Categories
আন্তর্জাতিক

চীনে উত্তাল হচ্ছে ভারতবিরোধী ক্ষোভঃ কূটনৈতিক উষ্ণতার মাঝেই বাড়ছে বর্ণবাদী মনোভাব

প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর চীন ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সম্প্রতি কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক লেনদেন বেড়েছে। সদিচ্ছার অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চে চীন ভারতীয় নাগরিকদের ওপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং ভিসানীতি শিথিল করে। এর ফলে ভারতীয়দের জন্য চীনে ভ্রমণ আগের তুলনায় সহজ হয়।

 

কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরপরই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ডৌইনসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় পর্যটকদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সাবওয়েতে হাত দিয়ে খাবার খাওয়া কিংবা পর্যটন এলাকায় গোসল করার মতো দৃশ্য দেখিয়ে ভারতীয়দের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করা হয়। এসব ভিডিও ঘিরে দ্রুত ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং মন্তব্যের বড় অংশ হয়ে ওঠে আক্রমণাত্মক ও বিদ্বেষপূর্ণ।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া মন্তব্যে অনেক ক্ষেত্রেই বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করা হয়। কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন, চীনে ভারতীয় পর্যটকদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে চীনে বসবাসরত সব ভারতীয়কে বহিষ্কারের কথাও বলেন। হাজার হাজার মন্তব্যের ভিড়ে সংযত বা তথ্যভিত্তিক মতামত প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়।

এই মনোভাবের পেছনে ভারতীয়দের নিয়ে প্রচলিত নানা নেতিবাচক ধ্যানধারণা কাজ করছে। চীনের সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই ভারতীয়দের অপরিচ্ছন্ন বা নৈতিকভাবে দুর্বল হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় অভিবাসীরা নাকি স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা দখল করে নিচ্ছে—এমন বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়ানো হয়েছে। যদিও এসব দাবির বাস্তবভিত্তি নেই, তবু অনেক চীনা নেটিজেন মনে করছেন, চীনও ভবিষ্যতে ভারতীয় অভিবাসনের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চীনের মূল ভূখণ্ডে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়ের সংখ্যা মাত্র ৮ হাজার ৪৬০ জন। এই সংখ্যা হংকংয়ে থাকা ভারতীয়দের তুলনায় অনেক কম, যেখানে প্রবাসী ভারতীয়ের সংখ্যা ৪৪ হাজারের বেশি। জাপানে ভারতীয় আছেন প্রায় ৪৮ হাজার এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৭ হাজারের মতো। অর্থাৎ সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে ‘ভারতীয়দের গণ অভিবাসন’ দেখানো হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের অমিল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর চীন–ভারত যোগাযোগ দীর্ঘদিন সীমিত থাকায় এবং চীনা সামাজিক মাধ্যমের তুলনামূলকভাবে বদ্ধ পরিবেশের কারণে ভুল তথ্য সহজে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে না। এতে প্রচলিত ধ্যানধারণা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি চীনা সমাজে ভারতবিরোধী বক্তব্যের প্রতি দীর্ঘদিনের সহনশীলতাও এই প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে।

চরম জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমা বর্ণবাদের শিকার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও একই সময়ে ভারতকে ব্যর্থ ও মূল্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখাতে দ্বিধা করে না। তাদের কাছে ভারত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় চীনের তুলনায় দুর্বল একটি প্রতিপক্ষ, যাকে আক্রমণ করে নিজেদের নিরাপত্তাবোধ ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা বজায় রাখা যায়।

এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাবকে চীনা সরকারের সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ কম। মহামারির বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর সরকার এখন মূলত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ভিসানীতি শিথিলসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে চীন।

এই উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, চীনের কাছে ভারত এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও বড় বাজার। বিশেষ করে চীনা পণ্যের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে ভারতের ভূমিকা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার পেছনে সরকারের কৌশলগত আগ্রহ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় না।

বরং অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা থেকে জন্ম নেওয়া সামাজিক উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ভারতবিরোধী আবেগ দেখা দিচ্ছে। বাস্তবে অস্তিত্বহীন ‘ভারতীয়দের গণ অভিবাসন’কে সীমিত চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে। যেহেতু ভিসা দিচ্ছে সরকার, তাই এই ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে রাষ্ট্রীয় নীতিও।

আগস্টে ঘোষিত তরুণ বিদেশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিভাদের জন্য ‘কে ভিসা’ কর্মসূচিকেও কিছু গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ব্যাখ্যা করছে। বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় চীনে প্রবেশ করবে। এমনকি চীনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের ঘিরেও গুপ্তচরবৃত্তির ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভিযোগ আসলে গভীর সামাজিক উদ্বেগ ও আস্থাহীনতার প্রতিফলন। জাতীয়তাবাদী ভাষ্য স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক সংহতি তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা উল্টো ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। কারণ সরকার যখন ক্রমেই উগ্র হয়ে ওঠা জনমতকে সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই জাতীয়তাবাদই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ডিপ্লোম্যাট

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সাত বছরে আরিফের আয় বেড়েছে সাড়ে ৪ গুণ, স্ত্রীরও বিপুল সম্পদ

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বার্ষিক আয় গত সাত বছরে প্রায় সাড়ে গুণ বেড়েছে। এই সময়ে বেড়েছে তার স্ত্রীর সম্পদও।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেওয়া হলফনামা ও ২০১৮ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষন করে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৮ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন আরিফ। টানা দশ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে সবশেস সিটি নির্বাচনে দলের আপত্তির কারণে তিনি প্রর্থী হননি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছেন।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে আরিফুল হক চৌধুরীর বাৎসরিক আয় ছিল ৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে এসে তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৬ টাকায়। অর্থাৎ আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ গুণ, টাকার অংকে ২৪ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের হলফনামায় আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রীর কোনো আয়ের উৎস ছিল না। ২০২৫ সালের আরিফের স্ত্রীর বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৯ টাকা। আরিফের স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসার কথা বলা হয়েছে। তবে বছরে ২৪ লাখ টাকা আয়ের হলেও সামা হক চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকারও বেশি।

আরিফুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরীর বাৎসরিক আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে কৃষিখাতে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৩০ টাকা, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক খাত থেকে আয় ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা ও এই খাতে তার স্ত্রীর আয় ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৪ টাকা, ব্যবসা থেকে আরিফের আয় ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৯ টাকা ও তার স্ত্রীর আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, শেয়ার থেকে আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৪ হাজার টাকা ও স্ত্রীর আয় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৫ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরিফের আয় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪০৩ টাকা।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আরিফের বর্তমান অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৪ টাকার। এই সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ২৯ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ টাকা। ২০১৮ সালে আরিফুল হক চৌধুরীর নিজের অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭১৩ টাকার। এই ৭ বছরে সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটিরও বেশি টাকার।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় আরিফের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা। যা অর্জনকালীন সময়ে ছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ৭৮৪ টাকা। অথচ ২০১৮ সালে আরিফের স্ত্রীর নামে কোনো অস্থাবর সম্পত্তি ছিল না।

হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে- আরিফুল হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে ৫ হাজার ৯১৮ ডলার ও ৬ হাজার ৮৩১ পাউন্ড, ব্যাংকে জমা ১ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার ৮৭৯ টাকা, বন্ড-শেয়ার ৩৮ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৫ টাকা, পোস্টাল-সঞ্চয় ৫৩ হাজার ৫ লাখ ২১৫ টাকা, মোটরগাড়ি ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪৮ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র ৩ লাখ টাকা।

আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা ৩৫ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮১ টাকা, পোস্টাল-সঞ্চয় ৫৮ লাখ টাকা, মোটরগাড়ি ১২ লাখ টাকা, ২৭ ভরি স্বর্ণ, আসবাবপত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা।

২০১৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হলফনামায় স্থাবর সম্পদ থাকলেও সেটির হিসাব টাকায় উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু ৭ বছর পরে এসে সেই সম্পদের হিসাব টাকায় উল্লেখ করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। নিজের দেওয়া তথ্যমতে বর্তমানে তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকার। যার অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ছিল ৬ কোটি ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ টাকা।

২০১৮ সালে আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রীর কোনো স্থাবর সম্পত্তি ছিল না। বর্তমানে আরিফের স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরীর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা। এসব সম্পত্তির অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার ১৩ হাজার ২০৭ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরীর নামে ২০ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ টাকার কৃষি জমি, ৮৯ লাখ ৯ হাজার ৩৬৪ টাকার, বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকা, চা বাগান ও খামার ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, অন্যান্য ৪ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৬ টাকা।

এদিকে স্বশিক্ষিত আরিফের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও একটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আরিফ ও তার স্ত্রীর পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরিফের স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরীর নামে অকৃষি জমি রয়েছে ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ ১ হাজার ২০৭ টাকার।

সূত্রঃ সিলেট টু”ডে২৪

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটঃ ইউরোস্টার চলাচলে ভয়াবহ বিপর্যয়, হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে

চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লন্ডন থেকে প্যারিস, আমস্টারডাম ও ব্রাসেলসগামী সব ইউরোস্টার ট্রেন বাতিল হওয়ায় হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় পরে সীমিত আকারে কিছু সার্ভিস চালু হলেও ইউরোস্টার জানিয়েছে, যাত্রীরা তীব্র বিলম্ব ও শেষ মুহূর্তে বাতিলের ঝুঁকির জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

 

ইউরোস্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব ট্রেন বাতিল হয়নি সেগুলোতেও স্বাভাবিক সূচি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ অন্য তারিখে পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়, টিকিট পুনর্নির্ধারণে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না এবং চাইলে যাত্রীরা পুরো টাকা ফেরত বা ই-ভাউচার নিতে পারবেন।

এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে চ্যানেল টানেলের ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি এবং একটি LeShuttle ট্রেন বিকল হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য টানেলের সব রুট বন্ধ হয়ে যায় এবং ইউরোপমুখী যাতায়াত কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে চলাচলকারী অন্তত এক ডজন ইউরোস্টার সার্ভিস বাতিল করা হয়। অনেক যাত্রী লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস আন্তর্জাতিক স্টেশনে আটকা পড়ে বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করতে থাকেন।

ভোগান্তির শিকার যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই পর্যটক হ্যালি অ্যাডামস ও হান্না হ্যাগার। তাদের ইউরোস্টার ট্রেন বাতিল হওয়ায় প্যারিস পৌঁছাতে তারা প্রায় ৫৮০ ডলার খরচ করে ফ্লাইট কিনতে বাধ্য হন। যদিও তারা ট্রেনের টিকিটের টাকা ফেরত পেয়েছেন, তবে লন্ডনে অতিরিক্ত হোটেল খরচ এবং প্যারিসের হোটেল বুকিং বাতিলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন না।

একইভাবে মেক্সিকো থেকে আসা একটি পরিবার জানায়, তাদের জীবনের স্বপ্নের ইউরোপ সফর অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। প্যারিসগামী ট্রেনে ওঠার পর যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ট্রেনটি আবার ফিরিয়ে আনা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সামনে কোনো নিশ্চিত বিকল্প না থাকায় তারা ফ্লাইট বা ফেরির খোঁজ করছেন।

ফ্রান্সের কালে এলাকায় LeShuttle সার্ভিস ব্যবহারকারী যাত্রীরাও দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন। এক ব্রিটিশ যাত্রী জানান, তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের ভেতর অপেক্ষা করেছেন। খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং অনিশ্চয়তায় অনেক যাত্রী হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

