TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের রহস্য কাটল না, প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হুমায়ুন কবিরের ‘কার এত জ্বালা?’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি স্পষ্ট না করে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ‘কার এত জ্বালা?’ একই সঙ্গে নিজেকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে তুলে ধরে দেশপ্রেম ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির সরাসরি জানাননি যে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না। বরং প্রশ্নটির পেছনে কারও বিশেষ উদ্দেশ্য বা ক্ষোভ রয়েছে কি না, তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস এবং লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এনে প্রশ্ন ওঠে, তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ না করেই টেকনোক্র্যাট কোটায় বাংলাদেশের সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন কি না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবির সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘কার এত জ্বালা, কাজকর্ম বাদ দিয়া?’ এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার নাগরিকত্ব নিয়ে এমন আলোচনা বা প্রশ্নের পেছনে ২০০৮ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা মইনুদ্দীন আহমদ ও ফখরুদ্দীন আহমদের সময়কার কোনো পুরোনো ক্ষোভ বা বিরোধ কাজ করছে কি না।

তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব তিনি বর্তমানে রাখছেন কি না বা আনুষ্ঠানিকভাবে তা ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের মূল প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা নথি উপস্থাপন করেননি।

নিজের পরিচয় ও দেশপ্রেমের বিষয়ে অবশ্য দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা কোনো সুবিধাবাদী বা সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির থাকতে পারে না।

হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল তার বাংলাদেশি পরিচয় ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, নিজেকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে তার কোনো দ্বিধা নেই এবং তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই।

তবে তার এই বক্তব্যের পরও ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রশ্নটি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। কারণ সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—অথচ তার জবাবে নাগরিকত্বের বর্তমান আইনগত অবস্থার বিষয়ে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা হয়নি।

ফলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা তার বক্তব্যের পরও পুরোপুরি থামেনি। বরং নাগরিকত্বের আইনগত অবস্থার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও আইনগত অবস্থান নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এদিকে হুমায়ুন কবির তার বক্তব্যে নাগরিকত্বের নির্দিষ্ট অবস্থান পরিষ্কার না করলেও নিজের বাংলাদেশি পরিচয় ও দেশের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন। ফলে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করেছেন কি না এবং এ বিষয়ে সরকারি কোনো নথি বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হবে কি না।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন

এম.কে

আরো পড়ুন

ঋণ ও করের চাপে যুক্তরাজ্যে অর্ধলাখ ব্যবসায় ধস

স্কটল্যান্ডে তুষারপাত, শীতল হয়ে উঠছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া

নিউজ ডেস্ক

লন্ডনের পরই খাদ্য স্বাস্থ্যবিধিতে পিছিয়ে পশ্চিম মিডল্যান্ডসঃ বার্মিংহামের অবস্থানও উদ্বেগজনক