আয়ারল্যান্ডে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ স্কারলেট ফিভার নিয়ে সতর্ক করেছে দেশটির স্বাস্থ্য পরিষেবা নির্বাহী সংস্থা (এইচএসই)। অক্টোবর মাস শুরু হওয়ার পর অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। গ্রুপ এ স্ট্রেপটোকক্কাস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে এ রোগ হয়। সাধারণত ছোট শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও এ রোগ হতে পারে।
স্কারলেট ফিভার সাধারণত প্রায় এক সপ্তাহ স্থায়ী হয় এবং অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর চিকিৎসা করা যায়। লক্ষণ প্রকাশের ছয় দিন আগেও আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। অ্যান্টিবায়োটিকের প্রথম ডোজ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সাধারণত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে আসে। তবে চিকিৎসা না করালে লক্ষণ শুরুর পর দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটা ফ্লুর মতো। এর মধ্যে রয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি জ্বর, গলাব্যথা এবং ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দেওয়ার ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর ত্বকে ফুসকুড়ি উঠতে পারে। সাধারণত বুক ও পেট থেকে শুরু হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ফুসকুড়ি ত্বককে অনেকটা শিরিষ কাগজের মতো খসখসে করে তুলতে পারে। মুখে সাধারণত ফুসকুড়ি দেখা যায় না, তবে গাল লাল হয়ে যেতে পারে। বাদামি ও কালো ত্বকে ফুসকুড়ির লালচে রং শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া জিহ্বায় প্রথমে সাদা আস্তরণ তৈরি হয়। পরে সেই আস্তরণ উঠে গিয়ে জিহ্বা লাল ও ফুলে যায় এবং ছোট ছোট দানা দেখা দেয়। একে ‘স্ট্রবেরি টাং’ বলা হয়।
আইরিশ মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে রোগটির লক্ষণ একই রকম হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম দেখা যায়। চিকিৎসক সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। এতে দ্রুত সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি এবং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা কমতে পারে।
স্কারলেট ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুর জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ পুরোপুরি চলে না যাওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপসর্গ কমাতে ঠান্ডা তরল পান করা, গলাব্যথা থাকলে নরম খাবার খাওয়া এবং জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়।
সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং ব্যবহৃত টিস্যু দ্রুত ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে উপসর্গ কমে গেলেও নির্ধারিত ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করা জরুরি।
এ ছাড়া অসুস্থ অবস্থায় কর্মস্থল, স্কুল, শিশুযত্নকেন্দ্র বা সামাজিক অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে চামচ, কাপ, তোয়ালে, পোশাক, বিছানার চাদর বা গোসলের পানি ভাগাভাগি করাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
সূত্রঃ আইরিশ মিরর
এমকে

