22.7 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

একজন অভিবাসীর জন্য পুরো বিমানঃ যুক্তরাজ্যে সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে সমালোচনার ঝড়

ফ্রান্সে মাত্র একজন অভিবাসীকে ফেরত পাঠাতে একটি পুরো যাত্রীবাহী বিমান চার্টার করার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাজ্যের অভিবাসন প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার ব্যয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে হোম অফিসের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি একটি চার্টার ফ্লাইটে মাত্র একজনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয় এবং ওই ফ্লাইটে করদাতার ব্যয় হয়েছে কয়েক দশমিক হাজার পাউন্ড।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের ফেরত পাঠাতে মোট ৭৪টি চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এসব ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৮৩৫ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে বিভিন্ন দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ড।

এই হিসাবে প্রতিটি চার্টার ফ্লাইটে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পাউন্ড খরচ হয়েছে। আর প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেক ব্যক্তির হিসাবে গড় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার পাউন্ড। ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ অবশ্য হিসাব করে প্রতি ব্যক্তির জন্য প্রায় ৪ হাজার ৪৮৫ পাউন্ড খরচের কথা উল্লেখ করেছেন।

৭ জানুয়ারির ফ্রান্সগামী ওই ফ্লাইটটি শুরুতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থার আওতায় কয়েকজন অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কেন তাদের সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এরপর চার্টার করা বিমানটি বাতিল না করে একজন অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই একমাত্র যাত্রীর জটিল শারীরিক চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল। সূত্রের দাবি, নির্ধারিত চুক্তির কারণে বিমানটি যাত্রী ছাড়াই পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে হোম অফিস বিমানটি ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মিত চ্যানেল অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্যে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ফ্রান্সগামী ওই ফ্লাইটটি প্রথমে নির্ধারিত হয়েছিল।

চার্টার ফ্লাইটের গন্তব্য হিসেবে আলবেনিয়া ছিল সবচেয়ে বড়। এক বছরে আলবেনিয়ায় ৪২টি চার্টার ফ্লাইটে মোট ১ হাজার ৮১০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এসব ফ্লাইটে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৮ লাখ পাউন্ড। সবচেয়ে বড় একটি ফ্লাইটে একসঙ্গে ৭৪ জনকে আলবেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।

এরপর রোমানিয়া ছিল বড় গন্তব্যগুলোর একটি। সাতটি চার্টার ফ্লাইটে দেশটিতে ৩২৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সে এক বছরে ১৪টি চার্টার ফ্লাইট পরিচালিত হলেও এসব ফ্লাইটে মোট ২৮২ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতগামী তিনটি ফ্লাইটে ১৩৬ জন এবং নাইজেরিয়া ও ঘানাগামী দুটি ফ্লাইটে ৯৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়।

তথ্যে আরও দেখা যায়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। পোল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে মাত্র আটজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা একক যাত্রীর ফ্রান্সগামী ফ্লাইটের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন যাত্রীসংখ্যার ফ্লাইট ছিল।

ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই খরচে আরও বেশি সংখ্যক অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হওয়া উচিত ছিল। তিনি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেগুলোর খরচ চার্টার ফ্লাইটের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।

ফিলপ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন বা বিদেশি অপরাধীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তাদের কয়েকটি এই চার্টার ফ্লাইটের তালিকায় কেন নেই। তিনি জ্যামাইকা, নাইজেরিয়া ও ইরাকের নাম উল্লেখ করেছেন।

তবে প্রকাশিত ১ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ডের হিসাব দিয়ে যুক্তরাজ্যের সব প্রত্যাবাসন ব্যয় বোঝা যায় না। হোম অফিসের এই পরিসংখ্যানের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই। একইভাবে প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যয়ও এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

হোম অফিস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে ৮০ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীকে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। দপ্তরটির বক্তব্য, বিদেশি অপরাধী ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

হোম অফিসের এই অবস্থানের পাশাপাশি চার্টার ফ্লাইট ব্যবহারের খরচ, ফ্লাইটপ্রতি যাত্রীসংখ্যা এবং নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পরিবর্তে বিশেষ বিমান ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একক যাত্রী বহনকারী ফ্রান্সগামী ফ্লাইটের তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

এলিজাবেথ লাইনে ২৭ ফেব্রুয়ারি হতে ধর্মঘটের ঘোষণা

স্থানীয় সরকারের কাউন্সিল ট্যাক্স প্রদানে দুই মাস অতিরিক্ত সময় বরাদ্দের পরিকল্পনা

হিটওয়েভে নারীদের ঝুঁকি বেশি: গবেষণা