ভারতে সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। আগামী সোমবার রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধী নেতাদের।
শনিবার (১০ অক্টোবর) কেরালার আলাপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কর্মসূচির কথা জানান সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। তিনি বলেন, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই দিল্লিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানাতে এরই মধ্যে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কঠোর সমালোচনা করেন বেণুগোপাল। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার এই প্রচেষ্টাই একসময় মোদি ও শাহের রাজনৈতিক পতনের কারণ হতে পারে।
মোদি সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর আচরণে মনে হচ্ছে তিনি রাজনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন এবং বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে এগুলো বেণুগোপালের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বেণুগোপাল আরও অভিযোগ করেন, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবারের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং সারা দেশের সঙ্গে দিল্লির রেল যোগাযোগেও বাধা সৃষ্টি করা হয়। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বেণুগোপাল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য হলো সংবিধান ও ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
কেরালায় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ বিষয়ে কংগ্রেস সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানান বেণুগোপাল। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্যাডে বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক পদ্মের ছবি দেখা যাওয়ার সাম্প্রতিক বিতর্কের বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি।
বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচি ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরালো করতে পারে। সোমবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।
সূত্রঃ দ্য হিন্দু\ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমকে

