ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাজ্যে নতুন করে প্রায় ২ লাখ পরিবার দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির শীর্ষ অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা ইনস্টিটিউট।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বিল, পেট্রোলের দাম এবং খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো, যাদের আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয় খাদ্য ও জ্বালানির পেছনে।
একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বেতন বৃদ্ধির গতি কমে যাবে এবং বেকারত্ব বাড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে মানুষের আয় কমিয়ে জীবনমানকে আরও খারাপ করে তুলবে। অর্থনীতিবিদ এড্রিয়ান পাবস্টের মতে, এই পরিস্থিতি আয়ের নিম্নস্তরের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে দাঁড়াবে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বাসাভাড়া বাদ দিয়ে মাসে ১,৫০০ পাউন্ডের কম আয়ে জীবনযাপন করছে, যা দেশটির মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশের নিচে। নতুন করে দারিদ্র্যে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় ১ লাখ পরিবারের মাসিক খরচের সামর্থ্য ৫০০ থেকে ১,০০০ পাউন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৩ শতাংশে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এটি ৪ শতাংশের বেশি হতে পারে। আর যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে যুক্তরাজ্য মন্দার মুখে পড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের ওপরে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় বেকারত্বও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪.৯ শতাংশ থাকা বেকারত্ব হার বেড়ে ৫.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর একটি হবে।
এই সংকট মোকাবেলায় অর্থনীতিবিদরা সরকারের পক্ষ থেকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। প্রস্তাব হিসেবে ছয় মাসের জন্য ইউনিভার্সাল ক্রেডিটে সাপ্তাহিক ১০ পাউন্ড বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই পূর্বাভাস কেবল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রযোজ্য হলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরও কয়েক বছর ধরে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। ইতোমধ্যে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের তথ্য বলছে, যুদ্ধের আগেই কর-পরবর্তী আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে—যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

