TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউকেতে বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিবর্তনঃ স্পনসরশিপ হারালে মিলবে ৬ মাস সময়

যুক্তরাজ্যে উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ সহজ করতে অভিবাসন ব্যবস্থায় একগুচ্ছ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট উচ্চদক্ষ স্পনসরড কর্মীরা চাকরি বা স্পনসরশিপ হারালে নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় পাবেন। পাশাপাশি স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার বেতনসীমা, গ্র্যাজুয়েট ভিসা এবং হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়াল ভিসায়ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
২৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের শরৎকালীন বাজেটে এসব সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারের লক্ষ্য, উচ্চদক্ষ আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে ব্যবসাবান্ধব অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর সংকটে থাকা ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা।
স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার বেতনসীমায় পরিবর্তনঃ
২০২৭ সালের বসন্ত থেকে মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির (এমএসি) সুপারিশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পেশার জন্য স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ন্যূনতম বেতনসীমা নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে।
বর্তমানে পেশাভিত্তিক ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পেশার মধ্যম বেতন বা মিডিয়ান ওয়েজ বিবেচনা করা হয়। নতুন ব্যবস্থায় তা কমিয়ে ২৫তম পার্সেন্টাইল বা সংশ্লিষ্ট পেশার বেতনবণ্টনের নিচের দিকের সীমার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
তবে একই সঙ্গে সামগ্রিক ন্যূনতম বেতনসীমা ২০২৬ সালের বেতনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে হালনাগাদ করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) সর্বশেষ বেতন বৃদ্ধির তথ্য অনুযায়ী এই সীমা সমন্বয় করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় নতুন প্রবেশকারীদের জন্য বেতনে ছাড়ের নিয়মও একক কাঠামোয় আনা হবে। যারা পড়াশোনা করছেন, সম্প্রতি স্নাতক শেষ করেছেন অথবা পেশাগত প্রশিক্ষণে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন ছাড়ের সুবিধা তুলে দেওয়া হবে।
স্পনসরশিপ হারালে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময়ঃ
নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো স্পনসরশিপ হারানো উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য বাড়তি সময় দেওয়া।
বর্তমানে কোনো কর্মীর স্পনসরশিপ শেষ হলে সাধারণত ৬০ দিন অথবা ভিসার অবশিষ্ট মেয়াদ—যেটি কম, সেই সময়ের মধ্যে নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়া বা অন্য কোনো উপযুক্ত ভিসায় পরিবর্তনের আবেদন করতে হয়।
নতুন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার পর নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় পেতে পারেন।
তবে সবাই সমানভাবে ছয় মাস পাবেন না। আগের উচ্চ বেতনের চাকরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মী কতদিন কাজ করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। এই পরিবর্তন ২০২৭ সালে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়াল ভিসার পরিধি বাড়ছেঃ
বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ডিগ্রি অর্জন করা মেধাবী বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের যুক্তরাজ্যে আকৃষ্ট করতে হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়াল (এইচপিআই) ভিসার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।
বর্তমানে নির্ধারিত তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ডিগ্রি অর্জনকারীরা এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। নতুন পরিকল্পনায় বিশ্বের শীর্ষ ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের যোগ্য ডিগ্রিধারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একই সঙ্গে এই ভিসার আওতায় আবেদনকারীর সংখ্যার নির্ধারিত সীমাও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে।
নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের দুই বছরের ভিসাঃ
গ্র্যাজুয়েট ভিসার মেয়াদও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলার রেকর্ড ভালো এবং যাদের গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের ফলাফল ইতিবাচক, সেসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট ভিসার মেয়াদ ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা হবে।
অর্থাৎ, এই সুবিধা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় এ সুবিধার আওতায় আসবে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স এবং কর্মসংস্থানের ফলাফল বিবেচনা করা হবে।
গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য বাড়তি সুযোগঃ
যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও শিল্প খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আকৃষ্ট করতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার অনুমোদিত অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানভিত্তিক (এন্ডোর্সড ফান্ডার) ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে গবেষণা ও উন্নয়ননির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (ইউকেআরআই) কাজ করবে। এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারবে।
স্পনসরশিপ ফি নিয়ে করব্যবস্থায় পরিবর্তনঃ
নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান কোনো কর্মীর জন্য ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ এবং সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপের (সিওএস) ফি পরিশোধ করলে সেটিকে আর কর্মীর করযোগ্য সুবিধা বা বেনিফিট ইন কাইন্ড হিসেবে গণ্য করা হবে না।
২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে করা এসব অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এ জন্য ফাইন্যান্স বিল ২০২৬-২৭-এ প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তন আনা হবে।
যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব সংস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উচ্চদক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়োগদাতাদের দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোই সরকারের উদ্দেশ্য।
সূত্রঃ ইলেকট্রনিক ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক
এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থায় সংকটের আশঙ্কা, স্কিল্ড ভিসা নীতিতে ক্ষুব্ধ TfL ও ইউনিয়নগুলো

যুক্তরাজ্যে আগামী এপ্রিল থেকে স্টেট পেনশনে ৫০০ পাউন্ডেরও বেশি বাড়ার সম্ভাবনা

ব্যাংকের ভুলে কিছু সময়ের জন্য কোটিপতি হয়েছিলেন পপলারের এক বাসিন্দা