Categories
বাংলাদেশ

বাড়ি কিনতে মিলবে ৪ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ

নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি ও আবাসন খাতে বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গৃহঋণ নীতিমালা সহজ ও হালনাগাদ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নিয়মে গ্রাহক সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ পাবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গৃহঋণে খেলাপি ঋণের হারের ওপর।

 

ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলো বাড়ি কিনতে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের গৃহঋণে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ বা তার কম হলে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ঋণসীমা হবে ৩ কোটি টাকা।

আর খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি হলে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দেওয়া যাবে।

নতুন নীতিতে আরও বলা হয়েছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মোট মূল্যের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ হিসেবে দেওয়া যাবে। বাকি অন্তত ৩০ শতাংশ অর্থ গ্রাহককে নিজে দিতে হবে। পাশাপাশি ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে, গ্রাহকের পর্যাপ্ত আয় আছে এবং তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগের যেসব সার্কুলার ছিল সেগুলো বাতিল করে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের হুমকি চীন-ইউরোপকে আরও কাছাকাছি আনছে!

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান না, বরং তিনি এটি ডেনমার্কের কাছ থেকে এটি কিনে নিতে চান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা সামনে আসার পর জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে ডেনমার্কের মিত্রদের মধ্যে।

 

গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি আর্কটিক অঞ্চলে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবে কিছু পর্যবেক্ষক বলছেন যে এটি ইউরোপের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির দ্বারও খুলে দিতে পারে।

ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর হোয়াইট হাউস দ্রুত ডেনমার্কের স্বশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের দিকে মনোযোগ দেয়। এ সময় হোয়াইট হাউস জানায়, প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পও কমান্ডার-ইন-চিফের হাতে সবসময় রয়েছে।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এখনই’ গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তার দাবি, ওই এলাকায় সর্বত্র রুশ ও চীনা জাহাজের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিং ওয়াশিংটনকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজের স্বার্থ আদায়ের জন্য তথাকথিত ‘চীন হুমকি’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি সেখানে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় আর্কটিকের মধ্য দিয়ে নতুন ও সম্ভাব্য লাভজনক সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। এসব পথ ব্যবহারে বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে নৌযাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর ইউরোপ ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা একজোট হয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের মালিক শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণই এবং আক্রমণ বা দখলের প্রচেষ্টা তারা মানবে না।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে নাটো’র অবস্থা বিপন্ন হবে এবং এই ধরনের হুমকি বন্ধ করা উচিত।

ইউরোপীয় নেতারা এই ইস্যুকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আলোকে সমাধান করার প্রয়োজনীয়তা আবারো জোর দিয়ে বলেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্রঃ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

জরুরি অবতরণের নির্দেশ অমান্য পাইলটের, বিমানের ভেতরেই মারা গেলেন যাত্রী

যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরের পরও জরুরি অবতরণ করেননি পাইলট। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পাইলট পূণরায় উড্ডয়ন করা বিমানবন্দরে (সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর) ফিরে আসেন। এর মধ্যেই মারা যান যাত্রী। আলোচিত এ ঘটনা ঘটেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে।

 

এ ঘটনার পর সংস্থাটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আর ওই ফ্লাইটটি অপারেটিং করছিলেন পাইলট আলেয়া।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ২০১। ফ্লাইটটি যখন পাকিস্তানের আকাশসীমায়, তখন বিমানে থাকা এক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যাত্রীর প্রাণ রক্ষার্থে পার্শ্ববর্তী কোনও বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশ অমান্য করে এই বিমানের পাইলট আলেয়া পাকিস্তানের আকাশসীমা থেকে ঢাকায় ফেরত আসেন। সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। দীর্ঘসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় যাত্রী বিমানের ভেতরই মারা যান। পরে আবহাওয়াজনিত কারণে বিমানটি ওই দিন আর লন্ডনে যেতে পারেনি। এতে দুর্ভোগে পড়েন অন্য যাত্রীরা।

এদিকে এ ঘটনার পর তোলপাড় শুরু হয়। পরে বিমান কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিমানের ফ্লাইট সেফটি প্রধান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কাস্টমার সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার ও অ্যাকাউন্টস, প্যাসেঞ্জার রেভিনিউ প্রসেস র‌্যাপিডের ম্যানেজার।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট যাত্রীর মেডিক্যাল ফিটনেস, ক্লিয়ারেন্স ও প্রি-ফ্লাইট মেডিক্যাল শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা, ফ্লাইট ডাইভারশন বা ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ছিল, ইন-ফ্লাইট ফার্স্ট এইড ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সময়মতো নেওয়া হয়েছিল কি না বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে।

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষায় বড় পরিবর্তনঃ গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য কঠোর হলো নতুন টেস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)।

 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারীসহ সব যোগ্য আবেদনকারীকে ২০২৫ সালের সংশোধিত ন্যাচারালাইজেশন সিভিকস টেস্ট পাস করতে হবে।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে যারা ফরম এন-৪০০ (নাগরিকত্বের জন্য আবেদন) জমা দেবেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন ২০২৫ ন্যাচারালাইজেশন সিভিকস টেস্ট কার্যকর হবে। তবে এই তারিখের আগে আবেদনকারীদের জন্য ২০০৮ সালের সিভিকস পরীক্ষা বহাল থাকবে।

নতুন এই পরিবর্তনের ফলে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্বের যোগ্যতা যাচাইয়ের মান উন্নত করা এবং প্রতারণামূলক ন্যাচারালাইজেশন আবেদনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা ও নাগরিক শিক্ষা সম্পর্কে আবেদনকারীদের জ্ঞান আরও গভীরভাবে যাচাই করা হবে।

২০২৫ সালের সিভিকস টেস্ট একটি মৌখিক পরীক্ষা। এতে ১২৮টি প্রশ্নের ভাণ্ডার থেকে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করবেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে অন্তত ১২টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। কেউ যদি ৯টি প্রশ্নের ভুল উত্তর দেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ফেল হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিশেষ সুবিধা হিসেবে, যাদের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি এবং যারা অন্তত ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত স্থায়ী বাসিন্দা, তাদের জন্য সীমিত প্রশ্নের একটি আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে ২০টি নির্বাচিত প্রশ্নের ভাণ্ডার থেকে ১০টি প্রশ্ন করা হবে এবং আবেদনকারীরা নিজেদের পছন্দের ভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, সিভিকস পরীক্ষার কিছু প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে—বিশেষ করে নির্বাচন বা নতুন নিয়োগের কারণে। তাই নাগরিকত্ব সাক্ষাৎকারের সময় যিনি সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্বে থাকবেন, তার নাম দিয়েই উত্তর দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সিভিকস টেস্ট যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। ফলে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা ও অনুশীলন করার প্রয়োজন হবে।

সূত্রঃ ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অনলাইনে আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাজ্যে প্রথম মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইনে আত্মহত্যায় সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রাণঘাতী একটি রাসায়নিক বিক্রি করার দায়ে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী মাইলস ক্রস। বুধবার মোল্ড ক্রাউন কোর্টে দেওয়া রায়ে আদালত ঘটনাটিকে বিরল ও অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে একটি অনলাইন আত্মহত্যা ফোরামে বেনামে সক্রিয় থেকে ক্রস চারজনের কাছে ওই রাসায়নিক পাঠান এবং প্রতিটি লেনদেনের জন্য ১০০ পাউন্ড নেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে দুজন পরবর্তীতে প্রাণ হারান। অভিযুক্তের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না—এ বিষয়টিকে আদালত গুরুতর মাত্রার বাড়তি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বিচারক রোল্যান্ডস উত্তর ওয়েলস পুলিশের তদন্তের প্রশংসা করেন। তদন্তে অফকমের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ফোরামে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয় এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, এনএইচএস ও সামারিটানস দাতব্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। আদালত বলেন, অনলাইনে দুর্বল মানুষদের লক্ষ্য করে এমন কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য বড় হুমকি।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত জুয়া, মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং মানসিক অবনতির প্রেক্ষাপটে আত্মহত্যার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে ফোরামে যোগ দেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি রাসায়নিকের ছবি ও একটি বার্তা পোস্ট করেন এবং অর্ডার ও অর্থ পরিশোধের জন্য একটি কিউআর কোড যুক্ত করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিযান চালিয়ে ক্রসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিতে রাসায়নিক উদ্ধার করা হয় এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে ফোরাম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। গত বছরের নভেম্বরে তিনি আত্মহত্যায় উৎসাহ বা সহায়তা করার ক্ষমতাসম্পন্ন কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করার চারটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।

রিপোর্টিং সীমাবদ্ধতার কারণে কেবল একজন ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে—লিডসের ২৯ বছর বয়সী শুভ্রীত সিং। তার বাসা থেকে অভিযুক্তের ফেরত ঠিকানাসহ একটি প্যাকেট ও দুজনের মধ্যে আদান-প্রদানের বার্তা উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করা মলি রোজ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, সংশ্লিষ্ট বিষাক্ত পদার্থটি যুক্তরাজ্যে অন্তত ১৩৩টি মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত। বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, মামলাটি যেন ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের পেশাদার সহায়তা নিতে উৎসাহিত করে এবং অনলাইন শিকারিদের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ায়।

রায়ের পর উত্তর ওয়েলস পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, এই সাজা অনলাইনে দুর্বল মানুষদের শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে। তাদের মতে, সহায়তার পথে পথনির্দেশ দেওয়ার বদলে যারা দুর্বলতার সুযোগ নেয়, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউক্রেন ইস্যুতে স্টারমারের নীতির কড়া সমালোচনায় ফারাজ

ইউক্রেনে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের যেকোনো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ। তিনি বলেছেন, এমন একটি সামরিক অভিযানে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম বর্তমানে ব্রিটেনের নেই, তাছাড়া এই ধরনের উদ্যোগের কোনো নির্দিষ্ট শেষ সময়সীমাও নেই।

 

বুধবার হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর (পিএমকিউস) অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকে ফারাজ টাইম রেডিওতে একটি সম্প্রচারে অংশ নেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ইউক্রেন নীতি নিয়ে আবারও সমালোচনা করেন এবং আগের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানান। ফারাজের ভাষায়, বাস্তবতা বিবেচনা না করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দেশকে দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিতও দেন। ফারাজ বলেন, যদি এটি কোরিয়ান যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থার মতো জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বহু দেশের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হতো, যেখানে দেশগুলো পালাক্রমে সেনা মোতায়েন ও প্রত্যাহার করতে পারত, তাহলে বিষয়টি ভাবা যেত।

ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিফর্ম ইউকে নেতা। তার মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক দৃশ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি চোখে পড়লেও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এতে সক্রিয় ছিলেন না এবং জার্মানির অবস্থানও ছিল অস্পষ্ট। ফারাজের দাবি, ‘ইচ্ছুকদের জোট’ কার্যত মাত্র দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি সেনা উপস্থিতির তুলনা করেন ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কার ‘ব্রিটিশ আর্মি অব দ্য রাইন’-এর সঙ্গে। ফারাজ স্মরণ করিয়ে দেন, সে সময় প্রতিরক্ষা খাতে ব্রিটেনের জাতীয় ব্যয়ের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যয় হতো এবং সেনারা টানা প্রায় ৫০ বছর সেখানে অবস্থান করেছিল। তার মতে, বর্তমান আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতা দিয়ে এমন দীর্ঘমেয়াদি দায়ভার বহন করা ব্রিটেনের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশিদের জন্য তিন বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে, সে তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

 

ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় সাতটি দেশকে যুক্ত করার এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম যোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য তিনটি বিমান বন্দর বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে

ভিসা বন্ড জমা দিয়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন, তাদের জন্য বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর তিনটি হলো: বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (বিওএস), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে) ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (আইএডি)।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য এই তিন বিমান বন্দর বরাদ্দ এখন। এর বাইরে অন্য কোনও বিমানবন্দর দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বা সে দেশ থেকে বের হতে পারবে না।

যদি কেউ অন্য কোনও বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে বা বের হয়, তাহলে তা বন্ডের নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ হবে এবং বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

ভিসা বন্ড হলো একধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত বা নিশ্চয়তা নিয়ে থাকে; যেন তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়।

বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি।

নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি।

২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে আমাকে অভিশংসিত হতে হবেঃ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলে তাকে আবারও ‘অভিশংসনের’ মুখে পড়তে হবে।

 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে আয়োজিত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ক্যাপিটল হিল হামলার পাঁচ বছর পূর্তির দিনে ট্রাম্প তার দলের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের এ নির্বাচনে জিততেই হবে। কারণ আমরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাই, তবে ডেমোক্র্যাটরা আমাকে অভিশংসন করার কোনো না কোনো অজুহাত খুঁজে বের করবে। আমি নিশ্চিতভাবেই অভিশংসিত হবো।’

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিল হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। যদিও দুইবারই তিনি উচ্চকক্ষ সিনেটে খালাস পান। মঙ্গলবারের সভায় ট্রাম্প দাবি করেন, আগের দুইবারও তাকে ‘বিনা কারণে’ হেনস্তা করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানদের নীতি ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে অনেক উন্নত। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন হারায়, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে তিনি গর্ভপাত ইস্যুতে দলীয় অবস্থান কিছুটা ‘নমনীয়’ করার পরামর্শ দেন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরাসরি জনগণের হাতে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডগ লামালফার আকস্মিক মৃত্যু এবং গত সোমবার মার্জরি টেইলর গ্রিনের আগাম অবসরের ফলে হাউস স্পিকার মাইক জনসনের হাতে এখন মাত্র ২টি আসনের ব্যবধান (টু ভোট মারজিন) অবশিষ্ট রয়েছে। ৪৩৫ আসনের এ পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা ২১৩।

অন্যদিকে, ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ সিনেটে রিপাবলিকানরা ৫১-৪৯ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ব্যবধান উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই ট্রাম্প বারবার সতর্ক করছেন যে, সামান্য আসন কমলে ডেমোক্র্যাটরা সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে এবং তার প্রেসিডেন্সির ওপর আঘাত আনবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ এবং মার্কিন রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্রঃ ফক্স নিউজ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

নিজ দেশের নাগরিক হত্যা, তাদের গণকবর—সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় নাঃ প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে নিজেদের স্বজনের সন্ধানে ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি।

শনাক্ত হওয়া শহীদেরা হলেন— শহীদ সোহেল রানা (৩৮), শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ আসাদুল্লাহ (৩২), শহীদ মাহিন মিয়া (৩২), শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬), শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩), শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮) এবং শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)।

কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন।

সিআইডি জানিয়েছে, জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব পরিবারের সদস্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, সত্য উদঘাটন এবং শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে— সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, আর তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি ফরেনসিক কার্যক্রম নয়; এটি নিখোঁজদের পরিবারের চোখের পানি মুছে দেওয়া, রাষ্ট্রের মানবিক মুখ পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়বিচারের পথে এক সাহসী পদক্ষেপ। যারা এখনও প্রিয়জনের খোঁজে পথ চেয়ে আছেন, তাদের জন্য এ কার্যক্রম আশার আলো— একদিন সত্য সামনে আসবেই।

সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বৈঠকে বলেন, একজন শহীদের মা নিয়মিত সিআইডির কাছে আসতেন। তিনি রায়ের বাজারে গিয়ে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। খুবই আশ্চর্যজনকভাবে ওই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ল্যাব তৈরি করে যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে পুলিশের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।”

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি মো. জমশের আলী, সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম, সিআইডির এসএসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিআইডির ডেপুটি চিফ ডিএনএ এনালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস এবং জাতিসংঘে মানবাধিকার অফিসের প্রতিনিধি মো. জাহিদ হোসেন।

সূত্রঃ প্রেস উইং

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মাদুরোর ‘নাচ’ ঘিরে ক্ষোভের কারণে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রকাশ্য নাচের প্রদর্শন ও ব্যক্তিগত ভঙ্গিমা নিয়ে বিরক্তি থেকেই দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন দাবি করেছে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি শুরুতে তুচ্ছ মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানানো হয়, হোয়াইট হাউসে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি মন্তব্য করেন—“কোনো বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়াই একটি শাসনব্যবস্থা উড়িয়ে দেওয়ার চেয়ে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভবত সঠিক সিদ্ধান্ত।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা বিষয়ে তার কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়।

একই সময়ে ট্রাম্প নিকোলাস মাদুরোকে কটাক্ষ করে বলেন, “ও আমার নাচ অনুকরণ করার চেষ্টা করে।” এই মন্তব্যটি মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের আচরণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগত আলাপে বলেন—তার স্ত্রী বারবার তাকে জানিয়েছেন যে মাদুরো তার নাচের অনুকরণ করছেন। এই বিষয়টি শুনে তিনি ক্রমশ বিরক্ত বোধ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের দৃষ্টিতে মাদুরোর এসব প্রকাশ্য আচরণ কেবল কূটনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী নয়, বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এক ধরনের উপহাস হিসেবেও বিবেচিত হয়। ফলে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তার অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে ব্যক্তিগত বিরক্তি ও কৌশলগত হিসাব—এই দুইয়ের মিশ্রণ স্পষ্ট। একদিকে শাসন পরিবর্তনের ঝুঁকি, অন্যদিকে অঞ্চলটিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার লক্ষ্য—এই ভারসাম্যের মধ্যেই নেওয়া হয় আলোচিত এই সিদ্ধান্ত।

তবে এসব দাবি নিয়ে হোয়াইট হাউস বা ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবুও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা ও বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে