ইউকে-তে কর্মীদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন ব্যবস্থায় রাইট টু ওয়ার্ক যাচাইয়ের আওতা সরাসরি কর্মচারীর বাইরেও সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে কর্মী, নির্দিষ্ট ধরনের স্বনিয়োজিত ব্যক্তি, সাবকন্ট্রাক্টর এবং অনলাইন মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে।
ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউকে-তে বৈধভাবে কাজের অনুমতি নেই এমন কাউকে নিয়োগ বা কাজে যুক্ত করলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানা হতে পারে। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে কাজ করছেন—এ বিষয়ে নিয়োগদাতার জানা বা যুক্তিসংগতভাবে ধারণা থাকা সত্ত্বেও তাকে কাজে রাখলে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে এবং ব্যবসা বন্ধের ঝুঁকি রয়েছে।
নতুন নিয়মটি ২০২৫ সালের বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন আইনের ৪৮ নম্বর ধারার অধীনে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে রাইট টু ওয়ার্ক যাচাই এখন শুধু প্রচলিত চাকরির চুক্তির আওতায় থাকা কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
নতুন ব্যবস্থায় কর্মীর চুক্তি যদি ‘ওয়ার্কার্স কনট্রাক্ট’-এর আওতায় হয়, ব্যক্তি যদি স্বতন্ত্র সাবকন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেন অথবা কোনো অনলাইন সেবা এমন ব্যক্তিকে গ্রাহক বা সেবাগ্রহীতার সঙ্গে যুক্ত করে, তাহলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাইট টু ওয়ার্ক যাচাইয়ের দায়িত্ব তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া কাজ বা সেবা দেওয়ার ধরন ও চুক্তির কাঠামোর কারণে কোনো ব্যক্তি কোনো কর্মীর নিয়োগদাতা হিসেবে বিবেচিত হলে ‘এক্সটেন্ডেড লায়াবিলিটি’ বা সম্প্রসারিত দায়ের আওতায়ও পড়তে পারেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে কাজ শুরু করার আগে তার রাইট টু ওয়ার্ক যাচাই করতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় অথবা কাজ শুরুর আগেই পরিচয়, জাতীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট কাজ করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে।
ই-ভিসা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে হোম অফিসের অনলাইন রাইট টু ওয়ার্ক যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাছ থেকে শেয়ার কোড নিয়ে তার জন্মতারিখসহ অনলাইন ব্যবস্থায় তথ্য যাচাই করতে হবে। অনলাইনে পাওয়া ছবিও কাজের জন্য উপস্থিত ব্যক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটিকে আর রাইট টু ওয়ার্কের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কর্মীর রাইট টু ওয়ার্ক যাচাইয়ের তথ্যের কপি সংরক্ষণ করতে হবে এবং চাকরি শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা রাখতে হবে।
যেসব ক্ষেত্রে কর্মী গ্রহণযোগ্য নথি বা শেয়ার কোড দিতে পারেন না, সেসব ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে হোম অফিসের এমপ্লয়ার চেকিং সার্ভিসের মাধ্যমে তার অবস্থান যাচাই করতে হতে পারে। এর মধ্যে চলমান আপিল, প্রশাসনিক পর্যালোচনা বা হোম অফিসে জমা দেওয়া কোনো আবেদন থাকা ব্যক্তিরাও পড়তে পারেন।
কোনো কর্মীর রাইট টু ওয়ার্ক থাকলে এমপ্লয়ার চেকিং সার্ভিস থেকে পজিটিভ ভেরিফিকেশন নোটিশ দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের নোটিশ সাধারণত নির্ধারিত তারিখ থেকে ছয় মাসের জন্য নিয়োগদাতাকে আইনি সুরক্ষা দেয়। এরপর প্রয়োজন হলে আবার যাচাই করতে হবে।
নতুন নিয়মে সম্প্রসারিত দায়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ বা সেবা দেওয়ার জন্য কর্মী সরবরাহ করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরাসরি নিয়োগদাতা ছাড়াও অন্য পক্ষের ওপর দেওয়ানি জরিমানার দায় পড়তে পারে।
অনলাইন ম্যাচিং সেবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দায় তৈরি হতে পারে। আবার কোনো কর্মীর চুক্তিতে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে কাজ করার সুযোগ থাকলে, কর্মী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কে কাজ করছেন এবং তার রাইট টু ওয়ার্ক যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ ধরনের সম্প্রসারিত দায় থেকে আইনি সুরক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কাজ শুরু হওয়ার আগেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। লিখিত চুক্তি, কর্মী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং যে ব্যক্তির রাইট টু ওয়ার্ক যাচাই করা হয়েছে তিনিই কাজ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
এদিকে যেসব কর্মীর কাজ করার অনুমতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে পরবর্তী যাচাই করতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নজরে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ওই তারিখের আগে বা সেই তারিখে রাইট টু ওয়ার্ক পুনরায় যাচাই করতে হবে।
তবে কোনো কর্মী সময়মতো ভিসা বাড়ানোর আবেদন করলে এবং আবেদনটি বৈধভাবে জমা দেওয়া হয়ে থাকলে, আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেকশন ৩সি লিভের সুবিধায় তার আগের শর্তে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মীর রাইট টু ওয়ার্ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে নিয়োগদাতা হোম অফিসের এমপ্লয়ার চেকিং সার্ভিসে যোগাযোগ করতে পারেন।
ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের আওতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়োগদাতাদের চুক্তির ধরন, কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি এবং কাজের বাস্তব কাঠামো সম্পর্কে আরও সতর্কভাবে রাইট টু ওয়ার্ক যাচাই করতে হবে।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এমকে

