14.2 C
London
October 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

প্রকৃত সুখের খোঁজে ব্রিটেন ছাড়লেন ব্রিটিশ তরুণীঃ নেপালের গ্রামে নতুন জীবন

ব্রিটেনে আইন পেশায় উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছেড়ে নেপালের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন ২৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ তরুণী ম্যাডেলিন জে। নেপালে জীবনযাত্রার খরচ কম হওয়ায় সেখানে বসবাস করেও তিনি ব্রিটেনে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি বাড়ি কিনতে সক্ষম হয়েছেন।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নটিংহ্যামের বাসিন্দা ম্যাডেলিন শেফিল্ডে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনা শেষে বড় কোনো আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু ভ্রমণে গিয়ে নেপালের রাম নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণের সঙ্গে পরিচয়ের পর তার জীবনের পরিকল্পনা বদলে যায়।

ম্যাডেলিন ও রামের পরিচয় হয়েছিল একটি মোমো তৈরির ক্লাসে। পরিচয়ের দুই সপ্তাহের মধ্যেই ম্যাডেলিন নিজের শরীরে রামের নামের ট্যাটু করান। তিন বছর ধরে একসঙ্গে থাকার পর ২০২৬ সালের মে মাসে তারা হিন্দু রীতিতে বিয়ে করেন।

বর্তমানে এই দম্পতি নেপালের পোখারা শহর থেকে প্রায় ২৫ মিনিট দূরত্বের একটি ছোট গ্রামে বসবাস করেন। সেখানে আধুনিক জীবনের অনেক সুযোগ-সুবিধা নেই। গরম পানি, ফ্রিজ কিংবা ওয়াশিং মেশিন ছাড়াই তাদের জীবন কাটে। রান্না করেন খোলা আগুনে, আর পান করেন হিমালয় থেকে আসা প্রাকৃতিক পানি।

ম্যাডেলিন জানান, নেপালে তার জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তার স্বামীর পরিবার জমির ওপর নির্ভর করে জীবন চালায় এবং বাড়িভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ২০ পাউন্ড দেয়। ওই ভাড়া পরিশোধে ম্যাডেলিনকে অংশ নিতে হয় না। খাবারসহ তার নিজের গড় মাসিক ব্যয় প্রায় ৩০০ পাউন্ড।

নেপালে বসবাস করলেও ব্রিটেনে আয় করার সুযোগ ধরে রেখেছেন তিনি। ম্যাডেলিন বর্তমানে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং ২৪ ঘণ্টা আবাসিক পরিচর্যা সেবা দেন। ব্রিটেনে ছয় থেকে ১২ সপ্তাহের কাজের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এসব কাজে থাকার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এরপর একই রকম সময় নেপালে স্বামীর সঙ্গে কাটান।

জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়ার পেছনে বাবার মৃত্যু বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন ম্যাডেলিন। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা মারা যান। ম্যাডেলিনের ভাষ্য, যে জীবনের জন্য তার বাবা দীর্ঘদিন পরিশ্রম করেছিলেন, সেই জীবন উপভোগ করার সুযোগ পাওয়ার মাত্র ছয় মাস আগে তিনি মারা যান।

ম্যাডেলিন বলেন, আগে তার পরিকল্পনা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, বড় আইন প্রতিষ্ঠানে চাকরি, অর্থ উপার্জন এবং সফল ক্যারিয়ার গড়া। কিন্তু পরে তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজ যেভাবে সাফল্যকে অর্থ, মর্যাদা ও পেশাগত উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করে, তার চেয়ে সময়ের মূল্য অনেক বেশি।

নেপালের গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ তাকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়েছে বলেও জানান তিনি। সেখানে তিনি খাবার কোথা থেকে আসে, পশুপাখির যত্ন কীভাবে নিতে হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে আধ্যাত্মিকতার ভূমিকা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছেন।

তবে এই জীবন পুরোপুরি ঝামেলামুক্ত নয়। গ্রামে বাঘ ও চিতাবাঘের বিচরণ থাকায় ছাগল ও মুরগি রাতে ঘরের ভেতরে রাখতে হয়। স্থানীয় অনেকের মতো তাদেরও পোষা প্রাণী হারানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ ছাড়া বর্ষাকাল এবং জানুয়ারির শীত, যখন ঘরে গরম রাখার ব্যবস্থা থাকে না, তখন জীবন কঠিন হয়ে ওঠে।

ম্যাডেলিন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি আবার আইন পেশায় ফিরতে পারেন। তবে আপাতত স্বামীর সঙ্গে এই জীবন বেছে নেওয়াকে তিনি ক্যারিয়ার বিসর্জন হিসেবে দেখেন না। বরং নিজের সুখের জন্য নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখেন।

তিনি বলেন, ইংল্যান্ডকে তিনি ভালোবাসেন এবং সেখানে জন্ম নেওয়াকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন। তবে নেপাল তাকে জীবনের অন্য রকম সুখ ও প্রশান্তির সন্ধান দিয়েছে। ভবিষ্যতে নেপালে সম্পত্তি কিনে সেখানেই অবসর জীবন কাটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে এই দম্পতির।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে দাঙ্গায় লন্ডন মেয়র সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন

রাজপরিবারের ওয়েবসাইট হতে মুছে দেয়া হল প্রিন্স হ্যারির সম্মানসূচক পদবি

লন্ডনের ডমোস্টিক ভায়োলেন্সের নির্যাতিতদের জন্য এয়ারবিএনবিতে জরুরি আশ্রয় প্রকল্প শুরু