TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অভিবাসীদের জন্য সুখবরঃ যুক্তরাজ্যে নির্যাতনের শিকার বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা নিয়ম কার্যকর

যুক্তরাজ্যে মর্ডান স্লেভারি ও কর্মক্ষেত্রে শোষণের শিকার বিদেশি কর্মীদের সুরক্ষায় নতুন ভিসা নিয়ম কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এ নিয়ম অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় থাকা কোনো ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে মর্ডান স্লেভারির শিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাকে আর নির্দিষ্ট স্পনসর বা নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে হবে না। তিনি নিজের ভিসার অবশিষ্ট মেয়াদে অন্য যেকোনো বৈধ কাজে যুক্ত হতে পারবেন।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগে নির্যাতনকারী বা শোষণকারী নিয়োগকর্তার চাকরি ছেড়ে দিলে বিদেশি কর্মীরা নিজেদের অভিবাসন বৈধতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তেন। একই সঙ্গে চাকরি ও আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কাও থাকত। স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীরা সাধারণত সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেকেই নির্যাতন সহ্য করেও চাকরি ছাড়তে পারতেন না। নতুন নিয়মের ফলে স্বীকৃত ভুক্তভোগীরা এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবেন।

নতুন নিয়মটি শুধু পরিচর্যাকর্মীদের জন্য নয়; স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার আওতায় থাকা অন্যান্য কর্মীরাও এর সুবিধা পাবেন। যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার আশায় যেসব বিদেশি কর্মী এসেছিলেন, কিন্তু পরে অসাধু নিয়োগকর্তার শোষণের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবরণে এক ভুক্তভোগী নারীর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। স্থায়ী ও পূর্ণকালীন পরিচর্যাকর্মীর চাকরি পাওয়ার আশায় তিনি একটি এজেন্সিকে ২০ হাজার পাউন্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তার স্পনসর ভিসা সচল রাখার জন্য প্রতি মাসে ৪০০ পাউন্ড দাবি করতেন, অথচ তাকে খুব সামান্য কাজ দেওয়া হতো কিংবা কোনো কাজই দেওয়া হতো না। কয়েক মাস ধরে তিনি বাড়িভাড়া ও পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেয়েছেন। ভিসা বাতিলের হুমকিও বারবার দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কাজ পেলেও মাসে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ পাউন্ড বেতন দেওয়া হতো, যা প্রতিশ্রুত আয়ের তুলনায় অনেক কম।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক মন্ত্রী জো হোয়াইট বলেছেন, আধুনিক দাসত্বের শিকার ব্যক্তিদের এমন শোষণ সহ্য করতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়। নতুন নিয়ম তাদের নির্যাতনমূলক কর্মপরিবেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসা, জীবন পুনর্গঠন এবং শোষণের মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে কর্মীদের শোষণকারী অসাধু স্পনসরদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্যের ইন্ডিপেন্ডেন্ট দাসত্ববিরোধী কমিশনার এলিনর লায়ন্স এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিলে জীবিকা ও অভিবাসন বৈধতা হারানোর ভয়ে শোষণমূলক কর্মপরিবেশে আটকে থাকেন। বিকল্প চাকরি খুঁজে নেওয়া এবং নিজেদের ভরণপোষণের সুযোগ তৈরি হলে এই বাধা অনেকটাই কমবে।

স্যালভেশন আর্মির মানব পাচার ও আধুনিক দাসত্ববিরোধী কার্যক্রমের উপপরিচালক মেজর হিদার গ্রিনস্টেডও নতুন নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, ভুক্তভোগীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করা ভবিষ্যতে তাদের পুনরায় শোষণের শিকার হওয়া ঠেকানোর অন্যতম উপায়। ভিসার অবশিষ্ট মেয়াদে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কাজের সুযোগ তাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে সহায়তা করবে।

সরকার জানিয়েছে, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার এবং অসাধু নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অভিবাসনবিষয়ক শ্বেতপত্রে স্পনসর করা কর্মীদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তন সহজ করা, নির্দিষ্ট স্পনসরের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কর্মীদের শোষণ থেকে সুরক্ষা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ৬ হাজার ৬০০টিরও বেশি স্পনসরের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে ৪ হাজার ৪০০টিরও বেশি লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪০ শতাংশ বেশি এবং রেকর্ড সর্বোচ্চ। কোনো স্পনসরের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে পুলিশের কাছে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।

সূত্রঃ ইউকে.গভ

এমকে

আরো পড়ুন

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম

ব্রডব্যান্ড বিল বাঁচাতে অফকমের আহ্বান

লন্ডন সেন্ট্রাল মসজিদে গাওয়া হলো ব্রিটিশ জাতীয় সঙ্গীত

অনলাইন ডেস্ক