ন্যাশনাল রেল যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, যাদের ইউরোস্টার ট্রেন বাতিল হয়েছে তারা যেন সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনে না আসেন। যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ বলেছে, ওভারহেড কেবল মেরামতের কাজ চলায় পুরো দিনজুড়েই ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ইউরোস্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে চ্যানেল টানেলের দুটি প্রধান লাইনের মধ্যে মাত্র একটি ব্যবহারযোগ্য রয়েছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়ে বিকেল থেকে ধীরে ধীরে কিছু ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লন্ডন থেকে ব্রাসেলসগামী একটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়ে যায়, তবে সন্ধ্যার পরেও মাত্র কয়েকটি সার্ভিস চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে বিকল হওয়া LeShuttle ট্রেনটি টানেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অপারেটর জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় কোনো যাত্রী টানেলের ভেতরে আটকে ছিলেন না। LeShuttle কর্তৃপক্ষ দেরির জন্য ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে, ধীরে ধীরে সার্ভিস স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং রাত ও পরদিন সকালে অতিরিক্ত শাটল যোগ করা হবে।

চ্যানেল টানেলমুখী গাড়ির চাপ কমে আসায় ফোকস্টোনের কাছে M20 মহাসড়কের যানজটও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডঃ দুবাইয়ে বসে জামায়াতকে দায়ী করল ফয়সল

বাংলাদেশে প্রকাশ্যে সংঘটিত শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করতে দেখা যায়, যাকে পরবর্তীতে ফয়সল করিম মাসুদ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার পরপরই ফয়সল বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেন।

 

তদন্তে আরও জানা যায়, ফয়সল করিম মাসুদ প্রথমে বাংলাদেশ থেকে ভারত পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকে দুবাইয়ে অবস্থান নেয়। এই মামলার প্রেক্ষিতে তার পরিবারের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা ইতোমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ফয়সল করিম মাসুদের আর্থিক কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আসে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, তার ব্যাংক স্টেটমেন্টে কয়েক শত কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বিপুল অঙ্কের কয়েক শত কোটি টাকার চেক জব্দ করা হয়েছে, যা মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতের নিউজ ১৮ টেলিভিশন একটি ভিডিও প্রচার করে, যেখানে দুবাইয়ে অবস্থানরত ফয়সল করিম মাসুদ নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন। ভিডিও বক্তব্যে তিনি শহীদ ওসমান হাদী হত্যার দায় জামায়াতে ইসলামী’র ওপর চাপান এবং বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।

ফয়সল করিম মাসুদ আরও দাবি করেন, তার ব্যাংক একাউন্টে থাকা অর্থ অবৈধ নয়; বরং তা তার নিজস্ব ব্যবসা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত। তিনি বলেন, এসব আয়ের বিপরীতে তিনি নিয়মিত বাংলাদেশ সরকারকে ট্যাক্স প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের ঘটনাকে অন্যায় ও অমানবিক উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তবে এই ভিডিও প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, অল্প বয়সে একজন ব্যক্তি কীভাবে কয়েক শত কোটি কিংবা হাজার কোটি টাকার লেনদেন করতে পারেন, সে বিষয়ে ফয়সলের বক্তব্যে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, বড় কোনো প্রকল্প বা বিল ছাড়া এতো বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় করা বাস্তবসম্মত নয়।

অনেকে আবার সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এত অল্প বয়সে হাজার কোটি টাকার কাজ পাওয়ার মতো সক্ষমতা বা দৃশ্যমান ব্যবসায়িক ইতিহাস ফয়সল করিম মাসুদের আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এসব প্রশ্ন ভিডিও বক্তব্যকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকার শহীদ ওসমান হাদী হত্যার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সব প্রমাণ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সূত্রঃ নিউজ ১৮

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

‘বিপিএলকে গোনার টাইম নাই’—সিলেটে ফাহিম আল চৌধুরীর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের প্রথম পর্ব চলমান সিলেটে। এই পর্বে রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যাচ দেখতে সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাজির হন স্বাগতিক দল সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী। তবে মাঠে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের সামনে বিপিএল নিয়ে তার মন্তব্য দ্রুতই বিতর্কের জন্ম দেয়।

 

সিলেট শহরজুড়ে ফাহিম আল চৌধুরীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন সড়ক, বিলবোর্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। সোমবার সিলেট বিমানবন্দরে তাকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। এরপর স্টেডিয়ামে পৌঁছে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।

ঢাকা ক্যাপিটালস প্রথম ম্যাচ জেতার পর খেলোয়াড়দের বোনাস দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চান, সিলেট টাইটান্স জয় পেলে একই ধরনের বোনাস দেওয়া হবে কি না। এই প্রশ্নের জবাবেই বিপিএলকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ফাহিম আল চৌধুরী। তিনি বলেন, বিপিএল নিয়ে ভাবার মতো সময় তার নেই এবং তার মনোযোগ থাকে আইপিএলের দিকে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিপিএলের কোনো দলকেই তিনি শক্তিশালী মনে করেন না।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। চলমান টুর্নামেন্টকে প্রকাশ্যে অবমূল্যায়ন করায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন একজন ফ্র্যাঞ্চাইজির উপদেষ্টার দায়িত্বশীলতা নিয়ে। বিপিএলের সম্মান ও দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তবে একই সঙ্গে বড় ঘোষণা দেন ফাহিম আল চৌধুরী। তিনি জানান, সিলেট টাইটান্স যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে তারকা খেলোয়াড় আনতে তিনি প্রস্তুত। ভারত, ইংল্যান্ড কিংবা পাকিস্তান—যে দেশই হোক না কেন, পছন্দের খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে তিনি ব্ল্যাংক চেক দেওয়ার কথাও বলেন।

এদিকে ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাকে দলে নেওয়ার প্রসঙ্গে ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, মঈন আলী সিলেটের ‘জামাই’, আর জামাইয়ের বাড়ি থেকে ডাক এলে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। এই মন্তব্যও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজানের স্বামীর ‘বীর প্রতীক’ খেতাব বাতিল

ভুয়া তথ্য দেওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের মৃত স্বামী অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের ‘বীর প্রতীক’ খেতাব বাতিল করা হয়েছে।

 

আবু সুফিয়ানের নামে প্রকাশিত সংশোধিত গেজেট বাতিল করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না— তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

এতে বলা হয়, খুলনার দৌলতপুরের অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বেসামরিক গেজেট প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রী সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান একটি ডিও লেটার দিয়ে স্বামীর নামের শেষে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত করার আবেদন করেন।

“ডিও লেটারে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক আবু সুফিয়ান ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন বলে মিথ্যা তথ্য দেন। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুর্দশার সংবাদ সংগ্রহ করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কথিকা হিসেবে পাঠ করতেন— এমন তথ্যও উল্লেখ করা হয়। ওই ডিও লেটারের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ১৫ জুন বেসামরিক গেজেট সংশোধন করে তার নামের শেষে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত করে।”

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আরও জানায়, সম্প্রতি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ১০২তম সভায় আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়— ২০২৩ সালের ১৫ জুন জারি করা সংশোধিত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে এবং অধ্যাপক আবু সুফিয়ান প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য নোটিশ দেওয়া হবে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৯৭৩ সালে ৪৭৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চারটি রাষ্ট্রীয় খেতাব—বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে। ওই তালিকায় অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নাম নেই। পরবর্তী সময়ে নতুন করে কাউকে এসব খেতাব দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নামের শেষে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত হওয়ায় যে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল, সংশোধিত গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার অবসান ঘটানো হলো বলেও জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।

সূত্রঃ জাগো নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভ্রাতৃত্ব থেকে শত্রুতাঃ সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের বাঁকবদল

একসময় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার দুই প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক এখন খাদের কিনারে। মঙ্গলবার ইয়েমেনে আমিরাত-সংশ্লিষ্ট একটি অস্ত্র চালানে সৌদি আরবের বিমান হামলা সেই দূরত্বেরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তেলের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব; সব ক্ষেত্রেই এখন রিয়াদ ও আবুধাবির স্বার্থ ভিন্ন পথে বইছে।
একসময়ের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্রের সম্পর্কের এই বিবর্তনের মূল ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

২০১১: আরব বসন্তের ঢেউ ছড়িয়ে পড়লে ইসলামপন্থিদের ঠেকাতে সৌদি আরব ও আমিরাত ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়। বাহরাইনে বিদ্রোহ দমনে তারা যৌথভাবে সেনা পাঠায়। ২০১৩ সালে মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারের পতনের ক্ষেত্রেও দেশ দুটি সমন্বিত সমর্থন দেয়।

২০১৫: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের দমনে দেশ দুটি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত স্থলযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয় এবং সৌদি আরব আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ করে।

২০১৭: কাতার সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে, এমন অভিযোগে দেশটির ওপর অবরোধ ও বয়কট শুরু করে সৌদি ও আমিরাত। এই পদক্ষেপ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতাকে আরও দৃঢ় করে।

২০১৯: ইয়েমেনে রণকৌশল পরিবর্তন করে আমিরাত তার সেনা প্রত্যাহার শুরু করে। তবে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখে। ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল বোঝা একা সৌদি আরবের ওপর পড়ে।

২০২০: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের প্রধান পবিত্র দুটি স্থানের জিম্মাদার সৌদি আরব ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে অনড় থেকে সেই পথে হাঁটেনি।

২০২১: জানুয়ারিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আল-উলা সম্মেলনে কাতার সংকটের সমাধান হয়। তবে আমিরাত অনেকটা অনিচ্ছাসত্ত্বেও এতে সই করে। একই বছর রিয়াদ ঘোষণা দেয়, ২০২৪ সালের মধ্যে বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের আঞ্চলিক সদর দফতর সৌদি আরবে স্থানান্তর না করলে তারা সরকারি কোনও কাজ পাবে না। এটি সরাসরি দুবাইয়ের বাণিজ্যিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে।

একই বছরের জুলাইয়ে ওপেক সম্মেলনে তেলের উৎপাদন নিয়ে আমিরাত সৌদি আরবের প্রস্তাব আটকে দেয়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রকাশ্য করে তোলে।

২০২৩: সুদানের যুদ্ধে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীর সমর্থনে শান্তি আলোচনা আয়োজন করে। অন্যদিকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব আমিরাত বিদ্রোহী আরএসএফ বাহিনীকে অস্ত্র সহায়তা দেয়, যদিও আবুধাবি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০২৫: ডিসেম্বরের শুরুতে ইয়েমেনের হাদরামাউতের তেলক্ষেত্রগুলো আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি দখল করে নিলে তা সৌদি আরবের বেঁধে দেওয়া ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে।

৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫: অবশেষে মঙ্গলবার মুকাল্লা বন্দরে একটি জাহাজে সৌদি বিমান হামলা দুই মিত্রের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটালো। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাহাজটি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য ভারী অস্ত্র বহন করছিল। এটি ছিল দুই মিত্রের স্বার্থের সরাসরি সংঘাতের প্রথম বড় ঘটনা।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে কাতর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার নয়াবস্তি পাড়ায়। তার মৃত্যুতে শোকার্ত সেই নয়াবস্তি পাড়া। মন খারাপ সুনীতি বালা সদর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদেরও। এই স্কুলেই কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন তিনি। সেই স্কুলে খালেদা জিয়ার স্মরণসভার পরিকল্পনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়াবস্তি পাড়ায় বসবাস ছিল খালেদা জিয়ার বাবা ইসকান্দর মজুমদার। জলপাইগুড়ি শহরে ব্যাংকিং এবং শেয়ার কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ‘দাশ অ্যান্ড কোম্পানি’তে কাজ করতেন তিনি। ভারত ভাগের পরবর্তী সময়ে তিনি মুখার্জি পরিবারের সঙ্গে জমি বিনিময় করে পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান। তারপর থেকে আর ফেরেননি জলপাইগুড়িতে। কিন্তু তাদের আত্মীয়দের নিয়মিত আসা যাওয়া রয়েছে।

জলপাইগুড়ি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবস্তি পাড়ায় থাকা শতাব্দী প্রাচীন ফ্রেন্ডস ব্যাপটিস্ট চার্চের ঠিক পাশের গলিতে ছিল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের বাগান বাড়ি। নয়াবস্তি পাড়ায় কেটেছিল খালেদার শৈশবের বেশ কয়েকটা বছর।

সেই জমির এক অংশে এখন থাকেন চক্রবর্তী ও গোপ পরিবার। সবটা মিলিয়েই ছিল খালেদা জিয়ার পরিবারের বাড়ি। বর্তমানে খালেদার পরিবারের জলপাইগুড়ির বাগান বাড়ির একটা অংশ কিনে বাড়ি বানিয়েছে গোপ পরিবার। ওই পরিবারের দুই সদস্য ঝর্না গোপ এবং নীলকন্ঠ গোপও এখন খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণা করছেন। দু’জনেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ঠিক উল্টোদিকে বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ভোলা মণ্ডলের।

ডিএসএ সচিব ভোলা মন্ডলের দাবি, তার মায়ের কোলেপিঠে বড় হয়েছেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির সাহিত্যিক ও লেখক প্রয়াত কামাখ্যা চক্রবর্তীর বই ‘সেকালের জলপাইগুড়ি শহর এবং সামাজিক জীবনের কিছু কথা’ থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে দেশভাগের পর খালেদার পরিবার এখানের মুখার্জি পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি বিনিময় করে ওপারে চলে যায়।

ইতিহাসবিদ ডক্টর আনন্দ গোপাল ঘোষ বলছেন, ‘‌খালেদা জিয়ার বাবা ইসকান্দর মিঁঞা চায়ের ব্যবসার সূত্রে জলপাইগুড়ি আসেন। ১৯৫০ সালের পর তার পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে চলে যায়।

বিখ্যাত ফুটবলার ফজলার রহমানের ছেলে পুটু রহমান বলছেন, তার বাবার সঙ্গেও খালেদার পরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। খালেদার বাবা চাকরি সূত্রে জলপাইগুড়ি এসেছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে চায়ের ব্যবসায় যুক্ত হন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

রুমিন ফারহানাসহ বিএনপির ৯ নেতা বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই অভিযোগে আরও যারা বহিষ্কৃত হয়েছেন তারা হলেন— বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক, বুধবার সাধারণ ছুটি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামী তিনদিন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এছাড়া আগামীকাল (৩১ ডিসেম্বর) সরকারি ছুটি এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হবে। সংসদ ভবন প্লাজায় তার জানাজা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমানের মাজারের (জিয়া উদ্যানে) ওখানেই তাকে দাফন করা হবে।’

জানাজা কখন হবে- জানতে চাইলে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্তটা একটু পর হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিং আছে সাড়ে ১২টায় সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে। তবে সম্ভাব্য সময় বলতে পারি আগামীকালকে জোহরের পর।

তিনি বলেন, তার লাশ এখন এভারকেয়ারে থাকবে। সেখানে যেসব প্রস্তুতিমূলক কাজ হওয়া দরকার সেগুলো হবে। এরপর কালকে সকালে সেখান থেকে রওনা দিয়ে জাতীয় সংসদে নেওয়া হবে। মূল রাস্তা দিয়েই সেখানে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে। সেজন্য হয়তো সময় একটু বেশি লাগবে।

এর আগে, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। এভারকেয়ার হাসপাতালে লম্বা সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হবে।

এম.কে