যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রিফর্ম পার্টিকে ঘিরে বিতর্ক। সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য ডেভিড ব্লাঙ্কেট ও শেফিল্ড সিটি কাউন্সিলর মার্ক রাসলিং রিফর্ম পার্টি ও এর নেতা নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, ব্রিটেন ভেঙে পড়েনি—বরং সমস্যাগ্রস্ত রিফর্ম পার্টিই ভেঙ্গে পড়েছে।
তারা বলেন, ফারাজের “ব্রিটেন ভেঙে গেছে” মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং রিফর্ম পার্টির ভেতরে বর্ণবাদ, চরমপন্থা ও দায়িত্বহীনতার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিফর্ম প্রার্থীদের বিতর্কিত মন্তব্য সামনে এসেছে। সাউথ ইয়র্কশায়ারে এক রিফর্ম কাউন্সিলর অ্যাডলফ হিটলারকে “লেজেন্ড” হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে শেফিল্ডের এক প্রার্থী নাৎসিদের “দূরদর্শী” বলে প্রশংসা করে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ইহুদি সম্প্রদায়কে ইহুদি-বিরোধিতার জন্য দায়ী করেন। এসব মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ব্লাঙ্কেট ও রাসলিং প্রশ্ন তোলেন—এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বর্ণবাদী ব্যক্তিরা সচেতনভাবেই রিফর্ম পার্টির দিকে ঝুঁকছে?
তারা আরও অভিযোগ করেন, রিফর্ম পার্টির অনেক নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন। ডনকাস্টারে কিছু কাউন্সিলর মাত্র এক-চতুর্থাংশ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, আর শেফিল্ডে অনেক প্রার্থী নির্বাচনী বিতর্কেও অংশ নেননি। তাদের মতে, এই ধরনের আচরণ প্রমাণ করে যে দলটি স্থানীয় জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ নয়।
অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ১৯৮০-এর দশকে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম তাদের আগের প্রজন্মের তুলনায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের কনজারভেটিভ সরকারের ব্যয়সংকোচ নীতির কারণে স্থানীয় সেবা খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে—খেলার মাঠ, লাইব্রেরি ও সামাজিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এই সংকটকে “ব্রিটেন ভেঙে পড়া” হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে ডেভিড ব্লাঙ্কেট বলেন, সমস্যার সমাধান রয়েছে, কিন্তু রিফর্ম পার্টি তা দিতে পারবে না।
তারা মিররের এক আর্টিকেলে আরো উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে নির্বাচিত প্রায় ৪৫ জন রিফর্ম কাউন্সিলরের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে দলত্যাগ, বহিষ্কার বা পদত্যাগ করেছেন। একইভাবে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী পাঁচজন এমপির মধ্যে দুজনও দলীয় সংকটে জড়িয়েছেন।
সবশেষে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সামনে নির্বাচনকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে না দেখে মূল্যবোধের লড়াই হিসেবে দেখতে হবে।
তাদের ভাষায়, “এটি আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগ্রাম—যেখানে ঘৃণার বিপরীতে আশার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।”
এই প্রেক্ষাপটে তারা ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান, বিশেষ করে রিফর্ম প্রার্থীদের অবস্থান, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ যাচাই করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্রঃ মিরর
এম.কে

