Categories
আন্তর্জাতিক

বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস করছে যুক্তরাষ্ট্রঃ জার্মান প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টেইনমেয়ার। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যেন ‘লুটের আড্ডায়’ পরিণত না হয়, নীতিহীনরা যেন ইচ্ছেমতো দখলদারিত্ব না চালাতে পারে–সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

যদিও জার্মান প্রেসিডেন্ট সরাসরি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার কথা বলেননি, তবে তার ইঙ্গিত সেদিকেই ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভেনেজুয়েলায় হামলা ও মাদুরোকে আটকের পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে এই প্রথম কিছুটা প্রচ্ছন্নভাবে হলেও ট্রাম্পের দিকে সমালোচনার আঙুল তুললেন স্টেইনমেয়ার। সাবেক এই জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক গণতন্ত্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি আক্রমণের মুখে পড়েছে।

যদিও জার্মান প্রেসিডেন্টের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক, তবুও তার বক্তব্যের একটি নিযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নারীকে গুলি করে হত্যার্দিষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। জার্মানির অন্য রাজনীতিকদের তুলনায় মত প্রকাশে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেন তিনি।

রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনকে যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে স্টেইনমেয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ আরেকটি ঐতিহাসিক ভাঙনের প্রতিনিধিত্ব করছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে এক সিম্পোজিয়ামে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এরপর রয়েছে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের ভাঙন, যে দেশটি এই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে বিশ্ব লুটের আড্ডায় পরিণত হবে, নীতিহীনরা যা খুশি দখল করবে, একটি অঞ্চল কিংবা পুরো দেশ কয়েকটি বৃহৎ শক্তির সম্পত্তির মতো বিবেচিত হবে, এমন বিশ্বব্যবস্থা আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’ এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোকে গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা রক্ষা করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ মিশন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি রক্ষা ও গণতন্ত্রের প্রসারে কাজ করা ৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে তিনি জানান, পর্যালোচনার পর এই সংস্থাগুলোকে মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র উক্ত সংস্থাগুলোতে অংশগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যাবতীয় তহবিল বা অর্থায়নও বাতিল করে দেবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে দ্বিতীয় মেয়াদে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকা প্রথম নীতির চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের তালিকায় জাতিসংঘের বাইরে থাকা ৩৫টি সংস্থার নাম রয়েছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। যদিও এটি জলবায়ু বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক সংস্থা, তবুও একে ত্যাগের তালিকায় রাখা হয়েছে।

এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ইউএনএফপিএ-র মতো ৩১টি জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই তালিকায় যুদ্ধকবলিত শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয়ও রয়েছে, যা ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে।

প্রকাশ্যে এসব সংস্থা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ট্রাম্প তার প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগই ছাড়ছেন না। জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জ্বালানির ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি এবং গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এর বড় উদাহরণ।

এছাড়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য নিয়োজিত সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্তও বহাল রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অনেক উদ্যোগকেই আটকে দিচ্ছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প একের পর এক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল উল্লেখযোগ্য। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, যক্ষ্মা ও কোভিড-১৯-এর মতো রোগ মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও-র মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থায় পুনরায় যোগ দিলেও ট্রাম্প তার পুরনো নীতিতে ফিরে গিয়ে বিশ্বব্যবস্থায় এক নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলাঃ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি আজ

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় অপসারিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দুই ভাগ্নী টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য শুনানির জন্য আজ ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

 

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪-এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যা বিচারিক কার্যক্রমকে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপে নিয়ে গেছে।

গত ৫ জানুয়ারি মামলার বিচারক রাবিউল আলম তদন্ত কর্মকর্তা সহ মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সাক্ষ্যপর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির পথ খুলে যায়।

আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ১০ কাঠা সরকারি প্লট অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে দুদক চলতি বছরের ১০ মার্চ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের সেক্টর–২৭-এ নিজে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, এসব বরাদ্দ সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দেওয়া হয়।

দুদকের তথ্যমতে, প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলার রায় গত বছরের ২৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়।

ওই রায়ে শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আজকের শুনানিকে পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা।

সূত্রঃ ঢাকা স্ট্রিম ডট নেট

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকিঃ বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা

আটলান্টিক মহাসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ অভিযানের পর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছে রাশিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক মহল।

 

ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ একাধিক কট্টরপন্থী নেতা এই ঘটনাকে ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার ক্ষোভের প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর।

দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলায় ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, বিপর্যস্ত হয় ট্রেন, ট্রাম ও হাসপাতাল সেবা। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ হওয়ার ঘটনায়। পুতিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেও সেই আহ্বান উপেক্ষিত হয়। ঘটনার পর রুশ প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে অনুপস্থিত থাকলেও ক্রেমলিনপন্থী কট্টর গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্যে প্রতিশোধের দাবি তোলে।

রুশ সংসদের প্রতিরক্ষা কমিটির উপ-চেয়ারম্যান আলেক্সেই ঝুরাভলেভ দাবি করেন, এই জাহাজ জব্দ “খোলাখুলি জলদস্যুতা” এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে আঘাতের শামিল। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সামরিক নীতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া হতে হবে “দৃঢ় ও তাৎক্ষণিক”।

আরেক কট্টরপন্থী এমপি ও রিজার্ভ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রেই গুরুলেভ পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি কৃষ্ণসাগরগামী জাহাজ থামানো, তল্লাশি চালানো এমনকি ডুবিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহকারী পশ্চিমা কারখানাগুলোতে হামলার ইঙ্গিত দেন।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে খেলা করা উচিত নয়।” একই সঙ্গে ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো রাশিয়ার ধীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও কঠোর সামরিক জবাবের দাবি তোলে।

এদিকে ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার ফলে ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এখনও বিদ্যুৎবিহীন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মস্থান ক্রিভি রিহ শহরে ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি শুধু ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আন্তর্জাতিক সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতের জন্য আরও বিপদ? ট্রাম্পের নতুন বিলে ৫০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ফের চাপে পড়তে পারে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নিষেধাজ্ঞা বিলের অনুমোদন দেওয়ার পর ভারতের উপর শুল্কের চাপ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর উপর আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারবে ওয়াশিংটন।

 

রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বিলে ছাড়পত্র মিলেছে। আগামী সপ্তাহেই বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে। রুশ তেলের পাশাপাশি রাশিয়ার ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলোর উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে এই বিলে।

এই বিলটি স্পনসর করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। গ্রাহামের দাবি, এই আইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর উপর ‘অসাধারণ চাপ’ তৈরির ক্ষমতা দেবে। উদ্দেশ্য একটাই— রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করা।

গ্রাহামের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেন শান্তির জন্য নিজের অবস্থান থেকে সরতে রাজি, অথচ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে জ্বালানি জোগানো দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়া যাবে। এর আগে সেনেট ও হাউস নেতৃত্ব এই বিলের ভোট পিছিয়ে দেয়। কারণ ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভারতের পণ্য আমদানির উপর সরাসরি শুল্ক বাড়ানোর পথেই তিনি হাঁটতে চান। উল্লেখ্য, চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা।

গত বছর ট্রাম্প ভারতের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান। পাশাপাশি রুশ তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক জরিমানা আরোপ করা হয়। ফলে কিছু পণ্যে মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছে যায়। এতে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক বসায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চিনও মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

সম্প্রতি ট্রাম্প ফের ইঙ্গিত দিয়েছেন, রুশ তেল কেনা বন্ধ না হলে ভারতের উপর নতুন শুল্ক বসতে পারে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতেন যে তিনি খুশি নন।’ গত মাসে ট্রাম্প ভারতীয় চাল আমদানির ওপরও নতুন শুল্কের হুমকি দেন। হোয়াইট হাউসের একটি বৈঠকে এক কৃষক প্রতিনিধি ভারত, চিন ও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তোলেন।

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত থমকে রয়েছে। ওয়াশিংটন চায়, আমেরিকান কৃষিপণ্যের উপর ভারতের শুল্ক কমুক। তবে নয়াদিল্লি দেশের কৃষক ও দুগ্ধ খাতের সুরক্ষায় অনড় অবস্থান নিয়েছে।

সূত্রঃ বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

হাদি হত্যায় বৈঠক করেন নানকসহ কয়েকজন প্রভাবশালী আ.লীগ নেতা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

 

এদিকে মঙ্গলবার হাদি হত্যা সংক্রান্ত একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যমুনা টেলিভিশন। বলা হয়, সিঙ্গাপুরে বসে ওই নেটওয়ার্কের পাঁচ দিনব্যাপী একাধিক বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় এ হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা।

এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পতিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। হত্যা পরিকল্পনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা, সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এবং হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশনা ও সরাসরি পরিকল্পনায় হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়িত হয়। গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং তাকে সহযোগিতা করেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন শেখ। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা ভারতে পালিয়ে যান। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ফয়সালের ভগিনীপতি মুক্তি মাহমুদ ও দালাল ফিলিপ স্নাল নামে আরেক সহযোগীও তাদের দেশত্যাগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম ওরফে বাপ্পীর এই নির্দেশের কারণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান বিন হাদি একটি নতুন ধরনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং তার বক্তৃতার মাধ্যমে সরকার, আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সত্য ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এসব সমালোচনার কারণেই আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিলর ফয়সালকে হত্যা করতে বলেন। এ হত্যা মামলার তদন্তকালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এসেছে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে বসেই চূড়ান্ত করা হয় শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ছক। এ উদ্দেশ্যে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছরের ২১ জুলাই সিঙ্গাপুরে যান। পরদিন ২২ জুলাই সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের চারজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-জাহাঙ্গীর কবির নানক, ইলিয়াস মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীসহ আরও একজন। সূত্রের দাবি, ৫ দিনব্যাপী ওই বৈঠকেই হত্যার চূড়ান্ত রূপরেখা, অর্থের লেনদেন এবং দায়িত্ব বণ্টন নির্ধারণ করা হয়। ২৬ জুলাই দেশে ফেরার পরপরই ফয়সালের সন্তানের নামে একটি ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) খোলার তথ্য পায় তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক ও পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ।

ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তে গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট, পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। শরিফ ওসমান বিন হাদিকে সরাসরি গুলি করেন ফয়সাল করিম। তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। এই তিনজনই ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান।

ডিবি জানায়, ফয়সাল করিমের ভগিনীপতি মুক্তি মাহমুদ (৫১) ফয়সাল ও আলমগীরকে নিজ বাসায় আশ্রয় দেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সংরক্ষণ করেন। আর ফিলিপ স্নাল (৩২) ফয়সালসহ অন্য আসামিদের সীমান্ত পারাপারে সরাসরি সহায়তা করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), সিবিয়ন দিও (৩২) ও সঞ্জয় চিসিম (২৩) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

ফয়সাল করিমের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং নরসিংদীতে অস্ত্র স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মা হাসি বেগম (৬০) ফয়সাল ও আলমগীরকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র সংরক্ষণে ভূমিকা রাখেন। ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তারও (৪২) একইভাবে আসামিদের আশ্রয় দেন এবং অস্ত্র সংরক্ষণে সহায়তা করেন।

সূত্রঃ যুগান্তর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল টেস্টের ব্যবধান বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ

থিওরি টেস্ট ও ব্যবহারিক ড্রাইভিং টেস্টের মধ্যে ন্যূনতম ছয় মাস অপেক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সরকারের দাবি, এই ব্যবধান নতুন চালকদের দক্ষতা বাড়াবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে।

 

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে তরুণদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট।
রিডিংয়ের ২১ বছর বয়সী রায়ান মনে করেন, শিক্ষানবিশ চালকদের নির্দিষ্ট সময় ড্রাইভিং প্রশিক্ষকের সঙ্গে অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তার মতে, সদ্য পাশ করা অনেক চালকের ড্রাইভিং মান উদ্বেগজনক এবং দীর্ঘ প্রশিক্ষণ সময় তা উন্নত করতে পারে।

তবে একই সঙ্গে রায়ান বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ড্রাইভিং লেসনের খরচ অনেক বেশি, যা অনেক তরুণের জন্য বড় বোঝা। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে গণপরিবহন সীমিত হওয়ায় দ্রুত গাড়ি চালানোর সুযোগ পাওয়া অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তার এলাকায় আশপাশের গ্রামগুলোতে বাস মাত্র ঘণ্টায় একবার আসে, ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা বাড়ে।

ইয়র্কের ২৫ বছর বয়সী জ্যাক, যিনি বর্তমানে ড্রাইভিং শেখার কথা ভাবছেন, সরকারের প্রস্তাবকে মোটামুটি ন্যায্য বলেই মনে করেন। তার মতে, বয়সের দুই প্রান্তেই—তরুণ ও বয়স্ক চালকদের মধ্যে—দুর্ঘটনার হার বেশি দেখা যায়, তাই সবার ক্ষেত্রেই কিছু নিয়ম কঠোর করা যৌক্তিক।

তবে জ্যাকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাড়তি ব্যয় নিয়ে। তার ভাষায়, ছয় মাস ধরে বাধ্যতামূলক লেসন নেওয়ার অর্থ হলো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যয়বহুল ড্রাইভিং ফি পরিশোধ করা, যা অনেক শিক্ষানবিশের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, সরকারের এই পরিকল্পনা সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এলেও বাস্তব জীবনের আর্থিক ও যোগাযোগসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনায় না নিলে এটি তরুণ চালকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের খালেদা জিয়ার নামে রাস্তার নামকরণ

সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। হ্যামট্রমিক শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে তার নামেই পরিচিত হবে।

শহর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি। প্রবাসীদের মতে, এটি কেবল একটি সড়কের নতুন পরিচয় নয়, বরং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের এক আন্তর্জাতিক দলিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো নেতার নামে রাস্তার নামকরণ এবারই প্রথম নয়। এর আগে শিকাগো শহরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল। এবার মিশিগানেও যুক্ত হলো খালেদা জিয়ার নাম।

বর্তমানে এই কাউন্সিলে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের সক্রিয় প্রচেষ্টায় এই নামকরণ সম্ভব হয়েছে। মট্রমিক সিটির জোসেফ ক্যাম্পাও এবং কোনাল্ট স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশটি বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাবটি সম্প্রতি সিটি কাউন্সিল অনুমোদন দেয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের ইতিহাস ও দেশনেত্রীর অবদান সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এই অর্জনে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সূত্রঃ যুগান্তর

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

চরমপন্থার সমালোচনায় ট্রাম্পের নাতনি, রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কখনো রাজনীতিতে যাবেন না। তার মতে, রাজনীতি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ক্ষেত্র এবং এতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

 

১৮ বছর বয়সী কাই ট্রাম্প বলেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে নিজেকে “মাঝামাঝি অবস্থানে” মনে করেন এবং বামপন্থী ও ডানপন্থী—উভয় দিকের চরমপন্থার সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, দুই পক্ষ যদি মাঝামাঝি এসে একমত হতে পারত, তাহলে সমাজ অনেক বেশি স্থিতিশীল ও সুখী হতো।

কিন্তু বাস্তবে অনেক মানুষ অতিরিক্ত চরম হয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। এসব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কাই ট্রাম্প বলেন, রাজনীতির ঝুঁকি ও সহিংসতার দিকটি তাকে আরও বেশি সতর্ক করেছে।

সাক্ষাৎকারে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কাই ট্রাম্প বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি জানান, তিনি সচেতনভাবেই রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন এবং রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চান না। তার মতে, রাজনীতিতে জড়ানো মানেই অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব ও ঝুঁকি ডেকে আনা।

