বনভূমিতে কিছু সময় কাটানো শুধু মানসিক প্রশান্তিই দেয় না, বরং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন জাপানের গবেষকরা। দীর্ঘমেয়াদি একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, গাছ থেকে নির্গত প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মানসিক চাপ কমাতে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
জাপানের রোগপ্রতিরোধবিজ্ঞানী ড. ছিং লি প্রায় দুই দশক ধরে বনভূমিতে সময় কাটানোর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার গবেষণায় দেখা যায়, গাছ থেকে নির্গত ফাইটোনসাইড নামের প্রাকৃতিক বায়ুবাহিত রাসায়নিক যৌগ মানুষের শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বনভূমিতে সময় কাটানোর পর শরীরের কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন—এই দুই মানসিক চাপ-সংশ্লিষ্ট হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন বন থেকে ফিরে আসার পরও কয়েক দিন পর্যন্ত বজায় ছিল।
আরেকটি পরীক্ষায় গবেষকরা হোটেল কক্ষের ভেতরে গাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রাকৃতিক তেল ছড়িয়ে দেন। সেখানেও অনুরূপ ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এতে ধারণা করা হয়, গাছ থেকে নির্গত রাসায়নিক যৌগগুলো এই প্রভাবের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফলকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। ফাইটোনসাইড কোনো ওষুধ নয় এবং এগুলো সরাসরি মানসিক চাপের হরমোন ধ্বংস করে না। একইভাবে, বনভূমিতে হাঁটাহাঁটি কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমির তুলনামূলক বিশুদ্ধ বাতাস, হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়াম, নীরব পরিবেশ এবং দৈনন্দিন মানসিক চাপ থেকে সাময়িক দূরে থাকার মতো বিষয়গুলোও ইতিবাচক প্রভাবের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবুও গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বনভূমিতে সময় কাটানো মানুষের মানসিক সুস্থতা ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য উপকারী হতে পারে। তাই নিয়মিত প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো সুস্থ জীবনযাপনের একটি কার্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্রঃ Environmental Health and Preventive Medicine সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা
এম.কে

