যুক্তরাজ্যের এসেক্সের ব্রেইনট্রি শহরে শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দিনটিতে কাছের ওয়েদারসফিল্ডের সাবেক বিমানঘাঁটি থেকে শরণার্থীদের মিনিবাসে করে শহরে আনা হলে শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে যায়। অনেক নারী ওই দিন শহরে আসা এড়িয়ে চলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ওয়েদারসফিল্ড বিমানঘাঁটিতে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে আসছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সম্প্রতি ব্রেইনট্রি জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রটির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৪৫ করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি ২০২৭ সালের এপ্রিলের পরও চালু রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছোট নৌকায় করে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন পূর্বাভাসের চেয়ে বেড়ে গেলে অতিরিক্ত ৪৪৫টি শয্যা সাময়িকভাবে প্রস্তুত রাখা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে ওয়েদারসফিল্ডের মতো ‘অন্যান্য আবাসন’ ব্যবস্থায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬২ জন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৬৫৩।
যুক্তরাজ্যে সরকারি সহায়তা পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীর মোট সংখ্যা ৯৩ হাজারের বেশি। তাদের বেশিরভাগই আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী মাইক রিডন অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার শহরের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক নারী ওই দিন শহরে আসেন না এবং একা শহরে আসতেও অনেকে স্বস্তি বোধ করেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকে শহরের নগদ অর্থ উত্তোলন কেন্দ্র ও দাতব্য দোকানের আশপাশে অবস্থান করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
শহরের এক নারী দোকানকর্মীও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, বৃহস্পতিবার তিনি একা কাজ করতে ভয় পান এবং ওই দিন শহরে নারী, শিশু ও স্থানীয় বাসিন্দার উপস্থিতি অনেক কমে যায়। তার ভাষায়, তখন শহরটিতে বিপুলসংখ্যক পুরুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু তরুণ আশ্রয়প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্কুল থেকে বাসে করে বাড়ি ফেরার সময় ছাত্রীদের উদ্দেশে শিস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগেরও কোনো পুলিশি তদন্ত, মামলা বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী আনা টারলি বলেছেন, এসব জায়গা স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত আবাসন হিসেবে পরিচালনা করা হবে। তার দাবি, হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার তুলনায় সাবেক সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করা তুলনামূলকভাবে সহজে পরিচালনাযোগ্য এবং কম ব্যয়বহুল।
আনা টারলির ভাষ্য অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য সাবেক সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সাবেক শিল্পাঞ্চল, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত স্থাপনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় আবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপও কমানো যাবে।
তবে ব্রেইনট্রির স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়মিত শহরে নিয়ে আসার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও শহরের স্বাভাবিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ওয়েদারসফিল্ড কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ব্রেইনট্রির মতো আশপাশের শহরগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে স্থানীয় নিরাপত্তা, জনসেবা এবং শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

