যুক্তরাজ্যে অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। সরকারি নির্দেশিকায় এমন তিনটি প্রধান আইনি ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোর আওতায় একজন বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
হোম অফিসের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বহিষ্কারের সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হলো কোনো বিদেশি নাগরিকের ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া। অপরাধের ধরন, গুরুত্ব এবং জননিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন আদেশ জারি করা হতে পারে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যে বসবাসের বৈধ অনুমতি থাকলেও গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে দেশটিতে থাকার অধিকার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু অপরাধ করলেই নয়, জনস্বার্থের প্রশ্নেও একজন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কারের ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র সচিব যদি মনে করেন কোনো ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে অবস্থান জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা বা জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাহলে তিনি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন আদেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত না হলেও জনস্বার্থের ভিত্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
সরকারি নির্দেশিকায় আরও একটি তুলনামূলক কম পরিচিত বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি হলে, তার স্বামী, স্ত্রী বা সঙ্গীর বিরুদ্ধেও ডিপোর্টেশন আদেশ জারি করা যেতে পারে। এর ফলে কোনো ব্যক্তি নিজে কোনো অপরাধ না করলেও বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত না হলেও, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের কারণে বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের ডিপোর্টেশন আইন প্রতিটি মামলার বাস্তব পরিস্থিতি, প্রযোজ্য আইন এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করে প্রয়োগ করা হয়। ফলে সব ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয় না; বরং প্রতিটি মামলা পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও থাকে।
যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, অভিবাসন ব্যবস্থার সুরক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব বিধান কার্যকর রয়েছে। তাই দেশটিতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের ইমিগ্রেশন আইন মেনে চলা এবং প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ নিয়ে নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ লিজিট
এম.কে

