Categories
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আমরাই দেশটি চালাবঃ ট্রাম্প

দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টির পর অবশেষে ভেনেজুয়েলায় হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল শনিবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে হামলা ও তাদের বন্দি করার তথ্য দেন।

 

এরই মধ্যে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আমরাই দেশটি চালাব।’ পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার সব খনি নিয়ন্ত্রণে নেবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো মেরামত করতে এবং দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করতে যাবে।

একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফায় আরও অনেক বড় হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার হামলার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে রাশিয়া। আর অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। এ ছাড়া কিউবা, ইরানসহ অনেক দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মাদুরোকে আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও। তিনি বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

ভেনেজুয়েলায় হামলার আইনি কর্তৃত্বের ব্যাপারে ট্রাম্প কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন কিনা, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ ১৯৯০ সালে পানামা আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই সময় পানামার নেতা ম্যানুয়েল আন্তোনিও নরিয়েগাকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়েছিল। ঠিক ৩৬ বছর আগের সেই ঘটনাও ঘটেছিল ৩ জানুয়ারি, শনিবার।

সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে ফোনে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মাদুরোকে কীভাবে আটক করা হয়েছে, এর বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমায় তোলা হয় নিউইয়র্কে নেওয়ার জন্য। তাদের আটকের অভিযানটি তিনি ফ্লোরিডার তার মার-এ-লাগো রিসোর্টের একটি কক্ষে বসে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমি ঘটনাটি দেখেছি ‘টেলিভিশন শো’র মতো। হামলায় কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হননি কিংবা কোনো মার্কিন বিমানও খোয়া যায়নি।

পরে ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যমে মাদুরোর একটি ছবি শেয়ার করেন। তাতে মাদুরোকে ইউএসএস ইও জিমা জাহাজের ডেকে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে মাদুরোকে একটি ভেসে থাকার সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষামূলক হেডফোন পরা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া অভিযান চলাকালে ট্রাম্প কীভাবে ঘরে বসে তা দেখছিলেন, সেই ছবিও প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন।
ট্রাম্প বলেন, মাদুরোকে ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে মাদক ও অস্ত্রের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি জানান, অভিযানের সময় অভিজাত মার্কিন বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের শোয়ার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, নিরাপদে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনার জন্য প্রস্তুত। মার্কিন কোম্পানি তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং তা থেকে অর্থ উপার্জন শুরু করবে। প্রয়োজন হলে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশটিকে স্বাধীন, ধনী ও নিরাপদ করে গড়া হবে। এ সময় ট্রাম্প জানান, মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র যা চাইবে তা মেনে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এটা কারও কারও জন্য অবাক করা বিষয় হতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার দেশটির রাজধানী কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনায় বিস্ফোরণে জ্বলছে একটি সামরিক স্থাপনা। নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ, ধোঁয়া ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে- এএফপি

মার্কিন বাহিনীর অভিযান ৩০ মিনিটেরও কম সময় ধরে চলে। এ সময় কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মানুষ রাস্তায় ছুটে আসতে বাধ্য হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের মতে, মার্কিন হামলায় কিছু বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। উড়োজাহাজগুলোকে খুব নিচু দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়।

উটাহর মার্কিন সিনেটর মাইক লি এক্সে পোস্ট করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে হামলা সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিচার করা হবে। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বলেছেন, নিউইয়র্কে মাদুরো ও স্ত্রীকে অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে। বন্ডি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, এই দম্পতি শিগগির যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হবেন।

হামলার পর ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অবস্থান জানা না থাকায় আইন অনুসারে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। রদ্রিগেজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর অবস্থান জানি না। তারা বেঁচে আছেন কিনা তার প্রমাণ আমরা চাই।

ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, ‘মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ আটক করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং তারা সফল হয়েছে।’

মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মাদুরোর আটকের ঘটনায় ভেনেজুয়েলায় একটি নতুন সকালের আগমন ঘটেছে। ‘অত্যাচারী’ মাদুরো চলে গেছেন। পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও একটি রি-পোস্ট করেন। তাতে বলা হয়, ‘মাদুরো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নন এবং তাঁর শাসন বৈধ নয়।’

এর আগে শুক্রবার কারাকাসে চীনা কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মাদুরোকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শেষবারের মতো দেখা যায়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন হামলার ঘটনা এই অঞ্চলের জন্য সম্ভাব্য উদ্বেগজনক পরিণতি বহন করে।

অন্যদিকে মাদুরো সরকারের সমর্থক ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বারমুডেজ অভিযানকে ‘অপরাধমূলক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্সে তিনি বলেন, আমাদের শান্তির অঞ্চলকে নির্মমভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় হামলা করার জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম জাতির ওপর একতরফা হামলা যুদ্ধবাজদের কাজ। এটি যে কোনো দেশ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। শাসন পরিবর্তনের এই স্পষ্ট প্রচেষ্টা কেবল বিদেশে থাকা ব্যক্তিদেরই প্রভাবিত করে না, এটি সরাসরি নিউইয়র্কবাসীর ওপরও প্রভাব ফেলবে। কারণ ভেনেজুয়েলার অনেক নাগরিক নিউইয়র্ক শহরকে নিজের দেশ বলে অভিহিত করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এই সমালোচনা করেন।

মেয়র মামদানি বলেন, মাদুরোকে নিউইয়র্কে আনার বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়েছে। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্ক শহরে কারাবাসে রাখা হবে। তাদের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর কারাকাসের রাস্তায় বেরিয়ে আসে সাধারণ মানুষ। তারা বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বেসামরিক মিলিশিয়ার পোশাকধারী সদস্যদেরও দেখা যায়। অনেকে ‘মাদুরোকে ফিরিয়ে দাও’ স্লোগান দিচ্ছিল। কারাকাসের কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন ছিল, তবে গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার সময় বিস্ফোরণগুলো রাতের আকাশকে আলোকিত করছে। মহাসড়ক দিয়ে তখনও গাড়ি চলছিল। কারাকাসের একটি সামরিক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। তখন রাজধানীর আরেকটি সামরিক স্থাপনা ছিল বিদ্যুৎবিহীন।

ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন ২১ বছর বয়সী অফিসকর্মী কারমেন হিডালগো। তিনি বলেন, বিস্ফোরণে পুরো মাটি কেঁপে উঠল। এটা ছিল ভয়াবহ। আমরা আবারও বিস্ফোরণ ও বিমানের শব্দ শুনতে পেলাম। কথা বলার সময় তাঁর কণ্ঠস্বর কাঁপছিল।

কারাকাসে বসবাসকারী সাংবাদিক ভেনেসা সিলভা তার জানালা দিয়ে একটি বিস্ফোরণ দেখতে পান। তিনি বিবিসিকে বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ বজ্রপাতের চেয়েও শক্তিশালী ছিল। যার ফলে তার বাড়ি কাঁপছিল। তিনি বলেন, ‘আমার হৃৎস্পন্দন হচ্ছিল এবং পা কাঁপছিল। বিস্ফোরণগুলো এত কাছে ছিল, তা দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন।

শনিবার ভোরে যখন অভিযান চলছিল, তখন ভেনেজুয়েলায় বিদেশি সেনাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমিরি পাদ্রিনো লোপেজ। তিনি এক ঘোষণায় বলেন, মাদুরোকে বন্দি করা হয়েছে এবং দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা হাল ছাড়ব না। ভেনেজুয়েলা অবশ্যই জয়ী হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

লোপেজ বলেন, আমরা সর্বদা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করব। আমরা স্বদেশ ও আমাদের জনগণের ঐক্যকে রক্ষা করে যাব। দরকষাকষির মাধ্যমে কেউ ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের নেতৃত্ব এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চ কমান্ডের ওপর আস্থা রাখুন।

ভেনেজুয়েলার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাদুরো সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধোঁয়ার দৃশ্য দেখানো বেশ কয়েকটি ভিডিও পরীক্ষা করেছে বিবিসি। তাতে কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে, চিহ্নিত হয়েছে। এ রকম তিনটি অবস্থানের বিষয় নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

জেনারেলিসিমো ফ্রান্সিসকো ডি মিরান্ডা বিমানঘাঁটি ওরফে লা কার্লোটায় সামরিক বিমানক্ষেত্রের কাছে দুটি ধূম্রকুণ্ডলী ও বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা গেছে। মিরান্ডা রাজ্যের লা গুয়াইরা বন্দর এলাকায় বেশ কয়েকটি কুণ্ডলীর প্রমাণ মিলেছে। সেখানে একটি স্থানে আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে। এ ছাড়া পূর্ব মিরান্ডার হিগুয়েরোট বিমানবন্দরের দুটি স্থান থেকে আগুন উঠতে দেখা যায়। সম্ভত সেখানেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরান ও রাশিয়া। ইরানের ভাষ্য, এই হামলা ভেনেজুয়েলার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলাকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়া জানায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য যে কোনো অজুহাত ভিত্তিহীন। আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।

চীন নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ঘটনা সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং মাদুরোর বিরুদ্ধে স্পষ্টতই বলপ্রয়োগ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-প্রধান কাজা ক্যালাস বলেছেন, আমরা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ইইউ বারবার বলেছে, মাদুরোর শাসনের বৈধতার অভাব রয়েছে। সব পরিস্থিতিতে সবাইকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, আমার দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জড়িত ছিল না। আমি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে এবং কী ঘটেছে তার সম্পূর্ণ তথ্য জানতে চাই। আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি, আমরা এ হামলায় জড়িত ছিলাম না। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর ওপর গত কয়েক মাস ধরে চাপ সৃষ্টি করছিল। দক্ষিণ আমেরিকার জলসীমায় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বহনের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার জাহাজগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছিল মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ গত সপ্তাহেও ভেনেজুয়েলার মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত একটি জেটিতে ড্রোন হামলা চালায় সিআইএ।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, শুক্রবার পর্যন্ত ৩৫টি নৌকায় হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ লিপ্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশ বন্ধ করার জন্য ওইসব হামলার ব্যাপারে অনুমোদন দেয় ওয়াশিংটন।

সূত্রঃ এএফপি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যাসাইনমেন্ট জালিয়াতি এখন ‘ওপেন সিক্রেট’

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসাইনমেন্ট ও প্রবন্ধ জালিয়াতি বন্ধে আইন কার্যকর হওয়ার প্রায় তিন বছর পার হলেও বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি। বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসাইনমেন্ট জালিয়াতি এখনো ব্যাপকভাবে চলমান এবং সংশ্লিষ্ট মহলে এটি কার্যত একটি “ওপেন সিক্রেট” হিসেবে পরিচিত।

 

২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডে পোস্ট-১৬ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থের বিনিময়ে এসাইনমেন্ট লেখা, ব্যবস্থা করা বা এর বিজ্ঞাপন দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ। তবে বিস্ময়করভাবে, এখন পর্যন্ত এই আইনের আওতায় কোনো মামলাই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়—উভয়ই বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইন থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে অসংখ্য কোম্পানি এখনো যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে প্রবন্ধ বা এসাইনমেন্ট লেখার সেবা প্রচার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ্যে এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ১,০০০ শব্দের প্রবন্ধের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ২০ পাউন্ড থেকে।

ইউনিভার্সিটি অব লিংকনের এক সাবেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আলিয়া (ছদ্মনাম) জানান, তার মাস্টার্স কোর্সে বহু বিদেশি শিক্ষার্থী দীর্ঘ ইংরেজি প্রবন্ধ লিখতে ব্যর্থ হচ্ছিল। ভাষাগত দুর্বলতা ও পড়াশোনায় অনাগ্রহের কারণে অনেকে দ্রুতই ক্লাসে আসা বন্ধ করে দেয় এবং প্রবন্ধ লেখার কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

আলিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা নিজেরা পরিশ্রম করে কাজ করছিলেন, তাদের উপহাস করা হতো। অনেক শিক্ষার্থী কেবল উপস্থিতি দিয়ে ক্লাস ছেড়ে দিত এবং ভালো নম্বর পেত। ফলাফল প্রকাশের সময় দেখা যায়, নকলের আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থীরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগিয়ে।

এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী বার্কলে লিটলউড দাবি করেন, তিনি প্রবন্ধ বাণিজ্য থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছেন। তার কোম্পানির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩,০০০ লেখক কাজ করেন, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকরাও রয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ের প্রবন্ধের দাম ২০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

লিটলউড আরও দাবি করেন, তিনি নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে কয়েক মিনিটেই “নিশ্চিত গ্রেড”-সহ বিশ্ববিদ্যালয় মানের প্রবন্ধ সরবরাহ করা সম্ভব। যদিও তিনি আইন ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করে একে “মডেল উত্তর” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

সাবেক প্রভাষক স্টিভ ফস্টার বলেন, এসাইনমেন্ট জালিয়াতির ব্যাপকতা ছিল একটি প্রকাশ্য গোপন বিষয়। তিনি জানান, ভাষায় দুর্বল শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে নিখুঁত ও উচ্চমানের প্রবন্ধ জমা দিলে সন্দেহ হওয়াই স্বাভাবিক। এক পরীক্ষায় ২% আর প্রবন্ধে ৯৯% পাওয়ার মতো চরম বৈষম্য নকলের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

ফস্টারের দাবি, অনেক শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে এসব অনিয়ম উপেক্ষা করেছেন, যার ফলে সমস্যা ক্রমেই গভীর হয়েছে। তার মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে পেশাগত দক্ষতা ও জননিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চ ফি’র ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক চাপে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে ব্রিটেনের প্রতি দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চারটির বেশি আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিলেন, যা মোট শিক্ষার্থীর এক-চতুর্থাংশ। বিবিসির তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনের জবাবে ৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টি জানিয়েছে—একাডেমিক অসদাচরণের তদন্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অনুপাতে বেশি।

ইউনিভার্সিটি অব লিংকনের ক্ষেত্রে চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে মোট তদন্তের ৭৮ শতাংশই ছিল অ-যুক্তরাজ্য শিক্ষার্থী, অথচ তাদের সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২২ শতাংশ।

নকল শনাক্তে টার্নইটিনের মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করা হলেও, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এই চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। টার্নইটিন জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর পর্যালোচিত প্রতি দশটির বেশি একটিতে অন্তত ২০ শতাংশ লেখা এআই দ্বারা তৈরি।

শিক্ষাবিদরা সতর্ক করে বলছেন, প্রবন্ধভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন আর কার্যকর নয়। অ্যাকাডেমিক সততা রক্ষায় মূল্যায়নের ধরন বদলানো না হলে ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষার মান ও ডিগ্রির বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই বাস্তবতায় আলিয়ার মতো সৎ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন—একই ডিগ্রি হাতে নিয়ে একজন নিয়োগকর্তা কীভাবে পরিশ্রমী ও নকলনির্ভর শিক্ষার্থীর মধ্যে পার্থক্য করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন চাপের মুখে ব্রিটেনের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

চীনা ‘কিল সুইচ’ আতঙ্কঃ ব্রিটেনের সড়কে চলা শত শত বৈদ্যুতিক বাসে নিরাপত্তা ঝুঁকি

ব্রিটেনের সড়কে চলাচলকারী শত শত বৈদ্যুতিক বাস দূর থেকে বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা চীনের হাতে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। তদন্তে উঠে এসেছে, এসব বাস ইন্টারনেট–সংযুক্ত হওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে বাইরের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

 

পরিবহন মন্ত্রণালয় (DfT) ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (NCSC)–এর যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইউটং নির্মিত বাসগুলো অনবোর্ড সিম কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত থাকে। মূলত সফটওয়্যার আপডেটের জন্য এই সংযোগ ব্যবহার হলেও, এটি নিরাপত্তা ঝুঁকির দরজাও খুলে দেয়। ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা GCHQ–এর অধীন NCSC জানিয়েছে, প্রযুক্তিগতভাবে চীন থেকে এসব বাস দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব।

নরওয়েতে একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশের পর গত নভেম্বরে ব্রিটিশ তদন্ত শুরু হয়। সেখানে অভিযোগ ওঠে, ইউটংয়ের বৈদ্যুতিক বাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চাইলে ব্যাটারি বা সিস্টেমে দূর থেকে প্রবেশ করে যানবাহন অচল করে দিতে পারে। যদিও ব্রিটিশ তদন্তকারীরা এখনো পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাননি।

হোয়াইটহল সূত্র জানিয়েছে, সরাসরি নাশকতার প্রমাণ না থাকায় সরকার আপাতত এসব বাস নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে না। মন্ত্রীরা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন হলো—বাসগুলো হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বর্তমানে গুরুতর নয়।

তবু এই তথ্য প্রকাশের পর ব্রিটিশ অবকাঠামোর ওপর চীনা প্রযুক্তির নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে লেবার পার্টির কয়েকজন এমপি শিল্প, রেল, পানি ও বিদ্যুৎ খাত থেকে চীনের প্রভাব কমানোর দাবি তুলেছিলেন।

এর বিপরীতে ডাউনিং স্ট্রিট চীন থেকে আরও বিনিয়োগ টানতে আগ্রহী। সরকারের মতে, এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও পরিবহন প্রকল্পে বেসরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে স্যার কিয়ার স্টারমারের চীন সফর এবং লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাস অনুমোদনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে লেবার সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রিটেনের রাস্তায় আরও ইউটং বৈদ্যুতিক বাস নামানো হয়েছে। নটিংহাম সিটি কাউন্সিল ইতোমধ্যে তাদের সব সিঙ্গেল-ডেকার বাস ইউটং মডেলে রূপান্তর করেছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই ডাবল-ডেকার বহর বদলের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রিটেনজুড়ে প্রায় ৭০০টি ইউটং বাস চালু রয়েছে। স্টেজকোচ ও ফার্স্ট বাসের মতো বড় পরিবহন সংস্থাগুলো এসব বাস ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে কেন্টে ইউটং বাস সরবরাহকারী একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে অনুমোদিত সরবরাহকারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নরওয়ের গণপরিবহন সংস্থা রুটার ইতোমধ্যে এসব বাসে অতিরিক্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরোপ করেছে। ব্রিটেনে অবশ্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে NCSC জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে ইউটং বাস নিয়ে চলমান তদন্ত তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

ইউটং বাস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের যানবাহন দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট–সংযুক্ত সফটওয়্যার ইউনিটটি ব্রেক বা স্টিয়ারিংসহ মূল চালনা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি বোঝা ও তা কমাতে সরকার পরিবহন খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘রিপ-অফ ডিগ্রি’ বিতর্কঃ ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ কোর্স নিয়ে তোলপাড়

২০২২ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৮০০টি তথাকথিত ‘মিকি মাউস’ কোর্স চালু হয়েছে, যেগুলোকে কম কঠোর একাডেমিক মানসম্পন্ন এবং সীমিত কর্মসংস্থান সম্ভাবনাসম্পন্ন বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব কোর্সে ইতোমধ্যে ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

 

থিঙ্ক ট্যাংক ট্যাক্সপেয়ার্স’ অ্যালায়েন্স (TPA) জানিয়েছে, দেশজুড়ে ৭৮৭টি কোর্স তাদের তালিকায় এসেছে। এর মধ্যে ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’, ‘রেস, এডুকেশন অ্যান্ড ডিকোলোনিয়াল থট’, ‘জেন্ডার, সেক্সুয়ালিটি অ্যান্ড কালচার’–এর মতো কোর্সগুলোকে সবচেয়ে বেশি “ওক” বা অতিরিক্ত আদর্শভিত্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

TPA–এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি এবং নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটিতে সবচেয়ে বেশি ‘রিপ-অফ’ বা অর্থের তুলনায় কম ফলদায়ক কোর্স চালু রয়েছে। তালিকার শীর্ষ ১০–এ মর্যাদাপূর্ণ রাসেল গ্রুপের দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে, যা উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

‘মিকি মাউস’ কোর্স শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন নিউ লেবার সরকারের সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ব্যারোনেস হজ। তার মতে, এসব কোর্সে পাঠ্যবিষয় তুলনামূলকভাবে কম কঠোর এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চাকরির ক্ষেত্রে তেমন সহায়ক নয়। TPA নিজেদের মানদণ্ড অনুযায়ী কোর্সগুলো বাছাই করেছে, যেখানে শখভিত্তিক ও সরাসরি চাকরিমুখী নয়—এমন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটির পাঁচ সপ্তাহের ‘নেট জিরো বুটক্যাম্প’, গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটির ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’-এ মাস্টার্স এবং লিডস বেকেট ইউনিভার্সিটির ‘রেস, এডুকেশন অ্যান্ড ডিকোলোনিয়াল থট’। এছাড়া ই-স্পোর্টস, ‘আউটডোর অ্যান্ড এক্সপেরিয়েনশিয়াল লার্নিং’ ও ‘বুশক্রাফট’-এর মতো শখভিত্তিক কোর্সও তালিকায় রয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ঋষি সুনাকের নেতৃত্বাধীন আগের কনজারভেটিভ সরকার ‘রিপ-অফ ডিগ্রি’ বন্ধে পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল। পরে লেবার সরকারও নিম্নমানের কোর্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানায়।

লেবার সরকার শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নতুন ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যাতে মানহীন কোর্সে ভর্তি সীমিত করা যায়।

একই সময়ে সরকার টিউশন ফি বাড়িয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে £৯,৫৩৫ নির্ধারণ করেছে। তবে শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্ধেক তরুণকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পুরোনো লক্ষ্য বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষাঋণের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত করদাতাদের অর্থেই বহন করতে হয়—এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে TPA।

TPA–এর তদন্ত ও প্রচারণা ব্যবস্থাপক ক্যালাম ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, করদাতাদের অর্থ এমন ডিগ্রিতে ব্যয় করা হচ্ছে, যেগুলোতে বিনিয়োগের বাস্তব কোনো সুফল নেই। তার ভাষায়, এসব কোর্স মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ানোর মাধ্যম, অথচ শিক্ষার্থী ও জনগণ ঋণের বোঝা বহন করছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নটিংহাম, ম্যানচেস্টার, কামব্রিয়া ও গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, তাদের কোর্সগুলো গবেষণাভিত্তিক, শ্রমবাজারের চাহিদাসম্পন্ন এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই নকশা করা।

TPA জানিয়েছে, তাদের বিশ্লেষণ ২০২২–২৩ থেকে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত কোর্সসংক্রান্ত তথ্য অধিকার (FOI) আবেদনের জবাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। কিছু কোর্স ইতোমধ্যে বন্ধ বা নাম পরিবর্তিত হলেও, সামগ্রিক চিত্রটি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় মান ও অর্থমূল্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

উচ্চ নিরাপত্তা কারাগার থেকে মুক্তির শেষ চেষ্টাঃ নিজেই আদালতে লড়ছেন আবু হামজা

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগার ADX ফ্লোরেন্স থেকে মুক্তি পেতে শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াই শুরু করেছেন হেইট ক্রাইম বিষয়ক মামলার আসামী ও ধর্মপ্রচারক আবু হামজা। সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত এই বন্দি আদালতে নিজেই নিজের পক্ষে মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তার দীর্ঘ আইনি সংগ্রামের সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

২০১৫ সাল থেকে কলোরাডোর ADX ফ্লোরেন্স কারাগারে বন্দি থাকা আবু হামজা দাবি করেছেন, সেখানে তার আটকাবস্থা বেআইনি এবং অমানবিক। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে পাঠানো হাতে লেখা চিঠিতে তিনি নিজেকে “প্রো সে পিটিশনার” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানান। এর অর্থ, ব্যয়বহুল আইনজীবী দল বাদ দিয়ে তিনি নিজেই বিচারকের সামনে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। কারাগারের কঠোর নিরাপত্তার কারণে চিঠিপত্র পৌঁছাতে দেরি হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ADX ফ্লোরেন্সে কারাবাসের শর্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছেন আবু হামজা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, তার কৃত্রিম হাত বা হুকের বদলে নড়বড়ে প্লাস্টিকের যন্ত্র দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে দৈনন্দিন কাজ করাও কঠিন। কারাগারের পরিবেশে বারবার কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে নিম্ন নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তরের জন্য করা একাধিক আবেদন ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি কারাগারের পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করেও কোনো সাফল্য আসেনি। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসও রায় দিয়েছিল যে ADX ফ্লোরেন্সের অবস্থা অমানবিক আচরণের পর্যায়ে পড়ে না, ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিচার এড়ানোর চেষ্টা ভেস্তে যায়।

এক সময় লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক মসজিদে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া আবু হামজাকে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০১৪ সালে তাকে ১১টি সন্ত্রাসবাদ–সংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যার মধ্যে ইয়েমেনে পর্যটক অপহরণ, সন্ত্রাসীদের সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপনের চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে তিনি আজীবন সাজা ভোগ করছেন।

“রকি পর্বতমালার আলকাট্রাজ” নামে পরিচিত ADX ফ্লোরেন্স বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা কারাগারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে বন্দিদের দিনে ২৪ ঘণ্টাই একাকী সেলে রাখা হয়। আদালত সরাসরি শুনানি ছাড়াই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবু হামজার এই শেষ আইনি প্রচেষ্টার নিষ্পত্তি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
ফিচার যুক্তরাজ্য (UK)

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপঃ যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ঝুঁকি

একসময় উচ্চ রক্তচাপকে মূলত মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও এর হার দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এর ফলে কর্মক্ষম বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকসহ গুরুতর জটিলতার ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে

চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চ রক্তচাপকে হাইপারটেনশন বলা হয়। এটি তখনই সৃষ্টি হয়, যখন ধমনীতে রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক মাত্রার ওপরে থাকে। হৃদয় থেকে মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত বহনকারী এই ধমনীগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

রক্তচাপ সাধারণত বাহুতে কাফ লাগানো যন্ত্রের মাধ্যমে মাপা হয়। এতে দুটি সংখ্যা দেখানো হয়—সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপ। সিস্টোলিক চাপ হৃদয় সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ নির্দেশ করে, আর ডায়াস্টোলিক চাপ হৃদয় শিথিল থাকার সময়ের চাপ বোঝায়।

যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৯০/৬০ থেকে ১১৯/৭৯ রক্তচাপকে স্বাভাবিক ধরা হয়। ১৪০/৯০ বা তার বেশি হলে তা উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো একক সীমা নেই। বয়স, উচ্চতা ও লিঙ্গ অনুযায়ী একই শ্রেণির শিশুদের মধ্যে যাদের রক্তচাপ সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যে পড়ে, তাদের হাইপারটেনশন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

উচ্চ রক্তচাপ যুক্তরাজ্যে একটি ব্যাপক সমস্যা। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক এ সমস্যায় ভুগছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধমনীগুলো শক্ত হয়ে যাওয়া একটি বড় কারণ। বংশগত ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি কৃষ্ণ আফ্রিকান, কৃষ্ণ ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

জীবনযাপনের ধরন এই রোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

খুব অল্পবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ সাধারণত হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা কিংবা জেনেটিক ও হরমোনজনিত জটিলতার কারণে হয়, যাকে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন বলা হয়। তবে ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে খারাপ খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার চার গুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ধমনীতে অ্যানিউরিজম তৈরি হয়ে তা ফেটে গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। হৃদয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ হৃদ্‌যন্ত্রের ব্যর্থতা, অনিয়মিত স্পন্দন ও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালী নষ্ট হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিও থাকে।

মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে ভাসকুলার ডিমেনশিয়া, মিনি-স্ট্রোক কিংবা বড় ধরনের স্ট্রোক হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও হৃদয়, কিডনি ও চোখের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, লবণ ও চিনিযুক্ত পানীয় কমানো, ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য জড়িত নয়ঃ কিয়ার স্টারমার

ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী আটক করেছে এবং রাজধানী কারাকাসে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অভিযানের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্টারমার বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কী ঘটেছে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা জরুরি। তিনি জানান, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি কথা হয়নি।

স্টারমার বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই অংশ নেয়নি এবং সরকার ভেনিজুয়েলায় অবস্থানরত প্রায় ৫০০ ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারাকাসে ব্রিটিশ দূতাবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শনিবার ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করার পর যুক্তরাজ্য পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করবে। আন্তর্জাতিক আইন প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই মুহূর্তে আগে বাস্তব তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নিন্দা জানাতে কিয়ার স্টারমারের প্রতি চাপ বাড়ছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি অভিযানের কড়া সমালোচনা করে একে “অবৈধ” আখ্যা দেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এড ডেভি বলেন, মাদুরো নিষ্ঠুর ও অবৈধ শাসক হলেও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক হামলা বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে। তিনি সতর্ক করেন, এতে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো অন্য রাষ্ট্রে হামলা চালানোর অজুহাত পেতে পারে।

গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিও অভিযানের বিরোধিতা করে বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়মকে উপেক্ষা করছে।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ অভিযানের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করলেও এটিকে কৌশলগতভাবে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এতে যদি চীন ও রাশিয়া সতর্ক হয়, তবে ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে পারে।
এ ঘটনায় কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমার ৫০ কোটির চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে আম্মারের ৫ প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গাজীপুরে তাহরিমা জান্নাত সুরভী (২১) নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। তাকে গ্রেপ্তারের পর এবার ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।

 

এক ফেসবুক পোস্টে তাহরিমার ছবি পোস্ট করে সালাউদ্দিন আম্মার লিখেছেন ‘এই মেয়েটার নাম তাহরিমা, এখন জেলে আছে। অভিযোগ ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি। সংখ্যাটা শুনেই সন্দেহ জাগে। ৫০ কোটি! এই দেশেই যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয় কাগজে-কলমে, সেখানে একজন জুলাইয়ের রাজপথে থাকা তরুণীর বিরুদ্ধে হঠাৎ করে এমন অঙ্ক এটা কি সত্যিই বিচারিক অনুসন্ধানের ফল, নাকি ভয় দেখানোর রাজনৈতিক সংখ্যা?’

পাঁচটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন রেখে সেই ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, প্রশ্ন হলো ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ কোথায়? ব্যাংক ট্রান্সফার? মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ট্রেইল? সাক্ষী? নাকি শুধু অভিযোগ আছে এই এক লাইনের ওপর ভর করেই জেল?

আম্মার আরও লিখেছেন, ‘আরও অদ্ভুত বিষয় হলো একদিকে বলা হচ্ছে চাঁদাবাজি, অন্যদিকে পত্রিকার ভাষ্য সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য। তাহলে আসল অভিযোগ কোনটা? চাঁদাবাজি না মতপ্রকাশ? যদি চাঁদাবাজি হয়, তাহলে রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য টেনে আনার দরকার কেন? আর যদি বক্তব্যই অপরাধ হয়, তাহলে চাঁদাবাজির মতো ভয়ংকর লেবেল লাগানোর মানে কী? এটা কি আইনি প্রক্রিয়া, নাকি ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন? সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গাটা এখানে আজ সে জেলে, কাল আপনি, পরশু আমি। আর তখন রাষ্ট্র বলবে চাঁদাবাজ ধরা পড়েছে। প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন নেই, কারণ আমরা আগেই চুপ থাকতে শিখে গেছি। এই দেশে এখন অভিযোগই সাজা, গ্রেপ্তারই প্রমাণ আর সংবাদ শিরোনামই রায়। প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়,নীরবতাই অপরাধ। আজ যদি আমরা না বলি প্রমাণ দেখাও, মামলার অবস্থা কী,চার্জশিটে কী লেখা আছে,বিচার কোথায়!! তাহলে কাল যখন কাউকে তুলে নেওয়া হবে লোকজন শুধু বলবে কিছু একটা করেছিল তাই তো ধরছে। এইটাই সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিরোধিতা’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর গোপালপুর টেকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাহরিমা ওই এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। ফেসবুকে তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অপহরণের একাধিক অভিযোগ আছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় করা একটি মামলায় তাহরিমা জান্নাত পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মামলাটি করেছেন নাইমুর রহমান (দুর্জয়) নামের এক সাংবাদিক। তার অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকমেলিং কার্যক্রমে তাহরিমা জড়িত। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ আছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

আদালতের রেকর্ড জটঃ ন্যায়বিচার দ্রুত করতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন কোর্টে ক্রমবর্ধমান মামলার জট মোকাবিলায় সরকার হাজারের বেশি নতুন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় (MoJ) জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে আরও ২ হাজার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী অর্থবছরের মধ্যেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে আদালতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলোর নিষ্পত্তি দ্রুত করার চেষ্টা করছে সরকার।

ন্যায়বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, আদালত ব্যবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটরা একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন। তার ভাষায়, সব বয়স ও পটভূমির মানুষের এই স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্বে যুক্ত হওয়া জরুরি। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটদের ‘প্রতিদিনের নায়ক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের মাধ্যমে হাজার হাজার মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আদালতগুলোতে বর্তমানে ৭৯ হাজার ৬০০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা জট হিসেবে জমে আছে, যা ২০২৩ সালের শুরুর পর সর্বোচ্চ।

ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ২০২৬ সালে দায়ের হওয়া অনেক মামলার বিচার ২০৩০ সালের আগেও শুরু নাও হতে পারে। ফলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষকেই বছরের পর বছর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

গত ডিসেম্বর মাসে আদালত ব্যবস্থার গতি বাড়াতে একগুচ্ছ সংস্কার ঘোষণা করেন ডেভিড ল্যামি। এর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট মামলায় জুরি ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্তও রয়েছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

ম্যাজিস্ট্রেটস অ্যাসোসিয়েশন এই নিয়োগ উদ্যোগকে ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সরকারের ‘আস্থার বড় প্রমাণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে সংগঠনটি আদালতের জন্য আরও সম্পদ বরাদ্দ, প্রশিক্ষিত আইনগত পরামর্শক নিয়োগ এবং জরাজীর্ণ আদালত ভবনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

বিরোধী শিবির থেকে সমালোচনাও এসেছে। ছায়া ন্যায়বিচারমন্ত্রী কিয়েরান মুলান বলেন, নতুন নিয়োগ উদ্যোগ স্বাগতযোগ্য হলেও এটি লেবার সরকারের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও কার্যকর সংস্কারের অভাব ঢেকে রাখতে পারবে না।

বর্তমানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে বছরে অন্তত ১৩ দিন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আদালতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তারা ফৌজদারি, কিশোর এবং দেওয়ানি ও পারিবারিক মামলার শুনানিতে অংশ নেন এবং পেশাদার আইনগত পরামর্শকদের সহায়তায় বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ম্যাজিস্ট্রেটদের ৫৭ শতাংশ নারী এবং ১৪ শতাংশ জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে লন্ডনে সংখ্যালঘু ম্যাজিস্ট্রেটের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩১ শতাংশ।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশি কৃষি-ওষুধ পণ্য রফতানির দুয়ার খুলছে ব্রাজিলে

পাহাড়, সমুদ্র আর জলাভূমির অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ ব্রাজিল। মিল রয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃতির। দুদেশের সুসম্পর্ক থাকলেও বাড়েনি বাণিজ্য। ব্রাজিল থেকে সয়াবিন তেল, চিনি, তুলা, পশুখাদ্য ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির বিপরীতে দেশটিতে স্বল্প পরিসরে অল্প কিছু পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।

তৈরি পোশাক, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানির সম্ভাবনা আটকে রয়েছে ভাষাগত জটিলতা, দূরত্ব ও পরিবহন ব্যয়ে। সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে উচ্চমাত্রার শুল্কের কারণে ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছেই।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুদেশের ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি প্রায় এক দশমিক ২ বিলিয়ন। তবে আশার কথা হলো- ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে এরইমধ্যে ১২টি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আরও ছয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে জনশক্তি ও ওষুধ রফতানিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলে জানান ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

চুক্তিগুলো সই হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে উভয় দেশেই পণ্য প্রবেশে শুল্ক বাধা দূর হবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত।

আগামী মার্চ বা এপ্রিলে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফরকালে চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হবে বলেও জানান এই কূটনীতিক।

সমস্যা দূর করা গেলে বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা খুলে যেতে পারে বল আশা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিল-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মহাসচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবদীন।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। রেডিমেট গার্মেন্টস ব্রাজিলের বাজারে নয়, সমমনা দেশগুলোতে ৩৫ শতাংশ ডিউটির একটা ব্যাপার রয়েছে। বাজ্রিলের মতো একটা অর্থনৈতিক দেশকে সঙ্গে নিয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও যদি আলোচনার মাধ্যমে উচ্চমাত্রার শুল্ক কমাতে হবে। তাহলে স্বল্প শুল্কে দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে দেশের বিভিন্ন পণ্য রফতানি করা যাবে।’

এম.কে