Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের দূতাবাস উদ্বোধন

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের দূতাবাসের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের দূতাবাসের উদ্বোধন করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলত। তিনি এটিকে ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সম্পর্কে একটি ‘গভীর মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

পশ্চিম লন্ডনে ব্রিটেনে ফিলিস্তিন মিশন হিসেবে পরিচিত অফিসের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলত বলেন, ‘আমরা আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী—যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন করছি, পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদা ও সুবিধাসহ।’

যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মিশনটি দূতাবাসে উন্নীত হলো। সে সময় অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ একই পদক্ষেপ নেয়, যখন গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তুঙ্গে ছিল।

কালো-সাদা কেফিয়াহ স্কার্ফ পরিহিত জোমলত বলেন, এটি ‘শুধু নামের পরিবর্তন নয়’ বরং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে ‘দিক পরিবর্তন’।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বছর আমরা কি অসাধারণভাবে শুরু করছি—ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সম্পর্কে এক গভীর মাইলফলক এবং ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ যাত্রায় এক অধ্যায়। এটি আশার দিন, দৃঢ়তার দিন এবং এমন এক দিন, যা বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যে শান্তি শুধু সম্ভবই নয়, এটি অনিবার্য… যখন তা ন্যায়, মর্যাদা, সমতা ও পারস্পরিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।’ এরপর তিনি দূতাবাসের নতুন ফলক উন্মোচন করেন।

তবে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা করছে কিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি।

ফিলিস্তিনি ও ব্রিটিশ পতাকা-সংবলিত মঞ্চে জোমলতের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক প্রতিনিধি অ্যালিস্টার হ্যারিসন এই ঘটনাকে ‘আশার মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আপনারা এখানে—এখন যে জায়গাটি আপনাদের দূতাবাস—একটি সুখকর সময় কাটান, এ কামনা করছি। অভিনন্দন।’

গত অক্টোবরে থেকে গাজায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন প্রাণঘাতী হামলার পর ইসরায়েল যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু করেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

মাদুরো গ্রেপ্তার নিয়ে নীরব লন্ডনঃ আন্তর্জাতিক আইন প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট নয়

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব উঠলে যুক্তরাজ্য তাতে ভোটদানে বিরত থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টাইমসের একটি প্রতিবেদনের বিরোধিতা না করে কার্যত বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

ডাউনিং স্ট্রিটের লবি ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের কাছে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে ওই বিবৃতিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ চীন বা রাশিয়াকে তাদের অপছন্দের নেতাদের উৎখাতে উৎসাহিত করতে পারে—এমন আশঙ্কাকে “কাল্পনিক” বলে আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা সহায়ক নয় এবং যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করে ও অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা করে।

কিউবা ও কলম্বিয়ায় সরকার উৎখাত নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক আইন মানা যে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রকে তার সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বলার বিষয়।

মুখপাত্র জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাম্প্রতিক ফোনালাপে ইয়েভেট কুপার আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না—এই প্রশ্নে সরকার কোনো সরাসরি অবস্থান নেয়নি।

এই বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্যে একটি দীর্ঘদিনের নীতি হলো—সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ আইনি পরামর্শ প্রকাশ করে না। অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার বা অপহরণ কখন আইনসম্মত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর কাছ থেকে ক্ষমতার হস্তান্তর সমর্থন করে আসছে এবং তাকে “অবৈধ প্রেসিডেন্ট” হিসেবে বিবেচনা করে।

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে মুখপাত্র পুনরায় বলেন, এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো একমত যে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে হুমকি রয়েছে এবং ন্যাটো সে অনুযায়ী প্রস্তুতি জোরদার করছে।

যুক্তরাষ্ট্র আরও “সাহসী” হলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো কি না—এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে মুখপাত্র শুধু বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একইভাবে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান বন্ধ করা হবে কি না—এ প্রশ্নেও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখনো।

নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তাদের মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে, যেখানে ইউক্রেন পরিস্থিতি আলোচনার মূল বিষয় হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

তুষার ও বরফের দাপটে যুক্তরাজ্য অচলঃ স্কুল বন্ধ, বাতিল ট্রেন ও ফ্লাইট

তীব্র তুষারপাত ও বরফাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, পাশাপাশি দেশজুড়ে সড়ক, রেল ও বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।

 

