17.2 C
London
October 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

হোম অফিসের নতুন পাসপোর্ট নীতিতে রোমে ৬ সপ্তাহ আটকে ১৫ বছরের ব্রিটিশ কিশোরী

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের নতুন পাসপোর্ট নীতির কারণে ইতালির রোমে ছয় সপ্তাহ আটকে ছিল ১৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ কিশোরী। এ সময় সে যুক্তরাজ্যে ফিরতে না পারায় স্কুলের ছয় সপ্তাহের ক্লাসও মিস করতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি নতুন অভিবাসন ও ভ্রমণবিষয়ক বিধিনিষেধ নিয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ ও ইতালীয়—দুই দেশের নাগরিকত্বধারী (ডুয়াল ন্যাশনাল) ওই কিশোরী এপ্রিল মাসে ইতালিতে তার দাদির সঙ্গে দেখা করতে যায়। তবে ফেরার সময় যুক্তরাজ্যগামী বিমানে তাকে উঠতে দেওয়া হয়নি। কারণ, ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় অবশ্যই বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ‘সার্টিফিকেট অব এন্টাইটেলমেন্ট’ (Certificate of Entitlement) প্রদর্শন করতে হবে। এ নথি না থাকলে বিমান, ট্রেন বা ফেরি কর্তৃপক্ষ যাত্রীকে বোর্ডিংয়ে বাধা দিতে পারে।

কিশোরীর বাবা ও লেখক রোয়ান সোমারভিল অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ দূতাবাস, হোম অফিস এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO) কেউই শুরুতে তাদের কার্যকর সহায়তা করেনি।

তার ভাষায়, “আমাদের এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একটি শিশুর শিক্ষা ও মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে খেলা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”

তিনি আরও জানান, মেয়ের আগে কখনও ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকায় হোম অফিস তাকে অস্থায়ী ভ্রমণ নথিও দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে কিশোরী দীর্ঘ সময় ইতালিতেই আটকে থাকে।

এদিকে, দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিশোরীর স্কুল সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলোর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য জো পাওয়েলও বিষয়টি হোম অফিসের নজরে আনেন। পরে ফরেন অফিস (FCDO) একটি ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করলে কিশোরী যুক্তরাজ্যে ফিরতে সক্ষম হয়।

জো পাওয়েল বলেন, একজন ব্রিটিশ অভিভাবকের সন্তান, দুটি বৈধ পাসপোর্টধারী এবং শৈশব থেকেই যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষার্থী নতুন নিয়মের কারণে ছয় সপ্তাহ স্কুলে যেতে পারেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সে বিষয়ে তিনি অভিবাসনমন্ত্রী মাইক ট্যাপকে লিখবেন।

রোয়ান সোমারভিল পুরো প্রক্রিয়াকে “আমলাতান্ত্রিক দুঃস্বপ্ন” বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, মেয়ের ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেতেও আরও প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে, যদিও সরকারি ওয়েবসাইটে সাধারণত তিন সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগের জবাবে হোম অফিস জানায়, মে মাসে কিশোরীকে জরুরি ভ্রমণ নথি দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে সে যুক্তরাজ্যে ফিরতে পেরেছে। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর মাত্র আট দিনের মধ্যে তার ব্রিটিশ পাসপোর্টও ইস্যু করা হয়েছে।

হোম অফিস আরও জানায়, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম অনুযায়ী সব দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা সার্টিফিকেট অব এন্টাইটেলমেন্ট প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় পরিবহন সংস্থাগুলো তাদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব যাচাই করতে না পারায় বোর্ডিংয়ে নিষেধাজ্ঞা বা ভ্রমণে বিলম্ব হতে পারে।

এদিকে নতুন এই বিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে স্পেন ও ডেনমার্ক থেকেও একাধিক দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিক একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন। ফলে নতুন পাসপোর্ট নীতির বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা নিয়ে হোম অফিসের ভূমিকা আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

রেস্তোরাঁকর্মীদের টিপস মালিকের নেয়া নিষিদ্ধ করা হবে যুক্তরাজ্যে

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ করে নেতানিয়াহুর ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ মন্তব্যে বিতর্ক

শহরের জমি ব্যবহারে ফল ও সবজি উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়াতে পারবে ব্রিটেন

অনলাইন ডেস্ক