ্ধাদের সুরক্ষা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের অংশ হওয়া উচিত।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে