ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের ইংরেজি বলা ও পড়তে পারা উচিত এবং সরকারি সেবায় তাদের জন্য অনুবাদ সহায়তা বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিল্প। তিনি বলেছেন, অভিবাসীদের ইংরেজি শেখার দায়িত্ব সরকারের নয়, বরং তাদের নিজেদের।
এলবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস ফিল্প বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্রিটেনে এসে যদি আলাদা ধরনের জীবনযাপন করেন এবং সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন, তাহলে তা দেশের জন্য ভালো নয়। তার মতে, অভিবাসীদের ব্রিটিশ সমাজে একীভূত হওয়ার জন্য ইংরেজি ভাষা শেখা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, যারা ব্রিটেনে আসবেন, তাদের ইংরেজি বলতে ও পড়তে পারার প্রত্যাশা থাকা উচিত। এই ভাষা শেখার দায়িত্ব তাদের নিজেদের ওপর থাকা উচিত, সরকারের ওপর নয়।
ক্রিস ফিল্প সরকারি সেবা ও স্থানীয় কাউন্সিলগুলোতে অভিবাসীদের জন্য অনুবাদ সুবিধা বন্ধ করার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, সাধারণ সরকারি সেবায় কোনো অনুবাদ সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।
তবে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম রাখার কথা বলেন তিনি। তার মতে, কেবল জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অনুবাদ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, জীবন-মরণের মতো পরিস্থিতি ছাড়া যারা ব্রিটেনে আসবেন, তাদের ইংরেজি বলা ও পড়া উচিত এবং ইংরেজি শেখার দায়িত্ব তাদের নিজেদের।
এলবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিকে অতিরিক্ত ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে অথবা ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষাকে তাদের প্রথম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।
ক্রিস ফিল্প বলেন, অভিবাসন কমানো এবং তিনি যাকে ‘বিপুল নিম্নদক্ষ অভিবাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা বন্ধ করা কনজারভেটিভ পার্টির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
তিনি আরও বলেন, সাময়িক কাজের ভিসায় থাকা কোনো ব্যক্তি যদি কাজ না করেন অথবা দেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখার মতো আয় না করেন, তাহলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের ব্রিটেন ছেড়ে যাওয়া উচিত।
ক্রিস ফিল্পের এসব মন্তব্য ব্রিটেনে অভিবাসন, ভাষা শিক্ষা এবং সরকারি সেবায় অনুবাদ সুবিধা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্রঃ এলবিসি
এমকে

