ব্রিটেনে বাড়ির সামনে বা রাস্তার পাশে পার্ক করা বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা স্থাপন এখন আরও সহজ হচ্ছে। ফুটপাতের ওপর দিয়ে চার্জিং তার নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থার জন্য পরিকল্পনা অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে সরকার। ২১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্ল্যানিং পারমিশনের প্রয়োজন না থাকায় বাড়িতে গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা স্থাপনে চালকদের সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, বাড়ির বিদ্যুতের তুলনামূলক কম খরচের সুবিধাও নিতে পারবেন তারা।
বাস ও স্থানীয় পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রী সাইমন লাইটউড বলেন, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বাড়িতে গাড়ি চার্জিং ব্যবস্থা স্থাপনের খরচ থেকে চালকদের সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ব্রিটেনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় বিক্রি ৩৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত এক বছরে ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করেছেন।
সোসাইটি অব মোটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডার্সের (এসএমএমটি) তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনে ৯৯ হাজার ১৯৯টি ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা এক মাসে বিক্রির নতুন রেকর্ড।
বাড়ির বাইরে গাড়ি পার্ক করতে হয় এমন চালকদের জন্য সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে ইভিএ ইংল্যান্ড। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ভিকি এডমন্ডস বলেন, বাড়িতে গাড়ি চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তার মতে, ফুটপাতের ওপর দিয়ে চার্জিং ব্যবস্থার অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া এই গাড়িগুলোকে আরও বেশি মানুষের নাগালে আনতে সহায়তা করবে।
ইভিএ ইংল্যান্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, বাড়ির বাইরে নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই—এমন পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ৬০ শতাংশ চালক কখনো বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার কথা বিবেচনা করবেন না বলে জানিয়েছেন। রাস্তার পাশে পার্ক করা গাড়ি বাড়ির বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থা সহজলভ্য করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাড়িওয়ালাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভিকি এডমন্ডস।
রয়্যাল অটোমোবাইল ক্লাবের (আরএসি) নীতিবিষয়ক প্রধান সাইমন উইলিয়ামসও সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সবার জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জের সুযোগ আরও সহজ ও ন্যায্য করতে এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তার মতে, বাড়িতে চার্জ দেওয়া সাধারণত জনসাধারণের চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহারের চেয়ে অনেক সস্তা।
বর্তমানে বাড়ির বিদ্যুতের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ করের সুবিধা থাকলেও জনসাধারণের চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুতের ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। তবে নতুন নিয়ম চালু হলেও বাড়ির বাইরে পার্ক করা গাড়ি সব সময় নিজ বাড়ির সামনে রাখার নিশ্চয়তা থাকবে না। ফলে চার্জিং তার গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না, সেই সমস্যাও থেকে যাচ্ছে।
এ কারণে জনসাধারণের চার্জিং পয়েন্টে ভ্যাট কমিয়ে বাড়ির বিদ্যুতের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার আহ্বান জানিয়েছেন সাইমন উইলিয়ামস। তিনি বলেন, এতে বাড়ির বাইরে পার্ক করতে বাধ্য হওয়া চালকদের চার্জিং খরচ কিছুটা কমবে, যদিও তা বাড়িতে চার্জ দেওয়ার মতো সস্তা হবে না।
বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা আরও সহজ করা এবং নতুন ভবনে চার্জিং পয়েন্ট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার দুটি পরামর্শ প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। এর আওতায় বাড়িওয়ালা ও ফ্রিহোল্ডারদের ভাড়াটিয়াদের চার্জার স্থাপনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা কঠিন করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ও সংস্কার করা আচ্ছাদিত গাড়ি পার্কে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার রাখার জন্য ভবন নির্মাণবিধি হালনাগাদের বিষয়টিও পর্যালোচনা করছে সরকার।
সূত্রঃ দ্য মেইল
এমকে