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশের বড় একটি অংশে তুষারপাত ও বরফের জন্য ইয়েলো সতর্কতা জারি রয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আরও বিস্তৃত তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি শীত মৌসুমে রোববার রাত ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সবচেয়ে শীতল রাত। কামব্রিয়ার শ্যাপ এলাকায় তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে পরিবহন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বহু ট্রেন ও ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসগামী ইউরোস্টার সার্ভিস সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বরফ জমে যাওয়ায় লিভারপুল জন লেনন বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শীতের ভয়াবহতার দৃশ্য সামনে এসেছে। কোথাও খাল ও জলাশয় পুরোপুরি বরফে জমে গেছে, কোথাও তুষারে ঢেকে গেছে সমুদ্রতট। কিছু এলাকায় মানুষকে বরফে জমে যাওয়া মাঠে স্কেটিং করতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির চরম রূপ তুলে ধরছে।

স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিনশায়ারে গভীর তুষারপাত জনজীবন কার্যত অচল করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং জরুরি সেবাগুলোকে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পরিষেবাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পরিবার সরকারি সহায়তা নেয়ঃ ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশি অভিবাসীদের কত শতাংশ সরকারি সহায়তা নেয় সেটির একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে দেখা গেছে দেশটিতে যত বাংলাদেশি পরিবার থাকে তাদের ৫৪ শতাংশেরও বেশি সহায়তা নেন।

 

স্থানীয় সময় রোববার (৪ জানুয়ারি) সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের তালিকা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সেখানে ভারত বাদে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের নাম আছে। ভারতের নাম কেন রাখা হয়নি সেটি স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করে থাকে। এরমধ্যে খাদ্য, সরকারি স্বাস্থ্য এবং ঘর ভাড়ার জন্য সরকার সহায়তা দেয়।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি (৮১ দশমিক ৪ শতাংশ) সহায়তা নেয় ভুটানের অভিবাসী পরিবারগুলো। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইয়েমেন (৭৫ দশমিক ২ শতাংশ)। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ সোমালিয়ার অভিবাসী পরিবারগুলো সহায়তা নেয়।

ট্রাম্পের প্রকাশিত তালিকা থেকে দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারগুলোই (৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি সহায়তা নেয়।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান (৬৮ দশমিক ১), নেপাল (৩৪ দশমিক ৮), পাকিস্তান (৪০ দশমিক ২)।

সূত্রঃ ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ভেন্টিলেশনে ওবায়দুল কাদের, ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে বাসায় চিকিৎসার সিদ্ধান্ত

‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তিনি বর্তমানে ভারতের কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত শুক্রবার হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। এ সময় তিনি প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা শুরু করেন।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতাল থেকে কলকাতায় ভাড়া নেওয়া বাসায় স্থানান্তর করা হবে। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে লাইফ সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল ফ্যাসিলিটি নিশ্চিত করে তার চিকিৎসা চালানো হবে।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা ও সাম্প্রতিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসায় চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যেও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তার প্রস্তুতি রাখা হবে।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওবায়দুল কাদের ভারত চলে যান। এরপর থেকে তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল বলে জানা গেছে।

তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া \ মানবজমিন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুদের স্বাস্থ্যে লাগাম টানতে জাঙ্ক ফুড বিজ্ঞাপনে যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা

শিশুদের স্থূলতা মোকাবিলার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে সোমবার থেকে টেলিভিশন ও অনলাইনে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও চিনি সমৃদ্ধ খাদ্য ও পানীয় (HFSS) রাত ৯টার আগে টিভিতে এবং অনলাইনে যেকোনো সময় বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।

 

এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রযোজ্য এবং শিশুদের স্থূলতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত পণ্যগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে রয়েছে সফট ড্রিংকস, চকলেট ও মিষ্টান্ন, পিজা এবং আইসক্রিম। সরকারের মতে, এসব পণ্যের আগ্রাসী বিপণন শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু পরিচিত জাঙ্ক ফুডই নয়, কিছু ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল ও পোরিজ, মিষ্টিযুক্ত রুটি জাতীয় পণ্য, পাশাপাশি প্রস্তুত মূল খাবার ও স্যান্ডউইচও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কোন পণ্য নিষিদ্ধ হবে, তা নির্ধারণে একটি স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে পুষ্টিমান ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ এবং চিনির মাত্রা বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ ওটস এবং বেশিরভাগ পোরিজ, মিউসলি ও গ্রানোলা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকলেও, অতিরিক্ত চিনি, চকলেট বা সিরাপ যুক্ত সংস্করণগুলো প্রভাবিত হতে পারে। তবে কোম্পানিগুলো চাইলে নিষিদ্ধ পণ্যের স্বাস্থ্যকর সংস্করণ বিজ্ঞাপনে তুলে ধরতে পারবে।

সরকারের আশা, এতে খাদ্য প্রস্তুতকারীরা আরও স্বাস্থ্যসম্মত রেসিপি উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবে।
মার্কেটিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়মে বড় ব্র্যান্ডগুলো তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। ইনিশিয়ালস সিএক্স–এর ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি ডিরেক্টর জশ টিলির মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্র্যান্ডের সাধারণ বিজ্ঞাপন দিতে পারবে, তবে নির্দিষ্ট অস্বাস্থ্যকর পণ্যের প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে পেপসিকো বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বড় ব্র্যান্ডের লোগো দেখানো বিজ্ঞাপন চালু রাখা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নিয়ম বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাদের বিজ্ঞাপন সাধারণত নির্দিষ্ট পণ্যের তথ্যভিত্তিক প্রচারের ওপর নির্ভরশীল, যা নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে আর সম্ভব হবে না। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ছোট কোম্পানিগুলো পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে, যেসব প্ল্যাটফর্মে দর্শকের ২৫ শতাংশের বেশি ছিল ১৬ বছরের নিচে, সেখানে HFSS পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ ছিল। নতুন নিয়ম আরও কঠোর এবং তা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (ASA) ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এনএইচএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রিসেপশন শ্রেণির প্রায় প্রতি ১০ জন শিশুর একজন স্থূলতায় ভুগছে। পাশাপাশি, পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই প্রতি পাঁচজন শিশুর একজনের দাঁতে ক্ষয় দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হয়, স্থূলতার কারণে প্রতিবছর এনএইচএসের ব্যয় ১১ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলা থেকেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে এলে শিশুদের খাদ্যপছন্দ প্রভাবিত হয় এবং এতে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রায় ২০ হাজার শিশুর স্থূলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যাথরিন ব্রাউন এই পদক্ষেপকে “অনেক দেরিতে নেওয়া হলেও সঠিক পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলাও সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশন জানিয়েছে, খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারীরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করে মানুষকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্থাটির দাবি, গত এক দশকে তাদের সদস্যদের পণ্যে লবণ ও চিনির পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ এবং ক্যালরি প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমানো হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

প্রজ্ঞাপন জারিঃ আইপিএলের সব খেলা সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ

বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার/সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

 

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ফিরোজ খান। এর পর পরই প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই এবং এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার/সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।

এবারের আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ এনে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দিতে বিক্ষোভ করে আসছিল ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। তারই প্রেক্ষিতে এই টাইগার পেসারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই নির্দেশ মেনে টাইগার পেসারকে ছেড়ে দেয় কলকাতা।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নীতির ছায়াঃ হিথ্রোর আটককেন্দ্রে মানবাধিকার সংকটের অভিযোগ

মানসিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
বিতর্কিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ আশ্রয়প্রার্থী বিনিময় প্রকল্পের আওতায় ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতিতে আটক থাকা ৮০ জন আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তারা দাবি করেছেন, ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর থেকে হোম অফিসের আচরণে তারা ভয়, অপমান ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি তদন্তের জন্য তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

আটক ব্যক্তিরা ‘হারমন্ডসওয়ার্থ ইমিগ্রেশন রিমুভাল সেন্টারের অবস্থা ও আচরণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন তৈরি করে অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করেছেন। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত হারমন্ডসওয়ার্থ হলো যুক্তরাজ্যের দুটি প্রধান অভিবাসন আটককেন্দ্রের একটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর থেকেই তাদের ইচ্ছামতো আটক রাখা হয়েছে এবং ন্যায্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

সুদান, আফগানিস্তান ও ইরানের মতো যুদ্ধ ও সংঘাতপীড়িত দেশ থেকে আসা এসব আশ্রয়প্রার্থীর অভিযোগ, তাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা অনুপস্থিত, এবং আচরণ ছিল অপমানজনক ও অবমাননাকর। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের আশায়, কিন্তু বাস্তবে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে যেন তারা অপরাধী।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে সরকারের নতুন আইন, যার আওতায় ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন জব্দ করে তল্লাশি চালানো যাবে। মানবপাচার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নামে এমন কিছু কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। আশ্রয়প্রার্থীদের দাবি, এসব আইন তাদের আরও ভীত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

লেবার সরকার মানবপাচার দমনে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে ছোট নৌকায় আগমন কমেনি। সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে, যা রেকর্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। একই সময়ে, জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন জানায়, যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর হার আগের বছরের তুলনায় কম ছিল।

‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের প্রথম ফ্রান্সগামী প্রত্যাবর্তন ফ্লাইট বুধবার নির্ধারিত। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম তিন মাসে ১৯৩ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বিনিময়ে ১৯৫ জনকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা একটি দিনে চ্যানেল পার হওয়া মোট আশ্রয়প্রার্থীর তুলনায় খুবই নগণ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের অনেকেই ভয়াবহ যাত্রা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিশ্রাম কিংবা মানসিক পুনর্বাসনের সুযোগ পাননি। অনেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা না পাওয়ার পাশাপাশি আটক অবস্থার মানসিক চাপ তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটক আশ্রয়প্রার্থীদের একটি বড় অংশের বয়স ১৭ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে হতাশা, উদ্বেগ, অনিদ্রা ও মানসিক ভেঙে পড়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। একাধিক ক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক সংকট ও আত্মক্ষতির চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যার পর কিছু ব্যক্তিকে একাকী বা শাস্তিমূলক ইউনিটে রাখা হয়েছে।

আশ্রয়প্রার্থীদের দাবি, যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা মানবাধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না—তারা চান ন্যায়বিচার, মানবিক আচরণ এবং মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

নাগরিকত্ব ত্যাগ না করেই নির্বাচনঃ সাংবিধানিক সংকটে প্রবাসী প্রার্থীরা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী একাধিক প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তা ত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে দেশ ও প্রবাসে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত সনদ সংগ্রহ না করেই অনেক প্রার্থী কেবল ‘আবেদন প্রক্রিয়াধীন’ উল্লেখ করে আইনজীবীর প্যাডে চিঠি জমা দিয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ করার চেষ্টা করছেন। অথচ প্রচলিত নির্বাচন আইন ও সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের দাপ্তরিক প্রমাণপত্র ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

 

বিএনপির ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান, ড. মনিরুজ্জামান, এম এ মালিক, কয়ছর এম আহমদ, ফয়সল চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামসহ একাধিক প্রবাসী ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে কেবল সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কয়ছর এম আহমদের নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা ও আইনি প্রশ্ন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ) দফায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনও ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জমা দেওয়া বা তার রিসিভ কপি এই সাংবিধানিক বাধা দূর করে না। বিদেশি সরকারের ইস্যুকৃত চূড়ান্ত ‘ত্যাগপত্র’ বা সার্টিফিকেটই একমাত্র বৈধ প্রমাণ।

সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মালিকের মনোনয়নপত্র স্থগিত হওয়ার পর তিনি একাধিকবার গণমাধ্যমে দাবি করেছেন যে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে তার দাবির পক্ষে চূড়ান্ত কোনো দাপ্তরিক সনদ প্রকাশ্যে আসেনি। লক্ষণীয় যে, ওই আসনে বিএনপি বিকল্প কোনো প্রার্থীও দেয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অন্যদিকে, দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম (সালেহী) এবং চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ডা. ফজলুল হক হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো নথি জমা দেননি। বাছাইয়ের সময় তিনি জানান, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে শুনানি হবে। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়, যদিও তিনি আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন।

ব্রিটিশ ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট ১৯৮১-এর ১২ ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি দীর্ঘ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘ডিক্লারেশন অব রেনানসিয়েশন’ (ফর্ম RN) জমা দিতে হয় এবং এর জন্য ৪৮২ পাউন্ড ফি পরিশোধ করতে হয়। স্বরাষ্ট্র সচিবের দপ্তরে এই ঘোষণা নিবন্ধিত হওয়ার পরই কেবল নাগরিকত্ব কার্যকরভাবে শেষ হয়।

লন্ডনের আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ইকবাল হোসেন জানান, আবেদন জমা দিলেই কেউ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারান না। স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরযুক্ত ‘ডিক্লারেশন অব রেনানসিয়েশন’ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হন। এমনকি নাগরিকত্ব ত্যাগের পর আগের ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ (আইএলআর) মর্যাদাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসে না।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই রকম কঠোরতা রয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের সেকশন ৩৪৯(এ) অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হলে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কনস্যুলার অফিসারের সামনে শপথ নিতে হয়। প্রায় ২,৩৫০ ডলার ফি পরিশোধের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনে ‘সার্টিফিকেট অব লস অব ন্যাশনালিটি’ (CLN) ইস্যু হলে তবেই নাগরিকত্ব বিলুপ্ত হয়।

এমন বাস্তবতায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লন্ডনের কিংডম সলিসিটরসের কর্ণধার ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। তার ভাষায়, চূড়ান্ত নাগরিকত্ব ত্যাগের সনদের পরিবর্তে কেবল আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে, যা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরগুলো যাচাই ছাড়াই মেনে নিচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “নমিনেশন বৈধ হওয়ার পর কেউ চাইলে নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন প্রত্যাহার করতে পারেন। তখন তিনি বিদেশি নাগরিকই থেকে যাবেন, অথচ নির্বাচন করবেন আবেদনের রসিদের সুযোগ নিয়ে। এটি সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে বহু প্রার্থীর প্রার্থিতাই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”

দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে এই ফাঁকফোকর ও শিথিলতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক শুদ্ধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে, যা নির্বাচন কমিশনের জন্য এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন দমনে কড়াকড়িঃ আশ্রয়প্রার্থীদের মোবাইল জব্দের পরিকল্পনায় সমালোচনার ঝড়

আশ্রয়প্রার্থীদের ফোন জব্দ ও মুখে তল্লাশির সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার উদ্বেগ
চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী আশ্রয়প্রার্থীদের মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দের নতুন পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার থেকে কেন্টের ম্যানস্টন প্রসেসিং সেন্টারে পাঠানো ব্যক্তিদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হবে এবং প্রয়োজনে ডিভাইস থেকে ডেটা সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

 

নতুন ব্যবস্থার আওতায় কর্মকর্তারা আশ্রয়প্রার্থীদের বাইরের পোশাক—যেমন কোট, জ্যাকেট বা গ্লাভস—খুলে তল্লাশি করতে পারবেন। এমনকি গোপনে লুকানো সিম কার্ড বা ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস খোঁজার জন্য আটক ব্যক্তিদের মুখের ভেতর তল্লাশির ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রেও এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে কি না—তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি সরকার।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভয়াবহ চ্যানেল যাত্রা শেষে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষদের ওপর এমন আক্রমণাত্মক তল্লাশি অমানবিক। ফ্রিডম ফ্রম টর্চারের সহযোগী পরিচালক নাতাশা স্যাঙ্গারাইডস বলেন, নির্বিচারে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে প্রমাণ ছাড়াই সব শরণার্থীকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়, যা গোপনীয়তার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
আইনি মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আশ্রয়প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করা একাধিক সলিসিটরের মতে, মোবাইল ফোন জব্দ সংক্রান্ত ২০২২ সালের হাইকোর্টের রায়ে যে স্বাধীন তদারকি ও অনুমোদনের কথা বলা হয়েছিল, নতুন ব্যবস্থায় তার প্রতিফলন স্পষ্ট নয়। আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, ম্যানস্টনে নির্বিচারে তল্লাশি চালানো হলে আদালত আগে যে ব্যর্থতাগুলো চিহ্নিত করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই তল্লাশির মূল উদ্দেশ্য মানবপাচার চক্র সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করা। বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন আইন পাস হওয়ার পর এই ক্ষমতা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেন, নতুন কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্রকে দ্রুত শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসনের ‘সরবরাহ শৃঙ্খল’ বন্ধ করতে সহায়ক হবে।

এই নীতির পেছনে রাজনৈতিক চাপও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অননুমোদিত অভিবাসন ইস্যুতে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে দলের উত্থান লেবার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে রিফর্ম ইউকে লেবারের চেয়ে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেল বন্ধ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হোটেল বন্ধের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশ্রয়প্রার্থীদের একটি সামরিক স্থাপনায় স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসী—যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অভিবাসনের এই উচ্চ সংখ্যার প্রেক্ষাপটে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও মানবাধিকার উদ্বেগের সংঘাত আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে