ব্রিটেনে নির্বাসনের অপেক্ষায় থাকা এক ভারতীয় মুসলিম পুরুষ ও তার হিন্দু স্ত্রীকে আলাদাভাবে রাখার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে দেশটির হোম অফিসকে। হাইকোর্টের এক বিচারক রায় দিয়েছেন, দম্পতিকে আলাদা করে রাখার বিষয়টি তাদের পারিবারিক জীবনসংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দম্পতি গত বছর হোম অফিসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ডিপোর্টের প্রস্তুতির সময় আলাদা জায়গায় রাখা তাদের মানবাধিকারের ওপর ‘বেআইনি হস্তক্ষেপ’।
দম্পতি ২০২২ সালে ব্রিটেনে আসেন। ২০২৪ সালে তাদের ব্রিটেনে থাকার অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে তারা আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাদের দাবি ছিল, ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করার কারণে ভারতে ফিরে গেলে তারা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।
তবে হোম অফিস গত বছরের আগস্টে তাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং আবেদনটি ‘স্পষ্টভাবে ভিত্তিহীন’ হিসেবে প্রত্যায়িত করে। এর ফলে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণ আপিলের সুযোগও ছিল না।
এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দম্পতিকে আলাদাভাবে আটক রাখা হয়। অক্টোবরের শুরুতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
জুনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে দম্পতির আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াগতভাবে অন্যায্য ও বেআইনি ছিল। একই সঙ্গে আবেদনটিকে ‘স্পষ্টভাবে ভিত্তিহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করাও অযৌক্তিক ছিল বলে তারা দাবি করেন।
আইনজীবীরা আরও বলেন, আটক অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা রাখা তাদের মানবাধিকারে বেআইনি হস্তক্ষেপ। তাই এ কারণে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।
হোম অফিস জানিয়েছিল, সাধারণভাবে বিবাহিত দম্পতিদের জন্য একই জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এই দম্পতিকে আলাদা রাখা হয়েছিল তাদের দ্রুত নির্বাসনের সম্ভাবনার কারণে।
তবে ডেপুটি হাইকোর্ট বিচারক সাইমন টিঙ্কলার তার রায়ে বলেন, হোম অফিস পরে স্বীকার করেছে যে আটক অবস্থায় দম্পতিকে আলাদা রাখা তাদের মানবাধিকারে বেআইনি হস্তক্ষেপ ছিল।
বিচারক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে দম্পতির দাবি খারিজ করলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে রায় দেন। তবে তারা কত টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন, আদৌ পাবেন কি না—তা পরবর্তী সময়ে কাউন্টি কোর্ট নির্ধারণ করবে।
২৮ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক হোম অফিসের আদালতের কাছে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘গুরুতর ব্যর্থতার’ সমালোচনা করেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, নির্ভরশীল সন্তান নেই—এমন পরিবারের জন্য নির্বাসনের আগে অল্প সময়ের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা না করাটা কোনো কোনো পরিস্থিতিতে বৈধ হতে পারে। কিন্তু এমন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তা নেই বলে আবেদনকারী ও আদালতকে বিভ্রান্ত করা বৈধ নয়।
তিনি আরও বলেন, ওই দম্পতির জন্য পারিবারিক আবাসনের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হয়েছিল এবং পরে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি করাও বৈধ ছিল না, যদি বাস্তবে তা করা না হয়ে থাকে।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে—এমন সব চলমান মামলা দ্রুত পর্যালোচনা করে আদালত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতি হোম অফিস তার আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এমকে

