Categories
স্পোর্টস

বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে ভারতীয় উপস্থাপককে বাদ দিলো বিসিবি

চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠক। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তাকে উপস্থাপক প্যানেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

 

বিপিএলের এবারের আসরে উপস্থাপনা ও ধারাভাষ্যে চমক আনতে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মুখ যুক্ত করেছিল বিসিবি। উপস্থাপক হিসেবে পাকিস্তানের জয়নব আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন ভারতের রিধিমা পাঠক। আর ধারাভাষ্যকার তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা এবং ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ড্যারেন গফ।

তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ–ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রিধিমা পাঠকের বিপিএল যাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

মোস্তাফিজকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়ার পর জরুরি সভা ডাকে বিসিবি। নিরাপত্তাজনিত কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে আইসিসিকে চিঠি পাঠায় বোর্ড। পাশাপাশি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু ভারত থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সরকার দেশীয় অপারেটরের মাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি বলে জানা গেছে।

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতকে আবারও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি যদি রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্ট ওয়ানে’ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ভারত ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের নজরদারি ও কূটনৈতিক চাপ তুঙ্গে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘খুব ভালো মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘মোদি জানতেন আমি খুশি নই এবং আমাকে খুশি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ ট্রাম্পের মতে, ভারত মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখতেই তেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ভারত যদি রুশ তেলের বিষয়ে সহায়তা না করে, তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর খুব দ্রুতই বড় ধরনের শুল্ক বাড়ানো হবে। উল্লেখ্য যে, গত আগস্ট মাসেও রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কেনার দায়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল সংগ্রহ করছে। কয়েক সপ্তাহ আগে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের গতি ধরে রাখার বিষয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবক্ষেত্রে টানাপোড়েন কমছে না।

 

এদিকে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলার পর বিশ্ব রাজনীতিতে তেলের বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলের তেলের মজুদ থাকলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন এখন তলানিতে।

ওপেকের তথ্যমতে, বিশ্বের মোট তেলের মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভেনেজুয়েলার হাতে রয়েছে, যা ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

এনসিপিকে দশের বেশি আসন ছাড় দিচ্ছে না জামায়াত!

জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার সময় প্রাথমিকভাবে ত্রিশটি আসনের ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছিল এনসিপির। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তা নেমে আসতে পারে দশের নিচে। এতে বাদ পড়তে পারেন এনসিপির বেশ কয়েকজন আলোচিত নেতা। যা নিয়ে ফের উত্তাল হতে পারে দলটির অন্দরমহলে।

 

যদিও নির্বাচনী কৌশলের কারণে এখনই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি জামায়াত বা এনসিপির কেউই। জামায়াত চায়, জনভিত্তি ও জনপ্রিয়তা আছে এমন প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকায় রাখতে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, তাদের সাথে চূড়ান্ত আসন সমঝোতার ব্যাপারে কথাবার্তা হচ্ছে। কিছু কিছু আসনে ইতোমধ্যে জামায়াতের প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাদের প্রার্থীদেরকে ছাড় দিয়েছেন এবং আমাদের প্রার্থীদের সাথে তাদের এক ধরনের সমন্বিত কাজ হচ্ছে ওই সকল আসনে। যেহেতু অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে, তখন আমার ধারণা জোটের সকল শরিক একসাথে এক মার্কার জন্য প্রচারণা চালাবে। তখন এই বিভ্রান্তি বা এই প্রশ্ন কেটে যাবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন বলেছেন, সংগঠন যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই সিদ্ধান্তের ওপর আমরা কিন্তু অটল থাকি। যেদিন আমাকে আমার সংগঠন বললো, এই আসনটা আমরা জোটকে ছেড়ে দেবো, আমি নির্দ্বিধায় এটা মেনে নিয়েছি। আমরা যাকে প্রার্থী করেছি, তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে আমি গিয়েছি এবং উনাকে আমি সহযোগিতা করবো।

দু’দলই অবশ্য জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে লড়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মোবারক হোসাইন বলেছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর বুঝা যাবে কে থাকবে, থাকবে না। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো, যে জোটটা আমরা করেছি সেই জোটটার মাধ্যমে আমরা যেন নির্বাচনটা সম্পন্ন করতে পারি। এতে জামায়াতের যদি কিছু ছাড় দিতে হয়, তা দেবে।

সরোয়ার তুষার বললেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যখন আসবে তখন আমরা দেখতে পাবো। এখন এই সংখ্যাটা পুরোপুরি সেটেল হয় নাই।

আসন ছাড় নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও জামায়াত-এনসিপির জোটের মনোভাব খুবই ইতিবাচক বলে দাবি নেতাদের।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউগভ জরিপে লেবার পিছিয়েঃ জরিপকে বিশ্বাস না করার আহ্বান কিয়ার স্টারমারের

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করে বলেছেন, জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়লেই সরকার ক্ষমতা হারায় না। তিনি মন্ত্রীদের আহ্বান জানিয়েছেন—জরিপের ওঠানামায় মনোযোগ না দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও মানুষের বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আনার ওপর ‘নিরলসভাবে’ কাজ চালিয়ে যেতে।

 

ক্রিসমাসের আগে স্টারমার সরকারের পক্ষ থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দৃঢ়তা তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনিজুয়েলা বিষয়ে আকস্মিক পদক্ষেপ সেই আলোচনাকে অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে। তবুও সরকার ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি বলে রাজনৈতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে স্টারমার বলেন, সরকারকে স্পষ্টভাবে সামনে থাকা রাজনৈতিক পছন্দটি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তার ভাষায়, একদিকে রয়েছে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে একটি লেবার সরকার, আর অন্যদিকে রয়েছে এমন একটি রিফর্ম আন্দোলন, যা ক্ষোভ, বিভাজন ও অবক্ষয়ের রাজনীতিকে উসকে দেয়।

রিফর্ম ইউকের কড়া সমালোচনা করে স্টারমার বলেন, তারা দুর্বল রাষ্ট্র চায়, সমাজে বিদ্বেষ ছড়াতে চায় এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তুষ্ট করার নীতি অনুসরণ করে। তিনি এই পরিস্থিতিকে “রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই লড়াই থেকে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই।

জনমত জরিপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্টারমার বলেন, সরকার জরিপ খারাপ হওয়ার কারণে হারে না; সরকার হারে তখনই, যখন তারা নিজেদের বিশ্বাস বা সাহস হারায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার নেতৃত্বাধীন সরকার কোনোটাই হারাবে না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জরিপ পুরোপুরি উপেক্ষা করাও ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার হয়তো জরিপের কারণে সরাসরি পড়ে যায় না, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়—জরিপে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা অবস্থাতেই সরকারগুলো নির্বাচনে পরাজিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত ইউগভের সর্বশেষ জরিপে বড় ধাক্কা খেয়েছে লেবার পার্টি। জরিপে প্রথমবারের মতো দলটি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে, যেখানে তাদের সামনে রয়েছে রিফর্ম ইউকে ও কনজারভেটিভ পার্টি।

রাজনৈতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে লেবার দলের উপনেতা লুসি পাওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য স্টারমার ও তার দলকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে—লেবার আসলে কার পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে।

বৈঠকে মন্ত্রীরা নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় মধ্য-বামপন্থী দলগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাও আলোচনা করেন। সেখানে দেখা গেছে, কার্যকর শাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর মনোযোগ দিয়েই ওই দলগুলো জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
সিলেট

সিলেটের ডিসির বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর বিরুদ্ধে বিএনপির নেতা এম এ মালেকের মনোনয়ন বৈধ করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর সিলেটসহ সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, আসন্ন নির্বাচনে এম এ মালেকের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে তা বৈধ করার উদ্দেশ্যেই এই বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এম এ মালেক অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযোগের গুরুত্ব ও অর্থের অঙ্ক বিবেচনায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি প্রশাসনিক দুর্নীতির ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তদন্ত বিলম্বিত হলে জনমনে বিভ্রান্তি বাড়বে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত শুরু ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন।

জানা গেছে, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালেকের মনোনয়ন ইতোমধ্যে স্থগিত রয়েছে। এলাকাবাসী ও সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ বিতর্কিত এই মনোনয়ন সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রশ্নবিদ্ধ প্রার্থীর মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান নিষ্পত্তি এখন সময়ের দাবি।

সূত্রঃ আজকের কন্ঠ \ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নিশানায় আছে আরও ৫ দেশ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয় ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন নিজের নতুন দর্শন- ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine), যার মূল লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা।

 

এই নীতির আওতায় ভেনেজুয়েলার পর বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ ও অঞ্চল ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং উত্তর আটলান্টিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ দখলের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, সেখানে রুশ ও চীনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পের এই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবুও ট্রাম্পের অনড় অবস্থানে ন্যাটোর ভেতরেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার অভিযানের পরপরই কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে ট্রাম্প তার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বলেন। পেত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগও তোলেন তিনি। কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে ইরান। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাও করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় ফিরেই তিনি ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি মাদক কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

সবশেষে ট্রাম্পের নজর রয়েছে কিউবার ওপর। ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের মতে, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়বে, তাই তাৎক্ষণিক সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে যেন তারা হালকাভাবে না নেয়।

ট্রাম্প ঘোষিত এই ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে-তা নিয়ে ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

কিয়ার স্টারমারের জন্য অশনিসংকেতঃ লন্ডনে ঐতিহাসিক পতনে লেবার

লন্ডনে রেকর্ড সর্বনিম্নে লেবারের জনপ্রিয়তা, কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে বড় রাজনৈতিক সংকট
লন্ডনের রাজনীতিতে লেবার পার্টির আধিপত্যে বড় ধরনের ধসের ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক জনমত জরিপে।

 

জরিপ অনুযায়ী, রাজধানীতে লেবারের সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩১ শতাংশে, যা দলটির ইতিহাসে লন্ডনে সর্বনিম্ন। একসময় নিরঙ্কুশ প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত দলটি থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই ফলাফল গত গ্রীষ্মে রেকর্ড হওয়া আগের সর্বনিম্ন ৩২ শতাংশ সমর্থনকেও ছাড়িয়ে গেছে এবং সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এটি ১২ পয়েন্ট কম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মে মাসে লন্ডনের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, বিশেষ করে যখন রাজধানীর বহু কাউন্সিল আসন পুনর্দখলের লড়াইয়ে নামবে দলটি।

জরিপে কনজারভেটিভ পার্টির অবস্থানও দুর্বল হয়েছে। কেমি ব্যাডেনকের নেতৃত্বাধীন টোরিরা এখন মাত্র ১৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

তবে লেবারের তুলনায় তাদের পতন তুলনামূলকভাবে কম—গত মে মাসের পর থেকে চার পয়েন্ট। রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকের উত্থানের মাধ্যমে।

নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে লন্ডনে এখন ১৯ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছে, যা তাদের তৃতীয় স্থানে নিয়ে এসেছে। নতুন এই শক্তি আউটার লন্ডনের বিভিন্ন বরোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাউন্সিল আসন দখলের আশায় রয়েছে। বিশেষ করে ক্রয়ডন, ব্রোমলি, বেক্সলি, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যাম, হ্যাভারিং ও বারনেটকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে, নতুন নেতা জ্যাক পোলানস্কির অধীনে গ্রিন পার্টিও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দলটির সমর্থন পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে, যা কনজারভেটিভদেরও ছাড়িয়ে গেছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, তবে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ব্রিটিশ রাজনীতির পোস্টডক্টরাল গবেষক ড. ইওগান কেলি মনে করেন, লন্ডনের এই পরিবর্তন ব্রিটেনজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রতিফলন। তার মতে, ২০১৬ সালে যেই কনজারভেটিভ পার্টি লন্ডনের মেয়রশিপ ধরে রেখেছিল, আজ সেই দলকেও ছাড়িয়ে গেছে রিফর্ম ও গ্রিনস—আর লেবারের ধারাবাহিক পতন দলটির জন্য বড় সতর্কবার্তা।

