13.7 C
London
April 22, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

স্পেনকে শাস্তি দিতে চান ট্রাম্প, পাল্টা শোনাল মাদ্রিদ

ইরানের বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসনে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেটি দেয়নি মাদ্রিদ সরকার। যার কারণে চটেছেন ট্রাম্প। ঘাঁটি না পাওয়ায় স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও ছুঁড়েছেন।

ট্রাম্পের শাস্তি দিতে চাওয়া হুমকির জবাবে ‘শ্রদ্ধাশীল’ বলেছে স্পেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মাদ্রিদ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।

একই সঙ্গে স্পেন সরকার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় তাদের প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে। এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়ন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলতে হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানান। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে সংলাপের আহ্বান জানান এবং বলেন, কোনো ঘৃণ্য শাসনের বিরোধিতা করা যেমন সম্ভব, তেমনি একটি অযৌক্তিক ও বিপজ্জনক সামরিক হস্তক্ষেপেরও বিরোধিতা করা সম্ভব।

সোমবার স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেন, মাদ্রিদ ইরানে হামলার জন্য দেশটির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না। এসব ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেন যৌথভাবে পরিচালনা করলেও সেগুলো স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি থেকে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারসহ ১৫টি বিমান সরিয়ে নেয়।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, স্পেন খুব খারাপ আচরণ করেছে। কারণ তারা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি।

ট্রাম্প বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। স্পেনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।

এটি প্রথমবার নয় যে স্পেন ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। ২০২৪ সালে সানচেজ ইসরাইলে অস্ত্র বহনকারী জাহাজকে স্পেনে নোঙর করতে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার মার্কিন আহ্বানও স্পেন প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্পেন বিশ্বের শীর্ষ অলিভ অয়েল রপ্তানিকারক দেশ। এছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে। তবে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের হুমকির ক্ষেত্রে স্পেন অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে।

২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রেরই উদ্বৃত্ত ছিল। যা ছিল ৪.৮ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন রপ্তানি ছিল ২৬.১ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ২১.৩ বিলিয়ন ডলার।

এম.কে

আরো পড়ুন

আর্টের ধরন বদলে দিবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ইমরান খানের ১৪ বছর, বুশরা বিবির ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইসরায়েল সরকারের কথা ও কাজে মিল নেই, বললেন ব্লিঙ্কেন