যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন ও অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সন্দেহভাজন অবৈধ কর্মসংস্থানের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজারবার অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। এসব অভিযানে ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত করা এবং অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাজ্যে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের প্রত্যেক কর্মীর কাজ করার বৈধ অধিকার যাচাই করতে হয়। ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ নামে পরিচিত এই যাচাইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি রাখেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়। কর্মীর অভিবাসনগত অবস্থান ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী এই যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।
নিয়ম ভঙ্গ করে অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী, যথাযথ যাচাই ছাড়া অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানা হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিচালকের অযোগ্যতা ঘোষণা এবং ফৌজদারি ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
হোম অফিসের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দুই বছরে অবৈধ কর্মসংস্থানের সন্দেহে প্রায় ২৪ হাজার ৭৯৩টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭ হাজার ১১৪ জন। আগের দুই বছরের তুলনায় অভিযানের সংখ্যা বেড়েছে ১১১ শতাংশ এবং গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে ১২২ শতাংশ।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেও অভিযান অব্যাহত ছিল। এ সময়ে ৭ হাজার ২৭০টি অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে ও ক্যাফেতে অভিযান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান, অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিবাসন আইন কার্যকর করা, কর্মীদের শোষণ প্রতিরোধ এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান থেকে দেশটিতে অবৈধ কর্মসংস্থানবিরোধী কার্যক্রমের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্রঃ ইউকে.গভ
এমকে

