Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

পাখির কলরব, মানুষের অনুপস্থিতিঃ যুক্তরাজ্যের ‘সবচেয়ে নিঃসঙ্গ’ চাকরির জন্য লোক নিয়োগ

স্কটল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম হাইল্যান্ডসের জনমানবহীন হান্ডা দ্বীপে ছয় মাসের জন্য একজন রেঞ্জার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্কটিশ ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট। সম্পূর্ণ নির্জন এই দ্বীপে কাজের সুযোগকে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের ‘সবচেয়ে নিঃসঙ্গ’ চাকরি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

 

প্রতি বসন্তে হান্ডা দ্বীপে হাজার হাজার সামুদ্রিক পাখির আগমন ঘটে। দ্বীপটির বালুকাপাথরের খাড়া পাহাড় গিলিমট, রেজরবিল ও গ্রেট স্কুয়ার মতো বিরল প্রজাতির পাখির প্রজননের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। গ্রীষ্মকালজুড়ে এসব পাখি আশপাশের সমৃদ্ধ সাগরে খাবার সংগ্রহ করে।

চাকরির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দ্বীপের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে বিভিন্ন কাজের কর্মসূচি বাস্তবায়ন। প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজারের বেশি পর্যটক হান্ডা দ্বীপে আসেন, যাদের নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাও রেঞ্জারের অন্যতম কাজ।

হান্ডা দ্বীপে মানুষের স্থায়ী বসবাস শেষ হয় উনিশ শতকে। এরপর থেকে দ্বীপটি সামুদ্রিক পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায়ই তিমি ও বাস্কিং শার্ক দেখা যায়, যা এলাকাটির সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।

স্কটিশ ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট প্রতি বছর স্বেচ্ছাসেবকদের হান্ডায় কাজের সুযোগ দেয়। আগের স্বেচ্ছাসেবকরা জানিয়েছেন, অফ-গ্রিড জীবনযাপন ও সীমিত মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। অনেকেই একে ‘সহজ জীবনের আনন্দ’ আবিষ্কারের সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দ্বীপটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও সেখানে পৌঁছাতে মূল ভূখণ্ডের টারবেট থেকে মাত্র দশ মিনিটের একটি ছোট ফেরি সার্ভিস ব্যবহার করতে হয়। তবে কাজের বাস্তবতা সহজ নয়—কাপড় ধোয়া ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য প্রতি সপ্তাহে নৌকায় করে মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়।

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কাজটিকে শারীরিকভাবে পরিশ্রমসাধ্য বলা হলেও একই সঙ্গে একে ‘অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা কাজের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক বেতন ২৬,১১২ পাউন্ড।

নির্জনতা, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর মাঝে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য হান্ডা দ্বীপের এই রেঞ্জার পদকে বিরল ও ব্যতিক্রমী সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার শোক, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি’

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে লেখা হয়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা এবং দেশের প্রতি অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

শেখ হাসিনার শোক বার্তা শিরোনামের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতি এবং বিএনপির নেতৃত্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি পরিবার, বিশেষ করে ছেলে তারেক রহমান ও দলের সমর্থকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

শোক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আশা করি আল্লাহ তাদের ধৈর্য ও কঠিন সময় মোকাবিলার শক্তি দেবেন।’

গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বীতা বহু পুরোনো। এই দুজন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে ৩০ বছরই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময় বিদেশি গণমাধ্যমে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীতাকে ‘দুই বেগমের যুদ্ধ’ বা ‘ব্যাটল অব দ্য টু বেগমস’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছেঃ যা জানাল কমিশন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে বা আইনি জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল হলে ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর সংশোধিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমন পরিস্থিতিতে নতুন তফশিল ঘোষণা করবে।

 

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭(১) অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন কিংবা অনুচ্ছেদ ৯১ক ও ৯১ঙ অনুযায়ী কারও প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করবেন। আইন অনুযায়ী, নির্বাচন বাতিল হলে কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং কমিশন নতুন নির্বাচনি তফশিল ঘোষণা করবে।

এছাড়া যারা আগের তফশিলে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানতের টাকা জমা দিতে হবে না বলেও জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনে যেহেতু বলা আছে বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে তফশিল বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই তফশিলে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, উনি এখনো বৈধ প্রার্থী হননি। এছাড়া খালেদা জিয়ার অবস্থা বিবেচনায় বিএনপি উনার আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। কাজেই এটা নিয়ে সমস্যা হবে না বলে আমার মত।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে আমাকে আরপিও দেখে বলতে হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর তিনটি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়। আসনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থীও মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দায় রয়েছেঃ আসিফ নজরুল

প্রহসনের রায়ের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকার মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

 

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার বাইরে সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পেছনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকারের দায় রয়েছে। প্রহসনের মিথ্যা রায়ের মধ্য দিয়ে বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এই সরকার আসার পর থেকে তাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা সব সময় তার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আরও দুই বছর আগে যদি তাকে পাওয়া যেত তাহলে হয়তো সুচিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যেত।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি বৈঠক আজ দুপুরেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

আসিফ নজরুল জানান, তাকে দাফন করা হবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশেই। মন্ত্রিপরিষদ সভায় প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানাজার বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। সভায় উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন। সর্বশেষ সশস্ত্র বাহিনী দিবসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল।

তিনি বলেন, জাতির এই বিশেষ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার খুব প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান অক্ষয় অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। ওনার জানাজার নামাজে সেটা শৃঙ্খলার সঙ্গে ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালন করার অনুরোধ করছি।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে

বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বরাতে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তিনি এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানান উপদেষ্টা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নির্ধারণে আয়োজিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল।

ব্রিফিংয়ে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিনদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ও কাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।’

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ঘৃণা নয়, ভালোবাসার ভাষায় সুবোধের প্রত্যাবর্তন

ঢাকার নগরজীবনে গ্রাফিটি সুবোধ এক অনন্য সাংস্কৃতিক প্রতীক। ২০১৭ সালে প্রথমবার আগারগাঁওয়ের একটি দেয়ালে সুবোধের উপস্থিতি আলোচনার জন্ম দেয়। সেই গ্রাফিটিতে লেখা ছিল— “সুবোধ তুই পালিয়ে যা”। সামাজিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা আর হতাশার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাটি অনেকের কাছে তখনকার সময়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল।

 

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সুবোধের ভাষাও বদলেছে। সাম্প্রতিক গ্রাফিটিতে সুবোধ আর পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে না, বরং ভালোবাসা, শিল্প ও মানবিকতার ডাক নিয়ে হাজির হয়। নতুন চিত্রে দেখা যায়, সুবোধ এক কিশোরের মাথায় টুপি পরিয়ে দিচ্ছে—যেন সে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব, স্বপ্ন আর সৃষ্টিশীলতার ভার তুলে দিচ্ছে। এই রূপান্তর সুবোধকে কেবল প্রতিবাদের নয়, আশার প্রতীকে পরিণত করেছে।

২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রো স্টেশনের পাশের দেয়ালে সুবোধ আবার দেখা দেয়, তবে ভিন্ন ভঙ্গিতে। সেখানে সে ছিল প্রতিবাদকারীর ভূমিকায়—সময়ের অন্যায়, অসঙ্গতি আর নীরব চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক চরিত্র। এই গ্রাফিটি দেখিয়ে দেয়, সুবোধ কেবল নান্দনিক শিল্পকর্ম নয়; বরং সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে সংলাপে থাকা এক সামাজিক ভাষ্য।

সুবোধের গ্রাফিটিগুলোর মূল সুর ঘৃণা নয়, ভালোবাসা। বিভাজন বা সহিংসতার পরিবর্তে মানবিকতা, সাহস ও সম্মিলিত চেতনাকে সামনে আনা এই শিল্পের কেন্দ্রীয় বার্তা। দেয়ালে আঁকা এই চরিত্র যেন মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়—ভয়কে নয়, আশাকে বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করে।

এই গ্রাফিটির শিল্পীর পরিচয় আজও অজানা। তবুও সুবোধ বারবার ফিরে আসে সময়ের প্রয়োজনে। নগরের দেয়ালকে ক্যানভাস বানিয়ে সে কথা বলে রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সঙ্গে। সুবোধ এখন আর শুধু একটি গ্রাফিটি নয়; এটি ঢাকার নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে এক নীরব অথচ শক্তিশালী ভাষ্য।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

২০২৫ সালে স্পেনে পৌঁছাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৩ হাজারের বেশি অভিবাসী

২০২৫ সালে সমুদ্রপথে স্পেনে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৩,০৯০ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অভিবাসীদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘ রুটে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে।
এনজিও কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৯২ জন নারী ও ৪৩৭ জন শিশু রয়েছে। যদিও এই সংখ্যা ২০২৪ সালের ১০,৪৫৭ মৃত্যুর তুলনায় কম, তবুও পরিস্থিতিকে স্বস্তিদায়ক বলার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

 

সংস্থাটির গবেষণা সমন্বয়ক হেলেনা মালেনো জানান, চলতি বছরে ৩০৩টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে এবং অন্তত ৭০টি নৌকা নিখোঁজ হয়ে গেছে। তার মতে, আলজেরিয়া থেকে বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রার হার বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নৌকায় যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সমুদ্রপথ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমুদ্র ও স্থলপথে মোট ৩৫,৯৩৫ জন অনিয়মিত অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করেছেন, যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৬০,৩১১ জন। এই বড় ধরনের হ্রাসের পেছনে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে মরিতানিয়া হয়ে যাত্রা কমে যাওয়ায় স্পেনগামী অভিবাসনের চাপ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি অভিবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় ২১০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা পায়। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, এই সহযোগিতার ফলে অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা বেড়েছে—যা মরিতানিয়া সরকার অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জগামী আটলান্টিক রুটটি এখনো সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ২০২৫ সালে এই পথে প্রাণ হারিয়েছেন ১,৯০৬ জন। পাশাপাশি আলজেরিয়া–বালেয়ারিক রুটে মৃত্যু হয়েছে ১,০৩৭ জনের। এছাড়া গিনি থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন রুট ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

হেলেনা মালেনো এই পরিস্থিতিকে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাবে গড়ে ওঠা এক ধরনের “নেক্রোপলিটিক্স” বা মৃত্যুভিত্তিক নীতির ফল বলে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও ভয়ভীতি ইউরোপজুড়ে মানবাধিকারের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, সমুদ্রে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও সহায়তায় রাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনও অপর্যাপ্ত। উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব, পর্যাপ্ত সম্পদের ঘাটতি এবং জীবন রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

নিহত অভিবাসীরা ৩০টি দেশের নাগরিক। তাদের বেশিরভাগই পশ্চিম ও উত্তর আফ্রিকার হলেও, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, ইরাক ও মিসর থেকেও অনেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

এনসিপিতে যোগ দিলেন আসিফ মাহমুদ, হলেন মুখপাত্রঃ নির্বাচন না করার ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না আসিফ মাহমুদ।

 

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আসিফ মাহমুদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির নেতা। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে লড়াই করেছেন। “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি তিনি ঘোষণা করেছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের পক্ষে লড়াই করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের মধ্যে থেকে তিনি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে চেষ্টা করেছেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এনসিপিতে যোগদান করলেন।’

আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সংগ্রামী সময়ে এনসিপিকে ধরে রাখার জন্য আসিফ মাহমুদ এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। বরং এনসিপির মনোনীত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে পারেন এবং সংসদে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন, সেজন্য তিনি কাজ করবেন। এজন্য তাকে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্র মোতাবেক আসিফ মাহমুদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না। আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাদের সংসদে যেতে যদি অবদান রাখতে পারি, তাহলে এর থেকে বড় সাফল্য আর হতে পারে না। আমরা প্রত্যাশা করি, কোনো ধরনের হানাহানি ছাড়া এই গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, তিনি ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিধায় দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।

