12.1 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
ফিচার

বিশ্ব গাধা দিবস আজ, কীভাবে এলো দিবসটি?

‘তুই একটা গাধা!’ এই সম্বোধন শোনেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কেননা কারও নির্বুদ্ধিতায় তাকে গাধা বলাটা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেই পরে। তবে যুগ যুগ ধরে মানুষের সেবায় নিয়োজিত প্রাণীদের তালিকায় ‘গাধা’র নাম সম্ভবত সবার ওপরে থাকবে। অথচ পরিশ্রমী এই প্রাণীটিই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার।

গাধার এই অসামান্য পরিশ্রম আর ধৈর্যকে স্বীকৃতি দিতেই আজকের দিনটিকে বিশ্ব গাধা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বানিয়ে বলছি? একদম না। ২০১৮ সালে প্রথম এই দিবস পালিত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরের ৮ মে সর্বজনীনভাবে পালন করা হচ্ছে বিশ্ব গাধা দিবস।

মরু অঞ্চলের প্রাণীদের নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানী আর্ক রাজিক এই দিবসের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি লক্ষ্য করেন, মানব সভ্যতার উন্নয়নে গাধা অসামান্য অবদান রাখলেও তারা সবসময় প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এই প্রাণীর গুরুত্ব সবার সামনে তুলে ধরতে তিনি প্রথমে একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব গাধা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘গাধা’ শব্দটি হরহামেশাই ব্যবহার হয় মানুষের ক্ষেত্রেও। কেউ একটু বোকামি করলেই তাকে গাধার সঙ্গে তুলনা করতে ছাড়েন না অন্যরা। এমনকি যারা খুব বেশি পরিশ্রম করেন তাদের কাজকে অনেকেই বলেন গাধার খাটুনি খাটছে লোকটা। এ থেকেই বোঝা যায় এই প্রাণীটি কতটা পরিশ্রম করে মনিবের জন্য।

এই পরিশ্রমী প্রাণীটিকে তাই তো উৎসর্গ করা হয়েছে গোটা একটি দিন। এখন থেকে নিশ্চয়ই কেউ গাধা বললে আর রাগ হবে না।

আধুনিক গাধা মূলত আফ্রিকান বন্য গাধার দুটি উপপ্রজাতি (সোমালি ও নুবিয়ান) থেকে এসেছে। বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই গাধা মানুষের শক্তির প্রধান উৎস ছিল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, বিরূপ আবহাওয়ায় টিকে থাকা এবং ভারী বোঝা বহন করার অসামান্য ক্ষমতা এই প্রাণীটিকে অনন্য করে তুলেছে। ইতিহাস বলছে, ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে মানব সেবার কাজ করছে গাধা।

অবহেলিত এই প্রাণীর রয়েছে কিছু মজার তথ্য। ঘণ্টায় প্রায় ৩১ মাইল বেগে দৌড়াতে গাধার বেশ কিছু প্রজাতি। প্রাণীটির গড় আয়ু ৫০ থেকে ৫৪ বছর। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল- ডেমোক্র্যাটদের দলীয় প্রতীকও এই গাধা।

মানুষের প্রয়োজনে ধারাবাহিকভাবে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণীটি। তারা দীর্ঘপথ ভ্রমণ করতে পারে। তারা শক্তিশালী এবং কঠোর পরিস্থিতিতেও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। তাই তো এই প্রাণীটির কদর এত বেশি। যদিও কদর বলাটা খানিকটা ভুল হবে বৈকি! বলা যায় চাহিদা। তবে আজকের দিনটি প্রাণীটিকে ভালোবাসার।

এম.কে

আরো পড়ুন

জেমস বন্ড সিরিজের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অ্যামাজনের হাতে

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপঃ যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ঝুঁকি

ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা পাশ কাঁটাবেন পুতিন!

অনলাইন ডেস্ক