6.1 C
London
April 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আইনি সহায়তা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি, করদাতাদের অর্থে বাড়ছে ব্যয়

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে করদাতাদের অর্থে প্রদত্ত আইনি সহায়তা নিয়ে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, অভিবাসীদের জন্য জরুরি আইনি সহায়তার আবেদন ও অনুমোদনের হার গত এক দশকে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে, যা সরকার ও বিরোধী রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন সংক্রান্ত মামলায় জরুরি আইনি সহায়তার আবেদন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ২৩৪টি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫৬টিতে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৮৩টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, যা মোট আবেদনের প্রায় ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ এই স্কিম চালুর প্রথম বছরে অনুমোদনের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন। অভিবাসীরা তাদের বহিষ্কার ঠেকাতে এবং পরিবারকে যুক্তরাজ্যে আনার সুযোগ নিশ্চিত করতে মানবাধিকার আইনের বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে পরিবারিক জীবনের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে তারা আইনি সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি করছেন।

এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে “এক্সেপশনাল কেস ফান্ডিং” নামে একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে, যা ২০১২ সালে চালু করা হয়। তখন অভিবাসন সংক্রান্ত অধিকাংশ মামলাকে আইনি সহায়তার আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে ২০১৪ ও ২০১৬ সালের আদালতের রায়ে বলা হয়, এই সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে “ব্যতিক্রমী” শর্ত এত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছিল যে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এর পর থেকেই আবেদন ও অনুমোদনের হার দ্রুত বাড়তে থাকে।

এদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ নেতারা এই পরিস্থিতিকে আইন ও নীতির ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, মানবাধিকার কনভেনশনের কারণে সংসদের সিদ্ধান্ত কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তারা যুক্তরাজ্যকে এই কনভেনশন থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি সহায়তা সীমিত করা যায়।

বিরোধী নেতাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনজীবীরা মানবাধিকার আইনের সুযোগ নিয়ে বারবার আপিল করছেন, যার ফলে বহিষ্কার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে।

অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, এই সহায়তা ব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাদের মতে, অনেক অভিবাসী আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না, ফলে এই সহায়তা তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।

এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে আপিল করা অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। আশ্রয় সংক্রান্ত আপিল মামলার জটও দ্রুত বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এই জট দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩৩৩টিতে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, একটি আবেদন একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, ফলে এই জটের আওতায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজারের বেশি মানুষ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, অভিবাসন, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের এই ত্রিমুখী ইস্যু এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানানো হয়নি, তবে নীতিগত পরিবর্তনের চাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডনে বাড়ির মালিককে ৯০,০০০/- পাউন্ড জরিমানা

নিউজ ডেস্ক

চার্লসের রাজ্যাভিষেকে আসবেন প্রিন্স হ্যারি

ট্রাফিক আইনে ব্যাপক পরিবর্তন, চালকদের মাঝে ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক