যুক্তরাজ্যের ডোভার বন্দরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম (EES) চালুর পর ভয়াবহ যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় ফরাসি কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সীমান্ত চেক স্থগিত করেছে। ব্যাংক হলিডে সপ্তাহের প্রথম দিনেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে যাত্রীদের গরম আবহাওয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে ডোভার ব্যবহার করবে বলে পূর্বাভাস ছিল। শনিবার তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
নতুন ব্যবস্থায় নন-ইইউ নাগরিকদের সেনজেন এলাকায় প্রবেশের সময় আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ধীর হয়ে যায়। ফলে ফরাসি সীমান্ত পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে হাতে হাতে রেকর্ড তৈরি করতে হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন সিস্টেমটি এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহে বিলম্ব রয়েছে। এর ফলে কার ও কোচ যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
শনিবার সকালে বাফার জোনে যাত্রীদের প্রক্রিয়াকরণ সময় ২.৫ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং আশপাশের সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা জট দেখা যায়। পরে ফরাসি কর্তৃপক্ষ EES ব্যবস্থার একটি ধারা (Article 9) প্রয়োগ করে প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করলে সময় কমে প্রায় ৫০ মিনিটে নেমে আসে।
ডোভার পোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ট্রাফিক অ্যাক্সেস প্রোটোকল চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে বন্দরের প্রবেশপথে যানবাহনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং স্থানীয় সড়কে চাপ কমানো হয়।
যাত্রীদের সতর্কতা ও বিকল্প ব্যবস্থা
বন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কেউ ফেরি মিস করলে তাকে পরবর্তী উপলব্ধ যাত্রায় স্থানান্তর করা হবে।
এদিকে ব্রিটিশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AA) সতর্ক করেছে যে ব্যাংক হলিডের সপ্তাহে দেশজুড়ে লাখো গাড়ি যাত্রা করবে, ফলে বিভিন্ন রুটে বড় ধরনের যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে পূর্ব উপকূলীয় এলাকা, লন্ডন–ওয়েলস সংযোগকারী M4 এবং উত্তর-পশ্চিমগামী M6 রুটকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যের রেল নেটওয়ার্কেও ধর্মঘট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাইনে সেবা বন্ধ রয়েছে, আবার কিছু রুটে বাস প্রতিস্থাপন চালু করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সীমান্ত জট, রেল বিঘ্ন এবং ছুটির মৌসুমের চাপ—এই তিন কারণে যুক্তরাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা একসাথে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

