19.7 C
London
September 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ধর্ষণ মামলায় বছরের পর বছর অপেক্ষা বন্ধে ব্রিটেনে বিশেষ আদালত চালুর ঘোষণা

ব্রিটেনের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ধর্ষণ ও যৌন অপরাধের মামলা দ্রুত ও ভুক্তভোগীবান্ধব উপায়ে পরিচালনার লক্ষ্যে বিশেষ আদালত চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি ক্রাউন কোর্টে অন্তত একটি আদালতকক্ষ এসব মামলার জন্য নির্দিষ্ট করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। এর লক্ষ্য হলো ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধের মামলায় দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিটি আদালতে ভুক্তভোগীদের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত প্রবেশপথ ও অপেক্ষাকক্ষ থাকবে। এর ফলে মামলার আসামির সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা এ ধরনের সুবিধা চাওয়ার সুযোগ পেলেও তা আদালতের জায়গা ও অন্যান্য সুবিধার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।

এ ছাড়া আদালতের কর্মীদের ‘ট্রমা-সচেতন প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে। প্রত্যেক ভুক্তভোগীর জন্য একজন নির্দিষ্ট যোগাযোগ কর্মকর্তা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। মামলাগুলোকে অনির্দিষ্ট বা পরিবর্তনশীল তালিকায় না রেখে নির্দিষ্ট তারিখে বিচার শুরুর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধের ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিচারব্যবস্থার কাছে নিজেদের উপেক্ষিত মনে করেছেন। তার দাবি, ধর্ষণের মামলায় প্রসিকিউশনের হার এখনো ‘লজ্জাজনকভাবে কম’ এবং অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচারের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষায়িত আদালত ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও ধারাবাহিক ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক করা হবে।

এই উদ্যোগের পেছনে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। লেবার এমপি শার্লট নিকোলস মার্চ মাসে পার্লামেন্টে নিজের ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, তার মামলাটি আদালতে উঠতে তাকে ১ হাজার দিনেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিকোলস প্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, এই পরিবর্তন ভুক্তভোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং আদালতের প্রক্রিয়া তাদের জন্য সহজ করতে সহায়তা করবে।

নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেও এই আদালত সংস্কারকে দেখা হচ্ছে। লেবার সরকার আগামী এক দশকের মধ্যে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ভুক্তভোগীদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা রেপ ক্রাইসিসও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে আদালতগুলো ভুক্তভোগী ও বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজন আরও যথাযথভাবে বিবেচনা করতে পারবে।

তবে সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কারের অন্যান্য পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনাও রয়েছে। ছায়া বিচারমন্ত্রী নিক টিমোথি বিশেষ আদালত চালুর পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও জুরি দিয়ে বিচার হওয়া মামলার সংখ্যা কমানোর সরকারি পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন।

তার বক্তব্য, দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগীরা মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন এবং আদালতের দীর্ঘ অপেক্ষা মোকাবিলায় সারা বছর আদালত চালু রাখা ও মামলার জট কমানোর ওপর সরকারের বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রতিটি ক্রাউন কোর্টে ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট আদালতকক্ষ থাকবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও অপেক্ষাকক্ষ, প্রশিক্ষিত আদালতকর্মী, নির্দিষ্ট যোগাযোগ কর্মকর্তা এবং নির্ধারিত বিচার-তারিখের ব্যবস্থা করা হবে।

সরকার আশা করছে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার বিলম্ব কমবে এবং ধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

হিথ্রোতে আর থাকছে না বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার আইন

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে আবারও বর্ডার ফোর্সের ধর্মঘটের ডাক

ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘যুব অভিজ্ঞতা’ স্কিম ১২ মাসের ওয়ার্ক ভিসা চালুর সম্ভাবনা