Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ হতে হলে শেতাঙ্গ হতে হবে –জনগণের মধ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গি বাড়ছেঃ রিপোর্ট

ব্রিটেনে ‘ব্রিটিশ হওয়া’ কী—এই প্রশ্নে জনমতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, ‘ব্রিটিশ পরিচয় জন্মসূত্রে অর্জিত’—এমন বিশ্বাস গত দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটি ব্রিটেনে জাতিগত জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিস্তারের একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।

ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (IPPR)–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে করেন ব্রিটিশ পরিচয় গড়ে ওঠে যৌথ মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ব ও সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে। তবে ক্রমবর্ধমান একটি অংশ মনে করছে, জাতিগত পরিচয়, জন্মস্থান ও বংশপরিচয়ই প্রকৃত ব্রিটিশত্ব নির্ধারণ করে।

 

থিঙ্কট্যাঙ্কটির জন্য এ মাসে ইউগভ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন সত্যিকারের ব্রিটিশ হতে হলে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া জরুরি। ২০২৩ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ, যা দুই বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

জরিপে সবচেয়ে কট্টর অবস্থান দেখা গেছে নাইজেল ফ্যারাজের দল রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের মধ্যে। তাদের ৭১ শতাংশ মনে করেন, ব্রিটিশ বংশপরিচয় না থাকলে কেউ প্রকৃত অর্থে ব্রিটিশ হতে পারেন না। একই সঙ্গে ৫৯ শতাংশ সমর্থক বিশ্বাস করেন, ব্রিটেন একটি নাগরিকভিত্তিক রাষ্ট্র নয়, বরং একটি জাতিগত সম্প্রদায়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, রিফর্ম ইউকের ভোটারদের একটি অংশ ব্রিটেনের জাতিগত বৈচিত্র্যকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। ৩৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ কমে গেলে তারা দেশ নিয়ে বেশি গর্ববোধ করবেন। এমনকি ১০ শতাংশ বলেছেন, একজন ভালো ব্রিটিশ নাগরিক হতে সাদা ত্বক অর্থাৎ শেতাঙ্গ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ—যা গবেষকদের মতে চরম ডানপন্থী বয়ানের প্রতিফলন।

IPPR বলছে, এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ও অনলাইন প্রচারণা জনমনে জাতীয় পরিচয়ের ধারণা পুনর্গঠনে আংশিকভাবে সফল হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশ জনগণের বড় অংশ এখনো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল ব্রিটিশত্বে বিশ্বাস করে, যেখানে জাতিগত পরিচয়ের চেয়ে মূল্যবোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

IPPR–এর সহযোগী পরিচালক পার্থ প্যাটেল বলেন, ডানপন্থী রাজনীতিক ও কর্মীরা জাতীয় পরিচয়কে প্রাচীন অধিকার ও ইতিহাসের সঙ্গে বেঁধে দিতে চাইছেন। তার মতে, উদ্বেগের বিষয় হলো—এই প্রচেষ্টা কিছু মানুষের চিন্তাভাবনায় বাস্তব প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, যা সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি।

গবেষণায় দেখা যায়, রিফর্ম ইউক ছাড়া কনজারভেটিভসহ অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের অধিকাংশই ব্রিটেনকে একটি নাগরিকভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখেন, যা যৌথ মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে, জাতিগত বংশপরিচয়ের ওপর নয়।

‘একজন ভালো ব্রিটিশ নাগরিক’ বলতে কী বোঝায়—এই প্রশ্নে উত্তরদাতারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন আইন মেনে চলা, সন্তানদের মানবিক ও সদয় করে গড়ে তোলা এবং পরিশ্রমকে। মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ভালো নাগরিক হতে সাদা ত্বক জরুরি—যা দেখায় যে চরম মতামত এখনো সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছে।

ভবিষ্যতে কোন বিষয়গুলো ব্রিটেন নিয়ে গর্বের কারণ হবে—এ প্রশ্নে জনগণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কার্যকর এনএইচএস, জীবনযাত্রার মান ও আবাসন সংকট সমাধানকে। অভিবাসন কমানো বা জাতিগত বৈচিত্র্য হ্রাস—এই বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম অগ্রাধিকার পেয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে IPPR প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়েছে, লেবার পার্টি কনফারেন্সে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিত্তিতে একটি সুস্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পুনর্গঠন কর্মসূচি গ্রহণ করতে। ওই ভাষণে স্টারমার কট্টর ডানপন্থার বিরুদ্ধে ‘দেশের আত্মার জন্য লড়াই’-এর কথা বলেন এবং জাতিগত বিভাজনের রাজনীতিকে জাতীয় পুনর্গঠনের শত্রু হিসেবে আখ্যা দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ রাজনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া জাতিগত জাতীয়তাবাদী ধারণা সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকের বক্তব্যে উঠে এসেছে—ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এই প্রবণতার বাস্তব প্রভাব।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ পরিচয় নিয়ে এই মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব আগামী দিনে রাজনীতি ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। প্রশ্ন হলো—ব্রিটেন কি যৌথ মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারবে, নাকি পরিচয়ের রাজনীতি আরও গভীর বিভাজনের দিকে দেশকে ঠেলে দেবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

প্রথমেই আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ-দুর্নীতির দিকে দৃষ্টি দিবেন প্রধান বিচারপতি

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ২৮ ডিসেম্বর শপথ নিয়ে তার কার্যকাল শুরু করেছেন প্রধান বিচারপতি হিসেবে। নবনিযুক্ত এই প্রধান বিচারপতির কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা আইনজীবীদের নেতা সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের। একান্ত আলাপচারিতায় ‍তিনি নানা কথা বললেন বর্তমান প্রধান বিচারপতির সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতা সম্পর্কে।

ব্যারিস্টার কাজল বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে আমার বেশ কয়েকটি প্রত্যাশা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনেকগুলো অনিয়ম আমাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে। যেমন সুপ্রিম কোর্টসহ নিম্ন আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিছু ঘুষ-দুর্নীতি কথা প্রতিনিয়ত আমরা দেখি। যার সরাসরি শিকার আমরা হই।
একটা প্রশাসনিক অচলাবস্থা বা শৃঙ্খলার অভাব আমরা লক্ষ্য করি বিভিন্ন আদালতে, প্রশাসনে। আমি মনে করি প্রধান বিচারপতি এই বিষয়টার দিকে প্রথমেই দৃষ্টি দিবেন। এখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিগত দিনে বেশ কয়েকজন বিচারপতি যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে , বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে ইতিপূর্বে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মুখোমুখি হয়ে তাদেরকে বিদায় নিতে হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে বা তার জানামতে যারা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি যারা বিচারক কর্মে যদি কেউ নিযুক্ত থাকেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন-এটা আমার প্রত্যাশার জায়গা।
তিনি বলেন, আইনজীবী হিসেবে আমাদেরও প্রধান বিচারপতি এবং এই কর্মযজ্ঞে নিজেদের নিযুক্ত হওয়া দরকার। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি আইনজীবীদের মধ্যে যারা অত্যন্ত সৎ, মেধাবী এবং যোগ্য তাদেরকেও প্রধান বিচারপতি যদি এই কর্মযজ্ঞ শুরু করেন তাহলে সেখানে সহযোগিতা করা দরকার। এ ধরনের একটা পরিবর্তনে যারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিতে জড়িত, জামিন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বা সিন্ডিকেট করে সুপ্রিম কোর্টকে বিভিন্ন বিচারপতিকে জিম্মি করে এমন ব্যক্তিরা তারা কিন্তু এই নিয়োগে খুব বেশি খুশি হয়নি। কিন্তু আমি অত্যন্ত খুশি এই নিয়োগে। নিয়োগ পাওয়ার পর তাকে আমি অভিনন্দন জানিয়েছি।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বলতে যে অবয়বটা আমাদের মনের মধ্যে চলে আসে যেখানে হবে বিচার আইনের প্রক্রিয়ার মধ্যে চলবে। কোন রকম বিচ্যুতি হবে না। শ্রেনীভেদে কোন মানুষের বিচারে বৈপরীত্য হবে না। সব মানুষ ন্যায় বিচার পাবে। সুপ্রিম কোর্টে আসলে মানুষ মনে করবে যে ন্যায় বিচারের মানদন্ড এখানে সমুজ্জ্বল। এরকম একটা প্রত্যাশা সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সেই অবয়বটা ফিরিয়ে আনবেন প্রধান বিচারপতি। আমাদের বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ অনেক চেষ্টা করে সুপ্রিম কোর্টকে একটা পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। স্বতন্ত্র সচিবালয় হয়েছে। যার পুরো কার্যক্রম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
নিয়মিত একজন প্রধান বিচারপতিকে যে ধরনের কাজ করতে হয় এর থেকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং জব বর্তমান প্রধান বিচারপতির কাছে আমার মনে হয়। সেই ক্ষেত্রে আমি প্রধান বিচারপতিকে বলব আপনি যেমন প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ যেমন দুর্নীতিমুক্ত বিচার প্রশাসন তৈরী করবেন, দুর্নীতিবাজ বিচারকদের বিতাড়ন করবে আমার প্রত্যাশা। বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে কেউ যদি দুর্নীতিগ্রস্থ হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবেন।
দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করবেন-এমনটাই প্রত্যাশা প্রধান বিচারপতির কাছে। সেক্ষেত্রে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে যেহেতু আমি বার কাউন্সিলের সারা দেশের আইনজীবীদের কর্তৃক নিযুক্ত নির্বাচিত সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য ও একাধিকবার সম্পাদক নির্বাচিত করার মাধ্যমে আস্থায় রেখেছেন আমাকে। আমি তাদের পক্ষ থেকে বলতে চাই আপনার এই কাজের সৎ, যোগ্য ও দক্ষ যাদের পেশা এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রািত ভালোবাসা ও দরদ আছে তারা সবাই আপনাকে সহযোগিতা করবে। সেক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয় প্রধান বিচারপতির আরেকটি কাজ হবে বারের সঙ্গে আইনজীবীদের সঙ্গে এনগেইজমেন্ট করা।
তিনি বলেন, আমি উনার সম্পর্কে যতটুকু জানি উনি পাবলিকলি এক্সপোজড হতে চান না। এটা অনেক ভালো গুণ। যে কোন কাজে বা সামাজিক কোন কাজকর্মে উনি নিজেকে এক্সপোজড করতে চান না। আমি মনে করি সুপ্রিম কোর্টকে কার্যকর করার জন্য উনার মিশন ও ভিশনকে কার্যকর করতে হয় তাহলে আইনজীবীদের আস্থায় না আনতে পারলে সেটা অর্জন করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে আমি উনাকে অনুরোধ করব বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয় করা। আইনজীবীদের কি সমস্যা সেই বিষয়ে উনাকে আইনজীবীদের সঙ্গে এনগেইজড হওয়া দরকার প্রধান বিচারপতির।
ফলে বাস্তব অবস্থা উনি অনেক বেশি ফিডব্যাক পাবেন। বিচার প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে না যদি না আইনজীবীরা সেক্ষেত্রে সহযোগিতার মনোভাব না দেখায়। একটা প্রাতিষ্ঠানিক সিষ্টেম করার জন্য এটা একটা কমপ্যাক্ট সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে নজর দেবেন এবং আইনজীবীদের এনগেইজমেন্টের মধ্যে রাখবেন। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি স্বপ্নের যে অবয়বে সুপ্রিম কোর্টকে দেখি ন্যায় বিচারের মানদন্ড হিসেবে, নিপীড়িত -নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখি সেরকম একটা জায়গা সেরকম একটা সুপ্রিম কোর্ট মাথা উচু করে দাড়াবে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর যোগ্য নেতৃত্বে।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন, প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর দ্বিতীয় কর্মদিবস আজ। এখন সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ চলছে। ৪ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত কোর্ট শুরু হবে। প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার পর উনি অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি বিভিন্ন পর্বে পর্বে মিটিং করছেন প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে। মাননীয় বিচারপতিদের সঙ্গেও উনি কথা বলেছেন বলে আমরা জেনেছি।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ ও  কর্মনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার বিচারিক জীবনে কেউ কখনো তাকে তার ন্যায়-নীতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হতে দেখেনি। আপিল বিভাগে যখন উনি বিচারপতি পদে নিযুক্ত হয়েছেন, যদিও অনেক আগেই তার আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে তাকে অনেকবার ডিঙ্গানো হয়েছে। তার থেকে যারা পরে হাইকোর্টে নিয়োগ পেয়েছেন সেসব জুনিয়র বিচারপতিদের উপরে উঠানো হয়েছে। আপনারা তা দেখেছেন।
এই বিচ্যুতি বা তাকে ডিঙ্গানোর পরেও তিনি কখনো তার কোন বিচারিক কার্যক্রম  বা কথাবার্তার মধ্যে কোন শ্লেষ বা ক্রোধ প্রকাশ করেননি। তিনি সবসময় একটা কথা বলে থাকেন যেটা আমরা স্পষ্টত দেখতে পাই যে, আইন, সংবিধান ও বিচারিক নীতির যে মানদন্ড তার বাইরে কখনো নিজেকে নিয়ে যাননি। আমি মনে করি সে হিসেবে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি অন্য অনেকের চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
তিনি বলেন, তার পিতা প্রয়াত বিচারপতি আব্দুর রহমান চৌধুরীও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্যগতভাবেও তাদের পরিবার অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ ও ধার্মিক এবং ন্যায় পরায়ণ ব্যক্তি বলে পরিচিত। এই ধারাটা সবসময় উনার মধ্যে দেখেছি।
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

এআই দিয়ে নকল করার প্রবনতা বাড়ায় অনলাইন পরীক্ষা বন্ধ করছে ACCA

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় অনলাইনে রিমোট পরীক্ষা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম হিসাববিদদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (ACCA)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী মার্চ থেকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া পরীক্ষার্থীদের আর ঘরে বসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না; সবাইকে সশরীরে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে মূল্যায়নে অংশ নিতে হবে।

 

প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার সদস্য এবং পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে কাজ করা ACCA বলছে, অনলাইন পরীক্ষার নিরাপত্তা বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে এআই–ভিত্তিক টুল সহজলভ্য হওয়ায় নকলের কৌশলগুলো এতটাই উন্নত হচ্ছে যে প্রচলিত নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় তা ঠেকানো যাচ্ছে না।

ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ACCA–র প্রধান নির্বাহী হেলেন ব্র্যান্ড বলেন, নকল প্রতিরোধে সংস্থাটি ব্যাপক উদ্যোগ নিলেও যারা নিয়ম ভাঙতে চায়, তারা আরও দ্রুতগতিতে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তার মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি—বিশেষ করে এআই—এই সংকটকে একটি ‘টার্নিং পয়েন্টে’ নিয়ে এসেছে।

কোভিড–১৯ মহামারির সময় লকডাউনের কারণে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অনলাইন ও রিমোট পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল। সে সময় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নকল ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ বাড়তে থাকে।

২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের হিসাব ও নিরীক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (FRC) জানায়, পেশাগত পরীক্ষায় নকল একটি “চলমান ও গুরুতর সমস্যা”। তদন্তে দেখা যায়, এমনকি শীর্ষস্থানীয় বা টিয়ার–ওয়ান অডিটরদের মধ্যেও নকলের ঘটনা ঘটেছে।

এই তালিকায় রয়েছে ‘বিগ ফোর’ অডিট ফার্ম—কেপিএমজি (KPMG), পিডব্লিউসি (PwC), ডেলয়েট (Deloitte) ও ইওয়াই (EY)—এছাড়া মাজর্স, গ্রান্ট থরন্টন ও বিডিওর মতো বড় প্রতিষ্ঠান। নকল–কেলেঙ্কারির জেরে বিশ্বজুড়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বহু মিলিয়ন ডলারের জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে।

২০২২ সালেই ইওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সমঝোতায় নৈতিকতা পরীক্ষায় নকল ও পরবর্তী তদন্তে বিভ্রান্তির অভিযোগে রেকর্ড ১০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়, যা এই সংকটকে আরও সামনে নিয়ে আসে।

এআই–এর দ্রুত বিস্তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ACCA মনে করছে, অনলাইন পরীক্ষার তুলনায় সশরীরে পরীক্ষা নেওয়াই এখন সবচেয়ে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি।

যদিও ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (ICAEW) জানিয়েছে, নকলের অভিযোগ এখনও বাড়ছে, তবুও তারা সীমিত পরিসরে কিছু পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার সুযোগ রাখছে। তবে হেলেন ব্র্যান্ডের মতে, বর্তমানে খুব কম সংখ্যক উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পেশাগত পরীক্ষা আছে, যেখানে রিমোট নজরদারির মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া নিরাপদ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের উত্তরে তীব্র শীতের কবলে নববর্ষ, ভারী তুষারপাতের সতর্কতা জারি

২০২৬ শুরুর আগেই কনকনে ঠান্ডা, ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস যুক্তরাজ্য মেট অফিসের।
নববর্ষের শুরুতেই যুক্তরাজ্যের বড় একটি অংশ তীব্র শীত ও ভারী তুষারপাতের মুখে পড়তে যাচ্ছে। মেট অফিস স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় তুষার ও বরফের জন্য ইয়েলো সতর্কতা জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ২ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে ঘন ঘন ও ভারী তুষারপাতের কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

 

মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল নাগাদ অনেক এলাকায় ২ থেকে ৫ সেন্টিমিটার তুষার জমতে পারে, স্থানীয়ভাবে তা ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ২০০ মিটারের বেশি উচ্চতার এলাকায় ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ি সড়ক ও পাহাড়চূড়ায় এই সময়ের মধ্যে ৩০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি তুষার জমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অ্যাম্বার কোল্ড হেলথ অ্যালার্ট জারি করেছে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA), যা ৫ জানুয়ারি দুপুর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এই শীতল আবহাওয়া স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা আছে এমন ব্যক্তি ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও শীতের প্রভাব বাড়ছে। পূর্ব ও পশ্চিম মিডল্যান্ডস, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড, ইস্ট অব ইংল্যান্ড, ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড দ্য হাম্বার এবং লন্ডনে ইয়েলো কোল্ড হেলথ অ্যালার্ট জারি রয়েছে। এসব এলাকায় নতুন বছরের দিন থেকে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মেট অফিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ কয়েক দিন তুলনামূলকভাবে মৃদু থাকলেও ২০২৬ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে উত্তর যুক্তরাজ্যে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শীতল ও তুষারময় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। মেট অফিসের পূর্বাভাসবিদ ড্যান স্ট্রাউড বলেন, স্থিতিশীল ঠান্ডা আবহাওয়া সরে গিয়ে আরও অস্থির ও শীতকালীন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে উত্তরাঞ্চলে

UKHSA আরও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে শুধু বয়স্করাই নয়, তরুণরাও প্রভাবিত হতে পারেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতাল ও কেয়ার হোমে ঘরের তাপমাত্রা সুপারিশকৃত ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ভ্রমণ বিঘ্নের কারণে জনবল সংকট দেখা দিতে পারে এবং পরিবহন ও জ্বালানি খাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

চরম আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ড. আগোস্তিনহো সুসা বলেন, ঠান্ডা আবহাওয়া শুরু হলে ঝুঁকিপূর্ণ বন্ধু, পরিবার ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, এই তাপমাত্রা হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে প্রবীণ ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে।

আলঝেইমারস সোসাইটিও সতর্কতা দিয়েছে যে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। তারা অনেক সময় ঠান্ডা অনুভব করলেও তা বুঝতে বা প্রকাশ করতে পারেন না। সংস্থাটি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে, এ ধরনের ব্যক্তিরা যেন উষ্ণ পোশাক পরেন, গরম ঘরে থাকেন এবং নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরা করেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গাজায় তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগ, তবুও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না ত্রাণঃ জাতিসংঘের সংস্থা

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি গণহত্যার যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় শীতকালীন তীব্র আবহাওয়া ফিলিস্তিনেদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, এ অবস্থাতেও ‘প্রয়োজনীয় পরিমাণে ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’

 

সংস্থার কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেছেন, ‘আরও বৃষ্টিপাত। আরও মানুষের দুর্দশা, হতাশা এবং মৃত্যু।’ গাজার মানুষ ‘ক্ষীণ, পুরাতন তাঁবু এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে আছে।’

লাজ্জারিনি বলেন, যদি সাহায্যের প্রবাহ আসে, তাহলে ইউএনআরডব্লিউএ আগামীকালই এই প্রচেষ্টাগুলোকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

পৃথকভাবে ফিলিস্তিনি সরকার জানিয়েছে, তীব্র আবহাওয়ার মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের জরুরি মানবিক চাহিদা মেটাতে গাজায় প্রায় ২ লাখ প্রিফেব্রিকেটেড আবাসন ইউনিটের প্রয়োজন।

সরকারের অপারেশন রুম এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান আবহাওয়ায় (ঝড়-বৃষ্টিও হচ্ছে) শহরজুড়ে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত তাঁবু প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক তাঁবু উড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি শহরজুড়ে মানবিক জরুরি অবস্থা আরও তীব্র করে তুলেছে।

আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে গাজায় একটি মেরু নিম্নচাপ প্রবাহিত হচ্ছে। এটি চলতি শীত মৌসুমের তৃতীয় নিম্নচাপ- যার ফলে ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাস বইছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজার ফিলিস্তিনিরা প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধেও টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে। পূর্ববর্তী দুটি আবহাওয়াগত নিম্নচাপে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়েছে- বন্যার ফলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত তাঁবু বিধ্বস্ত হয়ে চার শিশুসহ ১৭ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনে- বিশেষভাবে যারা জীর্ণ তাঁবুতে অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই ভবনগুলো বারবার ইসরায়েলি হামলার শিকার হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় এক নৃশংস হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী ৭১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৭১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই হামলায় শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘লন্ডনই বিশ্বের সেরা শহর’—নিউইয়র্ককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সাদিক খান

বিশ্বের সেরা শহরের খেতাব নিয়ে লন্ডন ও নিউইয়র্কের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন করে আগুন জ্বালালেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। জনপ্রিয় আমেরিকান অনলাইন টক শো ‘সাবওয়ে টেইক্স’-এ অংশ নিয়ে তিনি সরাসরি ঘোষণা দেন—লন্ডনই বিশ্বের সেরা শহর।

 

৫৫ বছর বয়সী সাদিক খান, যিনি বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে লন্ডনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন, এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে সফর করেন। শো-এর উপস্থাপক ও কৌতুকশিল্পী করিম রহমা সাধারণত নিউইয়র্ক সাবওয়েতে অনুষ্ঠানটি ধারণ করলেও এবার ব্যতিক্রম হিসেবে লন্ডনে এসে এই পর্বটি ধারণ করেন।

অনুষ্ঠানে সাদিক খান বলেন, নিউইয়র্ক আমেরিকার আর্থিক কেন্দ্র, লস অ্যাঞ্জেলেস সাংস্কৃতিক রাজধানী এবং সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও লন্ডনের শক্তি হলো—সবকিছুর সমন্বয়। তার ভাষায়, ‘লন্ডনের আছে সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি—সবই।’

এই মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সঞ্চালকের সঙ্গে লন্ডন বনাম নিউইয়র্ক নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ মতবিরোধ তৈরি হয়। দক্ষিণ লন্ডনে বেড়ে ওঠা সাদিক খানের কথাবার্তায় স্থানীয় ঢং স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন তিনি বলেন—‘লিসেন ব্রাভ’, যা মুহূর্তেই দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে খান ব্যক্তিগত মতামত জানিয়ে বলেন, তিনি বেকড বিনস পছন্দ করেন না। মজা করে যোগ করেন, এই কথা বলার জন্য তাকে হয়তো ‘টাওয়ার অব লন্ডনে বন্দি’ করা হতে পারে। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, নিউইয়র্কের সদ্য নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সাদিক খান ও মামদানির মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে—দুজনই নিজ নিজ শহরের নেতৃত্বে আসা প্রথম বর্ণবাদিত সংখ্যালঘু নেতা এবং দুজনই মুসলিম। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে উভয়েই অতীতে বিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

যদিও সাদিক খানের মন্তব্য ছিল হাস্যরসাত্মক, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ট্রাম্প লন্ডনে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় খানকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে তাকে ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং লন্ডনে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের এসব অভিযোগের জবাবে সাদিক খান সংযত অবস্থান নেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে বর্ণবাদী ও ইসলামোফোবিক বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, মনে হচ্ছে তিনি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার ভেতরে বিনা ভাড়ায় বাস করছেন’।

এমনকি মজা করে খান বলেন, ট্রাম্পের নাকি তার ওপর ‘এক ধরনের ক্রাশ’ আছে।
বিশ্বের দুই প্রভাবশালী শহরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আপাতত বন্ধুত্বপূর্ণ থাকলেও, সাদিক খানের মন্তব্য নতুন করে লন্ডন বনাম নিউইয়র্ক বিতর্ককে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণঃ বিএসএফকে আবারও রুখে দিল বিজিবি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ঘোনাপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা আবারও রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পতাকা বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি সদস্যদের প্রচণ্ড বাধার মুখে বেড়া নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বিএসএফ সদস্যরা বাধ্য হন। এ নিয়ে সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বিজিবি সদস্যরা ওই সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

শনিবার ভোরে সীমান্তের ২৮১ নম্বর মেইন সীমান্ত পিলারের ৪৭, ৪৮ ও ৪৯ নম্বর সাব পিলার এলাকায় বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে বিজিবির বাধা এবং কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে তা বন্ধ করা হয়। অথচ রোববার তারা আবারও সেখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায়।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট-২০ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি এখন শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা কোনো অবস্থায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে দেব না।

তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে সোমবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘আমি এসে তোমাকে মেরে ফেলব’—৯৯৯ ও ১১১- কর্মীদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

জরুরি সেবার ফোন রিসিভ করা কর্মীরা প্রতিদিন মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করলেও, সেই ফোনেই তারা বর্ণবাদী গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ছেন। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস (LAS) সম্প্রতি ১১১ ও ৯৯৯ নম্বরের কল হ্যান্ডলারদের বিরুদ্ধে আসা এমন ভয়াবহ নির্যাতনের একাধিক উদাহরণ প্রকাশ করেছে।

 

LAS-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত এক বছরে ৯৯৯ কল হ্যান্ডলারদের ৫৪ শতাংশ এবং ১১১ নম্বরে কর্মরত ৪৮ শতাংশ কর্মী হুমকি, হয়রানি ও মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কন্ট্রোল রুমে কর্মরত প্রতি চারজনের একজনকে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

প্রকাশিত একটি ১১১ কল রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, এক কলার হ্যান্ডলারকে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমাকে রাগাবেন না… আমি যদি সেখানে আসি, আপনাকে মেরে ফেলব।” এ ধরনের কল কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছে LAS।

জরুরি কল সমন্বয়কারী জুড রডম্যান-কোল জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেই তিনি অসংখ্য ঘৃণ্য গালিগালাজ শুনেছেন। তিনি বলেন, এক নারী কর্মীকে তার মায়ের মৃত্যুর বার্ষিকীর সময় বলা হয়, “আমি আশা করি তোমার বাবা-মা মারা যাবে।” নারী কল হ্যান্ডলারদের ‘বোকা’, ‘মূর্খ’ বলা হয় এবং যাদের উচ্চারণ ভিন্ন, তাদের ‘নিজের দেশে ফিরে যেতে’ বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, ফোন কল যারা করেন তারা অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তে ফোন করেন—এটা সেবাপ্রদানকারীরা বোঝেন এবং সে অনুযায়ী সহায়তা দিতে প্রশিক্ষিত। তবে বর্ণবাদ, হুমকি ও অপমান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কারণে কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগজনিত অসুস্থতা বাড়ছে, যা পুরো লন্ডনের জরুরি সেবা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ক্রয়ডনে কর্মরত ১১১ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা লাইকাশিয়া ব্রাউন-ফ্লিন জানান, রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন নেই জানালে অনেক সময় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। নিজের কাজ করার জন্য আমাদের অপমান সহ্য করা উচিত নয়। আমরা সবাই মানুষ, আর বর্তমান সমাজে বর্ণবাদের কোনো জায়গা নেই।”

এ পরিস্থিতিতে LAS ‘All we want for Christmas is… RESPECT’ শিরোনামে একটি নতুন সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে। এর লক্ষ্য—ফোনে সাড়া দেওয়া জরুরি সেবা কর্মীদের প্রতি সম্মান দেখাতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।

৯৯৯ অপারেশনের উপপরিচালক লরেন্স কাউডেরয় বলেন, কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নির্যাতন সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, কল চলাকালে প্রশ্ন করা ও তথ্য যাচাই করা জরুরি—যাতে কলাররা দ্রুত ও সঠিক সহায়তা পায়। প্রতিটি অপমানজনক কল জীবনসংকটাপন্ন অন্য রোগীদের কাছ থেকে মূল্যবান সময় কেড়ে নেয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের নির্যাতন চললেও ২০২৪ সালে এতে পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে LAS-এর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কর্মী নির্যাতনের শিকার। অনেকেই একাধিকবার, কেউ কেউ দশবারেরও বেশি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।

LAS জানিয়েছে, তারা দেশের প্রথম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস হিসেবে সহিংসতা হ্রাস ইউনিট গঠন করেছে, যাতে কর্মীরা নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে পারেন এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে খোলার পাঁচ দিনের মাথায় বর্ণবাদী হামলার শিকার এক রেস্তোরাঁ মালিক

লন্ডনের পূর্বাঞ্চলীয় ওয়ালথামস্টোতে সদ্য চালু হওয়া একটি রেস্তোরাঁ খোলার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় প্রকাশ্য বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়েছে। স্থানীয় এক নারীর গালিগালাজ ও হুমকিতে রেস্তোরাঁর গ্রাহক ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার জেরে পুলিশ একজন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

রোববার রাতে Axe and Ember Smokehouse রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে বসা গ্রাহক ও কর্মীদের লক্ষ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক গালি দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নারী বাইরে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট ধরে ‘থাম্বস ডাউন’ ইশারা করতে থাকেন। পরে রেস্তোরাঁর মালিকদের একজন উজমা হুসেইন বাইরে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

উজমা, পেশায় একজন আইনজীবী, জানান—প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ওই নারী তাকে মৌখিকভাবে অপমান ও হেনস্তা করেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি দলটির উদ্দেশে একাধিক বর্ণবাদী গালি ছুড়ে দিয়ে বলেন, “তোমরা এখানকার নও।” এ সময় কুকুর হাঁটাতে থাকা এক ব্যক্তি প্রতিবাদ জানালে তাকেও গালিগালাজ করা হয়।

উজমা বলেন, তিনি ওয়ালথামস্টোতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এলাকাটিকে নিজের বাড়ি বলে মনে করেন বলেই সেখানেই ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, শুরুতে ভেবেছিলেন ওই নারী হয়তো মাংসভিত্তিক খাবারের কারণে আপত্তি করছেন, কিন্তু পরে সরাসরি বলা হয়—এশিয়ান হওয়ায় কেউ নাকি সেখানে খেতে আসবে না।

ঘটনার সময় রেস্তোরাঁর কয়েকজন গ্রাহক উজমাকে সমর্থন জানাতে এগিয়ে এলে তারাও অপমানের শিকার হন। একজন গ্রাহক জানান, সমর্থনে আসা এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, নতুন ব্যবসা হিসেবে রেস্তোরাঁটি এখনো খুব বেশি গ্রাহক পাচ্ছে না—এমন সময় এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তবে ঘটনার পর এলাকাবাসী ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন উজমা ও তার পরিবার। তিনি বলেন, অসংখ্য মানুষ খোঁজ নিয়েছে এবং ঘটনার সময়ও অনেকে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে, যা তাকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে বর্ণবিদ্বেষমূলক সাধারণ হামলার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

Categories
ফিচার

আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারেঃ নতুন গবেষণার সতর্কতা

আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার (UPF) নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন সতর্কতার কথা জানিয়েছে গবেষণা জার্নাল Thorax-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা। এর আগে এসব খাবারের সঙ্গে হৃদরোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং কম আয়ুর সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, এবার ক্যানসারের তালিকায় যুক্ত হলো ফুসফুসের ক্যানসার।

 

গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৬২ বছর এবং তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যারা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণে UPF গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি।

আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার সাধারণত শিল্পকারখানায় তৈরি হয় এবং এতে স্বাদ ও চেহারা উন্নত করতে বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণকারী, রং ও অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় উল্লেখযোগ্য UPF-এর মধ্যে রয়েছে আইসক্রিম, দোকান থেকে কেনা সস ও স্যুপ, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, সফট ড্রিংকস, মিষ্টিজাত খাবার, ভাজা খাবার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, হট ডগ, বার্গার ও পিজ্জা।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যতালিকায় সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে লাঞ্চ মিট (১১ শতাংশ), ডায়েট বা ক্যাফেইনযুক্ত সফট ড্রিংকস (৭ শতাংশের একটু বেশি) এবং ডিক্যাফেইনেটেড সফট ড্রিংকস (প্রায় ৭ শতাংশ)। এসব খাবারে সাধারণত পুষ্টিগুণ কম হলেও চিনি, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে।

সমগ্র গবেষণায় মোট ১,৭০৬টি ফুসফুসের ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১,৪৭৩টি ছিল নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার, যা ধীরে বাড়ে, এবং বাকি ২৩৩টি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক স্মল সেল লাং ক্যানসার।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা হওয়ায় সরাসরি কারণ-ফলাফল নিশ্চিত করা যায় না। ধূমপানের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির বিষয় এতে পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তবুও গবেষকদের মতে, আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে UPF-এর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি স্থূলতা, হৃদরোগ, বিপাকীয় সমস্যা, ক্যানসার এবং সামগ্রিক মৃত্যুহার বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

পুষ্টিবিদ রব হবসন মনে করেন, নির্দিষ্ট কোনো খাবারকে এককভাবে দোষারোপ না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়াই বাস্তবসম্মত পথ। তিনি বলেন, এই গবেষণা মানুষের চারপাশের ‘খাদ্য পরিবেশ’ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে—যেখানে আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার সস্তা, সহজলভ্য এবং ব্যাপকভাবে প্রচারিত।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে