19.4 C
London
August 6, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

পাবের জায়গায় ১৩ তলা মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারঃ লন্ডনে তুমুল আলোচনা

লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুইন্স পার্ক এলাকায় একটি সাবেক পাবের জায়গায় ১৩ তলা বিশিষ্ট মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ব্রেন্ট কাউন্সিলের কাছে পরিকল্পনা অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ভবনের উচ্চতা, সম্ভাব্য যানজট এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা। অন্যদিকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়; বরং ধর্মীয়, শিক্ষা, দাতব্য ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি আধুনিক কমিউনিটি কেন্দ্র হবে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কার্লটন ভেইলে অবস্থিত যুক্তরাজ্য আলবেনীয় মুসলিম কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বর্তমান ভবনটি ভেঙে সেখানে ১৩ তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে তিন তলা নামাজের স্থান, মরদেহ সংরক্ষণাগার, বহুমুখী অনুষ্ঠান কক্ষ, শিশুদের শ্রেণিকক্ষ, নিচতলায় ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন দাতব্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হবে।

প্রস্তাবটি প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরিকল্পনা আবেদনের বিপরীতে জমা পড়া ২৩৮টি মতামতের অধিকাংশই আপত্তিসূচক। বাসিন্দাদের দাবি, কুইন্স পার্কের আশপাশে ইতোমধ্যে একাধিক মসজিদ রয়েছে। নতুন এই বড় স্থাপনায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হলে এলাকায় যানজট, পার্কিং সংকট, শব্দদূষণ এবং জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভবনটির উচ্চতা পাশের ঐতিহাসিক ব্যাপ্টিস্ট গির্জা ও এলাকার প্রচলিত স্থাপত্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর সাপনা চাডা বলেন, প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার রয়েছে এবং তিনি সেই অধিকারকে সমর্থন করেন। তবে তার মতে, ১৩ তলা ভবনটি অত্যন্ত বড় একটি প্রকল্প। কুইন্স পার্ক এলাকায় আগে থেকেই যানজট, পার্কিং সংকট এবং অবকাঠামোগত চাপ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান ছাড়া এত বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থানীয়দের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তবে প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞও। নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জ্যাকব উইলিয়ামস বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় নয়; বরং পরিকল্পনা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার ভাষ্য, আলবেনীয় মুসলিম সম্প্রদায় মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত এবং এই প্রকল্পকে কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ নেই। মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, কীভাবে এলাকায় যানবাহন চলাচল ও পার্কিং ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হবে।

প্রকল্পটির স্থপতি আয়াদ আল-তুহাফি জানিয়েছেন, ভবনের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে রাস্তার দিক থেকে এর দৃশ্যমান প্রভাব কম হয় এবং পাশের গির্জার অবস্থান ও গুরুত্ব অক্ষুণ্ন থাকে। একই সঙ্গে ভবনটি স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে যতটা সম্ভব সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য আলবেনীয় মুসলিম কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় যানজট, শব্দদূষণ ও স্থানীয় অবকাঠামোর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, নতুন ভবনটি ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি শিক্ষা, দাতব্য কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বহুমুখী সামাজিক সেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

 

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্ল্যাকওয়াল টানেল টোল: সতর্ক করলেন যুক্তরাজ্যের সাংসদ

আসছে নতুন বছরের ব্যতিক্রম ধর্মী নতুন আইন

অবকাঠামো খাতে ৬৫,০০০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের পরিকল্পণা ব্রিটিশ সরকারের