ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন এবং ওয়েলসের সংসদ নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর এবার তার পদত্যাগ দাবি করছেন সাবেক মন্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র জস সিমন্স।
মার্চ পর্যন্ত ক্যাবিনেট অফিসের মন্ত্রী থাকা জশ সিমন্স রোববার দ্য সানডে টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেন, কিয়ার স্টারমার দেশের জনগণের আস্থা হারিয়েছেন এবং এখন “সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের” মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের পথ তৈরি করা দরকার।
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ৪০টি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। একইসঙ্গে ওয়েলসের সংসদ সেনেডেও বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি। প্রায় ১ হাজার ৫০০ লেবার কাউন্সিলর নিজেদের আসন হারিয়েছেন, যা দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজের নিবন্ধে জস সিমন্স লিখেন, “এটা কোনো একজন ব্যক্তির বিষয় না। আমাদের সবার এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সৎ হওয়া দরকার। আমাদের প্রয়োজন মৌলিক পরিবর্তন, নতুন শক্তি আর সাহসী নেতৃত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারবেন। তিনি দেশের আস্থা হারিয়েছেন। তাই তার উচিত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে এমন প্রকাশ্য সমালোচনা লেবার পার্টির ভেতরের অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী ফলাফলের পর দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, কৌশল আর ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, জস সিমন্স একসময় লেবার টুগেদার-এর পরিচালক ছিলেন। এই থিংকট্যাঙ্ক কিয়ার স্টারমারকে প্রথমে লেবার পার্টির নেতা এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফলে তার এমন মন্তব্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে

