20.2 C
London
October 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ৪০% কমেছেঃ ‘ইউলেজ’ নীতির সাফল্যের দাবি সাদিক খানের

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, বায়ুর মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও দূষণ এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে রয়েছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে লন্ডনের বায়ুমানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂) দূষণের মাত্রা ৪১ শতাংশ এবং সূক্ষ্ম কণাদূষণ (PM2.5) ২৮ শতাংশ কমেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে অকালমৃত্যুর সংখ্যা পূর্বের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। আগে যেখানে প্রায় ৪ হাজার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল, নতুন হিসাব অনুযায়ী ওই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪০০ থেকে ৮ হাজারের মধ্যে। তবে ২০২৪ সালে তা কমে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ১০০-এর মধ্যে নেমে এসেছে।

গবেষণার অন্যতম গবেষক ড. ডেভিড ডাজনাক বলেন, লন্ডনের বায়ুমান উন্নত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বায়ুদূষণ এখনো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। সাম্প্রতিক গবেষণায় বায়ুদূষণের সঙ্গে হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিস এবং শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিল রোগের সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল আউটার লন্ডনের কয়েকটি বরোতে। এর মধ্যে বেক্সলি, হ্যাভারিং ও সাটন উল্লেখযোগ্য। সিটি হলের মতে, এটি পুরো লন্ডনে ‘আল্ট্রা-লো এমিশন জোন’ (ULEZ) সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

যদিও ইম্পেরিয়াল কলেজের স্বাধীন গবেষণা সরাসরি ইউলেজকে এই সাফল্যের একমাত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করেনি, তবুও লন্ডনের মেয়র সাদিক খান দাবি করেছেন যে দূষণ কমানো, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং জীবন রক্ষায় এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, “এখন প্রমাণ অপ্রতিরোধ্য। লন্ডনে আমরা যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি তা দূষণ কমিয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা করেছে এবং জীবন বাঁচিয়েছে। পুরো লন্ডনে ইউলেজ সম্প্রসারণ আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

২০১৯ সালে মধ্য লন্ডনে ইউলেজ চালু করা হয় এবং ২০২১ সালে তা অভ্যন্তরীণ বরোগুলোতে সম্প্রসারিত হয়। পরে ২০২৩ সালে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও স্থানীয় বিরোধিতার মধ্যেও এটি পুরো লন্ডনে কার্যকর করা হয়।

এই নীতির আওতায় নির্ধারিত নির্গমন মান পূরণে ব্যর্থ যানবাহনকে দৈনিক ফি পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে ইউলেজ এলাকার প্রায় ৯৭ শতাংশ যানবাহন নির্ধারিত পরিবেশগত মান পূরণ করছে বলে জানানো হয়েছে।

গত বছর গ্রেটার লন্ডন অথরিটির জন্য পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, ইউলেজ না থাকলে রাস্তার পাশের নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড দূষণের মাত্রা বর্তমানের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি হতে পারত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লন্ডনের অগ্রগতি উৎসাহব্যঞ্জক হলেও সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ‘মামস ফর লাংস’ সংগঠনের জেমাইমা হার্টশর্নের মতে, ২০২৪ সালে লন্ডনে এক লাখেরও বেশি শিশু শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে রাজধানীসহ পুরো যুক্তরাজ্যে বায়ুদূষণ কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই গবেষণা একদিকে লন্ডনের পরিবেশগত নীতির ইতিবাচক ফলাফল তুলে ধরেছে, অন্যদিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে বায়ুদূষণ এখনও হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য একটি নীরব কিন্তু গুরুতর হুমকি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারে ১৮০০ কর্মসংস্থান তৈরি করবে ইকো এয়ারশিপ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের মধ্যে পেট্রোলের দাম সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক

পিআইপি দাবিদারদের ১৫ হাজার পাউন্ড পাওয়ার সম্ভাবনা