টিকটকে বড় অনুসারী থাকা একজন উদীয়মান গলফার হিসেবে পরিচিত কাই ট্রাম্প মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলছে। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যম মানুষের ফিডকে একদিকে ঠেলে দেয়—হয় পুরোপুরি বাম, নয়তো পুরোপুরি ডান। এতে করে যারা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে, তাদের কণ্ঠ চাপা পড়ে যায়।

তার মতে, এই একমুখী কনটেন্ট অনেক মানুষকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলছে এবং অনেকে অতিরিক্তভাবে এসব ধারণায় বিশ্বাস করে ফেলছে। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তিনি নিজেকে চরম কোনো মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত মনে করেন না।

কাই ট্রাম্প আরও জানান, তার দাদা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কামালা হ্যারিসের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তারা কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, কাই ট্রাম্পের বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র একজন প্রভাবশালী রক্ষণশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ভবিষ্যতে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—এমন জল্পনা থাকলেও কাই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পারিবারিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজনীতির পথ বেছে নিতে চান না।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

৫০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্রিটেনঃ ট্রাম্প যুগে বৈশ্বিক প্রভাব হারাল যুক্তরাজ্য

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তরাজ্য তার ঐতিহাসিক প্রভাব ও গুরুত্ব দ্রুত হারাচ্ছে—এমন দাবি উঠেছে এক বিশ্লেষণে। বিশ্লেষকদের মতে, গত ৫০০ বছরের মধ্যে ব্রিটেন কখনোই এতটা দুর্বল ও অপ্রাসঙ্গিক অবস্থানে ছিল না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিই এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে গ্রিনল্যান্ড, ভেনেজুয়েলা বা মধ্যপ্রাচ্যের মতো ইস্যুতে যুক্তরাজ্য কার্যত উপেক্ষিত।

 

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম ইউরোপ যে বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রেখেছিল, সেই অধ্যায় কার্যত শেষের পথে। কল্যাণরাষ্ট্রভিত্তিক অর্থনীতি, অতিনিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিভীতি, জনসংখ্যাগত সংকট এবং সামরিক সক্ষমতা হ্রাস ইউরোপকে দুর্বল করে ফেলেছে। এর মধ্যে ব্রিটেন নিজের সিদ্ধান্তেই সেনাবাহিনী ছোট করেছে এবং ‘সফট পাওয়ার’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্রিটেনের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে বলে মন্তব্য করা হয়। একসময় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী মিত্র হলেও, এখন যুক্তরাজ্য কার্যত একটি নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ভাষা ব্যবহার করে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করলেও, শক্তি ও বাস্তব সক্ষমতার অভাবে তা কার্যকর হচ্ছে না।

প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা ও জ্বালানি উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার তুলনায় পশ্চিম ইউরোপ অনেকটাই পিছিয়ে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউরোপ এখন খুব কম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে। জ্বালানি নিরাপত্তায় ব্যর্থতা এবং রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

আরও বলা হয়, আধুনিক বৈশ্বিক অর্থনীতি এমনভাবে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর হয়ে পড়েছে যে চাইলে ওয়াশিংটন সহজেই আর্থিক ও প্রযুক্তিগত চাপ প্রয়োগ করতে পারে। ডলার লেনদেন, ডেটা সার্ভার, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকেও যুক্তরাজ্যের অবস্থান উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করা হয়। একসময় ফকল্যান্ড যুদ্ধ, উপসাগরীয় যুদ্ধ কিংবা আফগানিস্তানে বড় ভূমিকা রাখলেও, বর্তমানে সীমিত সামরিক সম্পদের কারণে বড় কোনো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী মিশনেও সামান্য অংশগ্রহণ দেশটির জন্য চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সূচকেও ব্রিটেনের অবস্থান নেমে গেছে। একসময় বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশ হলেও বর্তমানে ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী মাথাপিছু জিডিপিতে দেশটির অবস্থান ৩৫তম। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে হলে মৌলিক নীতিগত পরিবর্তন জরুরি।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়া সমাধান নয়। বরং সামরিক ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা, সেনাবাহিনী সম্প্রসারণ, জ্বালানি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে উদ্যোক্তা-ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে