পপ সংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। মুক্তির আগেই ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই চলচ্চিত্র কি জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত দিকগুলো তুলে ধরবে, নাকি শুধুই তার সাফল্যের গল্প বলবে?
এর আগে ফ্রেডি মার্কারি ও কুইন ব্যান্ডকে নিয়ে নির্মিত ‘বোয়েমিয়ান র্যাপসোডি’ বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায় এবং একাধিক অস্কার জিতে নেয়। সেই চলচ্চিত্রের প্রযোজক গ্রাহাম কিং-ই এবার মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে কাজ করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন এই প্রকল্পটি নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি।
তবে শুরু থেকেই এই বায়োপিককে ঘিরে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে ওঠা শিশু নির্যাতনের অভিযোগ। ১৯৯৪ সালে এক অভিযোগকারীর সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা এবং ২০০৫ সালে একটি মামলায় খালাস পাওয়ার ঘটনাগুলো তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বিতর্কিত অংশ।
জ্যাকসনের এস্টেটের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হয়েছে, তিনি নির্দোষ ছিলেন এবং আদালতের রায়ও সেটিই প্রমাণ করে। তবুও এসব অভিযোগ তার ভাবমূর্তিতে দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলেছে।
চলচ্চিত্রটির প্রাথমিক পরিকল্পনায় এসব বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত থাকলেও পরবর্তীতে নির্মাতারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। চূড়ান্ত সংস্করণে মূলত জ্যাকসনের সংগীতজীবনের উত্থান, পারিবারিক সংগ্রাম এবং বিশ্বজোড়া খ্যাতির গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ করে তার শৈশবের পারিবারিক ব্যান্ড থেকে একক তারকা হয়ে ওঠা এবং কঠোর পিতার নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়গুলো চলচ্চিত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। ছবির শেষাংশে ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড’ ট্যুরের একটি জমকালো কনসার্ট দেখানো হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি নির্মাণেও ছিল নানা জটিলতা। ২০২৩ সালের শিল্পী ধর্মঘটের কারণে কাজ বিলম্বিত হয়। পরে নতুন করে চিত্রনাট্য সংশোধন এবং অতিরিক্ত দৃশ্য ধারণ করতে হয়। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ছবির মুক্তির সময়ও পিছিয়ে ২০২৬ সালে নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে, জ্যাকসনের মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। সংগীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এখনও তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। তার জীবন ও সংগীতকে ঘিরে মঞ্চনাটক ও লাইভ শোও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণেই নতুন এই বায়োপিক বক্স অফিসে বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে—এমনকি আগের রেকর্ডও ভেঙে দিতে পারে।
তবে সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, যদি চলচ্চিত্রটি তার জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এড়িয়ে যায়, তাহলে সেটি কতটা পূর্ণাঙ্গ জীবনচিত্র হবে? অন্যদিকে নির্মাতাদের যুক্তি, আইনি জটিলতা ও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে, ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটি এখন শুধু একটি বায়োপিক নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে এক বিতর্কিত শিল্পীর উত্তরাধিকার, জনপ্রিয়তা এবং বাস্তবতা বনাম উপস্থাপনার প্রশ্নকে ঘিরে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

