22.2 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

গাজায় গণহত্যার অভিযোগের মধ্যেও ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে ভারতঃ অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে ইসরায়েলের কাছে হাজার হাজার অস্ত্র ও সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে ভারতীয় কোম্পানিগুলো লাভবান হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রপ্তানির মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

৪২ পৃষ্ঠার “মেড ইন ইন্ডিয়া: ইসরায়েলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরায়েলে মোট ২ হাজার ৫৯৬টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও সামরিক উপাদানের চালান পাঠানো হয়েছে।

অ্যামনেস্টির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলো অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি সামরিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক গোলাবারুদের উপাদান—যার মধ্যে ড্রোনের ওয়ারহেড ও আর্টিলারি শেলের অংশও রয়েছে—এছাড়া শত শত সামরিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পে সরবরাহ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত-ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। ২০২৬ সালে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব” হিসেবে ঘোষণা করে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একাধিক সমঝোতা করে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার বলেন, গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ থাকা সত্ত্বেও ভারত অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। তার ভাষায়, ভারত শুধু অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থই হয়নি, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে।

প্রতিবেদনে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে “গুরুতর কাঠামোগত দুর্বলতায় ভরা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির আগে মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতা নেই এবং রপ্তানি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতারও অভাব রয়েছে।

অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, ভারত এখনো আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে যোগ দেয়নি। সংস্থাটি ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অস্ত্র রপ্তানি নীতি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে, ভারতের পাঠানো বহু চালান সরাসরি ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে গাজার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপে “মেড ইন ইন্ডিয়া” চিহ্নিত সামরিক সরঞ্জামের অংশ পাওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং এসব অভিযোগকে “মিথ্যা” ও “বিকৃত” বলে দাবি করেছে। এছাড়া প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারতে মেলায় শ্লীলতাহানির শিকার মন্ত্রীর মেয়ে

কোরআন ছুঁয়ে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

পবিত্র কাবার আদলে তৈরি মঞ্চ, চলছে খোলামেলা নাচ-গান!