এর আগে ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন আসিফ মাহমুদ। একই সঙ্গে তার সমর্থকরা কুমিল্লা-৩ আসনে তার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু আজ কোনো আসনেই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে নারী-পুরুষ মজুরি বৈষম্যঃ হাজার হাজার নারী কর্মী পেলেন ক্ষতিপূরণ

ব্রিটেনের স্থানীয় কাউন্সিলগুলোতে কর্মরত নারী কর্মীদের সমান বেতনের দাবিতে করা আইনি নিষ্পত্তির মোট অঙ্ক ১ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। ট্রেড ইউনিয়ন জিএমবি জানিয়েছে, আগামী বছর আরও হাজার খানেক দাবি নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাউন্সিলগুলোর ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়াবে।

 

পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কেয়ারার, প্রশাসনিক কর্মী ও টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো নারী-প্রধান পেশায় কর্মরতদের পক্ষে এসব আইনি দাবি আনা হয়। অভিযোগ ছিল, সমান মূল্যমানের কাজ করলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ-প্রধান পেশার কর্মীদের তুলনায় কম বেতন ও কম সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন।

জিএমবি জানিয়েছে, ছয়টি স্থানীয় কাউন্সিলে কর্মরত প্রায় ৩০ হাজার নারী কর্মীর দাবি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব নিষ্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন পাউন্ড, যেখানে প্রতিটি দাবির গড় অঙ্ক প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড।

সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটি ছিল বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলকে ঘিরে। চার বছরব্যাপী আন্দোলন ও আলোচনার পর বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিল ও বার্মিংহাম চিলড্রেনস ট্রাস্টের কর্মীদের জন্য প্রায় ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের নিষ্পত্তি চুক্তি হয়। এই মামলাই ২০২৩ সালে কাউন্সিলটির কার্যত দেউলিয়া ঘোষণার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টিং বিশেষজ্ঞদের এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, কাউন্সিলটির আর্থিক অবস্থা শীর্ষ কর্মকর্তারা যেভাবে উপস্থাপন করেছিলেন, বাস্তবে তা ততটা সংকটাপন্ন নাও হতে পারে। জিএমবি জানায়, এই মামলায় কিছু কর্মী সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

২০১০ সালের ইক্যুয়ালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ কর্মীদের একই বেতন ও চুক্তিগত শর্ত নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কাজ ভিন্ন হলেও যদি তার মূল্য সমান হয়, তবে বেতন ও সুবিধার ক্ষেত্রেও সমতা থাকতে হবে—এই নীতির ভিত্তিতেই বেশিরভাগ মামলা পরিচালিত হয়েছে।

একক কোনো কাউন্সিল থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নিষ্পত্তি এসেছে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে। ২০২২ সালে সেখানে মোট ৭৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি হয়। যদিও সমান বেতনের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুত বেতন কাঠামো সংস্কার এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

গ্লাসগো ছাড়াও শেফিল্ডে ৬০ মিলিয়ন, লিডসে ১০ মিলিয়ন, ব্লেনাউ গুইনটে ৩ মিলিয়ন এবং ফালকার্কে ৩ মিলিয়ন পাউন্ডের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবুও জিএমবি বলছে, এখনো ২৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষে প্রায় ৪০ হাজার দাবি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে সারা দেশে স্থানীয় কাউন্সিলগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে রেকর্ডসংখ্যক কাউন্সিল সরকার থেকে ব্যতিক্রমী আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও ১০ হাজার সমান বেতন সংক্রান্ত দাবি আনার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে জিএমবি।

ইউনিয়নটি কোভেন্ট্রি ও ব্র্যাডফোর্ডসহ কয়েকটি কাউন্সিলকে সতর্ক করে জানিয়েছে, আলোচনায় না বসলে তাদের ‘চোখ কপালে ওঠার মতো’ বড় অঙ্কের নিষ্পত্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে এসাইলাম প্রার্থীদের ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরানোর প্রস্তাব

