18.1 C
London
September 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের বাসচালকদের ‘বিল অব রাইটস’ প্রত্যাখ্যান সাদিক খানের

লন্ডনের বাসচালকদের জন্য প্রস্তাবিত ‘বাস ড্রাইভার বিল অব রাইটস’ বা অধিকার সনদ পুরোপুরি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। এই সনদের মাধ্যমে বাসচালকদের নিরাপদ কর্মসূচি, যথাযথ বিশ্রামের বিরতি এবং কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছিল।

বাসচালকরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন বা টিএফএলের সঙ্গে থাকা সব পরিবহন চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডন অ্যাসেম্বলি চলতি গ্রীষ্মে ১২ দফা দাবিসংবলিত বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস করে।

তবে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান প্রস্তাবিত বিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেননি। তার যুক্তি, পরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে নির্দিষ্ট অধিকার স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সময়ের সঙ্গে সেগুলো অচল বা পুরোনো হয়ে যেতে পারে।

সাদিক খান বলেন, বাসচালকদের সহায়তা করার জন্য নতুন নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তার মতে, এমন কোনো ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করা উচিত নয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পুরোনো হয়ে যেতে পারে।

মেয়রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন লন্ডন অ্যাসেম্বলির সদস্য কিথ প্রিন্স। তিনিই মূল ‘বাস ড্রাইভার বিল অব রাইটস’ প্রস্তাব করেছিলেন।

কিথ প্রিন্স বলেন, সাদিক খান প্রায়ই লন্ডনবাসীকে মনে করিয়ে দেন যে তিনি একজন বাসচালকের সন্তান। তার পরও বাসচালকদের জন্য দৃঢ় সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রস্তাবকে ‘পাথরে খোদাই করা’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে প্রত্যাখ্যান করা বিস্ময়কর।

তবে পুরো বিলটি গ্রহণ না করলেও বাসচালকদের তিনটি দাবির বিষয়ে সিটি হল সম্মত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত বাসচালকদের চাপের পর এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন বা টিএফএল জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত সব বাস রুটে টয়লেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে সব বাসচালকের কেবিনে এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বাসচালকদের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো অনুমোদিত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ কর্মসূচি অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, জোর করে অতিরিক্ত সময় কাজ না করানো এবং অতিরিক্ত কাজ না করলে বেতন হারানোর আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা।

কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিরতি নিশ্চিত করার দাবিও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করা হয়নি। বাসচালকদের দাবি, নিরাপদ কর্মপরিবেশের অংশ হিসেবে কর্মদিবসে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

এদিকে লন্ডনের পরিবহন কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যভাবে একটি সরকারি মালিকানাধীন বাস কোম্পানি প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লন্ডনের বাস পরিবহন ব্যবস্থায় সরকারি মালিকানার সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি হতে পারে।

ফলে বাসচালকদের ১২ দফা ‘বিল অব রাইটস’-এর সব দাবি এখনো বাস্তবায়িত না হলেও টয়লেট স্থাপন ও চালকদের কেবিনে এয়ার কন্ডিশনিংসহ কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টিএফএল। নিরাপদ কর্মসূচি, অতিরিক্ত কাজ এবং বিশ্রামের বিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডনের ডাবল-ডেকার বাস এখন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, বিক্রির জন্য উঠেছে eBay-তে

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ ডেলিভারি চাকুরি নিয়ে বিতর্ক

ভাড়াটেদের অধিকার বিল