Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

সৈকতে সংঘাত, সাগরে অনিশ্চয়তাঃ চ্যানেল পারাপার নিয়ে লন্ডন–প্যারিস টানাপোড়েন

ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে যাওয়া ঠেকাতে ফরাসি সৈকতে সক্রিয় হওয়া ব্রিটিশ কর্মীদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এসব ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বাধাদান ও গুরুতর সহিংসতার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে Raise the Colours নামের একটি ব্রিটিশ আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের পর। সংগঠনটি ইউনিয়ন জ্যাক ও সেন্ট জর্জের ক্রস সম্বলিত পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে অভিবাসনবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে আসছে এবং নিজেদের তৎপরতাকে “বেসামরিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ” হিসেবে বর্ণনা করছে।

৫ ডিসেম্বর ফরাসি পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যখন Raise the Colours–এর একটি দল ইংল্যান্ডগামী ছোট নৌকা ঠেকানোর চেষ্টায় জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কর্মীদের সমুদ্রে নেমে অভিবাসীদের দিকে চিৎকার করতে এবং নৌকা ব্যবহারের অযোগ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৪১,৪৭২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে, যা এ ধরনের পারাপারের ক্ষেত্রে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোট প্রায় ৬৫ হাজার অভিবাসী চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে।

এই পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ পক্ষ অভিযোগ করে আসছে, ফ্রান্স সমুদ্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে, বিশেষ করে সৈকতের কাছে পৌঁছানো মানবপাচারকারীদের ‘ট্যাক্সি বোট’ ঠেকানোর ক্ষেত্রে।

ফরাসি প্রশাসন জানিয়েছে, ব্রিটিশ কর্মীদের কর্মকাণ্ডের পর কালে অঞ্চলে স্থানীয়, জোনাল ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয়মূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, উপকূলে এসব অননুমোদিত তৎপরতা নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট নয়। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বুলোয়েনের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে কালে ও ডানকার্ক প্রশাসনকে উপকূলে ব্রিটিশ কট্টর ডানপন্থী কর্মীদের উপস্থিতির বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছে।

Raise the Colours–এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফরাসি ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে। সংগঠনটির এক সূত্র বলেন, অভিবাসী নৌকা থামাতে সরকারগুলোর আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়া উচিত।

গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত অ্যাংলো-ফরাসি শীর্ষ বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রথমবারের মতো সাগরে অভিজাত পুলিশ ইউনিট নামানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ ইউনিয়নের আপত্তিতে সেই কৌশল এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসন সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ইংলিশ চ্যানেল ঘিরে লন্ডন ও প্যারিসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মে-ফেয়ারের নাইটক্লাব থেকে হোম অফিসকে চ্যালেঞ্জ জানাল বহিষ্কৃত আলবেনীয় চোর

লন্ডনের অভিজাত মে-ফেয়ার এলাকায় একটি নাইটক্লাবের ভিআইপি সেকশন থেকে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করেছেন এক আলবেনীয় অপরাধী, যাকে আশ্রয় আবেদনের কারণে যুক্তরাজ্য থেকে এখনই বহিষ্কার করা যাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, তিনি বিলাসী জীবনের প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

৩১ বছর বয়সী ডোরিয়ান পুকাকে সার্ক লে সোয়া নামের একটি নামকরা নাইটক্লাবে শীশা টানতে দেখা যায়। তার চারপাশে ছিল নৃত্যশিল্পী এবং হাজার পাউন্ড মূল্যের শ্যাম্পেন। এসব দৃশ্য তিনি নিজেই ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে পোস্ট করেছেন।

ডোরিয়ান পুকা এর আগে একাধিক চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে দুইবার কারাদণ্ড ভোগ করে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে প্রতিবারই তিনি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে আবার দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। সর্বশেষ বার যুক্তরাজ্যে ফেরার পর তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন, যার ফলে তার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর তাকে অপসারণ করতে পারছে না।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর স্বীকার করেছে, আশ্রয় দাবির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনগতভাবে তাদের হাত বাঁধা। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে পুকা প্রকাশ্যে কর্তৃপক্ষকে বিদ্রুপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত এক বছর ধরে পুকা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিলাসী জীবনের ভিডিও প্রকাশ করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে কালো রোলস-রয়েস কুলিনান গাড়ি, যার ওপর বসে থাকা একটি ‘হাইব্রিড সাভানাহ’ বিড়াল—যার মূল্য তিনি নিজেই প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বলে দাবি করেছেন।

এছাড়া তিনি লাল ফেরারি, ২০২২ সালের ল্যাম্বরগিনি উরুস ভি৮ (মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৫০ পাউন্ড) এবং একাধিক দামি রোলেক্স ঘড়ি প্রদর্শন করেছেন। তার ঘড়ির সংগ্রহে রয়েছে রোলেক্স ডে-ডেট বা ‘রোলেক্স প্রেসিডেন্ট’, যার মূল্য প্রায় ৫৩ হাজার পাউন্ড। কম দামের ঘড়িগুলোর মূল্যও ৫ থেকে ১০ হাজার পাউন্ডের মধ্যে।

পুকার অপরাধের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০১৬ সালে একটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করার সময় তিনি ধরা পড়েন। বাড়ির মালিক ফ্রান্সে ছুটিতে থাকাকালীন ওয়েবক্যামের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করেন। ওই ঘটনায় তিনি নয় মাসের কারাদণ্ড পান এবং পরের বছর তাকে বহিষ্কার করা হয়।

এর এক বছরের মধ্যেই তিনি আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে এসে লন্ডনের বিভিন্ন উপশহরে ধারাবাহিক চুরিতে জড়িয়ে পড়েন। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সারবিটনে চুরির ঘটনা বেড়ে গেলে সাদা পোশাকে টহল দেওয়া পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বার গোপনে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর বহিষ্কারের মুখে পড়ে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি অভিবাসন জামিনে রয়েছেন এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক ট্যাগ লাগানো আছে।

তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। এক পর্যায়ে তিনি রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফ্যারাজকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপমূলক পোস্ট দেন, যখন ফ্যারাজ তাকে ‘ভুল লোক’ বলে দেশছাড়া করার দাবি জানান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গুরুতর অপরাধের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যক্তি বহিষ্কার এড়িয়ে প্রকাশ্যে বিলাসী জীবনযাপন করতে পারেন—তা নিয়ে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তুমুল বাকবিতণ্ডা

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়পত্র যাচাইবাছাই কালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব থাকা না থাকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্কে জড়ান প্রতিদ্বন্দ্বী তিনজন প্রার্থী ও রিটার্নিং কর্তকর্তা।

 

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে প্রার্থীদের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থীদের বৈধতা যাচাইবাছাইয়ের ধারাবাহিকতায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর আহমদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র হাতে নিয়ে রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এই মনোনয়নপত্রে আমাদের কাছে কোনও ভুল পরিলক্ষিত হয়নি। এটা নিয় কী কারও কানও অভিযাগ রয়েছ?

তখন সম্মলন কক্ষে উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসন কিছু কাগজ প্রদর্শন করে দাবি করেন, কয়ছরের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক। হলফনামায় বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এই কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হোক। এসময় তাক সমর্থন করেন বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রার্থী ইয়াসিন খান।

ডিসি তখন কয়ছর আহমদের উদ্দেশ্যে বলেন, হলফনামায় এ সংক্রান্ত ঘোষণায় আপনি কিছু লিখেন নি। অভিযোগের ব্যাপার আপনার বক্তব্য কী? আপনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ছেন কী না। নিয়ে থাকল পরিত্যাগ করেছেন কি না?

জবাবে কয়ছর বলেন, আমি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নেইনি। নাগরিকত্ব নিলেই তো সেটি পরিত্যাগ করার প্রশ্ন ওঠে।

ডিসি তখন অভিযোগকারীদেরর উদ্দেশ্যে বলেন, উনি (কয়ছর) বলছেন ‘না’ আর আপনারা বলছেন প্রমাণ আছে। আমরা উনার ‘না’-টাকেই গ্রহণ করছি। আপনাদের যদি এই সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকে, তবে নির্বাচন কমিশনে আপনাদের আপিল করার সুযোগ রয়েছ। কাউন্টার এফিডেভিট করে আপনারা আমার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে যেত পারেন।

তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার ও জামায়াতের প্রার্থী ইয়াসিন খান বলেন, তাহলে আমাদেরকে কোনো অভিযোগ রয়েছ কি না, এটা কেন জানতে চাইলেন?

জবাব ডিসি বলেন, জনগণ জানবে প্রার্থীদের ব্যাপারে কী কী আপত্তি আছে। জনগণ বিচার করবে। আপনাদের যদি মনে হয় আমার সিদ্ধান্ত ভুল তবে আপনারা লিগ্যাল একশন নেবেন। কমিশনে আপলি করবেন।

আনোয়ার তখন ডিসির কাছ পাল্টা জানতে চান, আপনি প্রাথমিক ভাবে কোনাও সিদ্ধান্ত নেবেন কী না?

জবাবে ডিসি বলেন, বলা হয়েছ দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে হলফনামায় প্রার্থী ঘোষণা দেবেন। কিন্তু ঘোষণায় তিনি উল্লেখ করছেন যে, তিনি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন নি। আমরা সেটিকেই সঠিক ধরে নিয়ে তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করছি।

যাচাই শেষে জামায়াতের প্রার্থী ইয়াসিন খান বলেন, আমরা আপত্তি তুলেছিলাম। রিটানিং কর্মকর্তা বলেছেন আপিল করতে পারেন। পরে সিদ্ধান্ত নেব আমরা আইনিভাবে কী পদক্ষেপ নেব।

অভিযাগের ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, এই ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই। একজন প্রার্থী কী বলল, কী চাইল সেটা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্রঃ সিলেট ভিউ

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

মোস্তাফিজ না হয়ে যদি সেই ক্রিকেটার লিটন বা সৌম্য হতেন? প্রশ্ন তুললেন শশী থারুর

রেকর্ড দামে নিলামে দল পেয়েও মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলা হচ্ছে না এবার। ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীদের হুমকির মুখে নতি স্বীকার করে তাকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছে বিসিসিআই, সে নির্দেশ মাথাপেতে নিয়েছে কেকেআর কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে ভারতে যখন উগ্রবাদীদের হুমকি চলছে, তখনই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর আবারও মুখ খুলেছেন তিনি। মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা করেছেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মোস্তাফিজ না হয়ে যদি সেই ক্রিকেটার সৌম্য সরকার বা লিটন দাস হতেন, তাহলেও কি একই ফল আসত? তার কথা, ‘বিসিসিআই নিন্দনীয়ভাবে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের খেলোয়াড় যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে কী হতো? আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি-একটি দেশ, একজন ব্যক্তি নাকি তার ধর্মকে? খেলাধুলাকে এভাবে রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে আমাদের?’

তার আগে শুক্রবার তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সত্যি বলতে আমি মনে করি না বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বোঝা ক্রিকেটকে বহন করতে হবে। আমার অবস্থান পরিষ্কার। আমাদের উচিত কিছু বিষয়কে অন্য বিষয় থেকে আলাদা রাখা।’

প্রতিবেশী দেশগুলোকে খেলাধুলার মাধ্যমে আলাদা করে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন থারুর। তিনি বলেন, ‘ভারত যদি এমন দেশ হয়ে যায় যে সব প্রতিবেশীকে আলাদা করে রাখবে এবং বলবে কেউ তাদের সঙ্গে খেলবে না, তাহলে তাতে কোনো ভালো ফল আসবে না। এই বিষয়ে আমাদের বড় মন আর বড় চিন্তা দরকার।’

 

একই প্রশ্ন ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার মদনলালেরও, ‘খেলাধুলায় কেন এত রাজনীতি? আমি জানি না ক্রিকেট কোনদিকে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই উঁচুমহল থেকে চাপ ছিল। বাংলাদেশে যা ঘটছে তা দুঃখজনক; কিন্তু খেলোয়াড়দের কেন এর মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে? এখানে শাহরুখ খানের দোষ কোথায়?’

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

মুস্তাফিজ বিতর্কে যোগ দিলেন কুদ্দুস বয়াতি

চলমান আইপিএল-মুস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে দেশের সর্বত্র আলোচনার চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে। এবার তাতে যোগ দিলেন জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি।

 

রোববার (৪ জানুয়ারি) নিজের দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘এক সময় ইন্ডিয়া কারো সঙ্গে ক্রিকেট খেলবে না, তারা নিজেরাই নিজেরাই খেলবে… যেমন ইন্ডিয়া বনাম ভারত।’

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের নিলামে এবার ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। উগ্র হিন্দুবাদী নেতা ও ধর্মগুরুরা দাবি করেন, বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসারকে ভারতের বিমানবন্দরেই নামতে দেওয়া হবে না। তাদের আক্রোশে ইন্ধন জোগায় ক্ষমতাসীন বিজেপি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো।

শেষ পর্যন্ত উগ্র হিন্দুবাদী সমর্থকগোষ্ঠীর উন্মাদনার কাছে নতি স্বীকার করে শনিবার সকালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় দল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার জন্য।

মোস্তাফিজকে কেকেআর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১১টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি শিকার করে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আমি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে বলেছি তারা যেন আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লিখে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বোর্ড যেন জানিয়ে দেয় যে যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারে না। বোর্ড থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলাগুলো শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনাও আমি দিয়েছি। আমি তথ্য এবং সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি বাংলাদেশ আইপিএল খেলার সম্প্রচারও যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়!’

সবশেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা লেখেন, ‘আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, আমাদের ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেব না। গোলামির দিন শেষ।’

আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি। সেই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলংকা ও ভারতে। তার আগে বিসিবি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে দল পাঠানো সম্ভব নয়। শিগগিরই ভেন্যু বদলানোর দাবিও তুলবে আইসিসির কাছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ভারতে হাসিনা থাকতে পারলে মোস্তাফিজ নিয়ে সমস্যা কেনঃ রশিদ লতিফ

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

 

এই ঘটনার পরই বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশী দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ফাটল ধরে। আগামী মাসে ফেব্রুয়ারি-মার্চে যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলংকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশের সবগুলো ম্যাচ রাখা হয়েছিল ভারতে। কিন্তু এই ঘটনার পর বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারত সফরে যেতে চায় না। আনুষ্ঠানিকভাবে এমনটি জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এ ব্যাপারে পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফ নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘বিসিসিআইয়ের নির্দেশে ২০২৬ সালের আইপিএলের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। অবাক বিষয় হচ্ছে ভারত শেখ হাসিনাকে জায়গা দিতে পারে কিন্তু মোস্তাফিজকে আইপিএল খেলতে দিতে পারে না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে বাংলাদেশ। কারণ, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকি। অথচ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসিত আছেন।’

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঢাকা-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট

ঢাকা ও যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজের স্বল্পতা, আসন্ন হজ ফ্লাইট পরিচালনা, উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং নেটওয়ার্কজুড়ে উড়োজাহাজের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ আবার ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

ফ্লাইট স্থগিত থাকলেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে বিকল্প ফ্লাইট, ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন কিংবা টিকিট রিফান্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান। এসব ক্ষেত্রে সংস্থাটির বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা ও লন্ডন বিক্রয় অফিস, বিমান কল সেন্টার (১৩৬৩৬ বা +৮৮-০৯৬১০৯-১৩৬৩৬) কিংবা বিমান অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু করে সংস্থাটি। বর্তমানে এ রুটে একমাত্র বিমানই সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছিল।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধের গুঞ্জনে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয় এবং সে সময় বিক্ষোভও দেখা যায়।

ফ্লাইট স্থগিতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রবাসী যাত্রীদের যাতায়াতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

কানাডায় থাকার বৈধতা হারাচ্ছেন ১০ লাখ ভারতীয়

কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিতে তাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি বা আইনি মর্যাদা হারানোর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। মূলত কাজের অনুমতির (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং নতুন ভিসা প্রাপ্তি বা স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মিসিসাগা-ভিত্তিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ কানওয়ার সিরাহ কর্তৃক কানাডার অভিবাসন দপ্তর (আইআরসিসি) থেকে সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে প্রায় ১০ লক্ষ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার পারমিট শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনিয়মিত বা নথিপত্রহীন হয়ে পড়তে পারেন, যার অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক।

কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অস্থায়ী কর্মী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মকানুন কঠিন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনের প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের সামনে বৈধভাবে থাকার বিকল্প পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কানওয়ার সিরাহ সতর্ক করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ প্রায় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি করবে।

ইতোমধ্যেই এই পরিস্থিতির সামাজিক প্রভাব পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। বৃহত্তর টরন্টো এলাকা, বিশেষ করে ব্র্যাম্পটন এবং ক্যালেডনের বনাঞ্চলে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বসবাস করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, আইনি মর্যাদা হারানো অনেক ভারতীয় নাগরিক এখন নামমাত্র মজুরিতে নগদ টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি বৈধ হওয়ার আশায় ভুয়া বিয়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই মানবিক ও আইনি সংকটের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন। ‘নওজোয়ান সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’-এর মতো কর্মীবান্ধব সংগঠনগুলো জানুয়ারি মাস থেকে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, যারা কানাডার অর্থনীতিতে শ্রম দিচ্ছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। ‘কাজের জন্য যোগ্য হলে, থাকার জন্যও যোগ্য’ — এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ হচ্ছে? যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই কথা উঠছে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার। এই বিষয়ে আজ কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, বিষয়টির আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপরই আসতে পারে সিদ্ধান্ত।

 

আজ রোববার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আইপিএল থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। বাংলাদেশ একটি শক্ত অবস্থান নেবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী আইনি ভিত্তি রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোন যুক্তিতে মুস্তাফিজকে মানা করা হচ্ছে। খেলার কোন যুক্তিতে মানা করা হলে তো কোনো ব্যাপার ছিল না। যে যুক্তিতে মানা করা হচ্ছে সে যুক্তিটা তো আসলে আমরা কোনোভাবেই গ্রহণ করতে পারি না। ফলে সেখানে আমাদের একটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘সেরকম জায়গায় আমাদেরও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি। এর পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

তবে তিনি জানান, এই বিষয়টির প্রভাব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

ভারতে বিশ্বকাপে দল পাঠানো সম্ভব নয়, সিদ্ধান্ত বিসিবির

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে বিসিবি ও বিসিসিআই। ‘নিরাপত্তার কারণে’ বাংলাদেশি পেসারকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরই আইসিসির কাছে প্রশ্ন তোলার দাবি উঠেছিল। বিসিবি জানিয়েছিল শিগগিরই আইসিসিকে চিঠি দেবে বোর্ড।

তার আগে বিসিবি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে দল পাঠানো সম্ভব নয়। শিগগিরই ভেন্যু বদলানোর দাবিও তুলবে আইসিসির কাছে। ইতোমধ্যে একটি চিঠি তৈরি করা হয়েছে এই মর্মে। এমনটাই জানিয়েছে বিসিবির একটি সূত্র।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আর এক মাস বাকি। ঠিক এই সময়ে এসে বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গতকাল শনিবার থেকে। বিসিসিআইয়ের ওপর আগে থেকেই চাপ ছিল বাংলাদেশি কোনো ক্রিকেটারকে যেন আইপিএলে খেলতে না দেওয়া হয়। সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে গতকাল শনিবার বোর্ডের কাছ থেকে নির্দেশনা যায় মোস্তাফিজকে নেওয়া কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে। এরপরই তারা জানায় বাংলাদেশি এই পেসারকে আর খেলানো সম্ভব নয় আসন্ন আইপিএলে।

এরপর দেশের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন বিসিবির ১৭ জন পরিচালক। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারেই আজ ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠায় বিসিবি।

আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি। সেই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে। শুধুমাত্র পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলবে, এভাবেই সূচি সাজানো হয়েছিল। আইসিসি বাংলাদেশের দাবি মানলে লিটন দাসের দলেরও গন্তব্য হতে পারে শ্রীলঙ্কাতেই।

এম.কে