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরানোর প্রস্তাব নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সাসেক্সের পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিশনার (পিসিসি) কেটি বর্ন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের—বিশেষ করে পুরুষদের—ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে।

 

কেটি বর্নের দাবি, ট্যাগিং চালু হলে আশ্রয়প্রার্থীরা আটক বা আবাসন কেন্দ্রের বাইরে আরও দূরে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন এবং অস্থায়ী কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। তার মতে, এটি একদিকে নজরদারি জোরদার করবে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচলের ক্ষেত্রে “বেশি স্বাধীনতা” দেবে।

এই প্রস্তাব সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন সরকার সাসেক্সের ক্রোবরো আর্মি ট্রেনিং ক্যাম্পে সাময়িকভাবে ৫৪০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার পরিকল্পনা করছে। ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে ২০২৬ সালে।

হোম অফিস জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী যাদের বহিষ্কারের মুখে পড়তে হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক নজরদারি বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে যারা বহিষ্কারের আওতায় নেই, তাদের ওপর এমন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে বা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে দপ্তরটি।

হোম অফিসের একজন মুখপাত্র জানান, যুক্তিসংগত ক্ষেত্রে বিদেশি নন—এমন অপরাধীদের ওপরও ইলেকট্রনিক ট্যাগিং প্রয়োগ করা হয়। সরকারের দাবি, জননিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

সরকার আরও বলেছে, তারা সব আশ্রয় হোটেল বন্ধ করতে চায় এবং কমিউনিটির ওপর চাপ কমাতে আশ্রয়প্রার্থীদের সামরিক ঘাঁটির মতো “আরও উপযুক্ত” আবাসনে স্থানান্তর করছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ও বায়োমেট্রিক যাচাই করা হচ্ছে।

কেটি বর্ন বলেন, হাজার হাজার মানুষ যখন আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকে, তখন তাদের কেউ অপরাধের শিকার বা অপরাধে জড়িত হতে পারে—এটি অনিবার্য। তার ভাষায়, পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন মানুষকে খুঁজে বের করা, যাদের যুক্তরাজ্যে খুব কম সরকারি পরিচয় বা ডিজিটাল তথ্য রয়েছে।

২০২৫ সালের শুরুতে সাসেক্স পুলিশ নিয়মিত দোকানচুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ইলেকট্রনিক ট্যাগিং পাইলট প্রকল্প চালু করে। বর্ন জানান, সেই প্রকল্পের ফলাফল ছিল “আশাব্যঞ্জক” এবং নজরদারির ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ট্যাগ পরতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সেটি পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইঙ্গিত হতে পারে। নতুন বছরের প্রস্তাব হিসেবে তিনি স্বরাষ্ট্র সচিবকে ক্রোবরোতে আসতে যাওয়া আশ্রয়প্রার্থী পুরুষদের নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প চালুর আহ্বান জানান।
তবে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা রামফেল এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই আশ্রয়প্রার্থীদের ট্যাগ পরানো নিষ্ঠুর ও শাস্তিমূলক, এবং এতে আরও বেশি সরকারি অর্থ বেসরকারি কোম্পানির হাতে চলে যাবে।

রামফেল বলছে, সরকার যদি সত্যিই ব্যয় কমাতে ও অপরাধ প্রতিরোধ করতে চায়, তাহলে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় মানুষকে কাজ করার অধিকার দেওয়া উচিত। এতে তারা আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে যুক্ত হতে পারবে, নিজের খরচ চালাতে পারবে এবং হোটেল বা সামরিক ব্যারাকে রাখার প্রয়োজন কমবে।

এই প্রস্তাব ঘিরে একদিকে নিরাপত্তা ও নজরদারির যুক্তি, অন্যদিকে মানবাধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন—দুই মেরুর টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আশ্রয়প্রার্থী নীতিতে সরকার শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশটির রাজনীতি ও মানবাধিকার মহল।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে