Categories
স্পোর্টস

আইপিএলে নিষিদ্ধ হচ্ছেন মুস্তাফিজ, যা জানাল ভারত

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন বেশ উত্তপ্ত। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। এর মাঝেই আইপিএল ২০২৬-এর মিনি নিলামে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। এটাই এবারের নিলামে একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার যিনি দল পেয়েছেন।

 

নিলামের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থক এবং কিছু ধর্মীয় নেতা দাবি তুলেছেন যে, মুস্তাফিজকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। কেকেআরকে বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়েছে। কিছু ধর্মীয় নেতা ম্যাচে পিচ আক্রমণের হুমকিও দিয়েছেন। কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকেও এ নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড) এ ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বিসিসিআইর এক উচ্চপদস্থ ইনসাইডস্পোর্টকে বলেছেন, “এটা একটা সংবেদনশীল বিষয়, আমরা তা বুঝি। আমরা সবসময় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার মতো কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। বাংলাদেশ তো আমাদের শত্রু দেশ নয়। তাই মুস্তাফিজ অবশ্যই আইপিএল খেলবেন।”

বিসিসিআই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। ভিসা নিয়েও সমস্যা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

আইপিএলে এখনও পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি, গড় ২৮.৪৫ এবং ইকোনমি ৮.১৩। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তার স্লোয়ার-কাটার ভয়ঙ্কর। কেকেআর-এর বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবেন তিনি। দলটির স্কোয়াড এখন বেশ ভারসাম্যপূর্ণ, চতুর্থবারের মতো শিরোপা জেতার স্বপ্ন দেখছে তারা।

যদিও জাতীয় দলের দায়িত্বের কারণে মুস্তাফিজ কয়েকটা ম্যাচ মিস করতে পারেন (নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য), তবে পুরো টুর্নামেন্টে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। ক্রিকেটকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছে বিসিসিআই। দেখা যাক, আইপিএল ২০২৬-এ মুস্তাফিজের ‘কাটার’ কতটা জাদু দেখাতে পারে!

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া \ ইনসাইডস্পোর্টস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল নিয়ে ইউরোপীয় আদালতের প্রশ্নঃ সিদ্ধান্তে অনড় যুক্তরাজ্য সরকার

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি মানবপাচার ও গ্রুমিংয়ের শিকার ছিলেন কি না এবং সেই প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের কোনো আইনি দায় ছিল কি না।

 

তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবেন এবং জাতীয় নিরাপত্তাই তাদের প্রধান বিবেচ্য।

সরকারি সূত্রের দাবি, শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত একাধিকবার যুক্তরাজ্যের আদালতে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিবারই তা বৈধ বলে রায় এসেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে, ফলে ইউরোপীয় আদালতের নতুন করে হস্তক্ষেপকে তারা অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।

শামিমা বেগমের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর, যখন তিনি ২০১৫ সালে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ায় যান। সে সময় ওই এলাকা ছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। সেখানে পৌঁছে তিনি এক আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে তিন সন্তানের জন্ম দেন, যাদের কেউই বেঁচে ছিল না।

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় ২০১৯ সালে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, তিনি বংশগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে তিনি রাষ্ট্রহীন হবেন না। ২০২০ সালে একটি ট্রাইব্যুনালও একই যুক্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

ইসিএইচআরে দায়ের করা মামলায় শামিমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ—দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ—লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। আদালত বিশেষভাবে জানতে চেয়েছে, নাগরিকত্ব বাতিলের আগে স্বরাষ্ট্রসচিবের কি এটি বিবেচনা করা উচিত ছিল যে তিনি মানবপাচারের শিকার একটি শিশু ছিলেন।

শামিমা বেগমের আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েকে প্রলুব্ধ ও প্রতারিত করে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল—এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য, শিশুটিকে রক্ষা করতে রাষ্ট্র একাধিক ধাপে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে যখন একই পথে তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আগেই সিরিয়ায় নিখোঁজ হয়েছিল।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি কড়া অবস্থান নিয়েছে। দলটির দাবি, শামিমা বেগমকে কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাজ্যে ফিরতে দেওয়া উচিত নয়। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় সহিংস চরমপন্থীদের সমর্থন করতে গিয়েছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই নাগরিকত্ব বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করেছে।

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের এই পদক্ষেপ নতুন করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মানবাধিকার কাঠামোর মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, অন্যদিকে মানবপাচার ও শিশুর অধিকার—এই দুইয়ের সংঘাতে শামিমা বেগম মামলা এখন আন্তর্জাতিক আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ

অস্থিরতার ছায়ায় ২০২৬ঃ দক্ষিণ এশিয়ায় নির্বাচন, সংঘাত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বছর

একটি রাজনৈতিকভাবে উত্তাল ২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়া প্রবেশ করছে গভীর অনিশ্চয়তা নিয়ে। রাজনৈতিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার সম্মিলিত প্রভাব নতুন বছরে এই অঞ্চলকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে। বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তনশীল অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একাধিক বড় ঝুঁকি।

 

২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশ ও নেপালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। দুই দেশেই এটি গণআন্দোলনের পর প্রথম ভোট, যার মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কে.পি. শর্মা ওলি। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় এক বছর সংস্কার কার্যক্রম চালানোর পর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে নেপালের অস্থায়ী সরকার দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পথে হেঁটে ৫ মার্চ ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়।

উভয় দেশেই তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের স্মৃতি এখনো তাজা, ফলে নির্বাচন নিয়ে সামান্য সন্দেহ বা ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে নতুন করে রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই নির্বাচনগুলো ভারত ও চীনের কৌশলগত স্বার্থের কারণেও গভীর নজরে রয়েছে।

পাকিস্তানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন বছরে উদ্বেগের বড় কারণ। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে একটি সন্ত্রাসী হামলা বা সীমান্ত ইস্যুই সামরিক সংঘাতের সূচনা ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সীমান্তপারের হামলা দমনে তালেবান সরকারের নিষ্ক্রিয়তা পাকিস্তানকে কঠোর পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আফগান ভূখণ্ডে সম্ভাব্য পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের জবাবে পাল্টা হামলার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এই উত্তেজনা সামাল দেওয়ার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাঁধেই রয়ে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে মালদ্বীপ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন দুর্বল কড়ি। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি ও উচ্চ ঋণের কারণে দেশটি গুরুতর ঋণঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১৩৫ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার বড় অংশই চীনা ঋণ। যদিও পর্যটন খাতের আয় ও ভারতের আর্থিক সহায়তায় এখনো বড় সংকট এড়ানো গেছে, তবে বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা বা পর্যটন খাতে পতন হলে পরিস্থিতি দ্রুত শ্রীলঙ্কার মতো রূপ নিতে পারে।

ভারতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও ২০২৬ সাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিতবাহী বছর হতে যাচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মোদি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক নেতা। সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির সাফল্য তার জনপ্রিয়তা বজায় থাকার ইঙ্গিত দিলেও, ২০২৯ সালে তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হবেন কি না—এ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে দলের পারফরম্যান্স মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চীন নীতির পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একদিকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে। যদি ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের প্রতি নরম অবস্থান নেয়, তাহলে চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের কৌশলগত ভিত্তি দুর্বল হতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ পেলেও, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন চাপের মুখে পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হতে যাচ্ছে একটি পরীক্ষার বছর—যেখানে গণতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা, আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা একসঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াবে। এই পরীক্ষায় ব্যর্থতা নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে, আর সাফল্য অঞ্চলটির জন্য খুলে দিতে পারে তুলনামূলক স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ।

সূত্রঃ ফরেইন পলিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

কোরআন ছুঁয়ে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই শহরের প্রথম মুসলিম এবং কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

 

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে (১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার) ম্যানহাটনের এক ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা জোহরান মামদানি শপথ নেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রাখেন। মামদানি বলেন, ‘এটি সত্যিই এক পরম সম্মান এবং আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ এক সুযোগ।’

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিয়া জেমস। তিনি মামদানির রাজনৈতিক মিত্র। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় পুরোনো ‘সিটি হল স্টেশনে’, যা মূলত শহরের প্রাচীনতম সাবওয়ে স্টেশনগুলোর একটি এবং এর চমৎকার খিলানযুক্ত ছাদের জন্য পরিচিত।

আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১টায় নিউইয়র্ক সিটি হলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি আবারও শপথ নেবেন। এবার তাকে শপথ পড়াবেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি নবনির্বাচিত মেয়রের রাজনৈতিক আদর্শিক গুরুদের একজন। এরপর ব্রডওয়ের সেই বিখ্যাত ‘ক্যানিয়ন অব হিরোসে’ একটি পাবলিক ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘টিকার-টেপ প্যারেডের’ জন্য জনপ্রিয়।

মামদানি এখন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব পালন শুরু করতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনীতিবিদদের একজন। শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার পাশাপাশি মামদানি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম মেয়র। ৩৪ বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্কের কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের গৌরব অর্জন করলেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা’ বা ‘অ্যাফোর্ডবিলিটি’ শব্দটিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জনপ্রিয় করে তোলেন। এই গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন।

তার নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল বিনা মূল্যে শিশু যত্ন (চাইল্ড কেয়ার), বিনা মূল্যে বাস সেবা, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে শহর কর্তৃপক্ষের পরিচালনায় গ্রোসারি শপ চালু করা। তবে বিশাল সব পরিকল্পনার পাশাপাশি তাকে দৈনন্দিন ঝক্কিও সামলাতে হবে—আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত কিংবা ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ। সেই সঙ্গে সাবওয়ে বা পাতাল রেলের বিলম্ব কিংবা রাস্তার খানাখন্দের জন্য মানুষের দায়ভার তো নিতেই হবে।

উগান্ডার কাম্পালায় মামদানির জন্ম। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ ও লেখক মাহমুদ মামদানির সন্তান। তার বয়স যখন সাত বছর, তখন তার পরিবার নিউইয়র্ক শহরে চলে আসে। নাইন-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের জন্য প্রতিকূল এক পরিবেশের মধ্যেই তিনি বড় হয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

সূত্রঃ নিউজ ১৮

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন ভারতীয় কূটনীতিকঃ রয়টার্সকে জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ বছরের শুরুর দিকে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াতের আমির রয়টার্সকে বলেছেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা যেমন প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, ভারতীয় কূটনীতিক তেমনটি করেননি। ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন।

 

শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘আমাদের সবার কাছে এবং একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পায়নি রয়টার্স। তবে ভারতের সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শফিকুর রহমানের কাছে পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উপায়ে সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কখনো কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে আগ্রহী নই।’

জামায়াতের আমির রয়টার্সকে আরো বলেছেন, ঢাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার ভারতে ধারাবাহিক অবস্থান একটি উদ্বেগের বিষয়, যেখানে তার পতনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নিজেদের সবচেয়ে বেশি শক্তিমত্তা দেখাতে যাচ্ছে। দলটি একটি ঐক্যের সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উন্মুক্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা বলেছে বলে দলটির প্রধান জানিয়েছেন।

জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১৭ বছর পর এই নির্বাচনে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে। সেখানে ব্যবধান থাকবে কম।

জামায়াত সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল মেয়াদে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে ক্ষমতার অংশীদার ছিল।

জেন-জিদের দলের (এনসিপি) সঙ্গে নির্বাচনী জোট করার কয়েক দিন পর দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ঐক্যের সরকার বিষয় জামায়াত আমির রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা অন্তত পাঁচ বছর দেশকে স্থিতিশীল দেখতে চাই। দলগুলো যদি এক জায়গায় আসে, তাহলে আমরা একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করব।’

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির বলেছেন, কোনো ঐক্যের সরকারের জন্য দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান অবশ্যই একটি অভিন্ন এজেন্ডা হবে। তিনি আরও বলেন, যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, সেই দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হবেন। যদি জামায়াত সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত নেবে দল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর এই উত্থান হয়েছে গত বছর আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর। হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। হাসিনা জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচক ছিলেন এবং তার আমলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল জামায়াত।

আদালতের এক রায়ের পর ২০১৩ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে দলটির ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়।

সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির বলেছেন, জামায়াতকে নিয়ে কোনো সরকার গঠিত হলে সেই সরকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে ‘স্বস্তি বোধ’ করবে না। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে কোনো বিরোধিতা ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নিজে রয়টার্সকে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদের মধ্যভাগেই তিনি পদত্যাগ করতে চান।

অবশ্য আজ রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন কথোপকথনে জামায়াতের আমিরের অবস্থানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বলেছেন, তিনি ‘এ বিষয়টিকে আর জটিল’ করতে চান না।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

শামিমা বেগমকে ঘিরে নতুন আইনি চ্যালেঞ্জঃ ইউরোপীয় আদালতের প্রশ্নে অস্বস্তিতে যুক্তরাজ্য

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ECHR) শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশ্ন করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আগে শামিমা বেগম শিশু পাচারের শিকার ছিলেন কি না এবং সে কারণে রাষ্ট্রের কোনো আইনি দায়িত্ব তৈরি হয়েছিল কি না—তা কি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

 

২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বাড়ি ছেড়ে শামিমা বেগম দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যান। সেখানে তাকে একজন আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় এবং তার তিনটি সন্তান জন্ম নেয়, যারা সবাই শৈশবেই মারা যায়। বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী শামিমা বেগম সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে রাষ্ট্রহীন অবস্থায় বসবাস করছেন।

২০১৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেন। সেই সিদ্ধান্ত পরে আপিল আদালতে বহাল থাকে এবং বর্তমান সরকারও অবস্থান পরিবর্তন করেনি। তবে শামিমা বেগমের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তিনি মূলত শিশু পাচার ও গ্রুমিংয়ের শিকার ছিলেন।

ইউরোপীয় আদালতে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, শামিমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৪-এর আওতায় এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেখানে দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালতের বিচারকেরা বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, পাচারের শিকার হিসেবে রাষ্ট্রের কোনো ‘ইতিবাচক দায়িত্ব’ ছিল কি না এবং সেটি নাগরিকত্ব বাতিলের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না।

শামিমা বেগমের পক্ষে থাকা আইন প্রতিষ্ঠান বির্নবার্গ পিয়ার্স সলিসিটরস জানিয়েছে, এই মামলাটি যুক্তরাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ—যেখানে রাষ্ট্রকে তার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দায়বদ্ধতা নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে। আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, একজন ১৫ বছর বয়সী শিশুকে প্রতারণা ও প্রলোভনের মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিয়ে গিয়ে যৌন শোষণের মুখে ফেলা স্পষ্টতই শিশু পাচারের শামিল।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত আদালতে দৃঢ়ভাবে প্রতিরক্ষা করা হবে এবং শামিমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই মামলাকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ নেতারা এবং রিফর্ম পার্টির নেতারা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের হস্তক্ষেপকে “বিদেশি বিচারকদের চাপ” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার দাবি পুনরায় তুলেছেন।

মামলাটি এখন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের বিবেচনায় রয়েছে এবং এর রায় শুধু শামিমা বেগমের ভবিষ্যৎ নয়, বরং যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নিরাপত্তা নীতি এবং মানবাধিকার দায়বদ্ধতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

তীব্র শীতে বিপর্যয়ের শঙ্কা, ইংল্যান্ডজুড়ে অ্যাম্বার সতর্কতায় ‘চরম চাপে’ এনএইচএস

ইংল্যান্ডজুড়ে তীব্র শীতের পূর্বাভাসের মধ্যে স্বাস্থ্যখাত চরম চাপে পড়েছে। নববর্ষকে সামনে রেখে অসুস্থ রোগীর নতুন ঢেউ আসতে পারে—এই আশঙ্কায় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) ইংল্যান্ডের সব অঞ্চলের জন্য অ্যাম্বার কোল্ড হেলথ অ্যালার্ট জারি করেছে, যা বুধবার রাত ৮টা থেকে আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, ফ্লু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়। ২১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৬১ জন ফ্লু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য কম। তবে হাসপাতালগুলোর শয্যা দখলের হার প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে এবং যেকোনো আকস্মিক চাপ সামলানো কঠিন করে তুলছে।

এর আগে শুধু উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে অ্যাম্বার সতর্কতা জারি ছিল, অন্য অঞ্চলে ছিল ইয়েলো অ্যালার্ট। সর্বশেষ পূর্বাভাসে সব অঞ্চলেই অ্যাম্বার সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে, কারণ আবহাওয়া স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউকেএইচএসএর স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরামর্শক ড. পল কোলম্যান বলেন, আগামী কয়েক দিনে সারা দেশে খুব ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের নিম্ন তাপমাত্রা বিশেষ করে বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। ঠান্ডার সংস্পর্শে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও বুকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ২১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১১৭ জন ফ্লু রোগী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম। একই সময়ে ডায়রিয়া, বমি বা নোরোভাইরাস সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের কারণে প্রতিদিন গড়ে ২৮৫টি শয্যা দখল ছিল, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক মেঘনা পান্ডিত বলেন, কিছু উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এখনো “চরম চাপের” মধ্যেই রয়েছে। সামনে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কায় পরিস্থিতি দ্রুত আবার খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এনএইচএস কর্মীদের কাজের প্রশংসা করে বলেন, ফ্লু এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে এবং হাসপাতালগুলো পুরোপুরি বিপদমুক্ত হয়নি।

এনএইচএস কনফেডারেশনের ররি ডেইটন জানান, মৌসুমি ভাইরাসজনিত কারণে চাহিদা বেশি থাকছে, পাশাপাশি সামাজিক ও কমিউনিটি কেয়ারের ঘাটতির কারণে চিকিৎসাগতভাবে ছাড়পত্র পাওয়ার উপযুক্ত হাজারো রোগী হাসপাতালের শয্যায় আটকে রয়েছেন, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব হারাচ্ছে ভারতঃ প্রতিবেশীরা ঝুঁকছে বহুমুখী কূটনীতির পথে

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক ক্রমেই চাপে পড়ছে। এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বিপক্ষীয় সংকট নয়; বরং গোটা অঞ্চলে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ—সব দিকেই ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কূটনীতি, আদর্শিক বক্তব্য এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষ্য এই আস্থাহীনতার মূল কারণ।

 

ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এক দশক আগে দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতা, সংযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ, নেপাল ও মালদ্বীপে লাইন অব ক্রেডিট দিয়ে অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবহন প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে ভারত নিজেকে আঞ্চলিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তার মাধ্যমেও ভারতের ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল।
তবে বাস্তবায়নের পর্যায়ে এই নীতি বড় ধাক্কা খায়।

বাংলাদেশ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ভারতের ১১টি প্রকল্প বাতিল করে, নেপালেও অবকাঠামো প্রকল্পে একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। এতে ভারতের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বাস তৈরি হয়নি।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ভারতের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসা মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা থেকে সরে এসে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন। এর মধ্যেই সমাজকর্মী শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়।

হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকায় ভারতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটে, যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

নেপালের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে আস্থার সংকট আরও পুরোনো। ২০১৫–১৬ সালের অর্থনৈতিক অবরোধের স্মৃতি এখনো কাঠমান্ডুর নীতিনির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলছে। সেই অভিজ্ঞতা নেপালকে ভারতের ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে বাধ্য করে। এরই ধারাবাহিকতায় নেপাল চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দেয়, ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল গ্রহণ করে।

শ্রীলঙ্কাও একই পথে হাঁটছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে দেশটি চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা শ্রীলঙ্কার জন্য ভারতের ঐতিহ্যগত প্রভাবের বিপরীতে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

মালদ্বীপের ক্ষেত্রে এই কৌশলগত পরিবর্তন সবচেয়ে স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর উত্থান ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলনের মাধ্যমে, যেখানে ভারতীয় সামরিক উপস্থিতিকে সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ক্ষমতায় এসে তিনি ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন এবং ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ ভারতীয় সামরিক সদস্য মালদ্বীপ ছাড়ে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়ছে, মালদ্বীপ এখন ভারতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী অংশীদারিত্বে জোর দিচ্ছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কার্যত স্থবির। সীমান্ত উত্তেজনা, ২০২৫ সালের মে মাসের সামরিক সংঘর্ষ এবং কূটনৈতিক সংলাপের অভাব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কাঠামোগতভাবে আটকে রেখেছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার চেষ্টাও এখন পর্যন্ত কার্যকর ফল আনতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আঞ্চলিক পুনর্গঠনের পেছনে দুটি বিষয় মুখ্য—আদর্শিক বক্তব্য ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কূটনীতি। ‘অখণ্ড ভারত’-এর মতো প্রতীকী ধারণা এবং হিন্দুত্ববাদী ভাষ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সীমান্তে সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন নজরদারি ও ধারাবাহিক মহড়া কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার জায়গা সংকুচিত করছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য আঞ্চলিক বাণিজ্য থাকলেও ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসের কারণে ভারত এর অর্ধেকও কাজে লাগাতে পারছে না। ছোট রাষ্ট্রগুলো এখন এককভাবে ভারতের দিকে ঝুঁকে না পড়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে। এই বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—দক্ষিণ এশিয়া ধীরে ধীরে একটি বহুমুখী শক্তিকাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ভারতের একক প্রভাব আর আগের মতো নিশ্চিত নয়।

সূত্রঃ দ্য ডিপ্লোম্যাট

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

মাদারীপুর থেকে এসে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন ১১০ বছরের বৃদ্ধ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মাদারীপুরের কালকিনী থেকে এসেছেন ১১০ বছরের বৃদ্ধ। তার নাম মৌলভী আব্দুর রশিদ।

 

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার সড়কে তার দেখা মিলেছে।

মৌলভী আব্দুর রশিদ বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের ভক্ত ছিলাম। তার দেশপ্রেমে আমি মুগ্ধ হতাম। জিয়ার মৃত্যুর পর তার জানাজায়ও অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখনও লাখ লাখ মানুষ হয়েছিল। জিয়ার মৃত্যুর পর তার দেশপ্রেম দেখেছি খালেদা জিয়ার মধ্যে। তিনি কখনও নৈতিকতাকে বিসর্জন দেননি।

নিজের বয়স ১১০ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া হাজারও জেল-জুলুম অত্যাচারের শিকার হয়েও কখনও আপস করেননি। তার মতো নেত্রী বাংলাদেশের মাটিতে আর জন্ম নেবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশ খাঁটি একজন দেশপ্রেমিক হারালো। খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারলে আফসোস থেকে যেত। তাই এই শরীর নিয়েও চলে এসেছি।

উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা বেলা ৩টা ৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বুধবার বেলা ৩টা বেজে ৩ মিনিটে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান।

জানাজাকে কেন্দ্র করে বেলা ৩টা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, বিজয় সরণি, খামার বাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, মোহাম্মদপুর পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সর্বকালের সর্ববৃহৎ জানাজায় বেগম খালেদা জিয়ার অন্তিম বিদায়

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান।

দুপুর ৩টা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, বিজয় সরণি, খামার বাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, মোহাম্মদপুর পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। যে যেখানে পারেন সেখানেই দাঁড়িয়ে জানাজায় যোগ দেন।

 

এম.কে