TV3 BANGLA
মুক্তমতযুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের নতুন নীতি: পাঁচ বছর, দশ বছর,  পনেরো বছর, বিশ বছর তিন বা পাঁচ বছরেও আইএলআর পাওয়ার সুযোগ

নাশীত রহমান |          লন্ডন  |           ০২ নভেম্বর ২০২৬

 

হাউস অব কমন্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতি — ২ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট

 

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Shabana Mahmood দেশটির অভিবাসন ও স্থায়ী বসবাসের (Indefinite Leave to Remain বা ILR) ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। নতুন নীতির মূল বক্তব্য হচ্ছে, শুধু যুক্তরাজ্যে পাঁচ বছর বসবাস করলেই স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জিত হবে না। বরং অভিবাসীদের আচরণ, অর্থনৈতিক অবদান, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং ব্রিটিশ সমাজে একীভূত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।

শাবানা মাহমুদ বলেছেন, “স্থায়ী বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া উচিত নয়; এটি অর্জন করতে হবে।”

সরকারের এই নীতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ (Earned Settlement) বা অবদানের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন।

স্থায়ী বসবাসের জন্য কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?

২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত সরকারি পরামর্শপত্র এবং ২০২৬ সালের ২ নভেম্বরের ঘোষণাসংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সময়সীমাগুলো হলো: যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অভিবাসন রুটে স্থায়ী বসবাসের (ILR) বর্তমান যোগ্যতার সময়সীমা ও শর্তাবলি

অভিবাসন রুট স্থায়ী বসবাসের আগে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় (বছর) ধারাবাহিক বসবাসের শর্ত ইংরেজি ভাষার দক্ষতা লাইফ ইন দ্য ইউকে পরীক্ষা
স্কিলড ওয়ার্কার (Skilled Worker) ৫ বছর ✓ ভিসা গ্রহণের সময় ✓
টি২ ধর্মীয় মন্ত্রী (T2 Minister of Religion) ৫ বছর ✓ ভিসা গ্রহণের সময় ✓
বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি (Representative of an Overseas Business) ৫ বছর ✓ ✓ ✓
যুক্তরাজ্যে পূর্বপুরুষের সূত্রে ভিসা (UK Ancestry) ৫ বছর ✓ ✓ ✓
গ্লোবাল ট্যালেন্ট (Global Talent) ৩–৫ বছর ✓ ✓ ✓
স্কেল-আপ ওয়ার্কার (Scale-up Worker) ৫ বছর ✓ ভিসা গ্রহণের সময় ✓
ইনোভেটর ফাউন্ডার (Innovator Founder) ৩ বছর ✓ ভিসা গ্রহণের সময় ✓
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ (International Sportsperson) ৫ বছর ✓ ✓ ✓
হংকং বিএনও (Hong Kong BN(O)) ৫ বছর ✓ ✓ ✓
ব্যক্তিগত জীবন (Private Life – Adult) ১০ বছর ✓ ✓ ✓
পারিবারিক জীবন (Family Life – Partner/Parent) ৫–১০ বছর ✓ ✓ ✓
শরণার্থী ও মানবিক সুরক্ষা (Protection) ৫ বছর — — —
দীর্ঘমেয়াদি বসবাস (Long Residence) ১০ বছর ✓ ✓ ✓
বিবেচনামূলক থাকার অনুমতি (Discretionary Leave) ১০ বছর — — —
পারিবারিক সহিংসতার শিকার (Victims of Domestic Abuse) যোগ্যতা অর্জনের পরপরই — — —
স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর কারণে আবেদন (Bereaved Partners) যোগ্যতা অর্জনের পরপরই — — —
স্থায়ী বাসিন্দা মা-বাবার সন্তান (যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী বা সাত বছর বসবাসকারী) যোগ্যতাভেদে তাৎক্ষণিক অথবা ৭ বছর — — —

 

ব্যাখ্যা: ✓ চিহ্নের অর্থ সংশ্লিষ্ট শর্ত সাধারণভাবে প্রযোজ্য। ‘ভিসা গ্রহণের সময়’ বলতে সংশ্লিষ্ট রুটে প্রবেশের সময় ইংরেজি ভাষার যোগ্যতার শর্ত বোঝানো হয়েছে। ‘—’ চিহ্নের অর্থ প্রদত্ত মূল সারণিতে কোনো শর্ত উল্লেখ করা হয়নি।

 

স্থায়ী বসবাসের (ILR) জন্য নির্ধারিত মূল সময়সীমা কমানোর প্রস্তাবিত শর্তসমূহ

একজন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিচের একাধিক শর্ত পূরণ হলেও কেবল যে শর্তের কারণে সবচেয়ে বেশি সময় কমবে, সেটিই প্রযোজ্য হবে। একাধিক শর্তের সময়সীমা হ্রাস একসঙ্গে যোগ করা যাবে না। তবে সময়সীমা বৃদ্ধির কোনো শর্ত প্রযোজ্য হলে সেটি সময়সীমা কমানোর শর্তের ওপর অগ্রাধিকার পাবে।

বিবেচনার ক্ষেত্র আবেদনকারীর যোগ্যতা বা শর্ত মূল সময়সীমার পরিবর্তন
সামাজিক একীভূতকরণ ইউরোপীয় ভাষাগত দক্ষতার মানদণ্ড (CEFR) অনুযায়ী ইংরেজি ভাষায় সি১ (C1) স্তরের দক্ষতা থাকতে হবে। ১ বছর কমবে
অর্থনৈতিক অবদান স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ঠিক আগের ৩ বছর ধরে বছরে £১,২৫,১৪০ করযোগ্য আয় থাকতে হবে। ৭ বছর কমবে
অর্থনৈতিক অবদান স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ঠিক আগের ৩ বছর ধরে বছরে £৫০,২৭০ করযোগ্য আয় থাকতে হবে। ৫ বছর কমবে
অর্থনৈতিক অবদান সরকার নির্ধারিত জনসেবামূলক পেশায় ৫ বছর চাকরি করতে হবে। ৫ বছর কমবে
সামাজিক অবদান স্বেচ্ছাসেবা বা অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করতে হবে। ৩–৫ বছর কমতে পারে
যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও বসবাস ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা বা সন্তান হিসেবে থাকার অনুমতি থাকতে হবে এবং পারিবারিক অভিবাসনের মূল শর্ত পূরণ করতে হবে। ৫ বছর কমবে; বিষয়টি পরামর্শের আওতাভুক্ত নয়
যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও বসবাস ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) বা বিএনও (BN(O)) রুটের অধীনে থাকার অনুমতি থাকতে হবে। ৫ বছর কমবে; বিষয়টি পরামর্শের আওতাভুক্ত নয়
যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও বসবাস গ্লোবাল ট্যালেন্ট অথবা ইনোভেটর ফাউন্ডার রুটে ধারাবাহিকভাবে ৩ বছর বসবাস করতে হবে। ৭ বছর কমবে
যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও বসবাস নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য সময়সীমা কমানোর ব্যবস্থা। জনপরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে

 

স্থায়ী বসবাসের জন্য চারটি প্রধান শর্ত – নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা নির্ধারণে চারটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রথমত, ভালো চরিত্র (Good Character)। আবেদনকারীর অপরাধের ইতিহাস, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং অন্যান্য আচরণগত বিষয় বিবেচনা করা হবে। গুরুতর অপরাধ বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারণে স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও সামাজিক একীভূতকরণ। সাধারণভাবে ইংরেজি ভাষায় বি২ (B2) স্তরের দক্ষতা এবং লাইফ ইন দ্য ইউকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক অবদান। আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ, আয় এবং অর্থনৈতিক অবদানের প্রমাণ দিতে হতে পারে। পূর্ববর্তী প্রস্তাবে বছরে £১২,৫৭০-এর বেশি আয় করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সাধারণভাবে তিন থেকে পাঁচ বছরের আয়ের ইতিহাস বিবেচনার প্রস্তাব রয়েছে।

চতুর্থত, সরকারি পাওনা পরিশোধ। এনএইচএসের বকেয়া, করসংক্রান্ত দেনা কিংবা সরকারের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পাওনা থাকলে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা প্রভাবিত হতে পারে।

এগুলো সবই বর্তমানে কার্যকর আইন নয়। চূড়ান্ত ইমিগ্রেশন রুলস প্রকাশিত হলে কোন শ্রেণির জন্য কী বিধান কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থায়ী বসবাসের (ILR) জন্য নির্ধারিত মূল সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবিত শর্তসমূহ

বিশেষ দ্রষ্টব্য: একজন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একাধিক সময়সীমা বৃদ্ধির শর্ত প্রযোজ্য হলেও যে শর্তের কারণে সবচেয়ে বেশি সময় বাড়বে, কেবল সেটিই কার্যকর হবে। সময়সীমা বৃদ্ধির শর্ত সব ক্ষেত্রে সময়সীমা হ্রাসের শর্তের ওপর অগ্রাধিকার পাবে।

বিবেচনার ক্ষেত্র আবেদনকারীর পরিস্থিতি বা শর্ত মূল সময়সীমার পরিবর্তন
অর্থনৈতিক অবদান স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের পথে মোট ১২ মাসের কম সময় সরকারি আর্থিক সুবিধা (Public Funds) গ্রহণ করেছেন। ৫ বছর বাড়বে
অর্থনৈতিক অবদান স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের পথে মোট ১২ মাসের বেশি সময় সরকারি আর্থিক সুবিধা (Public Funds) গ্রহণ করেছেন। ১০ বছর বাড়বে
যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও বসবাস অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, যেমন ছোট নৌকায় বা গোপনে প্রবেশ করেছেন। সর্বোচ্চ ২০ বছর বাড়তে পারে
যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও বসবাস ভিজিট ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। সর্বোচ্চ ২০ বছর বাড়তে পারে
যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও বসবাস বৈধ থাকার অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৬ মাস বা তার বেশি সময় অতিরিক্ত অবস্থান করেছেন (Overstaying)। সর্বোচ্চ ২০ বছর বাড়তে পারে

 

প্রস্তাবিত সময়সীমা গণনার উদাহরণ

সরকারের প্রস্তাবিত মূল সময়সীমা ১০ বছর ধরে নিচের উদাহরণগুলো দেওয়া হলো।

আবেদনকারীর পরিস্থিতি প্রস্তাবিত মোট সময়সীমা
সাধারণ আবেদনকারী ১০ বছর
সি১ স্তরের ইংরেজি ভাষার দক্ষতাসম্পন্ন আবেদনকারী ৯ বছর
বছরে £৫০,২৭০ করযোগ্য আয়, পরপর ৩ বছর ৫ বছর
বছরে £১,২৫,১৪০ করযোগ্য আয়, পরপর ৩ বছর ৩ বছর
নির্ধারিত জনসেবামূলক পেশায় ৫ বছর চাকরি ৫ বছর
যোগ্য কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক ৫–৭ বছর
১২ মাসের কম সময় পাবলিক ফান্ড গ্রহণ ১৫ বছর
১২ মাসের বেশি সময় পাবলিক ফান্ড গ্রহণ ২০ বছর
নির্দিষ্ট অবৈধ প্রবেশ, ভিজিট ভিসায় প্রবেশ বা দীর্ঘমেয়াদি ওভারস্টেয়িং সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে

 

কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন – ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার যোগ্য স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা পাঁচ বছর রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। পূর্ববর্তী প্রস্তাবে কিছু নিম্নদক্ষতার কর্মীর জন্য ১৫ বছরের সময়সীমার কথা ছিল। তবে সব কেয়ার ওয়ার্কার, সিনিয়র কেয়ার ওয়ার্কার এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একই সুবিধা পাবেন কি না, তা চূড়ান্ত বিধান থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

যারা ইতিমধ্যে পাঁচ বছরের ভিসায় যুক্তরাজ্যে রয়েছেন, তাঁদের কী হবে? এটি নতুন নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয়। ধরা যাক, একজন স্কিলড ওয়ার্কার ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং প্রচলিত ব্যবস্থায় ২০২৭ সালে পাঁচ বছর পূর্ণ করে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার পরিকল্পনা করেছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তিনি পাঁচ বছরেই আইএলআর পাবেন, নাকি দশ বছর অপেক্ষা করতে হবে—এটি নির্ভর করবে চূড়ান্ত নিয়ম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর (Transitional Arrangements)।

২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটির সামনে দেওয়া বক্তব্যে শাবানা মাহমুদ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় কার্যকর নিয়ম আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। এর ফলে আগে থেকেই যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী হাজার হাজার অভিবাসী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যাঁরা পাঁচ বছরের মেয়াদ প্রায় শেষ করেছেন, তাঁদের জন্য সরকার কোনো বিশেষ ছাড় বা ট্রানজিশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট (Transitional Arrangements) রাখবে কি না, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে – পূর্ববর্তী সরকারি প্রস্তাবে কিছু ক্ষেত্রে পাবলিক ফান্ড বা সরকারি আর্থিক সুবিধা গ্রহণের কারণে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় আরও পাঁচ বা দশ বছর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের জন্য আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রস্তাব ছিল। তবে সরকারি সুবিধা গ্রহণের সব পরিস্থিতিকে একইভাবে বিবেচনা করা হবে কি না এবং শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য কী ব্যতিক্রম থাকবে, তা চূড়ান্ত নিয়মে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

দশ বছরের লং রেসিডেন্স রুটের ভবিষ্যৎ – বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে দশ বছর বসবাসের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের একটি পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে, যা সাধারণভাবে ‘টেন ইয়ার লং রেসিডেন্স’ নামে পরিচিত। সরকারের পূর্ববর্তী পরামর্শপত্রে এই পৃথক রুট বাতিল করার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি কার্যকর হলে দীর্ঘদিন বিভিন্ন বৈধ ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এই রুট বাতিল হয়েছে বলে এখনই ধরে নেওয়া যাবে না।

মানবাধিকার ও আইনগত প্রশ্ন – প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বিদ্যমান পাঁচ বছরের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, চাকরি করেছেন, কর দিয়েছেন এবং পরিবার গঠন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হঠাৎ যোগ্যতার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আইনগত চ্যালেঞ্জের বিষয় হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ন্যায্যতা (Fairness), বৈধ প্রত্যাশা (Legitimate Expectation), সমানুপাতিকতা (Proportionality) এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের ৮ অনুচ্ছেদের অধীনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে র অধিকার প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে শুধু নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার কারণেই কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নতুন নিয়ম কি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে? শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় ঘোষণা বা নীতিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন রুলস পরিবর্তিত হয় না। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রযোজ্য ইমিগ্রেশন রুলস সংশোধন, কার্যকারিতার তারিখ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করতে হবে। বিশেষ করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন: নতুন নিয়ম কবে কার্যকর হবে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে তা কীভাবে প্রযোজ্য হবে, কোন কোন শ্রেণির অভিবাসী ছাড় পাবেন এবং আগে থেকে অর্জিত যোগ্যতার সময় কীভাবে গণনা করা হবে।

অভিবাসীদের জন্য এর তাৎপর্য – শাবানা মাহমুদের নতুন নীতি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা সময়ভিত্তিক যোগ্যতা থেকে অবদানভিত্তিক যোগ্যতার দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে। উচ্চ আয়ের অভিবাসীরা অপেক্ষাকৃত দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে সাধারণ স্কিলড ওয়ার্কার এবং কিছু নিম্ন আয়ের কর্মীর জন্য অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী এবং পাঁচ বছরের স্থায়ী বসবাসের প্রত্যাশায় থাকা অভিবাসীদের জন্য পর্যাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করবে? এই প্রশ্নের উত্তর চূড়ান্ত ইমিগ্রেশন রুলস প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

লেখক: নাশীত রহমান, লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ০২ নভেম্বর ২০২৬

লেখক পরিচিতি – নাশীত রহমান যুক্তরাজ্যভিত্তিক একজন বিশিষ্ট ও অভিজ্ঞ আইনজীবী, যিনি ইমিগ্রেশন, অ্যাসাইলাম ও মানবাধিকার আইনে বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবেও তাঁর রয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য পেশাগত অভিজ্ঞতা। তিনি জনপ্রিয় সরাসরি সম্প্রচারিত আইনি অনুষ্ঠান “Law with N Rahman”-এর দীর্ঘদিনের উপস্থাপক। যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ও নীতিনির্ধারণী আলোচনা, অভিবাসন আইন, মানবাধিকার এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখালেখি, আইনি বিশ্লেষণ, পরামর্শ ও অবদান ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

@ nash.uk@gmail.com

আরো পড়ুন

সিরিয়ায় সংঘাতে আইএস বন্দিশিবির ভাঙনের আশঙ্কা, শামিমা বেগমের মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক

পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে বন্দুকধারীদের গুলিতে একজনের মৃত্যু

ব্রিটেনে ৩০ হাজার পাউন্ডের প্রাইভেট স্কুলে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