শ্রীলঙ্কার এক শিক্ষার্থী টিউশন ফি পরিশোধে মাত্র এক দিনের বিলম্বের কারণে যুক্তরাজ্যে তার উচ্চশিক্ষা জীবন হঠাৎ থমকে গেছে। একই সঙ্গে তিনি এখন দেশটি থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতেও পড়েছেন।
২৫ বছর বয়সী নাভোদ্যা ডি সিলভা যুক্তরাজ্যের কোভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি-তে আন্তর্জাতিক আতিথেয়তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক কোর্সে ভর্তি হন। তিন বছর মেয়াদি এই কোর্সের মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৪২ হাজার পাউন্ড, যা তার পরিবার—বিশেষ করে তার বাবা—নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় থেকে বহন করেছেন।
শিক্ষাজীবনের প্রথম বছর সফলভাবে শেষ করার পর দ্বিতীয় বছরের ফি পরিশোধের নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর। তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই, ৩ অক্টোবর, ৮ হাজার পাউন্ড পাঠান। তবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে অর্থটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে পৌঁছায় ৭ অক্টোবর, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের এক দিন পরে।
এই বিলম্বের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাজ্যের হোম অফিস-এ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার স্পনসরশিপ বাতিল করা হয় এবং তার শিক্ষার্থী ভিসাও বাতিলের প্রক্রিয়ায় পড়ে। ফলে তিনি আর কোর্স চালিয়ে যেতে পারেননি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতির জন্য পুনরায় আবেদন করেছেন এবং হোম অফিস-এর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। আবেদনটি নাকচ হলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।
নাভোদ্যা ডি সিলভা বলেন, তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ফি পরিশোধ করেছিলেন এবং বিলম্বটি পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তিনি নিয়মিত ক্লাস করেছেন, ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন এবং সব একাডেমিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—তা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি।
তিনি আরও বলেন, কোনো ডিগ্রি ছাড়াই দেশে ফিরে যেতে হলে তার পরিবারের আর্থিক ক্ষতি অপূরণীয় হয়ে উঠবে এবং তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। মাত্র এক দিনের বিলম্বের কারণে এমন কঠোর সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন।
তার আইনজীবী নাগা কান্দিয়াহ বলেন, এক দিনের বিলম্ব সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বিষয়টি হোম অফিস-এ জানিয়ে দেয়, স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করে এবং এর ফলে শিক্ষার্থীর জীবনে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
এ বিষয়ে কোভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি-এর এক মুখপাত্র জানান, শিক্ষার্থীদের ফি পরিশোধ ও ভর্তি সম্পন্ন করার জন্য ছয় সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা ও স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক, যা তারা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য কঠোর নীতিমালা এবং প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

