Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অ্যালবার্ট ব্রিজের মোড়ে ১৪ মাসে জরিমানা আদায় ২৬ লাখ পাউন্ড

লন্ডনের অভিজাত এলাকা কেনসিংটন ও চেলসিতে অবস্থিত অ্যালবার্ট ব্রিজের উত্তর পাশের একটি সড়কসংযোগস্থল নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৪ মাসে এই একটি জায়গা থেকেই চালকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ পাউন্ড জরিমানা, যা একে লন্ডনের সবচেয়ে বেশি আয় করা ‘পেনাল্টি স্পট’ হিসেবে পরিচিত করেছে।

 

কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ওই মোড়ে ৩৬ হাজারের বেশি পেনাল্টি চার্জ নোটিশ (পিসিএন) ইস্যু করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঐতিহাসিক অ্যালবার্ট ব্রিজ রক্ষায় যানবাহনের ওজনসীমা চালু করা হলেও, বড় যানবাহন নিয়ম ভেঙে সেতুর উত্তর পাশের প্রবেশপথ ব্যবহার করায় ক্যামেরায় ধরা পড়ছে নিয়মিত।

সেতুতে প্রবেশের আগে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হলেও প্রতিদিন হাজার হাজার ভারী যানবাহন ওই পথে চলাচল করছে। এর ফল হিসেবে জরিমানার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৬৪ হাজার ২৩০ পাউন্ডের বেশি। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেতু দিয়ে চলাচল করতে হলে যানবাহনের ওজন ৩ টনের নিচে এবং প্রস্থ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির কম হতে হবে।

কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেড–টু তালিকাভুক্ত এই ঐতিহাসিক সেতুটি নাজুক হওয়ায় ভারী যান চলাচলে ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। সাধারণ ছোট ও মাঝারি ভ্যান সাধারণত এই সীমার মধ্যে থাকলেও, লুটন ভ্যান, আধুনিক ট্রাক এবং কিছু এসইউভি—যেমন রেঞ্জ রোভার—ওজনসীমার কাছাকাছি বা তা অতিক্রম করতে পারে।

বাস্তবে এই বিধিনিষেধ এলাকাটিতে তীব্র যানজট তৈরি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। কর্মদিবসের ব্যস্ত সকালে বড় যানবাহনগুলো প্রবেশপথে আটকে গেলে পেছনের গাড়িগুলোও থেমে যায়। এতে অনেক চালক সেতুর সামনে থাকা হলুদ বক্সে আটকে পড়েন এবং সেখান থেকে আলাদা জরিমানার ঝুঁকিতে পড়েন।

সেতুর আগে থাকা দুটি হলুদ বক্স ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল)–এর নিয়ন্ত্রণে। টিএফএল জানিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ওই স্থানে ৭২টি পিসিএন ইস্যু করা হয়েছে এবং জরিমানার অর্থ আইন প্রয়োগ ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।

অ্যালবার্ট ব্রিজের আশপাশে তিন দশকের বেশি সময় ধরে বসবাসকারী এক পেনশনভোগী বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এই স্থানটি কাউন্সিলের জন্য একটি ‘মানি-মেকার’। তার ভাষায়, চেলসি ব্রিজের প্রবেশব্যবস্থা পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত ট্রাফিক এই সেতুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও তিনি সেতুর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন, তবুও তার মতে জরিমানার মাত্রা প্রশ্নবিদ্ধ।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত পুরো লন্ডনে পেনাল্টি চার্জ থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে অ্যালবার্ট ব্রিজের উত্তর পাশ থেকেই। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামের স্টেশন প্যারেড এবং তৃতীয় স্থানে হারোর ক্যামরোজ অ্যাভিনিউ।

ঐতিহাসিকভাবে অ্যালবার্ট ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। ১৮৭৩ সালে চালু হওয়া সেতুটি ভিক্টোরীয় যুগের ঘোড়ার গাড়ির উপযোগী করে নির্মিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবনতি ঘটায় বারবার ওজনসীমা আরোপ ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে। ‘দ্য ট্রেম্বলিং লেডি’ নামে পরিচিত এই সেতু সর্বশেষ ২০১১ সালে দীর্ঘ সংস্কারের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।

কেনসিংটন ও চেলসি কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অ্যালবার্ট ব্রিজকে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ রাখতে ওজনসীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা ছাড়া বিকল্প নেই। চালকদের গাড়ির ওজন যাচাই করে সেতুতে প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সেতুও রক্ষা পাবে, জরিমানাও এড়ানো সম্ভব হবে।

তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, লন্ডনের অন্যতম ধনী কাউন্সিল হিসেবে জরিমানার অর্থ সেতু শক্তিশালীকরণে আরও বেশি বিনিয়োগ করা উচিত ছিল। তাদের মতে, অতিরিক্ত যানজটে ভরা শহরে ট্রাফিকের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে রাজস্ব আদায় দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাই বাড়াবে।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশিসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘ভিসা বন্ড’ বাধ্যবাধকতা

বাংলাদেশিসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ড নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট জানিয়েছে, এসব দেশের নাগরিকদের B1/B2 (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আলজেরিয়া, অঙ্গোলা, আন্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান, বটসওয়ানা, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোট দ’আইভরি, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যার পরিমাণ ৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার অথবা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে। বন্ডের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করবেন কনসুলার অফিসার ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময়। আবেদনকারীকে এ জন্য DHS Form I-352 পূরণ করতে হবে এবং অর্থ জমা দিতে হবে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট Pay.gov–এর মাধ্যমে।

কনসুলার অফিসারের নির্দেশ ছাড়া আগে থেকে কোনো অর্থ প্রদান করলে সেটি ফেরত পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি, ভিসা বন্ড প্রদান করা হলেও তা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়—এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে শুধুমাত্র তিনটি নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়ে। সেগুলো হলো বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ. কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ডালেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। এই শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে অথবা প্রস্থানের তথ্য সঠিকভাবে রেকর্ড নাও হতে পারে।

নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ভিসা বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। যেমন—ভিসাধারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশই না করলে, অথবা পোর্টে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ভিসা অনুমোদিত না হলে।

অন্যদিকে, ভিসা বন্ড লঙ্ঘিত বলে গণ্য হবে যদি কেউ অনুমোদিত সময়ের পরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের চেষ্টা করেন অথবা আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন করেন। এমন পরিস্থিতিতে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো B1/B2 ভিসায় মেয়াদ অতিক্রমের হার কমানো এবং বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাপনাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্য করা।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট Travel.State.Gov–এ।

সূত্রঃ ট্রেভেল স্টেইট ডট গভ

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতেই যেতে হবে— প্রচারিত সংবাদ ভিত্তিহীনঃ বিসিবি

নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসিকে পাঠানো চিঠির জবাব পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জবাবে আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ও নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।

 

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোর্ডের উত্থাপিত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো সমাধানে আইসিসি নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নে বিসিবির মতামতকে স্বাগত জানানো হবে এবং তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।

এর আগে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে দাবি করে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে- এমন বার্তা বিসিবিকে দিয়েছে আইসিসি। তবে বিসিবি এই দাবিকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, কিছু গণমাধ্যমে বোর্ডকে এ বিষয়ে ‘আলটিমেটাম’ দেওয়া হয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসত্য। আইসিসি থেকে প্রাপ্ত বার্তার বিষয়বস্তু বা ধরনের সঙ্গে এসব প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিসিবি জানায়, জাতীয় দলের নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থানে তারা অটল রয়েছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ যেন নিরাপদ, সফল ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে বিসিবি আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশাদার ও সহযোগিতামূলকভাবে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

বিসিবির মতে, এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সেন্টমার্টিন বিভক্ত হবে চার এলাকায়, রেস্ট্রিক্টেড জোনে প্রবেশ করতে পারবে না কেউ

সরকার এ মুহূর্তে সেন্ট মার্টিনের হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনে পর্যটন হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। সেন্ট মার্টিন ও পর্যটন ব্যবসা সমার্থক হতে পারে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্ট মার্টিন নিয়ে মহাপরিকল্পনার ওপর আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই মুহূর্তে দ্বীপের সংরক্ষণ ও এর জীববৈচিত্র্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে সরকারের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন রিজওয়ানা হাসান। একই সঙ্গে এ দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার ওপরও জোর দেন তিনি।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘৮ হাজার মানুষের এ দ্বীপে প্রতিদিন যদি ১০ হাজার পর্যটক যায়, স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা করেন দ্বীপের মানুষের খুশি হওয়ার কোনো কারণ নাই। কারণ, পর্যটকেরা স্থানীয়দের প্রাইভেসির ওপর একটা প্রভাব ফেলবে।’

দ্বীপের বাসিন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় একটা ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজওয়ানা হাসান। বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিতে হস্তশিল্প, মাছ ধরার পাশাপাশি পর্যটন ব্যবস্থাপনাও একটি বিকল্প হতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্যুরিজম হবে নিয়ন্ত্রিত এবং অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত। দ্বীপটাকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এ কাজগুলো করতে হবে। এ দ্বীপের একটা অংশ এর মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে এমনিতে এ দ্বীপ অস্তিত্ব সংকটে আছে। আর অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম এ সংকটকে ত্বরান্বিত করছে।’

সেন্ট মার্টিন নিয়ে খসড়া মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। কর্মশালায় খসড়া মহাপরিকল্পনার উপস্থাপনা তুলে ধরেন সিইজিআইএসের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম।

নুরুল ইসলাম বলেন, সেন্ট মার্টিনকে চার ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে খসড়া মহাপরিকল্পনায়। এর মধ্যে একটি হবে ‘জেনারেল ইউজ জোন’। এখানে পর্যটনসহ অন্যান্য সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো যাবে। এ জোনে সব হোটেল, রিসোর্ট চলে আসবে। এরপর আছে ‘ম্যানেজড রিসোর্স জোন’। এ জোনে কচ্ছপের প্রজনন হয়। এখানে দিনে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়াতে পারবেন। রাতে থাকতে পারবেন না। স্থানীয় লোকজন এখানকার কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।

আরেকটি হলো ‘সাসটেইনেবল ইউজ জোন’। এ জোনে প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় (বুশল্যান্ড), লেগুন (জলাধার) ও ম্যানগ্রোভ বন আছে। স্থানীয় লোকজন এ জোনের প্রাকৃতিক সম্পদ টেকসই পদ্ধতিতে কতটুকু ব্যবহার করতে পারবে, সেটা সরকার নির্ধারণ করে দেবে। এখানেও পর্যটকেরা দিনে ঘুরে দেখতে পারবেন, কিন্তু রাতে থাকতে পারবেন না। সর্বশেষ হলো ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’। এ জোনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাউকে এখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন রক্ষায় কী করতে হবে, সেটা বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ দ্বীপের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য মূলত এ মহাপরিকল্পনা। মনে রাখতে হবে, ন্যাচার অব কোর্সে (প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে) এ দ্বীপ গড়ে উঠেছে। এ দ্বীপের ক্ষতি করার কোনো অধিকার আমাদের কারোরই নেই।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান গত সপ্তাহে সেন্ট মার্টিনে তার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি ঘুরে দেখে যেটা বুঝলাম, এ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ফিরে আসছে।’ এ দ্বীপে প্রকৃতিবান্ধব স্থাপনা নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ মহাপরিকল্পনায় সহায়তা দেওয়া জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দায়ারত্নে বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনের মতো জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ একটি দ্বীপের সংরক্ষণ পরিকল্পনায় আমরা সহযোগিতা দিতে পেরে আনন্দিত।’

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনঃ বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশের ভারতে যাওয়া নিয়ে নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে গতকাল এক ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। তবে সেই বৈঠক থেকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিয়ে পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী খবর।

 

ক্রিকইনফো জানিয়েছে, ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসি স্পষ্ট করে বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ তাদের পক্ষে রাখা সম্ভব নয়। আইসিসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। না গেলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে। তবে বিসিবির দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, আইসিসি এমন কোনো চূড়ান্ত বার্তা বা আলটিমেটাম দেয়নি।

এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে এখন পর্যন্ত আইসিসি বা বিসিবি কোনো পক্ষই কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। গত রোববার বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করতে বলার পরই আইসিসি এই বৈঠকের আয়োজন করেছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

এই ঘটনায় বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস আগে তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তার আবহ। ২০ দলের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। স্বাগতিক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশের প্রথম তিন ম্যাচ কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইতালি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি, মুম্বাইয়ে, প্রতিপক্ষ নেপাল।

বিসিবি আইসিসিকে এমন চিঠি লেখার পেছনের কারণও কম নাটকীয় নয়। গত ডিসেম্বরে হওয়া আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল। তিনিই ছিলেন ২০২৬ সালের নিলামে দল পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার। তবে সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ‘নির্দেশ’ দেয় মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিতে।

বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান সংস্থাটির সচিব দেবজিত সাইকিয়া। তবে কেন কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছাড়তে বলা হলো, সেই ব্যাখ্যা দেননি তিনি। জানা গেছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কোনো বৈঠকই হয়নি।

