17.9 C
London
August 23, 2026
TV3 BANGLA
প্রবাসে বাংলাদেশ

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে স্বর্ণপদক পেলেন বাংলাদেশি গবেষক ড. নাঈমুল হক

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সমাবর্তনে অনন্য সম্মান অর্জন করেছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. হোছাইন মোহাম্মদ নাঈমুল হক। তিনি এ ব্যাচের প্রথম হিসেবে কাতারের রাষ্ট্রপ্রধান আমির শায়খ তামিম বিন হামাদ আল-থানির হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।
ড. নাঈম বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া চট্টগ্রামের কৃতী শিক্ষার্থী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ধারাবাহিক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. নাঈম বলেন, ‘আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহে এ সম্মান অর্জনের সৌভাগ্য হয়েছে। সব প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের।’ তিনি তার এ অর্জনের পেছনে মা-বাবা, শিক্ষক, পরিবার-পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বর্তমানে তিনি কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের সিনিয়র গবেষক হিসেবে কর্মরত।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ৩৭তম সমাবর্তনে অনার্সের কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবেও একই সম্মানে ভূষিত হন নাঈমুল হক। সে সময়ও তিনি কাতারের তৎকালীন আমিরের হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছিলেন।

ড. নাঈমের পিএইচডি গবেষণার শিরোনাম ছিল—The Theory of Maṣlaḥa in Maqāsidīc and Utilitarian Thoughts: A Comparative Study (মাকাসিদী ও উপযোগবাদী চিন্তায় মাসলাহার তত্ত্ব: একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা)।

এর আগে তার মাস্টার্স থিসিস নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রসিদ্ধ লেখক, গবেষক ও চিন্তাবিদ শায়খ ড. নায়েফ বিন নাহার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করেন, ‘আমি শায়খ হোসাইন নাঈমের সুপারভাইজার ছিলাম। কিন্তু তিনি আমার কাছ থেকে যেটুকু উপকৃত হয়েছেন, আমি তারচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি!’

ড. হোছাইন মুহাম্মদ নাঈমুল হকের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। ছয় বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম। ১৯৯৯ সালে তিনি পটিয়ার শাহ-মিরপুর মাদরাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করেন।

এ পর্যন্ত তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তন্মধ্যে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘একাধিক জিম্মায় হারাম সম্পদের হুকুম ও ব্যাংকিং লেনদেনের ওপর তার প্রয়োগ’ উল্লেখযোগ্য।

রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দুইবার আমিরের হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করা অত্যন্ত বিরল ও গৌরবজনক অর্জন। এটি বাংলাদেশের দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বীকৃতি পাওয়ার উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

কালা ভুনা থেকে সাতকড়া: ব্রিটেনে বাংলাদেশি খাবারের স্বাদ

রোমানিয়া: ২০২৩ সালে ‘ডিপোর্ট’ ৩৯৭ বাংলাদেশিসহ ১২২২ অভিবাসী

লন্ডনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক