মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দেশের অন্যতম বৃহত্তম বন্দর তানজুং পেলেপাসে ইসরায়েলগামী একাধিক কন্টেইনার আটক করেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, এটি দেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া ট্রানজিট পণ্যের ওপর নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর করার ইঙ্গিত।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রতিবেদনটি শেয়ার করে স্পষ্ট করেছেন যে মালয়েশিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন চালান পরিদর্শন অব্যাহত রাখবে। তিনি লিখেছেন, “মালয়েশিয়ার অবস্থান পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন। আমরা আমাদের দেশকে এমন কোনো চালান স্থানান্তরের পথ হিসেবে ব্যবহার করতে দেব না যা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এবং ফিলিস্তিনিসহ অন্যান্য নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে তাদের নৃশংসতায় সহায়তা করে বা অবদান রাখে। যেকোনো সন্দেহজনক চালান মালয়েশিয়ার আইন অনুসারে পরিদর্শন ও তদন্তের অধীন হবে। যদি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্য আগস্টে আশদোদ বন্দরগামী তিনটি কন্টেইনার আটক করা হয়। এগুলোতে চীনা কোম্পানি চোংকিং মোবিম্যাক্স টেকনোলজির পাঠানো বৈদ্যুতিক সাইকেলের যন্ত্রাংশ ছিল। শিপিং কোম্পানি ম্যার্স্কের তথ্য অনুসারে, ১৯ আগস্ট আটকের পর প্রায় এক মাস ধরে চালানগুলো বন্দরেই পড়ে আছে এবং এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ৭ আগস্ট আরও একটি কন্টেইনার থামানো হয়। এটি ফিলিপাইন থেকে এসেছিল এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের জন্য নির্ধারিত ছিল। মালয়েশিয়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সন্দেহ করে যে এতে অস্ত্র রয়েছে। হাপাগ-লয়েডের তথ্য অনুসারে, এই কন্টেইনারও এখনও তানজুং পেলেপাসে আটক অবস্থায় রয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। দেশের শুল্ক আইন ইসরায়েল থেকে আমদানি বা ইসরায়েলে রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। তবে আগে ট্রানজিট পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল। সাম্প্রতিক আটকগুলো আইনের কঠোর ব্যাখ্যা এবং ট্রানজিট কার্গোর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মালয়েশিয়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং এই পর্যায়ে অতিরিক্ত বিবরণ দেওয়া সম্ভব নয়। রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস ডিপার্টমেন্ট মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। জোহর পোর্ট অথরিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এলবিট সিস্টেমস, ম্যার্স্ক ও হাপাগ-লয়েডও কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মালয়েশিয়ার ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম ইসরায়েলি শিপিং কোম্পানি জিমকে মালয়েশিয়ার বন্দর ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে জোহরে একটি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা একাডেমিও বন্ধ করা হয়, কারণ অভিযোগ উঠেছিল যে ইসরায়েলি ছাত্ররা অভিবাসন নিয়ম লঙ্ঘন করে সেখানে পড়াশোনা করেছিল। ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীরা বিশেষ অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারে না।
তানজুং পেলেপাস বন্দর মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত এবং এটি মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর তথা দেশের বৃহত্তম ট্রানজিট কার্গো হাব। এখানে পরিচালিত মোট পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ট্রানজিট কার্গো।
সূত্রঃ জেরুজালেম পোস্ট
এম.কে

