যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন ও বিদেশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার মধ্যেই হোম অফিসের প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ৮০ হাজার ২৮৬ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বলপ্রয়োগে বহিষ্কার ও স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া—উভয় ধরনের রিটার্ন মিলিয়ে এটি প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, এই পরিসংখ্যান একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে—যারা অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করবে বা দেশের আইন ভঙ্গ করবে, তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট রিটার্নের মধ্যে ১৯ হাজার ৬২২ জনকে বলপ্রয়োগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার কোনো বৈধ অধিকার ছিল না। একই সময়ে ১১ হাজার ৭৩৩ জন বিদেশি অপরাধীকে বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯৯৫ জন আগাম অপসারণ কর্মসূচির আওতায় নিজ দেশে ফিরেছেন।
আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিটার্ন হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ২৪ হাজার ৪৭১ জন আশ্রয়প্রার্থী বা আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হোম অফিস জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ৬ হাজার ১০৩ জন ছোট নৌকায় আসা ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, আগের দুই বছরের তুলনায় সামগ্রিক রিটার্নের সংখ্যা ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এই সময় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ১৬৩টি চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত অপসারণের জন্য নতুন আইন আনার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বহিষ্কার কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

