ব্রিটেনে গাড়িচালকদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করেছে সরকার। এখন থেকে গুগল ম্যাপ খুলেই আশপাশের পেট্রোল স্টেশনগুলোর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দেখা এবং তুলনা করা যাবে। এর মাধ্যমে গাড়িচালকরা জ্বালানি নেওয়ার আগে কাছাকাছি সবচেয়ে কম দামের স্টেশন খুঁজে নিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর থেকে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো প্রায় তাৎক্ষণিক জ্বালানির দাম গুগল ম্যাপে দেখানোর সুবিধা চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট-জিরো বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
অ্যান্ডি বার্নহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এখন থেকে গুগল ম্যাপে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দেখা যাবে। কাছাকাছি বিভিন্ন স্টেশনের দাম তুলনা করে গাড়িচালকরা জ্বালানি নেওয়ার আগে সবচেয়ে সস্তা বিকল্পটি বেছে নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, এটি ছোট একটি পরিবর্তন হলেও মানুষের পকেটে আরও বেশি অর্থ ধরে রাখতে বাস্তব কোনো উপায় থাকলে তিনি সেটি করার চেষ্টা করবেন।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে একটি পরিবারের বছরে প্রায় ৪০ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় এই সুবিধা চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জ্বালানির দামের তথ্য সরবরাহের জন্য সরকার এর আগে ‘ফুয়েল ফাইন্ডার’ ব্যবস্থা চালু করে। প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের পেট্রোল স্টেশনগুলোকে জ্বালানির দামে পরিবর্তন হলে ৩০ মিনিটের মধ্যে তা জানাতে আইনগতভাবে বাধ্য করা হয়েছে। নিয়ম না মানলে জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া মোট জ্বালানির প্রায় ৯৯ শতাংশের তথ্য বর্তমানে ফুয়েল ফাইন্ডার ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরই মধ্যে ওয়েজ, পেট্রোল প্রাইসেস, এএ, কনফিউজড ডটকম এবং আরএসি ফুয়েল ওয়াচের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এসব তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
এবার গুগল ম্যাপে এই তথ্য যুক্ত হওয়ায় আরও বেশি গাড়িচালক কাছাকাছি জ্বালানি স্টেশনগুলোর দাম সহজেই তুলনা করতে পারবেন।
জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী পলি বিলিংটন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অনেক পরিবার ও ব্যবসার জন্য পেট্রোল ও ডিজেল বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় পণ্য।
তিনি বলেন, সবচেয়ে কম দামে জ্বালানি কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, সেই তথ্য মানুষের জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত। গুগল ম্যাপে প্রায় তাৎক্ষণিক জ্বালানির দাম দেখানোর সুবিধা চালু হওয়াকে তিনি গাড়িচালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন।
গুগলের বৈশ্বিক পণ্য অংশীদারত্ব বিভাগের পরিচালক সারাহ-জেইন উইলিয়ামস বলেন, জ্বালানির বাড়তি খরচ যেন মানুষের দৈনন্দিন যাত্রায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। গুগল ম্যাপ ও ওয়েজে ফুয়েল ফাইন্ডারের তথ্য যুক্ত হওয়ায় গাড়িচালকরা আশপাশের জ্বালানির দাম দেখতে এবং নিজেদের বাজেট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানির বাজারে চাপ বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ব্রিটেনে ডিজেলের গড় দাম প্রতি লিটারে ১৯৯ দশমিক ১৮ পেন্সে পৌঁছায়। একই সময়ে ডিজেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
সূত্রঃ নটিংহাম পোস্ট
এমকে