আরেকটি পৃথক জরিপে ‘মোর ইন কমন’ জানিয়েছে, সাধারণ নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে লন্ডনে আটটি আসন জিততে পারে। অভিবাসী জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় লন্ডনকে এতদিন দলটির জন্য সবচেয়ে কঠিন এলাকা হিসেবে ধরা হলেও এই ফলাফল সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

জরিপে অংশ নেওয়া লন্ডনবাসীরা যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, তার শীর্ষে রয়েছে পুলিশিং ও অপরাধ—৪৭ শতাংশ ভোটার এই ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এরপর রয়েছে সাশ্রয়ী আবাসন (৩৮ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা (৩১ শতাংশ) এবং কর ব্যবস্থা (২৮ শতাংশ)।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুগুলোতে জনআস্থার ঘাটতিই লেবারের জনপ্রিয়তা পতনের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে, লন্ডনের রাজনৈতিক মানচিত্রে দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই জরিপ।

কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টির জন্য এটি কেবল একটি সতর্ক সংকেত নয়, বরং রাজধানীতে ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখার লড়াইয়ে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

মিনিটে প্রায় ৩৫০ ফলোয়ার হারাচ্ছে কলকাতা

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ফেসবুক পেজ কিছুক্ষণ পর স্ক্রল করলেই পোস্টগুলো অ্যাংরি আর হাহা রিঅ্যাকশনে সয়লাব হয়ে ওঠে। নেতিবাচক মন্তব্য তো রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, লাখ লাখ ফলোয়ারও হারাচ্ছে আইপিএলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। সবশেষ ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতার ১০ লাখ ফলোয়ার কমেছে।

নিলাম থেকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা মোস্তাফিজুর রহমানকে ৩ জানুয়ারি বাদ দেওয়ার পর থেকেই কলকাতার এমন ভরাডুবি হয়েছে। একটা পরিসংখ্যান দেখা যাক। পরশু কলকাতার পেজে ফলোয়ার ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ। এখন সেই সংখ্যাটা দেখা যাচ্ছে ১ কোটি ৭০ লাখ। সেই হিসেবে প্রত্যেক দিনে ৫ লাখ ফলোয়ার হারিয়েছে। সংখ্যাটাকে আরও একটু ভেঙে দেখা যাক। প্রত্যেক মিনিটে ৩৪৭ ফলোয়ার কমে যাচ্ছে কলকাতার। প্রতি সেকেন্ডের হিসেবে সংখ্যাটা হয় ৫।

 

৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতির মাধ্যমে মোস্তাফিজের নাম ছেঁটে ফেলে কলকাতা। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে বাদ দেওয়ার সেই পোস্টে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩ হাজার রিঅ্যাকশন পড়েছে। যার মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজারই অ্যাংরি। হাহা পড়েছে ৪০ হাজার। মন্তব্য করা হয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি। যার মধ্যে বেশির ভাগই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), আইপিএল ও ভারতকে ঘিরে ক্ষোভ ঝাড়া হয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর চড়াও হচ্ছে মন্তব্যের ঘরে।

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পোস্টের পর কলকাতার পেজে ৯ পোস্ট করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বরুণ চক্রবর্তী, নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ভারতের ওয়ানডে দল, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে পোস্ট। সেগুলোতেও যথারীতি অ্যাংরি-হাহা রিঅ্যাকশনের পাশাপাশি নেতিবাচক মন্তব্য দেখা গেছে। ১৮ লাখ থেকে ১৭ লাখ ফলোয়ার হয়ে যাওয়াতে কেউ আবার কটাক্ষ করেছেন। এসব পোস্টেও মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ইস্যু নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, চেন্নাই সুপার কিংস—এই পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন তিনি। ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে ৮.১৩ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। ২০২৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংস তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়েছে। গতবার জেক ফ্রেজার ম্যাগার্ক না খেলায় দিল্লি ক্যাপিটালস টুর্নামেন্টের মাঝপথে নেয় মোস্তাফিজকে। তবে এবার বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক সম্পর্কের বলি হয়েই মূলত এবার আইপিএল খেলতে পারছেন না তিনি।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশে ওসমান হাদিকে হত্যাঃ ডিবি

পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত নির্বাচিত কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশেই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)‎। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

 

এদিকে, আজ হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মো. শফিকুল ইসলাম।

চার্জশিটের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ বাকি পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন। ‎

‎হত্যার বিষয়ে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারা সূচনা করেন হাদি। বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিগত দিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি সমালোচনামূলক জোড়ালো বক্তব্য দেন। তার এই বক্তব্য নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। ঘটনার দিন তাকে গুলি করে পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ খান। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ‎

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পলায়নে বিষয়ে সার্বিক সহায়তাকারী তদন্তে প্রাপ্ত আসামি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। বাপ্পী পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত নির্বাচিত কমিশনার কাউন্সিলর ছিলেন। কাজেই আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়, ভিক্টিমের পূর্ববর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে তদন্তে প্রকাশ পায় যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’

‎‎হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি বেশ কিছু দিন ধরে গণসংযোগ করে আসছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রাণহানির আশঙ্কাঃ স্ট্রাটফোর্ড ট্র্যাজেডির পর সাদিক খানকে কড়া সতর্কবার্তা

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কে আরও প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খানকে। স্ট্রাটফোর্ড টিউব স্টেশনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত করোনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটতে পারে।

 

ওই ঘটনায় ৭২ বছর বয়সী পেনশনভোগী ব্রায়ান মিচেল চারটি টিউব ট্রেনে চাপা পড়ে নিহত হন। তদন্তে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সংঘর্ষটি সম্ভবত এড়ানো যেত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি জুবিলি লাইন ট্রেন থেকে নেমে বেঞ্চে বসেছিলেন, পরে উঠে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য হারিয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্র্যাকে পড়ে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিচেল ট্র্যাক থেকে উঠে আসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় একটি আগত ট্রেন তাকে আঘাত করে এবং ঘটনাটি কারও নজরে না আসায় ট্রেনটি পেছনে সরে যাওয়ার সময়ও তার ওপর দিয়ে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকে বের হয়, প্রতিটিই দু’বার করে তার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ ট্রেন আসার সময় একজন কর্মী থামানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

পূর্ব লন্ডনের সিনিয়র করোনার গ্রেইম আরভিন বলেন, ট্রেন অপারেটরদের দায়িত্ব হলো সামনে থাকা ট্র্যাকের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন অপারেশন (ATO) ব্যবস্থা অগ্রাহ্য করে ব্রেক প্রয়োগ করা। কিন্তু এই ঘটনায় অন্তত তিনজন আলাদা ট্রেন অপারেটর ট্র্যাকে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। আদালতে শোনা যায়, ট্র্যাকের বিন্যাস এমন ছিল যে সতর্ক থাকলে মিচেলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা সম্ভব ছিল এবং সময়মতো ব্রেক কষলে বহু মিটার আগেই ট্রেন থামানো যেত।

করোনারের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্ট্রাটফোর্ড স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ১৩ একটি টার্মিনাস প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় ট্রেন অপারেটরদের মনোযোগের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা এই গাফিলতির একটি কারণ হতে পারে। তবে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর গত দুই বছরে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ, রেল অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (RAIB) এবং ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL) পৃথক তদন্ত চালালেও প্রাণঘাতী ঝুঁকি কমানোর মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ট্র্যাকে মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত ও কর্মীদের তাৎক্ষণিক সতর্ক করার জন্য যে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সুপারিশ করা হয়েছিল, তা এখনো স্ট্রাটফোর্ড স্টেশনে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এছাড়া স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ট্রেন চালানোর সময় চালকদের মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়াতে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তা কার্যকর হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও স্পষ্ট যোগাযোগ নিশ্চিত করতে স্টেশন কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কেও একই ধরনের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে।

এদিকে টিএফএলের চিফ অপারেটিং অফিসার ক্লেয়ার ম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “স্ট্রাটফোর্ড টিউব স্টেশনে মর্মান্তিকভাবে নিহত ব্রায়ান মিচেলের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।” তবে করোনারের সতর্কবার্তার পরও বাস্তব পদক্ষেপ কত দ্রুত নেওয়া হবে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে