Categories
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছেঃ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নিয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলা হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্টকে স্ত্রীসহ আটক করা হয় বলে দাবি করছেন ট্রাম্প। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাধ্য হয়ে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিলো কলকাতা

বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ মেনে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে কলকাতা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

 

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করছে যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইপিএলের পরবর্তী পর্বের আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে যথাযথ প্রক্রিয়া ও পরামর্শ মেনে এই কাজটি (মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়া) করা হয়েছে। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী বিসিসিআই কলকাতাকে একজন বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দেবে।’

আইপিলের নিলামে মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ এনে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন।

যার ফলে মোস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেছেন, ‘দেশজুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে বিসিসিআই কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে একজন ক্রিকেটার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর বিকল্প যেকোনো ক্রিকেটারকেই তাদের পছন্দমতো নেওয়ার সুযোগ দেবে বিসিসিআই। সংস্থার পক্ষ থেকে সেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

সূত্রঃ এএনআই

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

সন্তান আনতে ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবহারঃ পাঁচ মাস বরখাস্ত ব্রিটিশ জিপি

স্কুল শেষে সন্তানদের আনার সময় নিশ্চিত করতে রোগীদের নামে ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার দায়ে যুক্তরাজ্যে এক জিপিকে পাঁচ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। নটিংহামশায়ারের আর্নল্ডে অবস্থিত স্টেনহাউস মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. হেলেন আইজেনহাওয়ারের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত দেয় মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল সার্ভিস।

 

ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের এক শুক্রবার ডা. আইজেনহাওয়ার এমন দুই রোগীর জন্য সরাসরি (ফেস-টু-ফেস) অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করেন, যাদের সঙ্গে তিনি সেদিন আগেই ফোনে পরামর্শ সম্পন্ন করেছিলেন। এসব অ্যাপয়েন্টমেন্টের কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না।

একজন রোগীর মেডিকেল নোটে অসংগতি ধরা পড়ার পর বিষয়টি প্র্যাকটিস কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তী তদন্তে ভুয়া বুকিংয়ের প্রমাণ মেলে। পরে ডা. আইজেনহাওয়ার নিজেই জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলে (জিএমসি) নিজেকে রেফার করেন এবং অভিযোগ স্বীকার করেন।

শুনানিতে উঠে আসে, ১৭ জুন ২০২৪ তারিখে তার শিফট শেষ হওয়ার কথা ছিল বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাকে সন্তানদের স্কুল থেকে নিতে হতো। ট্রাইব্যুনাল জানায়, “কী ধরনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই” তিনি আগেই ফোনে দেখা রোগীদের নাম দিয়ে সময় ব্লক করে রাখেন।

প্রথম দিকে প্র্যাকটিস কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুললে তিনি অসততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ট্রাইব্যুনালে তিনি স্বীকার করেন যে তার আচরণ অসততাপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, সন্তান পালনের চাপের কারণে সে সময় তার ঘুমের সমস্যা হচ্ছিল, যা তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।

ডা. আইজেনহাওয়ার আরও দাবি করেন, তাকে বরখাস্ত করা হলে প্র্যাকটিসের রোগীসেবা ব্যাহত হতে পারে এবং তার পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ট্রাইব্যুনাল এসব যুক্তি গ্রহণ করেনি।

রায়ে বলা হয়, ডা. আইজেনহাওয়ার রোগীদের স্বার্থের আগে নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা গুরুতর পেশাগত অসদাচরণের শামিল। এই কারণে পাঁচ মাসের বরখাস্ত প্রয়োজন, যাতে তার আচরণের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয় এবং চিকিৎসা পেশা ও সাধারণ জনগণের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যায় যে এ ধরনের অসততা গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

দায়িত্ব পেয়েই ইসরায়েলের সমর্থনে নির্বাহী আদেশ বাতিল নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির

নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে অভিষেক হয়েছে জোহরান মামদানির। নতুন বছরের শুরুতে নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মামদানির প্রকাশ্য অভিষেক অনুষ্ঠান।কনকনে শীতের মধ্যেও শহরের লোয়ার ম্যানহাটানের সিটি হলের সামনে নতুন মেয়রকে বরণ করে নিতে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ইসরায়েলে সমর্থনে আগের মেয়রের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন জোহরান মামদানি।

শপথ গ্রহণের পর উপস্থিত হাজারও মানুষের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে। পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের এমন সুযোগ আমাদের খুব কমই আসে। আর আরও বিরল হলো সেই সময়, যখন পরিবর্তনের চাবিগুলো নিজের হাতে ধরে রাখে জনগণই।

অভিষেকের কয়েক ঘণ্টা পর মেয়র হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেন মামদানি। প্রথম দিনেই নেন বড় একটি পদক্ষেপ। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা ইসরাইলের সমর্থনে সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে কাজ এখন লাভজনক নয়: অর্থনীতি ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে

ব্রিটেন ধীরে ধীরে একটি পার্টটাইম কর্মচারীদের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি করা বিশ্লেষণ দেখায়, দেশের কর্মচারীরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ২.৩ ঘণ্টা কম কাজ করছেন। এটি দেশের মোট শ্রমশক্তির ১৭ লাখ মানুষের সমপরিমাণ ক্ষতির সমান।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, শীর্ষ ১০% আয়ের মানুষদের মধ্যে কাজের ঘণ্টা সবচেয়ে দ্রুত কমছে। এইসব ব্যক্তিরা, যাদের উদ্যম এবং দক্ষতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করা উচিত, এখন জিম বা গলফ কোর্সকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

এর পেছনে সরকারের নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থির করের সীমারেখা, ব্যক্তিগত ভর্তুকি ও শিশু ভাতার ধাপে ধাপে কমানো, এবং পেনশন থেকে কর কর্তন মানুষের জন্য কাজকে কম আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে £১০০,০০০ এর বেশি উপার্জন করা এখন প্রায় অর্থহীন মনে করা হচ্ছে।

কাজের সময় কমলে উৎপাদন কমে, কর আয় কমে এবং সেই উদ্যমী মানুষদের একত্রিত করার শক্তি ক্ষুণ্ণ হয়। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে, এবং উদ্যমী, লক্ষ্যনিষ্ঠ মানুষদের কম সময় কাজ করা ভবিষ্যতে দেশের সম্ভাবনাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

অর্থনীতি পুনরায় বৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো গড় কর্মঘণ্টা বাড়ানো এবং মানুষের উপার্জনের উপর প্রলোভন তৈরি করা, যাতে কাজের মূল্য বুঝে মানুষ বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে পারে। তা না হলে ব্রিটেন চিরস্থায়ী অর্থনৈতিক পতনের দিকে এগোতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
ফিচার

টিকটকে ভাইরাল ব্রিটিশ চাইনিজ টেকআউটঃ আমেরিকান বিস্ময়, ব্রিটিশ পরিচয়ের নতুন পাঠ

আমেরিকানদের কাছে চাইনিজ টেকআউট বলতে সাধারণত জেনারেল সো’স চিকেন, চাউ মেইন কিংবা ডিমের রোল—সবই সাদা কার্ডবোর্ডের বাক্সে পরিবেশিত খাবারকেই বোঝানো হয়। তবে যুক্তরাজ্যে এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্রিটিশ চাইনিজ টেকআউট এমন এক স্বতন্ত্র খাদ্যসংস্কৃতি, যা যুক্তরাজ্যের বাইরে খুব কমই পরিচিত, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

 

এই আগ্রহের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে টিকটক। “British Chinese food” লিখে খুঁজলেই হাজার হাজার ভিডিও দেখা যায়, যেখানে কেউ নিজেদের নিয়মিত টেকআউট দেখাচ্ছেন, আবার কেউ প্রথমবার এই খাবার চেখে দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। বিশেষ করে আমেরিকান দর্শকদের মধ্যে বিস্ময় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ খাবারের রং নিয়ে ঠাট্টা করছেন, কেউ আবার একে অচেনা ও অস্বস্তিকর বলছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশরা গর্বের সঙ্গে তাদের প্রিয় কমফোর্ট ফুডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চাউ মেইনের সঙ্গে কারি সস, কিংবা চাইনিজ খাবারের সঙ্গে চিপস পরিবেশনের মতো বিষয়গুলো। অনেক আমেরিকান প্রশ্ন তুলছেন—চাইনিজ রান্নায় ফ্রাই আর কারির জায়গা কোথায়? এই প্রশ্নই ব্রিটিশ চাইনিজ খাবারের ইতিহাস ও বিবর্তনের দিকে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

যুক্তরাজ্যে প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট চালু হয় ১৯০৮ সালে, লন্ডনে। প্রাথমিকভাবে মেনুতে ক্যান্টনিজ প্রভাবিত কিছু খাবার ছিল—ফ্রাইড রাইস, সুইট অ্যান্ড সাওয়ার পর্ক, চাউ মেইন ও চপ সুইয়ের মতো পদ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রান্না ক্যান্টনিজ শিকড় বজায় রেখেই স্থানীয় স্বাদ ও উপকরণের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। এর ফলেই গড়ে ওঠে প্যানকেকের সঙ্গে ক্রিসপি ডাক, ক্রিসপি চিলি বিফ, সুইট অ্যান্ড সাওয়ার চিকেন বলস, সেসামি প্রন টোস্টের মতো এখনকার পরিচিত ব্রিটিশ চাইনিজ খাবার।

এই অভিযোজনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় চিপসের ব্যবহার। ব্রিটিশ খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই মোটা কাটের ফ্রাই চাইনিজ টেকআউটেও জায়গা করে নেয়। ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় চাইনিজ রেস্টুরেন্ট Sweet Mandarin-এর তৃতীয় প্রজন্মের মালিক হেলেন সে জানান, সল্ট অ্যান্ড পেপার চিপস, কারি সস ও এগ ফ্রাইড রাইসের সংমিশ্রণই এই বিবর্তনের সবচেয়ে শক্ত উদাহরণ।

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব চাইনিজ খাবার জনপ্রিয়, তার অনেকগুলোই ব্রিটিশ মেনুতে নেই। জেনারেল সো’স চিকেন বা ক্র্যাব র‍্যাঙ্গুন সেখানে প্রায় অচেনা। আবার যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় ক্রিসপি সিওয়িড বা চিকেন সাতে আমেরিকানদের কাছে তেমন পরিচিত নয়। কিছু শহরের আবার নিজস্ব বিশেষ পদ রয়েছে—লন্ডনের জার জাও কিংবা আয়ারিশ চাইনিজ খাবার থেকে আসা স্পাইস ব্যাগ, যা এখন যুক্তরাজ্যজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই খাবারের পেছনের ইতিহাস শুধু স্বাদের গল্প নয়, বরং অভিবাসী জীবনেরও প্রতিচ্ছবি। হেলেন সের দাদি লিলি কওক, যিনি ১৯৫০ সালে চীন থেকে ইংল্যান্ডে আসেন, পথিমধ্যে সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে বিভিন্ন কারি ও মসলার ধারণা নেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তৈরি করেন নারকেলভিত্তিক, হালকা ঝাল ও ঘন কারি সস, যা পরে ব্রিটিশ চাইনিজ খাবারের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ম্যানচেস্টারে তার খোলা রেস্টুরেন্ট ও টেকআউটে চিপস ও কারিই ছিল প্রধান আকর্ষণ।
১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৭ হাজার চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও টেকআউট ছিল, যেখানে ম্যাকডোনাল্ডসের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০০।

আজও চাইনিজ খাবার ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় টেকআউটগুলোর একটি হলেও, এই কমিউনিটির ইতিহাস ও অবদান অনেকটাই আড়ালে থেকে গেছে।
লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জ’স বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার ডায়ানা ইয়ে মনে করেন, টিকটকে এই নতুন আগ্রহ আসলে ব্রিটিশ সমাজে চাইনিজ কমিউনিটির অবদান নতুন করে চিনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

তার ভাষায়, এই আন্তঃজড়িত ইতিহাসগুলোই ব্রিটিশ সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। এমন এক সময়ে, যখন অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, তখন এই স্বীকৃতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

হেলেন সে বলেন, পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের জন্য যথেষ্ট জায়গা আছে। আর সেই ভিন্ন স্বাদের মধ্য দিয়েই ব্রিটিশ চাইনিজ খাবার আজ শুধু একটি টেকআউট নয়, বরং যুক্তরাজ্যের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া / সিএনএন ওয়ার্ল্ড

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

নতুন ‘ট্যাক্সি ট্যাক্স’ এড়াতে চালকদের সঙ্গে চুক্তি বদলাল ইউবারঃ ভ্যাট নয় লন্ডনের বাইরের যাত্রায়

যুক্তরাজ্যের নতুন ভ্যাট নীতির প্রভাব এড়াতে রাইড-হেইলিং কোম্পানি ইউবার চালকদের সঙ্গে তাদের চুক্তির কাঠামো পরিবর্তন করেছে। এর ফলে লন্ডনের বাইরে ইউবার আর পরিবহন সেবার সরাসরি সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে। এই পরিবর্তনের কারণে বেশিরভাগ যাত্রার ভাড়ার ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট আর প্রযোজ্য হবে না।

 

নভেম্বরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস মিনিক্যাব খাতে ভ্যাট আরোপের নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন, যা ‘ট্যাক্সি ট্যাক্স’ নামে পরিচিতি পায়। এই নীতির ফলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে পুরো ভাড়ার ওপর ভ্যাট বসানোর সুযোগ তৈরি হয়। সরকার দাবি করেছিল, এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড কর রাজস্ব সুরক্ষিত হবে।

তবে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া ইউবারের নতুন শর্ত অনুযায়ী, লন্ডনের বাইরে চালকরাই সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন। ফলে ভ্যাট আদায়ের দায় পড়বে চালকদের ওপর, আর ইউবার শুধু নিজের কমিশনের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করবে। যেহেতু অধিকাংশ চালকের বার্ষিক আয় ৯০ হাজার পাউন্ডের কম, তাই তারা ভ্যাট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় পড়ছেন না।

এর ফলে লন্ডনের বাইরের এলাকায় ইউবার যাত্রার ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা কার্যত কমে গেছে। যাত্রীরা আগের মতোই ভাড়া পরিশোধ করবেন, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২০ শতাংশ ভ্যাট যোগ হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যত নতুন করনীতির প্রভাব সীমিত করে দিল।

তবে লন্ডনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের বিধি অনুযায়ী সেখানে এজেন্সি মডেল অনুমোদিত নয়। ফলে রাজধানীতে ইউবার এখনও সরাসরি সেবাদাতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং যাত্রীদের ভাড়ার ওপর পূর্ণ ভ্যাট দিতে হবে।

বাজেট ঘোষণার পরপরই ইউবার এমন পদক্ষেপ নিতে পারে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছিল। সে সময় ইউবারের যুক্তরাজ্য অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু ব্রেম সতর্ক করে বলেন, নতুন নিয়ম লন্ডনে ভাড়া বাড়াবে এবং চালকদের কাজ কমিয়ে দেবে, যখন সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে রয়েছে।

এদিকে এইচএম ট্রেজারি দাবি করেছে, অনলাইন মিনিক্যাব কোম্পানিগুলোর একটি ‘বিশেষ কর সুবিধা’ বন্ধ করাই ছিল সরকারের উদ্দেশ্য। এতে একদিকে সাধারণ ট্যাক্সিচালকদের জন্য করব্যবস্থা আরও ন্যায্য হবে, অন্যদিকে সরকারের অগ্রাধিকার খাতে ব্যয়ের জন্য রাজস্ব বাড়বে। তবে ইউবারের এই চুক্তি পরিবর্তনের ফলে বছরে ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

তরুণ প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেঃ দক্ষ জনবলের সংকটে ব্রিটিশ ডিফেন্স সেক্টর

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাত বর্তমানে এক গভীর দক্ষতা সংকটের মুখে পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা এলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র ক্যালেবের অভিজ্ঞতা এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ভালো বেতন, নিশ্চিত ক্যারিয়ার ও চাকরির স্থায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিরক্ষা খাতে যোগ দেননি, কারণ মারণাত্মক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত কাজ তার নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যায়নি। এমন মনোভাব তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে বলেই মনে করছেন নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের শুরুতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এআই-চালিত যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থায় এক বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ এবং নতুন সাইবার ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক কমান্ড গঠনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু এসব উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল টানতে গিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে, যেখানে কাজের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে নমনীয় ও উদ্ভাবনমুখী।

সরকার স্বীকার করেছে, প্রতিরক্ষা খাতে স্টেম দক্ষতার চাহিদা অত্যন্ত বেশি হলেও স্কুল ও শিক্ষাব্যবস্থা থেকে পর্যাপ্ত দক্ষতা আসছে না। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েল্ডারের মতো কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ডিজিটাল, সাইবার ও সবুজ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ঘাটতি প্রকট।

নিয়োগ প্রতিষ্ঠান রিড ট্যালেন্ট সল্যুশনসের বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক বাহিনীর প্রতি সামাজিক সমর্থন আগের তুলনায় কমে এসেছে, যার প্রভাব প্রতিরক্ষা শিল্পেও পড়ছে। বিশেষ করে জেন জেড প্রজন্ম কাজের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও সামাজিক উদ্দেশ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই ধারণা ভাঙতে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা চালাচ্ছে। মিশন ডিসিশনসের সিইও কলিন হিলিয়ারের ভাষায়, প্রতিরক্ষা খাতে কাজের খুব সামান্য অংশ সরাসরি অস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত। অনেক প্রযুক্তিই উদ্ধার অভিযান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

ফরাসি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থ্যালেস, যাদের যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম রয়েছে, তারা নিজেদের কেবল সামরিক সরবরাহকারী নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা ও জাতীয় অবকাঠামো রক্ষাকারী প্রযুক্তি নির্মাতা হিসেবে তুলে ধরতে চায়। এ জন্য তারা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই স্টেম ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে।

তবে ভাবমূর্তির সমস্যার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতকে রক্ষণশীল ও ধীরগতির বলেও মনে করেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, এখানে পুরোনো সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বেশি, যা দীর্ঘ ৩০–৪০ বছর ধরে চলতে পারে। অথচ তরুণ প্রকৌশলীরা চান আধুনিক নকশা ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে।

এই কারণে ছোট ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা খাতের সাবেক সামরিক সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নতুন প্রতিভা আকর্ষণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় থ্যালেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের এক ভূমিকা থেকে অন্য ভূমিকায় যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এবং গ্র্যাজুয়েটের পাশাপাশি নন-গ্র্যাজুয়েট ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারীদেরও নিয়োগ করছে। এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগে সাবেক শিক্ষক ও একজন শেফও জায়গা পেয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ কিছুটা হলেও ফল দিচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী এখন প্রতিরক্ষা বা প্রতিরক্ষা-সংলগ্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রি প্লেসমেন্ট করছে। তবু নৈতিক প্রশ্ন, উদ্ভাবনের সীমাবদ্ধতা এবং তীব্র প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা—এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাতের দক্ষতা সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

রিফর্ম ইউকের ১০ নীতি ঘিরে শঙ্কাঃ স্বাস্থ্যসেবা থেকে অভিবাসন—ব্রিটিশদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রিফর্ম ইউকে এবং দলটির নেতা নাইজেল ফারাজ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি যে নীতিমালা তুলে ধরেছেন, তা নিয়ে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গণহারে ব্যয়ছাঁটাই, অভিবাসন নীতি কঠোরকরণ এবং রাষ্ট্রীয় সেবা পুনর্গঠনের মতো প্রস্তাবগুলো ব্রিটিশ সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

রিফর্ম ইউকে রাষ্ট্রের আকার জিডিপির ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এর অর্থ প্রায় ২৭৪ থেকে ৩০০ বিলিয়ন পাউন্ড সরকারি ব্যয় কমানো। তবে এই বিশাল অঙ্কের কাটছাঁট কোথায় হবে, সে বিষয়ে দলটি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনসহ অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতই এর সবচেয়ে বড় শিকার হতে পারে।

দলটি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএস থেকে ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের বেসরকারি চিকিৎসায় যেতে করছাড় দিয়ে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য আরও বেড়ে যেতে পারে।

নাইজেল ফারাজ এনএইচএসকে সাধারণ কর-ভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে বীমাভিত্তিক মডেলে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। যদিও কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তিনি দেননি, তবু এই বক্তব্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মূল কাঠামোই ভেঙে পড়তে পারে।

করনীতিতেও রিফর্ম ইউকের অবস্থান বিতর্কিত। ‘ব্রিটানিয়া কার্ড’ নামে একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে বিদেশি কোটিপতি ও বিলিয়নিয়ারদের এককালীন ফি দিয়ে কর ছাড় পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কর বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এতে পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড।

অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে রিফর্ম ইউকে। দলটি ‘ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ সম্পূর্ণ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে শত শত হাজার বৈধ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের অধিকার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রী এই নীতিকে বর্ণবাদী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি সমাজে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করবে।

পরিবেশ ও জ্বালানি নীতিতেও রিফর্ম ইউকের অবস্থান বর্তমান মূলধারার বিপরীত। দলটি নেট জিরো লক্ষ্য বাতিল এবং পরিষ্কার জ্বালানি প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রায় ১০ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাকিং চালুর পরিকল্পনা পরিবেশগত ও ভূমিকম্প ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও উত্তেজনার আশঙ্কা রয়েছে। ইইউ নাগরিকদের ভাতা সীমিত করা এবং ব্রেক্সিট চুক্তির অংশ পুনর্বিবেচনার হুমকি বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও রিফর্ম ইউকে অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে, যদিও এর বিকল্প কী হবে তা স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে শিশু ও দুর্বল ব্যবহারকারীরা অনলাইনে আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কিত সদ্য পাস হওয়া এমপ্লয়মেন্ট রাইটস অ্যাক্ট পুরোপুরি বাতিল করার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি। এই আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া পিতৃত্বকালীন ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি ও জিরো আওয়ার চুক্তি বন্ধের মতো সুরক্ষা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রিফর্ম ইউকে ও নাইজেল ফারাজের ঘোষিত নীতিগুলো একদিকে যেমন সমর্থকদের কাছে ‘পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি’, অন্যদিকে বহু ব্রিটিশ নাগরিকের কাছে তা হয়ে উঠেছে অর্থনীতি, সামাজিক সেবা ও অধিকার নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার কারণ।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৬, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিঃ ‘গুলি চললে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে’

ইরানে টানা কয়েক দিনের গণবিক্ষোভে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে”।

 

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে হস্তক্ষেপের জন্য। তিনি লেখেন, “আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও হামলার জন্য তৈরি।” তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত জানাননি।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী লারিজানি পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইরানে বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে বৃহস্পতিবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও মানবাধিকার সংগঠন হেংগাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লোরদেগানে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন। পশ্চিম ইরানের আজনা শহরে তিনজন এবং কুহদাশতে আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

হেংগাও দাবি করেছে, লোরদেগানে নিহত দুইজনই ছিলেন বিক্ষোভকারী, যাদের নাম আহমদ জলিল ও সাজ্জাদ ভালামানেশ। তবে ফার্স নিহতদের পরিচয় স্পষ্ট করেনি। বিবিসি এসব মৃত্যুর ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ এবং গাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বিবিসি পার্সিয়ান লোরদেগান, তেহরান এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের মারভদাশতে সংঘটিত বিক্ষোভের ভিডিও যাচাই করেছে।

এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, বুধবার কুহদাশতে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ভিন্ন; তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত একজন বিক্ষোভকারী ছিলেন। এ তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

রোববার তেহরানে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়, যখন উন্মুক্ত বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দিলে তা দ্রুত বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভকারীরা দেশটির ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলন আরও রাজনৈতিক রূপ নেয়। অনেক বিক্ষোভকারী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করেন, কেউ কেউ রাজতন্ত্র পুনর্বহালের কথাও বলেন। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের পর এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও তখনকার মতো ব্যাপক নয়।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের “যৌক্তিক দাবিগুলো” শোনার আশ্বাস দিচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে দেশটির প্রসিকিউটর-জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া ভাষা এবং পাল্টা হুমকির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে