Categories
বাংলাদেশ

কর্মঘণ্টায় ফেসবুক ব্যবহার নয়, প্রমাণ পেলে সেদিনই বিচারিক জীবনের শেষ দিন

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সেদিনই হবে বিচারিক জীবনের শেষ দিন। মঙ্গলবার দেশের সব জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই অভিভাষণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান বিচারপতি আদালতের পরিবেশ, দ্রুততম সময়ে মামলায় আদেশ ও রায় প্রদান করা, সততা বজায় রাখা, বহিরাগতদের কোর্টে প্রবেশ নিষিদ্ধে বিচারকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন বলে সূত্র জানিয়েছেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। শপথগ্রহণ করার পরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার দেওয়া অভিভাষণে অধস্তন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারক হিসেবে আপনাদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সততার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে চড়ামূল্য দিতে হবে।

বিচারকদের দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন-সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করবেন। যদি রায় প্রদানে বিলম্ব করেন তাহলে পুনরায় মামলার নথি পর্যালোচনা করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হবে। ভোগান্তি হবে বিচারপ্রার্থী জনগণের। সেজন্য রায় বা আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোর্টকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে বাদাম, চা ও ডাব বিক্রেতাদের ছাড়াও হকারদের দেখা যায়। এদের কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশে কোনো ধরনের অনুমতি প্রদান করা যাবে না। সর্বোপরি আইনজীবীরা যেন ড্রেসকোড মেনে চলেন, সেদিকে আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত অধস্তন আদালতের অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কর্মঘণ্টা। মাঝে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি রয়েছে বলে জানান নিম্ন আদালতের একাধিক বিচারক।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বিমান বাংলাদেশকে করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ছাড়পত্র দিলো পাকিস্তান

ঢাকা থেকে করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা নিউজ।
সংবাদমাধ্যমটি এ সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, নতুন বছরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আকাশ সংযোগে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সূত্রের বরাতে জানানো হয়, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। প্রাথমিকভাবে এই অনুমোদন ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পরে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

অনুমোদন অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে নির্ধারিত ও অনুমোদিত রুট ব্যবহার করে পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হবে। নির্ধারিত রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশও দিয়েছে পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট একটি স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে ফ্লাইট ছাড়ার আগে করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ফ্লাইটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো, অপারেশনাল সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করার কথা বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের জনগণ উপকৃত হবে। এতে ভ্রমণ সহজ হবে, জনগণ থেকে জনগণের যোগাযোগ বাড়বে এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সূত্রঃ সামা নিউজ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোন নিবন্ধন করবেন যেভাবে

টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধ হবে।

 

তবে বিদেশ থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে কেনা বা উপহার পাওয়া একটি মুঠোফোন প্রাথমিকভাবে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল হবে। পরবর্তীতে এই ফোনগুলোকে অবশ্যই নিবন্ধন করে নিতে হবে।

প্রাথমিকভাবে সচল হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দাখিলের জন্য গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হবে। এরপর গ্রাহকের দাখিল করা সব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর শুধু বৈধ ফোনগুলোই নেটওয়ার্কে সচল থাকবে।

বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আনা ফোনের অনলাইন নিবন্ধন করবেন যেভাবে

ধাপ-১: গ্রাহককে প্রথমেই এনইআইআর পোর্টালে (neir.btrc.gov.bd) যেতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।

ধাপ-২: পোর্টালের স্পেশাল রেজিস্ট্রেশন (Special Registration) সেকশনে গিয়ে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর দিতে হবে।

ধাপ-৩: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ছবি বা স্ক্যান কপি যেমন- পাসপোর্টের ভিসা/ইমিগ্রেশন, ফোনটি ক্রয়ের রশিদ ইত্যাদি আপলোড করে সাবমিট বাটনে চাপ দিতে (প্রেস করতে) হবে।

ধাপ-৪: হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। তবে বৈধ না হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেয়া হবে এবং ফোনটিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে?

পাসপোর্ট, ভিসা, প্রবেশ স্ট্যাম্প, বিদেশি ক্রয়ের চালান, এবং অন্যান্য সহায়ক পরিচয়পত্র।

আবেদনের কারণের উপর নির্ভর করে নথিপত্রের সঠিক তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে।

এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর ঘোষণা দিয়েছিল বিটিআরসি। তবে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সময় বাড়িয়ে ১ জানুয়ারি থেকে সিস্টেমটি চালু করা হয়।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে জন্ম, তবু ১৫ বছর নাগরিকত্বহীনঃ ব্রিটিশ ব্যবস্থার নির্মম বাস্তবতা

লন্ডনে জন্ম নেওয়া অলু সোভেমিমো প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্রিটিশ নাগরিকত্বহীন অবস্থায় বসবাস করেছেন—যে দেশ ছাড়া তিনি আর কিছুই চেনেন না। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে না পাওয়ার কারণে তিনি বছরের পর বছর আটক ও বিতাড়নের আশঙ্কায় দিন কাটিয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা ব্রিটেনের নাগরিকত্ব ব্যবস্থার জটিলতা ও মানবিক সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে।

 

১৯৯১ সালে লন্ডনের সেন্ট গাই’স হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন অলু সোভেমিমো। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দক্ষিণ লন্ডনে, স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, নিজেকে বরাবরই ব্রিটিশ বলে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু ২০ বছর বয়সে ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারেন—আইনগতভাবে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক নন। এই খবর তার ও তার পরিবারের জন্য ছিল ভয়াবহ ধাক্কা।

অলুর মা নাইজেরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং তার জন্মের সময় বৈধ ভিসায় থাকলেও স্থায়ী বসবাসের অধিকার তখনো পাননি। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজে এবং নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া বড় ছেলের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করলেও, যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া ছোট ছেলে অলু সেই সুবিধা পাননি। এই বাস্তবতা অনেক অভিবাসী পরিবারের জন্যই অজানা থেকে যায়।

নাগরিকত্ব না থাকার বিষয়টি অলুর জীবনে গভীর মানসিক প্রভাব ফেলে। তিনি সব সময় ভয় নিয়ে চলতেন—কাজ করা বৈধ কি না, হঠাৎ গ্রেপ্তার বা ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে কি না। যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া মানুষদেরও আটক হওয়ার খবর তাকে আরও আতঙ্কিত করে তোলে। প্রতিদিন কমিউনিটিতে কাজ করলেও মনে মনে ভাবতেন—আজই কি সেই দিন, যেদিন তাকে বিতাড়ন করা হবে।

কৈশোরে একটি অপরাধী চক্রের প্রভাবে জড়িয়ে পড়ায় অলুর জীবনে আরও জটিলতা তৈরি হয়। ১৬ বছর বয়সে গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঘটনা পরবর্তী সময়ে তার নাগরিকত্ব আবেদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও তিনি কারামুক্তির পর জীবন পাল্টে যুবকর্মে যুক্ত হন এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সহায়তা করতে শুরু করেন, তবুও ‘ভালো চরিত্র’ শর্ত দেখিয়ে প্রথম দফায় তার নাগরিকত্ব আবেদন প্রত্যাখ্যান করে হোম অফিস।

যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি আইনগত পথ রয়েছে। দেশটিতে টানা ১০ বছর বসবাসকারী শিশুরা ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের অধিকার রাখে। তবে এই প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল এবং ‘ভালো চরিত্র’ শর্তের কারণে বহু শিশু ও তরুণ নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের মতো একই মানদণ্ড শিশুদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শিশু নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠন PRCBC-এর সহায়তায় অবশেষে ২০২৪ সালে অলু সোভেমিমো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান। ৩২ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট হাতে পান এবং নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পরই তিনি জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।

তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে রয়ে গেছে ক্ষোভ ও বেদনা। অলু প্রশ্ন তোলেন—যে দেশে জন্ম, বেড়ে ওঠা ও সমাজের জন্য কাজ করেছেন, সেই দেশের নাগরিকত্ব পেতে কেন তাকে জীবনের এতগুলো বছর অনিশ্চয়তায় কাটাতে হলো। তার মতে, এই ব্যবস্থা মানুষকে নিজের পরিচয় নিয়েই সন্দেহ করতে বাধ্য করে।

বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাজ্যে প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন নীতির ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি শিশু এমন নাগরিকত্বহীন অবস্থায় বড় হবে। অলু সোভেমিমোর গল্প সেই সম্ভাব্য সংকটের একটি বাস্তব ও মানবিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের গণপরিবহনে বাড়ছে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ

যুক্তরাজ্যের গণপরিবহনে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ট্রেন ও অন্যান্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ভ্রমণের সময় বর্ণ ও ধর্মের ভিত্তিতে হয়রানি, হুমকি ও হামলার ঘটনা বেড়েছে, যার ফলে অনেক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত যাতায়াত সীমিত করে দিচ্ছেন।

ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের (বিটিপি) তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডজুড়ে জাতিগত বিদ্বেষমূলক অপরাধ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ২,৮২৭টি, যা ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,২৫৮টিতে। একই সময়ে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধও বেড়েছে—২০১৯-২০ সালে ৩৪৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে ৪১৯টিতে পৌঁছায়। যদিও পরের বছর সামান্য কমে ৩৭২টি হয়, তবু সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপরিবহনে এ ধরনের অপরাধের একটি আলাদা বাস্তবতা রয়েছে। অনেক সময় হামলাকারীরা মদের প্রভাবে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, ভুক্তভোগীকে আলাদা করে ফেলে এবং পরবর্তী স্টেশনে নেমে যাওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে অপরাধীরা প্রায়ই শাস্তির বাইরে থেকে যায়।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় কোর্টনি নামের এক তরুণী ট্রেনে যাত্রার সময় প্রকাশ্য বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন।

এক বয়স্ক নারী তার দিকে বর্ণবাদী মন্তব্য করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে জীবাণুনাশক স্প্রে তার দিকে ছিটিয়ে দেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে কোর্টনি ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে। পরে কয়েকজন সহযাত্রী এগিয়ে এসে তার পাশে দাঁড়ান, যা তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছে।

কোর্টনির অভিজ্ঞতা ব্যতিক্রম নয়। বর্ণবাদবিরোধী ও ধর্মীয় অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো জানাচ্ছে, অনেক মানুষ এখন গণপরিবহনে চলাচলের সময় সবসময় সতর্ক থাকে। বিশেষ করে দৃশ্যমানভাবে মুসলিম পরিচয় বহনকারী নারী-পুরুষদের জন্য বাসের ওপরের ডেক বা ফাঁকা ট্রেনের কামরা প্রায়ই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী আকিলা আহমেদ বলেন, তাদের কাছে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে গণপরিবহনে সংঘটিত হামলাগুলো সবচেয়ে জটিল ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর। তার ভাষায়, অনেক মুসলিম এখন প্রতিটি আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকতে বাধ্য হচ্ছেন—ভয় থাকে, সামান্য কিছু ভুলভাবে ব্যাখ্যা হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে।

তিনি আরও জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে শিশুরাও এসব হামলার শিকার হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
স্কটল্যান্ডের বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন কোয়ালিশন ফর রেসিয়াল ইকুয়ালিটি অ্যান্ড রাইটস বলছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান বাস্তব চিত্রের সম্পূর্ণ প্রতিফলন নয়। অনেক ভুক্তভোগী ভয়, অনাস্থা বা ঝামেলার আশঙ্কায় অভিযোগই করেন না। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কমিউনিটি সেফটি ট্রাস্টের নীতিবিষয়ক প্রধান ডেভ রিচ বলেন, সাম্প্রতিক দুই বছরে গণপরিবহনে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ বৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের একটি যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের পর ইহুদিবিদ্বেষী হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ঘৃণাজনিত কোনো অপরাধই সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন এবং ভুক্তভোগী বা প্রত্যক্ষদর্শীদের নীরব না থাকার আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে, পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতা—দুটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও আস্থার ঘাটতি বাড়ছে। কমিউনিটি সংগঠনগুলো মনে করছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী আইনপ্রয়োগ, সিসিটিভি নজরদারি এবং জনসচেতনতা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

মানি লন্ডারিং দমনে কড়াকড়িঃ যুক্তরাজ্যের আইন ফার্মে এফসিএর কঠোর নজরদারি শুরু

মানি লন্ডারিং দমনে যুক্তরাজ্য সরকার আইন খাতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। দেশের আর্থিক খাতের সুনাম রক্ষায় এবং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় আইন ফার্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ)–কে আইন খাতের নতুন অ্যান্টি–মানি লন্ডারিং (এএমএল) নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এই সিদ্ধান্তের ফলে আইন খাতের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতদিন আইন ফার্মগুলোর মানি লন্ডারিং তদারকির দায়িত্ব ছিল নয়টি পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে। নতুন ব্যবস্থায় সেই দায়িত্ব একীভূতভাবে এফসিএর অধীনে আসছে, যা সরকারের ভাষায় তদারকিকে আরও কার্যকর ও ধারাবাহিক করবে।

ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর যুক্তরাজ্যের ভেতরে বা যুক্তরাজ্যের মাধ্যমে প্রায় ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড পাচার হয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারে আইন ফার্মসহ বিভিন্ন ‘সহায়ক প্রতিষ্ঠান’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই সরকার আইন খাতকে মানি লন্ডারিংবিরোধী অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

২০১৮ সালে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)–এর এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের মানি লন্ডারিং তদারকিতে গুরুতর দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে আইন ও হিসাবরক্ষণ খাতে নজরদারি জোরদারের সুপারিশ করা হয়। এরপর থেকে ২০১৭ সালের প্রতিটি জাতীয় ঝুঁকি মূল্যায়নেই যুক্তরাজ্যের আইন খাতকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

২০২৭ সালের আগস্টে আসন্ন নতুন এফএটিএফ পর্যালোচনাকে সামনে রেখে সরকার সংস্কার কার্যক্রমে গতি এনেছে। আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচকেএ–এর অংশীদার প্রিয়া জুলিয়ানি বলেন, এই সময়সূচি মোটেও কাকতালীয় নয়। তার মতে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উপস্থাপন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে—সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটি (এসআরএ)–এর কাছ থেকে এফসিএর হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর। এসআরএর জরিমানা ক্ষমতা সীমিত ছিল এবং সাধারণত সহযোগিতামূলক ও দিকনির্দেশনাভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করত। বিপরীতে, এফসিএর হাতে রয়েছে বিস্তৃত ক্ষমতা ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ।

পরিসংখ্যানেই সেই পার্থক্য স্পষ্ট। গত এক বছরে এসআরএ ৮৬টি মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত জরিমানা করে মোট ১৫ লাখ পাউন্ড আদায় করেছে। অন্যদিকে এফসিএ মাত্র ছয়টি মামলায় জরিমানা করেছে প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নিয়ন্ত্রণে আইন ফার্মগুলোকে আরও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

এফসিএর অধীনে নতুন আইন ফার্ম নিবন্ধন করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এইচকেএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এফসিএ আবেদন পাওয়া প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়নি, যেখানে এসআরএ সব আবেদনই গ্রহণ করেছিল। ফলে বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আইন ফার্মগুলোর জন্য কড়াকড়ি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফসিএর এনফোর্সমেন্ট ও মার্কেট ওভারসাইট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক স্টিভ স্মার্ট বলেছেন, আর্থিক অপরাধ দমন তাদের অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, তথ্যনির্ভর ও অনুপাতসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করেই অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা হবে।

সব মিলিয়ে, মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ ও দেশের সুনাম রক্ষার স্বার্থে যুক্তরাজ্যের আইন খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন আইন ফার্মগুলোর জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি সরকারের মতে এটি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

হাসিনার পতন প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল, চীন-পাকিস্তান সুবিধাভোগীঃ প্রাক্তন R&AW কর্মকর্তা

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র এর প্রাক্তন স্পেশাল সেক্রেটারি অমিতাভ মাথুর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ১৯৭৫ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন। ইন্ডিয়াজ ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতন শুধু তার বিরুদ্ধে নয়, বরং শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারের প্রত্যাখ্যান। এটি বাংলাদেশের দুটি প্রধান পরিচয়ের—১৯৪৭-এর সাম্প্রদায়িক দেশভাগ থেকে উদ্ভূত ইসলামী পরিচয় এবং ১৯৭১-এর বাঙালি জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের—দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ধারাবাহিকতা।

 

মাথুরের মতে, এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও স্বৈরাচারী প্রবণতা, যা তার পিতা শেখ মুজিবের ভুলের পুনরাবৃত্তি। কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মতো বৈশ্বিক ঘটনা অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে এতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আমেরিকার ভূমিকা ব্যাপকভাবে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে; যদি ওয়াশিংটনের সক্রিয় হাত থাকত, তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদকে আরও স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করত। তবে আমেরিকা, চীন ও পাকিস্তান—সবাই এই পরিস্থিতির সুবিধা নিচ্ছে।
ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রসঙ্গে মাথুর বলেন, জঙ্গি বা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়ার ঝুঁকি থাকলেও বড় হুমকি সাম্প্রদায়িকতা।

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে ব্যাপক অভিবাসন ভারতের সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। চীন অবকাঠামো ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রভাব বাড়াচ্ছে, আর পাকিস্তান বিঘ্নকারী ভূমিকা পালন করবে—যদিও তার নিজস্ব দুর্বলতা রয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতার মধ্যে ভারতের নীতি হিসেবে মাথুর ধৈর্য ও সতর্কতার পরামর্শ দেন। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের পরিবর্তে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে পরিবর্তন হলে তা বাংলাদেশের জন্য ভালো। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলেও ভারত তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারবে, কারণ আজকের ভারত যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি সতর্ক করেন, কোনো লাল রেখা অতিক্রম করলে ভারত সহ্য করবে না।

সূত্রঃ ইন্ডিয়াজ ওয়ার্ল্ড

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর জাতীয় ঐক্যের ইঙ্গিত দিলেন জামায়াত আমির

নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ গঠনে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দেন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন ভূমিকা রেখেছেন। ইতিহাসে তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যা তার প্রাপ্য ছিল। জাতির জন্য অবদান রাখলে সবার জন্যই এমন সম্মান অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও সময়মতো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি মিলতে মিলতে তার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আগামীর রাজনীতি ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নির্বাচনের পর এবং সরকার গঠনের আগে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সে বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের আগেই আবারও বৈঠকে বসার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, অতীতে যেমন রাজপথে একসঙ্গে আন্দোলন হয়েছে, ভবিষ্যতেও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা সম্ভব। আগামী পাঁচ বছরে দেশ ও জনগণের জন্য ভালো কিছু করতে কতটা ঐক্য গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

হাদি হত্যাঃ আদালতে ‘দোষ স্বীকার’ করে সঞ্জয় ও ফয়সালের জবানবন্দি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে ‘নিজেদের দোষ স্বীকার করে’ জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

তিন দিনের রিমান্ড শেষে তারা জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম তা রেকর্ড করেন।

এরপর সঞ্জয় ও ফয়সালের সঙ্গে আরেক আসামি সিবিউন দিউকেও কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান জানিয়েছেন।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় হামলার শিকার হন হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়। সাত দিন পর গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদিকে গুলির ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর গত ১৬ ডিসেম্বর র‍্যাব-১১ এর একটি দল নরসিংদী সদর মডেল থানা এলাকার তরুয়ার বিলে অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় পানি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করেন।

সঞ্জয় ও ফয়সাল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং সিবিউনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এরপর দুজনের জবানবন্দি নেওয়ার পর তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আসামিরা হলেন- ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ভাড়ায় প্রাইভেটকার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং মো. ফয়সাল।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে এখন ২০০০ টাকা জরিমানা

প্রকাশ্য স্থানে ধূমপানের জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সুপারিশে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

 

নতুন অধ্যাদেশে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে রক্ষা করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে সব ধরনের পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইন ভাঙলে ২ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। আগে জরিমানা ছিল ৩০০ টাকা।

উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার—সব ক্ষেত্রেই ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ নতুন বাজারে আসা সব ধরনের তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি বিক্রয়স্থলে সিগারেটের প্যাকেট প্রদর্শন এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না।

কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ‘বিড়ি ম্যানুফ্যাকচার (প্রহিবিশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫’ বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া তামাকের সঙ্গে ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এম.কে