12.8 C
London
October 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের ইলিংয়ে বিদ্বেষমূলক অপরাধের শিকার এশীয়রা সবচেয়ে বেশি

ব্রিটেনের পশ্চিম লন্ডনের ইলিংয়ে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালের পর থেকে বরোতে এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল অনুমোদন করেছে ইলিং কাউন্সিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিংয়ে নথিভুক্ত বিদ্বেষমূলক অপরাধের মধ্যে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। মোট নথিভুক্ত অপরাধের ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ ঘটনায় বর্ণবাদী বিদ্বেষের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

এলাকাভিত্তিক হিসাবে, ইলিং ব্রডওয়েতে দুই বছরে সর্বোচ্চ ১২৪টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে নরউড গ্রিনে ১১৮টি, সাউথ অ্যাকটনে ১১৩টি এবং নর্থ অ্যাকটনে ১১০টি ঘটনা।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে এশীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ সবচেয়ে বেশি। মোট ভুক্তভোগীর ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ এশীয়, ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ।

২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময়ে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪৩টি বেড়েছে। একই সময়ে সমকামীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বেড়েছে ৩১টি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে—৯০ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ধরনের ঘটনা ১১টি থেকে বেড়ে ২১টিতে দাঁড়িয়েছে।

ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধও ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনা সাতটি থেকে বেড়ে ১৩টিতে পৌঁছেছে। তবে পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের অনেক ঘটনাই যথাযথভাবে রিপোর্ট করা হয় না।

অপরাধের সংখ্যা বাড়লেও ইলিংয়ে প্রতি এক হাজার বাসিন্দার বিপরীতে বিদ্বেষমূলক অপরাধের হার লন্ডনের সামগ্রিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম রয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর বুধবার ইলিং কাউন্সিলের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অপরাধ মোকাবিলায় নতুন কৌশল অনুমোদন করা হয়। এতে চারটি প্রধান বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—অপরাধ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি, অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও আস্থা বাড়ানো, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সহায়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে এবং স্কুলের পাঠ্যক্রমে বিদ্বেষবিরোধী শিক্ষা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, পুলিশের বাইরে কমিউনিটিভিত্তিক অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন ভাষায় অভিযোগ জানানোর নির্দেশিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাউন্সিল আরও জানিয়েছে, বিদ্বেষমূলক অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক ও ব্যবহারিক সহায়তা দেওয়া হবে। কোনো ঘটনা আইনি বিচারের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলেও ভুক্তভোগীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুনরায় অপরাধ সংঘটন ঠেকাতে শিক্ষা ও কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগও নেওয়া হবে।

ইলিং কাউন্সিলের অপরাধ ও অসামাজিক আচরণ মোকাবিলাবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য জসবীর আনন্দ বলেন, নতুন কৌশলটি এমন একটি বরো গড়ে তোলার অঙ্গীকার তুলে ধরে, যেখানে প্রত্যেকে নিরাপদ বোধ করবেন এবং সম্মান ও মর্যাদা পাবেন। তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করেই বিদ্বেষমূলক অপরাধ কমানো সম্ভব নয়; এ জন্য মানুষের আস্থা বাড়ানো, অভিযোগ জানানোর সুযোগ উন্নত করা এবং বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এমকে

আরো পড়ুন

অস্ট্রেলিয়ার মতো অফশোর আশ্রয়কেন্দ্র যুক্তরাজ্যের জন্য যে কারণে বিপজ্জনক

নিউজ ডেস্ক

কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের দৌড় হতে প্রীতি প্যাটেল বাদ পড়েছেন

যুক্তরাজ্যে নাইটক্লাবে মদ্যপান করিয়ে তরুণীকে ধর্ষণঃ চেস্টার আদালতে দুই শরণার্থীর কঠোর সাজা