এই ঘটনার জের ধরে ভারতে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে তারা কোনো ম্যাচ খেলবে না।

গতকাল পর্যন্ত বিসিবি এই সিদ্ধান্তেই অনড় ছিল যে, ভারতের পক্ষ থেকে যদি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাসও দেওয়া হয়, তবু বাংলাদেশ ভারতে দল পাঠাবে না। বিসিবি মনে করে, বিশ্বকাপের ম্যাচ উপলক্ষে দলের বাইরেও বাংলাদেশ থেকে আরও অনেকে ভারতে যাবেন। তাদের নিরাপত্তা নিয়েও সেখানে শঙ্কা থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতে খেলতে যাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক কর্মকর্তা গতকাল বলেছেন, ‘আমরাও চাই আমাদের দল বিশ্বকাপে খেলুক। কিন্তু এভাবে তা সম্ভব নয়। সরকার বুঝেশুনেই একটা অবস্থান নিয়েছে। আমাদের তার বাইরে যাওয়ার উপায় নেই।’

তিনি বলেছেন, একমাত্র সরকার যদি বিসিবিকে ভারতে দল পাঠাতে বলে, তাহলেই সম্ভব বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে খেলা।

এখন আইসিসি যদি বিসিবিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সত্যিই জানিয়ে দিয়ে থাকে, এবং তারা যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরাতে রাজি না হয়ে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে যাবে।

সেই পরিস্থিতিতে বিসিবি কী অবস্থান নেয়, এখন তাই দেখার অপেক্ষা।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

রিফর্ম ইউকে-তে ভাঙনঃ রিফর্ম ইউকে ছেড়ে ছয় জনপ্রতিনিধির এডভান্স ইউকে-তে যোগদান

নাইজেল ফ্যারাজের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে-তে অভ্যন্তরীণ ভাঙনের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। দলটি থেকে ছয়জন সাবেক জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল এডভান্স ইউকে-তে যোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

ব্যবসায়ী বেন হাবিবের নেতৃত্বাধীন এডভান্স ইউকে ডার্বিশায়ারে এই যোগদানকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিফর্ম ইউকে থেকে পদত্যাগ করা এই ছয়জন এখন এডভান্স ইউকে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে রিফর্ম ইউকে এই দাবিকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ডার্বিশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলে রিফর্ম ইউকের নেতা অ্যালান গ্রেভস বলেন, এই দলত্যাগ কোনো নতুন ঘটনা নয়। তার ভাষায়, এই পদত্যাগগুলো ২০২৫ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল নির্বাচনের আগেই ঘটেছিল। তিনি জানান, মাত্র দু’জন সাবেক কাউন্টি কাউন্সিলর ছিলেন, বাকিরা ছিলেন টাউন কাউন্সিলর অথবা প্যারিশ কাউন্সিলর।

এডভান্স ইউকের দাবি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে অ্যালান গ্রেভস বলেন, দলটি নিজেদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে। তিনি ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, “এই পর্যায়ে এসে মরা মানুষকে জীবিত করার চেষ্টা করা সত্যিই হাস্যকর।” তার মতে, রিফর্ম ইউকে নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে এবং বাস্তব সাফল্য অর্জন করছে।

এডভান্স ইউকে পাল্টা বিবৃতিতে জানায়, নতুন যোগ দেওয়া প্রতিনিধিরা ডার্বিশায়ারে শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক নিয়ে এসেছেন। দলটি যুক্তরাজ্যের গ্রেট ব্রিটেন ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ইউনাইটেড কিংডমের জাতিরাষ্ট্র কাঠামো, খ্রিস্টান সংবিধান, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আইনের চোখে সমতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এডভান্স ইউকে-তে যোগ দেওয়া ছয় জনপ্রতিনিধির মধ্যে রয়েছেন টাউন ও প্যারিশ কাউন্সিলর অ্যালেক্স স্টিভেনসন, বরো ও প্যারিশ কাউন্সিলর ফিলিপ রোজ, হিনর ও লস্কোর মেয়র অ্যালান অ্যাবারনেথি, টাউন কাউন্সিলর লরা ব্রুনেলেস্কি, মাল্ক হিবার্ড এবং মার্ক বারেল।

দলটি আরও জানিয়েছে, অ্যালেক্স স্টিভেনসন আগামী ২০ জানুয়ারি ডার্বিশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল ও অ্যাম্বার ভ্যালি বরো কাউন্সিলের উপনির্বাচনে এডভান্স ইউকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই নির্বাচনই হবে এডভান্স ইউকের প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী অংশগ্রহণ।

এডভান্স ইউকের নেতা বেন হাবিব বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের যুক্ত হওয়ার ফলে দলটি ডার্বিশায়ারে আরও সুসংগঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, নির্বাচনে জয়ী হলে তারা এলাকার জনগণের পক্ষে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে নীরব লবণ বিপর্যয়ঃ দিনে ২২ প্যাকেট ক্রিস্পসের সমান লবণ খাচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্করা

ইংল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন (বিএইচএফ)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কর্মক্ষম বয়সী প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন গড়ে যে পরিমাণ লবণ গ্রহণ করছেন, তা ২২ ব্যাগ সল্টেড ক্রিস্পসে থাকা লবণের সমান। এই হিসাব অনুযায়ী, তারা সরকারি সুপারিশকৃত দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা ৬ গ্রামের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি লবণ খাচ্ছেন।

 

বিএইচএফ জানায়, একজন কর্মক্ষম বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক সপ্তাহে গড়ে ১৫৫ ব্যাগ রেডি সল্টেড, লাইটলি সল্টেড বা সি-সল্ট ক্রিস্পসের সমপরিমাণ লবণ গ্রহণ করছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রতিদিন গড়ে ৮.৪ গ্রাম লবণ—যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বিএইচএফের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ডেল স্ট্যানফোর্ড বলেন, অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই পারেন না তারা কতটা লবণ খাচ্ছেন, কারণ লবণের বড় অংশই লুকানো থাকে দৈনন্দিন খাবারে। রুটি, সিরিয়াল, প্রস্তুত সস এবং রেডি মিলের মতো সাধারণ খাবারেই অতিরিক্ত লবণ যোগ করা হয়। এই অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের প্রধান কারণ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর অন্তত ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হৃদরোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার রোগে হয়, যার পেছনে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ একটি বড় কারণ। দেশটিতে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৩ জন উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও, প্রায় ৫০ লাখ মানুষ জানেনই না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মী ও অধিকারকর্মীরা খাদ্যশিল্পের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খাদ্যে কতটা লবণ যোগ করা যাবে তার স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং তা না মানলে জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

‘অ্যাকশন অন সল্ট’ নামের ক্যাম্পেইন গ্রুপের প্রতিনিধি সোনিয়া পম্বো বলেন, লবণ কমানো হলো জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের নেওয়া সবচেয়ে সহজ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলোর একটি। তিনি বলেন, ভোক্তারা নিজেরা খুব কম লবণ যোগ করেন; বরং খাবারের সঙ্গে আগেই অতিরিক্ত লবণ মিশিয়ে দেওয়া হয়। তাই প্রকৃত সমাধান আসতে হবে খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত থেকে।

তিনি সব ধরনের খাদ্যপণ্যের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক লবণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ, তা অমান্য করলে শাস্তি এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারের ওপর আলাদা লেভি আরোপের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্যাকেটের সামনের অংশে বাধ্যতামূলক লেবেলিং চালুর আহ্বান জানান, যাতে ভোক্তারা সহজেই উচ্চ লবণযুক্ত পণ্য শনাক্ত করতে পারেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সরকার ইতোমধ্যে খারাপ খাদ্যাভ্যাসজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ১০ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকল্পনার আওতায় জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং কম স্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর বড় ছাড় ও প্রোমোশন সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সংকট আরও গভীর হবে, যার চাপ সামলাতে হিমশিম খাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপঃ অধিকাংশ আমেরিকান ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপ সমর্থন করে না

সফল অভিযানের মাধ্যমে সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে রাজনীতির নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে রিপাবলিকানদের সমর্থন পেলেও বেশির ভাগ আমেরিকান তার এমন সাম্রাজ্যবাদী পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

সোমবার প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল বলছে ট্রাম্পের বিদেশনীতি নিয়ে আমেরিকার জনগণের বিভক্তি তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় হামলা ও মাদুরোকে আটকের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পদক্ষেপ যাচাই করতে ওয়াশিংটন পোস্ট এক হাজার আমেরিকানের ওপর জরিপ চালায়। এসব আমেরিকানদের জবাবের ভিত্তিতেই জরিপটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যম।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশিত জরিপটিকে প্রথম মানসম্মত জরিপ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। জরিপে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান সমর্থন করলেও এর বিরোধিতা করেছেন ৪২ শতাংশ আমেরিকান। অর্থাৎ জনমত প্রায় সমান ভাগে বিভক্ত। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও সামগ্রিকভাবে এটিকে জনপ্রিয় বলা যাচ্ছে না।

এই ফলাফল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো, কারণ অভিযানের আগে নেয়া জরিপগুলোতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে ছিল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপে ৬৩ শতাংশ এবং সিবিএস নিউজ-বিডিএমএফ জরিপে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে লক্ষ্য করে সীমিত অভিযানের কারণে কিছু মানুষের সমর্থন বেড়েছে। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয় বরং একজন অজনপ্রিয় শাসককে আটক করার বিষয়টি জনমনে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে।

পাশাপাশি, দলীয় আনুগত্যও ভূমিকা রেখেছে। অভিযানের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন বেড়ে ৭৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে অভিযানের আগে তা ছিল ৫২-৫৮ শতাংশের মধ্যে। স্বাধীন ভোটারদের সমর্থন তুলনামূলক কম। মাত্র ৩৪ শতাংশ।
ইতিহাস বলছে- এ ধরনের সামরিক অভিযানের শুরুতে সাধারণত ব্যাপক জনসমর্থন দেখা যায়। ১৯৮৯ সালে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে তখন ৮০ শতাংশ আমেরিকান সমর্থন জানিয়েছিলেন।

গ্রানাডা (১৯৮৩), আফগানিস্তান (২০০১) ও ইরাক (২০০৩) অভিযানের ক্ষেত্রেও শুরুতে সমর্থন ছিল প্রবল। সে তুলনায় ভেনেজুয়েলা অভিযান শুরুর দিকেই মাঝারি সমর্থন পাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা শাসনে সরাসরি প্রভাব বিস্তার ও তেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ইঙ্গিত জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।

জরিপগুলো দেখাচ্ছে, বেশির ভাগ আমেরিকান এখন বিদেশনীতি নয় বরং দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক সমস্যা, মূল্যস্ফীতি ও ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ আমেরিকান চান যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে কম জড়াক। এপি-এনওআরসি জরিপে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে বিদেশনীতি ছিল তালিকার একেবারে নিচে।

এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও অভিযানের প্রতি ‘দৃঢ় সমর্থন’ সীমিত। ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপে মাত্র ৪৫ শতাংশ রিপাবলিকান জোরালোভাবে এই অভিযান সমর্থন করেছেন।

রাজনৈতিকভাবে জনসমর্থন সীমিত হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের বার্তা দিতে পেরেছেন। প্রশাসনের ভাষায়, এটি শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় পদক্ষেপ। তবে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি জড়িত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

একই সঙ্গে এই অভিযান ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট নীতি’ জোটের ভেতর বিভাজন বাড়াতে পারে। হস্তক্ষেপবিরোধী রিপাবলিকান নেতা ও প্রভাবশালীরা ইতিমধ্যে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তাদের আশঙ্কা ভেনেজুয়েলায় গভীরভাবে জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আটকে যেতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনকে রিপাবলিকানদের বাহবা পাইয়ে দিলেও জরিপ বলছে- আমেরিকান জনমত এমন সাম্রাজ্যবাদী বিদেশনীতির বিপক্ষে।

সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, ভেনেজুয়েলা অভিযান কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নয়, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ‘ডনরো ডকট্রিন’ শব্দটি ব্যবহার করে ট্রাম্প কার্যত ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে আবারো একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সমপ্রতি প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও হুমকি, চাপ ও সামরিক শক্তির ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত প্রতীকী ছবিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মানচিত্রের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাম্পের হাতে ‘ডনরো ডকট্রিন’ লেখা ব্যাট- এই কৌশলকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন অবাধ্য বিদেশি নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করা ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন। এর মাধ্যমে শুধু ভেনেজুয়েলাকেই নয় বরং অন্য দেশগুলোকেও একটি কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করলে পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

সিএনএনের বিশ্লেষক নিক পেটন ওয়ালশের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ট্রাম্পের আলোচনার কৌশলেরই অংশ, যেখানে ভয় ও শক্তি ব্যবহার করে অন্যদের তার ইচ্ছার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়।

এই অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে ট্রাম্পের নিজস্ব ঘাঁটিতে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পক্ষে থাকা হস্তক্ষেপবিরোধী রিপাবলিকানরা ক্রমেই অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি ও মার্জরি টেলর গ্রিনের প্রকাশ্য সমালোচনা এবং সিনেটর র‌্যান্ড পল, লিসা মুরকোস্কি ও ড্যান সুলিভানের সতর্ক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে-দলের ভেতরে ঐকমত্য আর আগের মতো শক্ত নেই।

ট্রাম্প-সমর্থক গণমাধ্যম ও অনলাইন প্রভাবকদের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট। ক্যান্ডেস ওয়েন্স এই অভিযানকে ‘বিশ্বায়নবাদীদের শত্রুতামূলক দখলদারিত্ব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে স্টিভ ব্যানন প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প কি নব্য রক্ষণশীল বা ‘নিওকন’দের প্রভাবে এ পথে হাঁটছেন?
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ ও শাসনব্যবস্থা ঘিরে। ট্রাম্প যদি সত্যিই দেশটির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে এগোন, তবে তা শুধু আন্তর্জাতিক সমালোচনাই নয়, ঘরোয়া রাজনীতিতেও বড় ধাক্কা দিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

টিউলিপ সিদ্দিকের খালার শাসনামলে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও গণকবরের অভিযোগ উঠল বাংলাদেশে

শত শত নিখোঁজ বাংলাদেশিকে শেখ হাসিনার শাসনামলে নদীতে ফেলা হয়েছে এবং গণকবরে দাফন করা হয়েছে—দক্ষিণ এশিয়ার একটি সরকারি তদন্তে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১,৫৬৯টি বিশ্বাসযোগ্য গুম ও অপহরণের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭ জনকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরাও ছিলেন।

 

কমিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী এসব কর্মকাণ্ড শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে চালিয়েছে। শেখ হাসিনা লেবার সাবেক মন্ত্রী তুলিপ সিদ্দিকের খালা। তুলিপ সিদ্দিক এক বছর আগে মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র বিক্ষোভ দমন-পীড়নের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিবেদনের তথ্যকে “জঘন্য” হিসেবে অভিহিত করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫১ জন নিখোঁজ ব্যক্তি ফিরে আসেননি এবং মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও ৩৬টি মরদেহ জোরপূর্বক গুমের পর উদ্ধার করা হয়—অনেক ক্ষেত্রে ‘ক্রসফায়ার’ বা নদী থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ হিসেবে।

কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন জানিয়েছেন, ঢাকার জুরাইন এবং মুন্সিগঞ্জে দুটি চিহ্নহীন গণকবর পাওয়া গেছে, যেখানে গুলিবিদ্ধ মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। পরিচয় নিশ্চিত করতে গভীর তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন।

তদন্তে উঠে এসেছে, অনেক অপহৃত জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপির সদস্য ছিলেন—যারা শেখ হাসিনার বিরোধী দল। রাজনৈতিক পরিচয় জানা ভুক্তভোগীদের প্রায় ৯৭ শতাংশই বিরোধী দলের নেতা-কর্মী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া, যা রাজনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা অভিযান ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। প্রকৃত সংখ্যা রিপোর্টকৃত সংখ্যার তিন থেকে চার গুণ বেশি হতে পারে।

একজন নারী কমিশনকে বলেন, “রাস্তায় হাঁটার সময় আমার ছোট ভাইয়ের মতো দেখতে প্রতিটি মানুষকে খুঁটিয়ে দেখি—যদি সে হয়।”

গত ১৭ নভেম্বর, শেখ হাসিনা ৭৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পান। তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং বিচার থেকে অনুপস্থিত থাকেন। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ দাবি করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, শেখ হাসিনার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। তুলিপ সিদ্দিককে অনুপস্থিতিতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, দুর্নীতির অভিযোগে।

বাংলাদেশে আলাদা তদন্তে ঢাকার গণকবর থেকে ডিসেম্বরে মরদেহ উত্তোলন শুরু করা হয়। অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মো. সিবগত উল্লাহ জানান, সেখানে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে নিহত অন্তত আটজনের মরদেহ পাওয়া গেছে, যাদের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল।

উচ্চমূল্যের বন্দিদের ঢাকার সেনানিবাসে গোপন ‘আয়নাঘর’ কারাগারে রাখা হতো। বেঁচে যাওয়দের মতে, সেখানে বন্দিদের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা হতো, ঘূর্ণায়মান বিছানায় বেঁধে রাখা হতো, পানির মাধ্যমে নির্যাতন করা হতো এবং সপ্তাহজুড়ে অন্ধকারে রাখা হতো।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী শেখ হাসিনা ও তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। কমিশন মনে করে, “দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন ব্যবস্থা শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের অজ্ঞাতে চলতে পারে—এমনটা কল্পনাই করা কঠিন।”

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

দুর্ঘটনা কমাতে নতুন উদ্যোগ, বয়স্ক চালকদের নজরদারিতে আনছে ব্রিটেন

যুক্তরাজ্যে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী গাড়িচালকদের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর চোখের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন সরকারের নতুন সড়ক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ, যা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

 

সরকারের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে—ইংল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর আইনি সীমা স্কটল্যান্ডের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং সিটবেল্ট না পরলে চালকদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি পয়েন্ট দেওয়ার বিধান চালু করা। এসব প্রস্তাব গত আগস্টে প্রথম আলোচনায় আসে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িচালকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশের বয়স ছিল ৭০ বছর বা তার বেশি। এই তথ্য বয়স্ক চালকদের দৃষ্টিশক্তি ও স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ডিভিএলএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন চালককে ২০ মিটার দূর থেকে গাড়ির নাম্বার প্লেট পড়তে সক্ষম হতে হয়। তবে লাইসেন্স পাওয়ার পর কোনো বয়সের চালকের ক্ষেত্রেই নিয়মিত দক্ষতা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। চালকদের নিজেদের অযোগ্যতা সম্পর্কে ডিভিএলএ-কে জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হলেও এটি সম্পূর্ণ স্ব-ঘোষণাভিত্তিক ব্যবস্থা।

এএ মোটরিং সংস্থার সভাপতি এডমন্ড কিং বলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য চোখের পরীক্ষা এমনিতেই বিনামূল্যে এবং সাধারণত প্রতি দুই বছর অন্তর পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তার মতে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা সবার জন্যই প্রয়োজনীয়।
ফার্নবোরোর বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী ময়রা হাচিংস বলেন, বয়স্ক চালকদের চোখ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা “নিশ্চিতভাবেই ভালো সিদ্ধান্ত”। তিনি জানান, বয়স বাড়ার পরও পরীক্ষা ছাড়া গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া তাকে বিস্মিত করে।

ওয়্রেক্সহামের বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী রবার্ট ওয়েন্স মনে করেন, বিষয়টি শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, সব বয়সী চালকদের জন্যই নিয়মিত স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা প্রয়োজন, কারণ গাড়ি কার্যত “মারণাস্ত্রের মতো” হতে পারে।

যুক্তরাজ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এনএইচএস-এর চোখের পরীক্ষা বিনামূল্যে। স্কটল্যান্ডে সব বয়সী নাগরিকের জন্য এই সুবিধা রয়েছে। অপটোমেট্রিস্টদের সংগঠনের নীতিনির্ধারণ পরিচালক ড. পিটার হ্যাম্পসন বলেন, দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় অনেক চালক বুঝতেই পারেন না যে তারা আর আইনি মানদণ্ড পূরণ করছেন না, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

স্থানীয় পরিবহনমন্ত্রী লিলিয়ান গ্রিনউড বলেন, বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার বাস্তবতায় সরকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যতটা সম্ভব বজায় রেখেই জীবন রক্ষার উদ্যোগ নিতে চায়। তবে গবেষক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু স্টেপটো সতর্ক করে বলেন, যেসব বয়স্ক মানুষ গাড়ি চালানো বন্ধ করতে বাধ্য হবেন, তাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা রোধে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি।

এজ ইউকে পরিবর্তনটি সমর্থন করলেও জানিয়েছে, শুধু চোখের পরীক্ষা করালেই সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সংস্থাটির মতে, অধিকাংশ বয়স্ক চালকই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।

এর আগে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল থাকা চালকদের কারণে প্রাণহানির ঘটনায় এক তদন্তে যুক্তরাজ্যের স্ব-ঘোষণাভিত্তিক ব্যবস্থা “অকার্যকর ও অনিরাপদ” বলে মন্তব্য করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যবস্থা চালকদের প্রকৃত অবস্থা গোপনের সুযোগ দেয়।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হলেও, সবচেয়ে জরুরি হলো এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা মানুষকে যতদিন সম্ভব নিরাপদভাবে গাড়ি চালাতে সহায়তা করবে এবং ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে